unSocial

'শেখ হাসিনা নেই', তাইতেই খুশি এবং ফিদা, এরকম সরল একদল, হা হা, রাষ্ট্রচিন্তক ও একটিভিস্ট আছেন। তারা কী নিয়া খুশি আল্লাহ মালুম।

গতকাল রাতে এরকম এক সরল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বন্ধুর সাথে দেখা হল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, যিনি ভাবুকও, যার হোপ হল দেশ স্রেফ হাসিনার অনুপস্থিতির কারণেই আগামী দশ বছরে বড় উচ্চতায় পৌঁছাবে। আর কিচ্ছু লাগবে না।

আজকে বাংলা আউটলুকের একটা শো চোখের সামনে পড়ায় শেষাংশে ক্লিক করলাম, যেহেতু বড় ভিডিও দেখব না, যেখানে হোস্ট দিলশানা পারুলও জানাচ্ছেন, শেখ হাসিনা নেই, তাইতেই খুশি তিনি। আর কিচ্ছু দরকার নেই। আর, এই দরকার নেই এর নমুনা হল, একটা ইন্টারিম গভর্নমেন্ট এর স্কোপ তো এত কিছু না, কেন এই সরকাররে নিয়া আমরা নির্বাচনের বাইরে এত দায় দিয়া কথা বলতে চাইতেছি, দিলশানা এইটা নিয়া উদ্ভিগ্ন।

দিলশানার টক শোতে আরো দুইজন অতিথি ছিলেন, জিয়া হাসান আর ফাহাম আবদুস সালাম। এইখানে, জিয়া, দেখলাম, আমার আফটারফ্যাসিস্ট মেনিফেস্টোর একটা ধারণা আংশিকভাবে এডপ্ট করেছেন, অভিভাবক কাউন্সিল, এইটার উনি নাম দিয়েছেন, 'বিপ্লবী রাজনৈতিক পরামর্শ কাউন্সিল' বা এরকম কিছু। প্রথমত, খুশি হওয়া ঘটনাই, কারণ আমি একা একা রাষ্ট্র ও সংবিধান ধারণার বিরোধী ও আফটারফেসিস্ট মেনিফেস্টোর ছড়িয়ে পড়ার পক্ষে।

কিন্তু, জিয়ার এই প্রস্তাব পইড়া কেন আমি খুশির পরিবর্তে ভয় পেতে চাই? তা বুঝতে, আগে আমার অভিভাবক কাউন্সিলের সাথে জিয়ার এই প্রস্তাবের সবচেয়ে মৌলিক পার্থক্যটা বুঝি। সবচেয়ে মৌলিক প্রার্থক্য হল, জিয়া চুপ্পু ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার এডভোকেট হিশেবেই এই প্রস্তাব দিচ্ছেন, আর সরকারে ছাত্রদের আধিপত্য তৈরী হইছে এবং তা কমাতে হবে, এই অনুমান থেকে। আর আমার ইমাম হল জনগনের সার্বভৌম ইচ্ছা ও কনসেন্ট, যে সভারেন কনসেন্ট সব বৈধতার সোর্স। যে সার্বভৈৗম ইচ্ছার কারণেই জুলাই জনঅভ্যুত্থান ও রাষ্ট্রের উপর জনগনের মালিকানা রিক্লেইম করার মুহূর্ত তৈরী হয়েছে বইলা দাবী করি আমি। অবশ্যই, আমার এই 'মালিকানা রিক্লেইম' করার মুহূর্তের দাবিরে জিয়া কয়েকদিন আগে আজিব কইয়া নাকচ করা জরুরি মনে করেছিলেন, তার সাম্প্রতিক কন্সপিরেসি থিওরিগুলোর প্রস্তাবনায়। মানে এই মুহূর্ত জিয়া ধরতেই পারেন নাই, বা ধরতে প্রস্তুত না। মানে জনগনের মারিকানা বইলা কিছু জিয়া ভাবতে সক্ষম বা প্রস্তুত না।

বিপরীতে, আমার প্রস্তাবিত অভিভাবক কাউন্সিল পরামর্শক মাত্র নয়, কর্তা। অভ্যুত্থানেরও কর্তা তারাই।

