— নতুন সংবিধান আন্দোলন —
নতুন সংবিধান নিয়ে নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীদের নতুন একটি আন্দোলন তৈরী করা দরকার। নাম, 'নতুন সংবিধান আন্দোলন' হতে পারে। আপনারা যারা এই উদ্যোগ নেবেন, তাদের পাশে আমি থাকতে আগ্রহী, সব অর্থেই। এই আন্দোলনের কাজ হবে নতুন সংবিধানের পক্ষে ও বিদ্যমান সংবিধানের যে কোন বহালচেষ্টার বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করা ও সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের ভেতর থেকে নতুন সংবিধান তৈরীতে বাধ্য করা। এই নতুন সংবিধান গঠনপ্রক্রিয়ায় অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্ব যেমন, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দলগুলোর প্রতিনিধি এবং ফ্যাসিস্টবিরোধী ভেল্যু ও জনকনসেন্ট তৈরীতে ভূমিকা রাখা বুদ্ধিজীবী এবং দার্শনিকদেরকেও অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। কারণ, সংবিধান কোন একা একা ঘটনা না, সংবিধান হল রাষ্ট্রের উপরে জনগনের মালিকানার রাষ্ট্রদার্শনিক দলিল, একই সাথে চুক্তিও। ফলে, রাষ্ট্রে জনগনের মালিকানা প্রতিষ্ঠা হলেই নতুন সংবিধান তৈরীর দরকার পড়ে, পুরনো সংবিধানের আর কাজ নেই। ফলে, গণঅভ্যুত্থানের ভেতর থেকে তৈরী হওয়া এই নতুন সংবিধানের শুরুর বিন্দু হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। আর স্পিরিট হবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং দুই হাজার চব্বিশের জনঅভ্যুত্থান।
দেখা যাচ্ছে, সংবিধান সংস্কার কমিশন করা হয়েছে লার্নেড শাহদীন মালিকের নেতৃত্বে, যিনি মুজিবের তৈরী বাহাত্তরের সংবিধানকে মুক্তির দলিল মনে করেন। দুই হাজার দশ এগারর দিকে, হাসিনা ও তার পাপেটদের নিখুঁত বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার যে প্রকল্প ছিল, কামাল হোসেনের নেতৃত্বে, শাহদীন তার মূল প্রপাগেটরদের অন্যতম ছিলেন। দুই হাজার এগারর ১০ এপ্রিল, এ বিষয়ে সুজন আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে শাহদীন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, আর বলেন, ‘১৯৭২ সালের সংবিধান সত্যিকার অর্থেই একটা মুক্তির দলিল। এর পর গত প্রায় চল্লিশ বছরের সংবিধান সংশোধনীর যে ইতিহাস সেটা এক কথায় মুক্তির সেই স্বপ্ন ও আদর্শের বিচ্যূতির ইতিহাস।’ উনারা, ডক্টর কামাল হোসেন সমেত, প্রায় সব সময়ই, সংবিধানের সংস্কার মানে বুঝতেন, বাহাত্তরের সংবিধানে ফেরত যাওয়া। বাহাত্তর এর সংবিধান নিয়া তার কোন কোন ক্রিটিকাল অবস্থান এর নজির বা নতুন সংবিধান নিয়া কখনোই কোন ভাবনা আমরা পাই না। ফলে, উনার হাতে মুজিবের সংবিধান বাতিল ও গণঅভ্যুত্থানের নতুন সংবিধান প্রণয়নের কোন সম্ভাবনারে আমি দূরতম, প্রায় নেই হিশেবেই দেখি। এই দূরতম অবস্থারে সম্ভব ও প্রেশারাইজ করার জন্য জনপরিসরে তর্ক তৈরীর পাশাপাশি নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীদের একটা নয়া আন্দোলন তৈরী করা দরকার। আপনাদের কী মত?
আপনাদের মতামতের জন্য #নতুনসংবিধানআন্দোলন হ্যাশট্যাগ চালু করছি, এবং এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার কইরা সবাইকে আলাপের আহ্বান করছি। আমরা আরো কীভাবে এই আন্দোলন তৈরী ও বেগবান করতে পারি, তার আলাপও আপনারা কইরেন, এই পোস্টের কমেন্টে, বা নতুনসংবিধানআন্দোলন হ্যাশট্যাগ এর মাধ্যমে। দরকারে আমাকে ট্যাগও করতে পারেন। ইনবক্স বা একটা মেসেঞ্জার গ্রুপেও আপনাদের সাথে এই নিয়া আলাপ হতে পারে, যদি আগ্রহী হন।
#নতুনসংবিধানআন্দোলন
No comments yet. Be the first!