unSocial

বিএনপি হল গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় মন খারাপের দলগুলোর একটি। কেন এত সফট 'মন খারাপে'র কথাই বলছি, এইটা ইদানীংকার মুখস্ত বিএনপির বুদ্ধিজীবী, কম বয়সি একটিভিস্ট বা ভাড়াটে বটরা বুঝবে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়া আমাদের আলাপ দীর্ঘদিনের আর হাসিনার শাসনে মজলুম হিশেবে বিএনপির প্রতি দীর্ঘ সমর্থন ছিল আমাদের। ধর্মীয় শক্তি নয়, কিন্তু উদার ধর্মীয় টলারেন্ট সোসাইটি আর ধার্মিকদের সেকুলার প্লাটফর্ম হিশেবে হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিপরীতে বিএনপির উত্থান চেযেছি আমি সব সময়। আমাদের সেই চাওয়ার বয়স এদের অনেকের বয়সের চাইতেও বেশি।

ফলে, খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপে ইউনুস বিষয়ে বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের নিউজটা, যদি সত্য হয়, একটু খুশির ব্যাপারই। কারণ, আমি মনে করতাম, বিএনপি যেহেতু বড় ও ঐতিহ্যবাহী দল, ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পরে হাসিনা পরবর্তি সময়ে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর যে কনসেনসাস ও ঐক্য দরকার ছিল, বিএনপি ছাত্রদের অভ্যুত্থানকে ঔন করে তার কেন্দ্র ও অভিভাবক হওয়ার সুযোগ নেবে। এই ভূমিকার মাধ্যমে বিএনপি জুলাই পরবর্তি রাজনীতিতে তরুণদের কাছে সবচেয়ে ইনফ্লুয়েনশিয়াল দল হিশেবে আবির্ভূত হতে পারত। কিন্তু, খালেদা জিয়ার মতো অভিভাবকতুল্য নেতার হাজির না থাকার কারণেই সম্ভবত এই ঘটনা ঘটতে পারে নাই। অভ্যুত্থানকে ঔন করার পরিবর্তে বিএনপি নেতৃত্ব ফজলুর রহমান প্রমুখ হঠকারীকে সামনে আনার মাধ্যমে তরুণদের জুলাই জাগরণকে ডিজঔন ও ডেমনাইজেশনের দাযটাই নেওয়া কর্তব্য মনে করেছে। যার কারণে আমাদের দলগুলোর ভেতরে হাসিনা পরবর্তি কনসেনসাস ও ঐক্য দৃশ্যমান হতে পারে নাই, শুধু তাই নয়, বরং ফজলু ধরনের এলিমেন্টগুলোর মাধ্যমে একই সাথে গণঅভ্যুত্থান, ছাত্র অভ্যুত্থানের নেতারা আর ইউনুস, সবকিছুর প্রতি আওয়ামী ভাষা ও ভঙ্গিতে বিদ্বেষ তৈরী করেছে বিএনপি মহলে।

এই অবস্থায়, যদিও বিএনপি পুরনো চরিত্রের ক্ষমতার একাট্টা অধিকার চাচ্ছে বইলাই মনে হচ্ছে, কিন্তু বিএনপির এই একাট্টা ক্ষমতার বিরোধিতার সাথে সাথে আমাদের মনে রাখতে হবে, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ও গুম খুনেরও শিকার ছিল এবং সেই হিশেবে আমাদের গণতান্ত্রিক হোপেরও অংশ। বিএনপি নেতা তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতি হাসিনার জুলুম ও তার অভিজ্ঞতারে আমি আব্রাহামিক ঐতিহ্যের সাফারিংস হিশেবে আলাপ করেছিলাম, যার থেকে নতুন জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় উত্তরণ হওযা সম্ভব। তো, এইসব বিবেচনা কইরা বিএনপি যদি একাট্টা ক্ষমতাচর্চার বাইরে আইসা দাঁড়াতে রাজি হয় ও গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করতে আগ্রহী হয়, বিএনপিকে ওয়েলকাম জানানো উচিত। ঐক্যের জায়গাগুলোও সব সময় খোলা রাখা দরকার।

ইউনুস বা ইন্টারিমকে প্রতিপক্ষ কইরা বিএনপির যে কোন লাভ নেই, শুনলাম, খালেদা জিয়া এই নির্দেশ দিযেছেন। এটাই যদি হয় খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপ, তাহলে খালেদার প্রজ্ঞার প্রতি বহু বছর পর ভরসা রাখতে পারলাম আবার। জিয়াপুত্র তারেক রহমানকে ধৈর্যশীল মনে হইত, কিন্তু এখন পর্যন্ত অভ্যুত্থান পরবর্তি বিএনপির রাজনীতিকে কোন দারুণ দিশা দিতে পেরেছেন, এমন মনে হল না। আশা করছি, তারেকের ভবিষ্যত এখনো মাত্র শুরু হচ্ছে। নিশ্চয়ই তারেক খালেদার এই প্রজ্ঞারে মূল্য দেবেন, এমনটাই আশা করছি। যদি এরকম হয়, তাহলে লন্ডনে ইউনুসের সাথে তারেকের মিটিং এর ঘটনারে আমি, ভাল হিশেবেই নিতে চাই, যদিও প্রথমদিন এইটার বিরোধিতা করছিলাম। মির্জা ফখরুলও বলছেন দেখলাম, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূস-তারেক রহমান সাক্ষাৎ ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে পারে। ভাল। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, এই টার্নি পয়েন্ট উনারা এতদিন তৈরী করতে ব্যর্থ হলেন কেন? উনারা কি স্থায়ী কমিটিতে কেবল প্রভুভক্ত দাস হইয়া রহেন?

June 11, 2025
8 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!