unSocial

~সলিমুল্লাহ খান-

অর্থনীতি ও আইন সলিমুল্লাহ খানের একাডেমিক ডিসিপ্লিন। ঘটনাক্রমে আমারও, এই দুইটাই। সলিম ভাইয়ের সাথে আমার একাডেমিক ডিসিপ্লিনের এই মিল একবার দেবদুলাল মুন্নার নোট থেকে খেয়াল করলাম। ব্যতিক্রম হল, আমি সেই ডিসিপ্লিনে এবং এর বাইরেও, গণ্ডমূর্খই। আর সলিম খান রীতিমত তুফানমেইল।

তো, এই তুফানমেইলের জন্মদিন দেখলাম।

উনারে নিয়া আমার লেখা তেমন নেই। বেশ নিন্দামন্দ আছে শাহবাগের সময়ের। মেমরিকে রিরিড করতে পারার অংশ হিশেবে, দুই হাজার বাইশে, সলিম ভাইয়ের জন্মদিনে লিখছিলাম এই নোট। তবে, সম্ভবত, এই নোটে আরো কিছু লাইন যোগ করার সময় এসেছে এইবার। তা হল, শাহবাগের পয়গম্বর সলিমুল্লাহ খানকে, বহুদিন পরে, ওয়েলকাম জানাতে পেরেছিলাম আমরা, জুলাইয়ে আইসা। শেষ ট্রেন ধরতে পারার মত কইরা সলিম একটা ঐতিহাসিক মুহূর্তে ইতিহাসের ট্রেনে ঢুইকা যেতে পারছিলেন এবং তা আমাদেরকে আনন্দ দিয়েছিল। ফলে, এই নোটে, সর্বশেষ লাইনে, সলিমুল্লাহ খানের সাথে যে আমার একটা মিল খুঁজে পাইছিলাম, তার একটা অর্থও তৈরী হল।

সলিম ভাইয়ের সাথে ইদানিং মাঝেমধ্যে দেখা হচ্ছে, যেহেতু বাংলা একাডেমির একটা প্রোগ্রামে আমরা একই সাথে সভ্য। এখনো ছবিটবি তোলা হয় নাই যদিও। কিন্তু কুশল ইত্যাদি হয়। উনার সাথে প্রথম ব্যক্তিগত পরিচয় হল জুলাইয়ের পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা অনুষ্ঠানে, যখন আমি দর্শক সারিতে এসে বসলাম। তখন ডায়াসে যিনি অতিথি হিশেবে বক্তৃতা করছিলেন, ঢাকার কোন এক সাহিত্য সম্পাদক ও কবি, বক্তৃতা থামিয়ে আমার নামে কিছু ভাল কথা বললেন। তখন আমার একটু জড়োসড়ো লাগছিল, কারণ, খেয়াল করলাম, সলিম ভাই এবং স্টেজের আরো অনেকেই আমার দিকে তাকাচ্ছিল। পরে, যখন চলে আসার সময়ে সালাম দিলাম, সলিম ভাই জানালেন, উনি আমারে চেনেন, এবং আমি যে এসেছি, তা খেয়াল করেছেন। এই খেয়াল করা নিয়ে আমার বেশ সংকোচ, কারণ, সলিম ভাইয়ের বেশ 'বদনাম' ও অভক্তিই করেছি সারা জীবন। এই লেখাও, একটা বড়ো বদনামই। তবে, শেষে একটা ভক্তি আছে। ভক্তি মানে তো বন্ধুত্বের ইশারা। তখন, এই ভক্তিটা লিখতে পেরে, আমার ভাল লেগেছিল।

