সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু নিয়া ভাবছি। এই মৃত্যু খুব খারাপ লাগল। সেন্সিবল লেকেদের মৃত্যুতে আমরা বেশি মর্মাহত হই, নির্বোধ, যেমন একটি পশু, বা গরিব, যে কথা কইতে পারে না, তেমন কোন লোকের মৃত্যুর চাইতে। বিভূরঞ্জন একটি খোলা চিঠি লিইখা সমস্যাটা বাঁধালেন, নইলে উনারে কখনো চিনতেই হত না। তবে, এইটা হত্যা কিনা দেখতে হবে। স্রেফ বিডিনিউজ এর প্রকাশিত লেখাটি দিয়ে এইটারে সুইসাইড নোট হিশেবে পড়তে চাই না। এসব আত্মহত্যার প্রতি রোমান্টিসিজম তৈরী করে।
আগে তো চিনতাম না, আজকে নিউজফিডে আসা কিছু লেখা, আর বিডিনিউজের লেখাটি পইড়া দুইটা জিনিশ মনে হল। প্রথমত, উনি বোকা মানুষ, আর যোগাযোগহীন, কিছুটা আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ছিলেন। যে আত্মমর্যাদার কারণে, উনি শেখ হাসিনা, মুজিব ইত্যাদি নিয়ে তোষণমূলক বই লিখলেন, কিন্তু প্লট, পদ বা 'কাড়ি কাড়ি টাকা' চাইতে পারলেন না। এমন কি প্রকাশকও এক টাকা দিল না উনারে। ফলে, কেন এত করার পরেও তিনি হাসিনা খেকে কিছু পেলেন না, বাকি বন্ধুরা পদ, প্লট আর টাকা কড়ি কামালেন, তার জন্য অভিমানী ছিলেন। কিন্তু সেই অভিমান ইউনুস সরকারের উপরেই পড়ল, এবং খোলা চিঠি লিইখা 'আত্মহত্যা' করলেন (যদি আত্মহত্যাই প্রমাণ হয়)। আমার মতে, এর কারণ, উনি জগতের আরো কিছু ধর্মান্ধের মতই মনে করেন, সত্য মানে আওয়ামী লীগ। আর আওয়ামী লীগের পরাজয় মানে নিজের পরাজয়।
হাহা, আহমদ ছফার কথা মনে আছে তো? বাংলাদেশে ইন্টালেকচুয়ালদের ভেতরেও একটা ছোট অংশ এরকম মনে করে, কিন্তু ঠিক এই লোকের মত ধর্ম হিশেবে না। কিন্তু বিভূরঞ্জনবাবুর কাছে এইটা ধর্ম ছিল। ফলে, বিভূরঞ্জন সাহেব হাসিনার থিকা বঞ্চিত, অসুখি ও প্রতারিত হয়েও, গণঅভ্যুত্থানের মুখে হাসিনার পরাজিত হয়ে পালানোরে মাইনা নিতে পারেন নাই৷ বলছেন, হেলিকপ্টারে কইরা কেউ পালায়? মানে, এই পালানোরে মহিমান্বিত করেছেন এবং অভ্যুত্থানকারী ছাত্রদেরকে জঙ্গী আর অভ্যুত্থানকে মেটিকুলাস ডিজাইন বলছেন। নিশ্চয় ইজরায়েলি পানিয়, মুগ্ধর বেঁচে থাকা, এআই এর তৈরী আবু সাঈদরেও উনি মনে প্রাণে বিশ্বাসই করেন, আর দশটা সহজ সরল আওয়ামীলীগারের মত।
দেখবেন, এই যে অবোধ বিশ্বাস ও মেনে নিতে না পারা, এইটা বাংলাদেশের বামপন্থার পপুলার অংশ থেকে শুরু করে হিন্দু জনগোষ্ঠির একটা অংশ, এমন কি ইসলামিস্টদেরও একাংশের অসুখ। বিভুরঞ্জনও এই অসুখেরই অংশ, এর বাইরে নন। মানে নির্বোধই। কিন্তু, দেখুন, একটা চিঠির কারণে বিভু সাহেবকে আমরা জ্ঞানী ও সেন্সিবল হিশেবেই, নির্বোধ ও জড়দের থিকা আলাদা কইরা স্মরণ করছি। কারণ, মানুষ হিশেবে আমরাও সেন্সিবলই, মানুষের মৃত্যু আমাদেরকে ভাবায়। বিভুরঞ্জন মানুষের খুন নিয়া ভাবিত না হলেও এবং খুনের বিরুদ্ধে মানুষের প্রটেস্টরে মেটিকুলাস ডিজাইন মনে করলেও, বিভুরঞ্জনের মৃত্যুও, মানুষ হিশেবে আমাদেরে মর্মাহত করে। কিন্তু, আমি, এই স্মরণের পাশাপাশি, তার মৃত্যু রহস্যরে আত্মহত্যা নামে প্রচার না কইরা সঠিক তদন্ত দাবী করছি। বিভূরঞ্জনকে কারা হত্যা করল?
No comments yet. Be the first!