সামান্য 'দু টাকার মেজর'। 'বঙ্গবন্ধুর খুনি'। 'বিশ্বাসঘাতক'। 'পাকিস্তানের চর'। 'পাকিস্তানের হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঢুইকা পড়ছিলেন'। মূলত‚ 'মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধেই' যুদ্ধ ও সাবোটাজ করছিলেন, একাত্তরে। সাত মার্চের ভাসনের দিন 'মেজর জিয়ার নেতৃত্বেই হামলা করা হইছিল'। এইসবই তো ছিলেন জিয়া।
আমরা এভাবেই জানতাম, পাঠ্যপুস্তক ও মিডিয়াগুলোতে পড়তাম ও গভীরভাবে বিশ্বাস করতাম, নিয়তির মত। দেখা যাচ্ছে, দুই হাজার চব্বিশে ছাত্রদের নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের পর, আবারও, এখন, এই একই নিয়তির অংশ হিশেবেই, মুজিববাহিনী কমান্ডারসমগ্র‚ 'মুজিববাদি বাম' আর আওয়ামী এসটাবলমেন্টের ভাষা বয়ান ও ক্ষমতার উপরে ভর কইরাই বিএনপির ভেতরকার হীনমন্য একটা পক্ষ এখন নিজেদের বৈধতা খুঁজতে তৎপর।
ফলে, দুইদিন পরে যখন বিএনপির এই উচ্ছ্বাসের উপরে ভর কইরা তাদের আদি আওয়ামী বৈধতাও ফিরে আসতে থাকবে ধিরে‚ যেমন প্রবীণ বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের হাত দিয়ে তার ইশারা দেখা গেল এতদিন‚ তখন আবারো এই এসটাবলিশমেন্ট ও বৈধতার কারিগররা নিজ ঘরেই ফিরে যাবেন‚ কোন প্রশ্ন ছাড়াই। ১৯৮১ সালের মত‚ দিল্লী আবার বহুদিনের জন্য প্রত্যাবর্তন করবে‚ জিয়ার হাত ধরে। প্রত্যাবর্তনের পর‚ তখনও, জিয়া, পাকিস্তানের চরই রয়ে যাবেন। বঙ্গবন্ধুর খুনী। বিশ্বাসঘাতক। অমুক্তিযোদ্ধা।
আবার খুন হবেন সার্কিট হাউজে। জামাত যেমন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি বিরোধী ঐতিহাসিক ঐক্য করেও নিজেদের 'স্বাধীনতাবিরোধী' দশা কাটাতে পারে নাই, তেরতে আইসা নেতাদের ফাঁসিই বরণ করতে হইছে‚ বিএনপিও নিজের সেই একই মুজিববাদি গুহায় আবার আটকা পড়বে‚ এটাই নিয়তি। কারণ‚ আওয়ামী বয়ানের বাইরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়া বিএনপির কোন রাজনীতিই নেই। সর্বপ্লাবি জুলাই অভ্যুত্থানের পরও, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নিয়া নিজস্ব বয়ান হাজির করার মত মেধা ও আন্তরিকতা দেখাতে পারে নাই বিএনপি নেতৃত্ব, শুধু আওয়ামী ঘেন্নাবাদের অনুসরণ আর কপি পেস্ট রাজনীতিরেই নিজেদের গন্তব্য ঠিক করে নিয়েছে ওরা। কিছুটা ভবিষ্যতবাণীর মতই শোনাল যদিও‚ কিন্তু‚ ইতিহাস তো এই কথাই বলে। আপনাদের কী মনে হয়?
No comments yet. Be the first!