জুলাইয়ের পরে, মানে শেষ ট্রেন ছাইড়া দিল যখন, আগস্টে সলিমুল্লাহ খানরে নিয়া বেশ আলাপ হইতেছি।ল তখন কইছিলাম, সলিমুল্লাহ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হলে, আমি খুশি হইতাম। কারণ, এতে সলিম যে বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার কথা বলতেন, বক্তৃতাগুলোতে, তা এপলিকেশনের সুযোগ হত। সলিমের রাষ্ট্রধারণা গণবিরোধী ছিল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় নিয়া সলিম ভাল কিছু ঐতিহাসিক ইমাজিনেশনের কথা বলতেন, বক্তৃতাগুলোতে। আমি মনে করি, মানুষকে তার বেস্ট ইমাজিনেশনগুলো নিয়ে কাজ করতে দেওয়া দরকার।

পরে, সলিম বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন। যেহেতু আমার মতে, রাষ্ট্রীয় পদক মরিবার আগে গ্রহণ করা লেখক সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীর জন্য অপমানকর, কারণ, লেখক-সাহিত্যিক এইসব রাষ্ট্রের চেয়ে অনেক স্বাধীন ব্যাপার। ফলে, আমার প্রশ্ন ছিল, সলিম ভাই কি এই অপমান গ্রহণ করবেন? যদি গ্রহণ করেন, আমার সলিম ভাইরে নিয়া একটা আলাপ আছে, নাম, সলিমুল্লাহ খানের লিমিট। তো, এই পুরস্কার গ্রহণরেও সলিমুল্লাহ খানের আরো লিমিট হিশেবে পড়ব। হা হা, পরে সলিম পুরস্কার হ্রহণ করলেন এবং আমি অভিনন্দনও জানালাম।

একটু নোট করে রাখা যায়, সলিম ভাইয়ের একদা বন্ধু ফরহাদ ভাইয়ের সাথেও জুলাইয়ের পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা হয় একদিন। তার ছবি দিয়েছিলাম, সেই ঘটনা লিখেওছিলাম। আজকে সলিমকে নিয়ে লিখলাম, উপরের ভূমিকা। ও, 'মধ্যবর্তি বেঞ্চটাতে' নামে আমার সর্বশেষ বহিতে সলিমুল্লাহ খানের কোন একটা বক্তৃতা নিয়ে আমার আলাপ, 'সলিমুল্লাহ খানের লিমিট' নামে প্রিন্ট হইছে। এইটা, সলিম ভাইকে কেউ নজরে দিতে পারেন। বা, আপনারাও পড়তে পারেন।

আসেন, এবার পড়ি পুরনো রিডিংটা।
/ আগস্ট ২০, ২০২২

সলিম কিছু মুগ্ধতা ও ছাত্র তৈরী করেছেন। চিন্তা বা রাজনীতি না। মোটিভেশনাল স্পিকার হিশেবে সলিম খান বাংলাদেশে সেকুলার অঙ্গনে মিজানুর রহমান আজহারির কাছাকাছি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন ইদানীং। বয়স, বাগ্মীতা ও জ্ঞানগম্যিতে সলিমুল্লাহ খান বড়ই। রীতিমত ঠাকুর।

এই ঠাকুরের বিখ্যাত দুটি উক্তি আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে: 'যে কোন অপারেশনে কেজুয়ালিটি হবেই। কিন্তু শাপলাচত্তরের সমাবেশটি অবৈধ কি-না'— সময় টিভি থিকা শুনতেছিলাম। মে ৭, ২০১৩ তারিখ। মতিঝিলে হেফাজতকর্মীদের উপরে যৌথ বাহিনীর ম্যাসাকারের পর। পরে, আরো ছয় বছর পরে, দুই হাজার উনিশ সালে, বাংলা একাডেমি লেখক বলছি মঞ্চ থেকে বলছেন, 'কাজেই আল মাহমুদ যদি শিবিরকে সমর্থন করে থাকেন, তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তাই বলে তার কবিতা, যিনি লিখেছেন রজতরেখা, সেটা মুছে যাবে না'। এই দুটি মন্তব্য ইতিহাসের উত্তাল একটি সময়ে এবং অন্য একটি নিস্তরঙ্গ সময়েও তিনি কীভাবে স্থির হয়ে চিন্তা করতে সক্ষম ও তিনি যে তার চিন্তাপদ্ধতি থিকা বিচ্যুত হন না, তার সাক্ষ্য দেয়।

