নাহিদ, হাসনাত, জারারদের যে দৃশ্য দেখছেন কয়েকদিন ধরে, ঠিক একই রকম দৃশ্য নিয়ে লিখেছিলাম এক এগারর সময়ে, খালেদা জিয়াকে নিয়ে। নাম ছিল, দগ্ধ থেকে বিদগ্ধতা। তখন, খালেদা নির্বাচনি প্রচারণায় গিয়ে গ্রামের কৃষকের ক্ষেতে ধানের শীষ হাতে নিয়ে কথা বলছিলেন। অশীতিপর বৃদ্ধ আনন্দে নেচে উঠেছিল। বিপরীতে, তখন, হাসিনা বুলেটপ্রুফ ঘেরোয়ায় বসে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।
আজ, কোন এক গ্রাম বা মফস্বলের একটা দৃশ্য দেখলাম, হাসনাত, জারা, সাররজিসহ আরো অনেকেই এক টঙের দোকানে চা খেতে খেতে আশে পাশের মানুষের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। আশ পাশের মানুষও প্রাণ খুলে কথা বলছে। হাসনাত জিগেশ করছে, বিএনপি জামাত ও আরো বিশ চব্বিশটা রাজনৈতিক দল তো বাংলাদেশে রাজনীতি করেছে, এখন আমরার থেকে, আমাদের রাজনৈতিক দলটা কেমন হওয়া উচিত, আপনারা কী চান এই এনসিপি থেকে? পরামর্শ দেন। পাশ থেকে একজন বলল, গাদ্দারি করা যাবে না। পরে, আর একজন মানুষ, লম্বা সময় ধরে কথা বললেন, উনারা কী চান।
আর একটা ভিডিওতে, এইটা, সম্ভবত সাঁওতাল এলাকা, কারণ নাহিদ সাঁওতালদের নিয়া আলাপ করছে, 'পরিচয়' নিয়ে। বলছে, আমরা নতুন দল, আমরা এখন দেশব্যাপি সবার কাছে যাইতেছি, আপনাদের কাছেও আমরা দোয়া চাইতে আসছি। গত পঞ্চাশ বছর আপনারা অনেক দলের কথা শুনেছেন, আমরা এখানে এসেছি, আপনাদের সমস্যা ও চাওয়াগুলো জানতে। এগুলো জেনে, এই দাবীগুলোই আমরা সরকারের কাছে জানাবো। এগুলোই আমাদের রাজনীতি হবে।
এরপরে, নাহিদ সংবিধান নিয়া কথাও কইতে চাইলেন, যেইটা, তার মতে, 'আইনের আইন'। মুজিবের দেওয়া সংবিধানে সবাইরে বাঙালি হয়ে যেতে বলা হইছিল, অথচ আপনার পরিচয় তো আপনি সাঁওতাল। আপনি বাঙালি হবেন কেন? প্রত্যেকে তার জাতি, তার ভাষা, তার ধর্ম পরিচয় নিয়ে থাকবে, এগুলো তো আলাদা আলাদা।
এনসিপির এই পদযাত্রায় প্রচুর মানুষ হতেছে। এই মানুষের সংখ্যা ধাধা ধরিয়ে দেবার মত। কিন্তু আমার আগ্রহ এই সংখ্যায় না। চেহারাগুলোতে। আর তাদের উচ্ছাসে। বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার পরে এরকম সুন্দর দৃশ্য যে আবার, অনেককে নিয়েই তৈরী হতে পারতেছে, জুলাইয়ের এই ডাইনামিজমের কথা কইতেছিলাম কয়েকদিন আগে। দুইটা ভিডিওই আমি কমেন্টে শেয়ার করছি। আর, খালেদারে নিয়া আমার এক এগারর সময়ের লেখাটা।
No comments yet. Be the first!