'প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে' রোজার আগেও নির্বাচন সম্ভব, এইটা ইউনুসের প্রথম দিনের যে প্রস্তাবনা, ডিসেম্বর টু জুন, তার ভেতরেও ছিলই। কিন্তু এই প্রস্তাবনায় তারেকের একমত হতে পারার জন্য ইউনুসকে লন্ডন গিয়ে বৈঠক করতে হলো, এর আগে সবে মিলে 'অভৈব্যতা' বইলা থামানো, এইটাতে মতলবিদের ঘোঁট পাকানি ছিল ও খারাপ ঘটনা ছিল। এই একমত হতে পারাকে ডিলে করতে চেয়েছে, বা অসম্ভব করতে চেয়েছে পুরনো এসটাবলিশমেন্ট ও ইন্ডিয়ান ইন্টারেস্ট, সব সময়। তারেক, সম্ভবত, অজান্তেই এর ফাঁদে পড়েছিলেন, তাই তাদের ভাষায় কথা বলেছেন শেষদিকে। খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপ না হলে, হয়তো এখনও সম্ভব হত না।
এখন, কী 'প্রস্তুতি' সম্পন্ন হওয়া দরকার, নির্বাচনের আগেই, অন্তত যে প্রস্তুতি ছাড়া ইউনুসের নির্বাচনের দিকে যাওয়াই গুনাহ ও গর্হিত কাজ হবে, আসুন, তা ভাবি।
এক. কোন 'ইফস' এন্ড 'বাটস' ছাড়াই জুলাই ঘোষণাপত্র ও চার্টার এডপ্ট করতে হবে এবং কেবল তারে ফলো কইরাই নির্বাচন হতে হবে। এইটা, জুলাই পরবর্তি বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিশ্রুত দলিল ছিল,এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পলিটিক্যাল ডকুমেন্ট হতে দেওযা হয় নাই অসহযোগিতার মাধ্যমে, যাতে পুরনো এসটাবলিশমেন্ট টিকে থাকে। এই ডকুমেন্ট তৈরী হবার পরে, অভ্যুত্থানে সমর্থন করা ফ্যাসিস্ট বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্য ও প্রধানদের সাক্ষর, একই সাথে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষরের মাধ্যমে তা এডপ্ট করা হবে, যাকে প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে নতুন সংবিধান এডপ্ট না হওয়া পর্যন্ত, বা আইনে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত আইনের মর্যাদা দেওয়া হবে।
দুই. জুলাই ঘোষণাপত্র ও চার্টারে যা থাকতে হবে, তা হল, প্রথমত, জুলাই অভ্যুত্থান ও এর শহীদদের স্বীকৃতি। দ্বিতীয়ত, গণহত্যার বিচার ও ফ্যাসিস্টের রাজনীতির অধিকার প্রশ্নে স্পষ্ট পলিটিকাল সিদ্ধান্ত ও ফ্যাসিস্ট বিরোধী আইন প্রণয়নের ঘোষণা। তৃতীয়ত, ঐক্যমত কমিশনে একমত হতে পারা সংস্কারগুলোর বাস্তবাযনের জন্য আইন প্রণযন বা সংশোধনের ঘোষণা। চতুর্থত, উভয় ডকুমেন্ট এর সাংবিধানিক স্বীকৃতির গন্তব্য। পঞ্চমত, এবং সর্বশেষ, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে একই সাথে সংবিধান সভার নির্বাচন হিশেবে ঘোষণা দেওয়া, যেখানে নির্বাচিত সংসদকে এক বা দুই বছরের জন্য কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলি হিশেবে ঘোষণা করে জুলাই চার্টারে একমত হওয়া সংবিধানের সংস্কার প্রস্তাবগুলোর অনুসারে এসেম্বলির অধিবেশনে নতুন সংবিধান এডপ্ট করা হবে।
তিন. নির্বাচনের যে কোন রকম কার্যক্রম ঘোষণার আগেই জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমানভাবে স্পষ্ট হতে হবে। এই বিচার ছাড়া, কোন নির্বাচন বা পরিবর্তনই অর্থ তৈরী করে না। বরং বিচার না হবার, এবং নতুন গুম খুনের ক্ষমতা ও রাজনীতি তৈরী হবার সম্ভাবনাই কেবল জারি রাখে।
তো, এইসব কিছুই এত সহজে হবে না। যারা এই প্রস্তুতিরে জরুরি মনে করেন, যেমন এনসিপিসহ জুলাইয়ের নতুন দলগুলো এবং সংস্কারের পক্ষের দলগুলোকে মাঠে থাকতে হবে। এই ব্যাপারে, আমার মত হল, ছাত্রদেরকে ইউনুসকেও পাত্তা না দিয়ে, বা বিশ্বাস না কইরাই এগোতে হবে। কারণ, ইউনুস এখন সমঝোতার অবতার, এবং একটা দলের প্রধান এর সাথে একক গোপন বৈঠক থেকে ফিরেছেন।
এই ফিরে আসা ইউনুস আমাদেরকে কোনদিকে নিযে যেতে চান, তারে সন্দেহ করতে হবে। কারণ, জুলাই মানে একা তারেকের সাথে সমঝোতা মাত্র নয়, ছাত্রদের আত্মদান আর বিপ্লবও। যে বিপ্লবে স্বৈরশাসক হাসিনাকে পালাতে হয়েছে এবং কযেক হাজার ছাত্রকে হাসিনার সশস্ত্র বাহিনীর হাতে ব্রুটালি জীবন দিতে হয়েছে। ফলে, শুধু তারেকের সাথে নয়, এই বিপ্লবের সাথে সমঝোতা করতে হবে ইউনুসকে। এই সমঝোতা সম্পন্ন করেই, বা এনশিওর করেই কেবল নির্বাচনের দিকে যাওয়ার ঘোষণা আসতে পারে, তার আগে নয়।
No comments yet. Be the first!