Post

দুই হাজার পঁচিশের ডিসেম্বরের ভেতরেই, পরপর দুইবার ঢাকায় হাজির হল বাংলাদেশের আম মানুষ। একবার শহীদ ওসমান হাদির জানাজায়। আর একবার, খালেদা জিয়াকে বিদায় দিতে। এর ভেতরেই, তারেকের প্রত্যাবর্তনেও একবার ঢাকায় মানুষ জড়ো হয়েছিল বটে, কিন্তু, এইটা রাজনৈতিক ও পরিকল্পিত শক্তি সমাগমের ঘটনা, এই শক্তি সমাগমের অন্য রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে যদিও। আর, বাকি দুই ঘটনা হল এই অঞ্চলের মানুষের ইতিহাসের স্বতঃস্ফূর্ত অমোঘ। ইতিহাসের এই অমোঘকে ধরতে পারার ও বুঝতে পারার একটা ব্যাপার আছে, আগামী দিনের রাজনীতিকে বুঝতে হলে। তা হল, এই জনসমাগমগুলোর সবাই কোন একক রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থক নয়। আম। কিন্তু সবার একটা অদৃশ্য সুতো আছে, তা হল, এক. জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক বাংলাদেশি জাতি পরিচয় নির্মাণের রাজনীতি, ইসলামী মূল্যবোধ ও ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থান। এই জাগায় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পরে খালেদা জিয়া নিজের আপোষহীন চেহারা তৈরী করতে সক্ষম হইছিলেন, দল মত নির্বিশেষে কোন রক্ষণশীলতা রাখেন নাই, ফলে বাংলাদেশের মানুষের একটা রাজনৈতিক ঐক্যের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পেরেছিলেন নব্বই এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জীবনের সর্বশেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। দুই. ওসমান হাদিরও অদৃশ্য সুতো হল একই। যে বিন্দুতে আইসা অল্প কয়েকদিনেই ছাত্র ও গণমানুষের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদ বিরোধী রাজনীতি ও উদার ইসলামী মূল্যবোধের স্পোকসম্যান হয়ে উঠেছিলেন হাদি, নয়া তরুণদের মধ্যে, যা মানুষ প্রবলভাবে পছন্দ করছিল। সন্দেহ নেই, এর ফলেই ওসমান হাদীকে খুন হতে হল। আর, খালেদাকে তো বহুদিন ধইরা তিলে তিলে হত্যা করা হল, আমরা বহুদিন ধরে তা দেখেছি। খালেদা ও হাদি, এই দুই কেন্দ্রকে ঘিরে এই যে মানুষের অবিশ্রান্ত, ক্লান্তিহীন হাঁটা ও ভ্রমণ, এই অমোঘ হাঁটতে থাকার ইতিহাসই বাংলাদেশ। খালেদা ও ওসমান হাদি এই ইতিহাসের যে পক্ষে আছেন, সব কটা জানালা খুলে সেই ইতিহাসরে বোঝার চেষ্টা করাটাই আগামী দিনের রাজনীতি হবে। আমি মনে করি, কোন ধর্মরাষ্ট্র নয়, সামনের দিনগুলোতে এই ইতিহাস এ রাজনীতির হাল যে ধরতে সক্ষম হবে, তার রাজনীতিই সফল হবে। তার যে নামই হোক, বা যে নামেই হাজির হোক।

#রিফাতহাসান

January 1, 2026
1 readers till now, 0 new visits today.