আর, জিয়ার 'বিপ্লবী রাজনৈতিক পরামর্শ কাউন্সিল' হল মূলত নামের ঠুয়া, আদতে কোন সভারেন কনসেন্ট এর অথরিটি না। ফলে, চুপ্পুর ইমামতিতে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ভেতরের একটা এক্সপার্ট কাউন্সিল মাত্র। যদিও জিয়া, 'নানান প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে' এই কাউন্সিল গঠন করতে বলতেছেন। কী মনে কইরা, আল্লাহ মালুম। একটা অনুমান এরকম সম্ভব, স্টেক হোল্ডার হিশেবে নানান রাজনৈতিক দল ও ইন্টালেকচুয়ালের নাম উচ্চারণ কইরা তাদের জন্য একটা কমফোর্ট জোনে রাইখা সমর্থন খোঁজা। এরকমই কি? পাশাপাশি, জিয়ার মূল গন্তব্য যেটি দেখা গেল, প্রধান উপদেষ্টার অফিসের উপরে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রভাব কমানো, পাশাপাশি, ছাত্রদের বিষয়ে বিএনপি আর আর্মির মধ্যে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরী। এইটারে আমি খারাপ মতলব হিশেবে পড়লাম ও আপনাদেরকেও পড়তে বলি। আমার ধারণা, বিএনপিরও একটা ছোট অংশের এই ধরনের আগ্রহ থাকতে পারে, যারে আমরা এখন মিডিয়ায় সরব দেখতে পাইতেছি। জিয়া কি এই অংশের স্পোকসম্যান?

জিয়ার এইসব আলাপের টুল হল কন্সপিরেসি, যেটিরে আমি বেশ খারাপ টুল হিশেবেই পড়ি। কন্সপিরেসি দিয়ে একটা কুয়া তৈরী করছেন জিয়া এন্ড তার বন্ধুরা। ফাহামও জিয়ার এইসব আলাপে 'আই টোটালি এগ্রি' বলেছেন দেখলাম। এই জেশ্চারকে পড়া সম্ভব। এইটা, হয়ত ভবিষ্যত ক্ষমতাকেন্দ্রের চরিত্রের ইশারা। এই ইশারা লইয়া আমি সম্বিত থাকতে চাই।

বিপরীতে, আমার প্রস্তাব ছিল, যেটি আমি আগস্টের শেষ দিকে এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে বিভিন্ন সেমিনারে কি নোট ও বক্তৃতা আকারে পড়েছি ও আফটার ফ্যাসিস্ট সাইটে পাবেন—

এক. অভ্যুত্থানের প্রাণ প্রতিষ্ঠার জন্য, অন্তর্বর্তি সরকারকে জাতীয় ও অভ্যুত্থানের সরকারে রূপান্তর করতে হবে।

দুই. এর জন্য, প্রাথমিকভাবে, জন অভ্যুত্থান ও দীর্ঘদিন ধরে চলা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের পক্ষগুলোর একটা সমন্বিত কনসেন্ট ও বিপ্লবী দলিল তৈরি হতে হবে। যে দলিলে আমাদের সামাজিক চুক্তি আর গণঅভ্যুত্থানে আমাদের যে নতুন ন্যাশনাল হোপ তৈরী হইছে, তা ডিফাইন হবে, এবং জনঅভুত্থানের সর্বদলীয় রূপরেখা হবে এটি।

তিন. এই দলিল তৈরীর জন্য জনঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্ব এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াইরত দলগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটা সর্বদলীয় অভিভাবক কাউন্সিল করতে হবে। ছাত্রদের যে লিয়াজোঁ কমিটি আছে, তারে বাতিল করে, বা এই কমিটিসহই অন্তর্ভূক্ত হয়ে, দ্রুতই এই সর্বদলীয় অভিভাবক কাউন্সিল গঠন করতে হবে। এই অভিভাবক কাউন্সিলের পরামর্শেই অভ্যুত্থানের সরকার চলবে। এখন যারা উপদেষ্টা আছেন, তারা একই ক্ষমতায় এডমিনিস্ট্রেটিভ নির্বাহী থাকবেন, যদি বহাল থাকেন। আর, উপরের এই সর্বদলীয় অভিভাবক কাউন্সিলই হবে মূলত উপদেষ্টা পরিষদ, যাদের পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাই অভ্যুত্থানের নির্বাহি সরকারের কাজ। এই পদক্ষেপের মাধ্যমেই এই অন্তর্বর্তি সরকার জাতীয় সরকারে পরিণত হবে। এই অভিভাবক কাউন্সিলই সরকারের স্কোপ ও টাইমলাইনগুলো ডিফাইন করবে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে।

(আফটার ফ্যাসিস্ট পলিটিক্যাল মেনিফেস্টো: রিফাত হাসান। ২৮ আগস্ট, ২০২৪)

Dilshana Parul Zia Hassan Faham Abdus Salam

October 28, 2024
12 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!