পাশাপাশি, দেখেন, 'শিবিরকে সমর্থন' করার অপরাধে শাস্তি প্রদানের পরপর আল মাহমুদের কবিতার যে রজত রেখা, তা যে অম্লান, এই ব্যাপারটা অসংকোচে স্বীকার, এইটা সলিমুল্লাহ খানের মহৎ গুণ। মাহমুদুর রহমান নামের একজন 'এডিটর-ইন-চান্স'-কে শাস্তি প্রদানের পক্ষে তার যে বুদ্ধিবৃত্তিক এডভোকেসি, বা পাকিস্তানি মিলিটারির সাথে বাঙালি মেয়ের প্রেমের কাহিনী মেহেরজান ছবি যে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকাই দরকার, খানের এই অবস্থানগুলো আমাদের ভাবনা চিন্তাকে নাড়া দেয়।

তো, শাহবাগের সময়টিতে সলিম খানের প্রতি আমরা উদার থাকতে পারি নাই। তিনিও যেমন। ফলত, কিছুটা 'শত্রুতা' তৈরী হইছিল, ধারণা করি, ফেসবুকে থাকাকালীন। তার টেক্সট থেকে ধার কইরা তাকে 'ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী' লিখেছিলাম। বোধ হয়, গ্রামসীর ট্রেডিশনাল বুদ্ধিজীবীরই অনুবাদ তিনি 'ভাড়াটে 'বুদ্ধিজীবী' করছিলেন। সময়টাই আমাদেরে শান্তভাবে বইসা চিন্তা করতে দেওয়ার মত ছিল না। 'শাহবাগের আজান' এবং 'জয় জয় করিয়া বাড়ে রাজার ব্রাহ্মণ, কিন্তু লেখক-বুদ্ধিজীবীর কাজ কী?' লেখার পরই, সেই সময়ে ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত প্রফাইল থেকে তিনি আমাকে ব্লক করেন। শাহবাগের রাষ্ট্রপ্রকল্প ও অসহিষ্ণুতার অংশ হিশেবেই উনি আমারে ব্লক করছিলেন, এইটা আমার পাঠ ছিল। উনার কাছে তার আরো পাঠ থাকিত পারে। তো, এই ঘটনারে উসিলা কইরা সেই সময় আমি, মূলত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ লিখি একটা৷ নাম, বন্ধুত্ব নিয়া জরুরি এলান। আপনারা অনেকেই পইড়া থাকতে পারেন।

সলিমুল্লাহ খান ফরহাদরে হেফাজতের তাত্ত্বিক বলছিলেন। আর সলিম খান নিজে শাহবাগরে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ ঠাউরে নিছিলেন আর এই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নবী হইতে চাইছিলেন বইলাই মনে হইছিল আমার। পরে, তার মনোভঙ্গ হইছিল কি!

একটা আশ্চর্য ব্যাপার হল, বন্ধুত্ব ব্যাপারটি নিয়া সলিম এবং আমার মধ্যে, কোন কোন সময়, কাছাকাছি ভাব বিরাজ করে। খেয়াল করবেন, সলিম সব মতভেদ, ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বরে ভুইলা ফরহাদ মজহারের এবডাকশনের সময়ে দালাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে ফরহাদ উদ্ধারের পক্ষে অবস্থান নিতে পেরেছিলেন। এই ঘটনাটি এমন, সলিমুল্লাহ খানরে নিয়া এতক্ষণ যা লিখলাম, তার একটা পুনপাঠ করতে প্রলুব্ধ করে।

শুভ জন্মদিন।

~সলিমুল্লাহ খান-

অর্থনীতি ও আইন সলিমুল্লাহ খানের একাডেমিক ডিসিপ্লিন। ঘটনাক্রমে আমারও, এই দুইটাই। সলিম ভাইয়ের সাথে আমার একাড…
August 19, 2025
34 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!