ওয়েল। আলাদা কইরা জুলাই‚ বা একাত্তর ডিনায়াল নিয়েও আমার তেমন কোন মাথাব্যাথা নেই। উভয়ের কোনটাই আমার কাছে যেহেতু ধর্ম না। একাত্তর আমাদের অনেকের জন্যই গায়েব‚ যেহেতু চোখের সামনে ঘটে নাই। আর জুলাই হল‚ আমাদের চোখ ছেঁছড়ে দিয়ে‚ চোখের উপর রক্তের ফিনকি উড়িয়ে চলে যাওয়া ট্রেন। ধর্মে গায়েবের উপরে বিশ্বাসের একটা ব্যাপার আছে বটে। এইটা হল ঈমানের প্রশ্ন। এমন কি কবি হিশেবেও‚ আমি গায়েবে ঈমানের জরুরত বুঝি। যেমন‚ বিপ্লব বা প্রেম তো একটা গায়েবি সম্ভাবনাই। উভয়ে ঈমান রাইখাই অগ্রসর হইতে হয়। কিন্তু‚ একজন প্রায় সেকুলার মানুষ হিশেবে আমি হাজেররে দেখি, গায়েবেরও সবার আগে। হাজেরের প্রতি আপনার রেসপন্স কী, তা দিয়াই আপনার গায়েবরে ধরা সম্ভব।
ফলে‚ ডিনায়ালের প্রশ্ন না, যারা 'একাত্তর ভুলে যাওয়া' ধরনের দুশ্চিন্তায় আগ্রহী, যেমন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বা, তার দলের আরো বড়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ফজলুর রহমান সাহেব‚ তাদের জন্য এই আলাপ। যে একাত্তর আমরা দেখি নাই, গায়েব, আপনি যখন তার গল্প বলছেন‚ এই গল্প যে ট্রুথ নির্মাণ করতে চায়, একজন সেকুলার মুমিন হিশেবে আমি তারে প্রশ্ন করি বটে। যেহেতু গায়েব মানে স্রেফ বিশ্বাস না, অবিশ্বাসেরও ব্যাপার।
কিন্তু, জুলাই তো গায়েব না‚ যা তাদের ভুলিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে‚ ফলে ভুলে যেতে বসেছেন। জুলাই তো মাত্র চোখের সামনে ঘটে যাওয়া মহাইতিহাস, কয়েকদিন আগে, জুলাই জাগরণ ও হাসিনার নেতৃত্বে হওয়া জেনোসাইডকে কল্পনা করার ব্যাপার না, চোখ দিযে দেখার ব্যাপারই ছিল। উভয়রে তারা কীভাবে দেখছেন? বা, দেখতে পাচ্ছেন কি?
এই প্রশ্ন, যে ইতিহাস আপনার চোখের উপরেই ঘটল, তারে কীভাবে নির্মাণ করবেন, সেই দার্শনিক মুহূর্তের প্রশ্ন না, যা আমরা করছি বহুদিন ধরে। তারো বহু আগে, হাজেরের প্রতি আপনার যে প্রাথমিক রেসপন্স, আপনি যে তারে দেখতেই সক্ষম না, স্রেফ ডিনায়াল, তার রিডিং। তো, যিনি চোখের সামনে ঘটা জুলাইয়ের রক্তজবা দেখতে পেলেন না‚ তার আবার একাত্তর কী?
No comments yet. Be the first!