কাদেরের গায়ের রঙ কালো। মাদ্রাসার থিকা আসা এবং নিরীহ গোবেচারা চেহারা। এই সবকিছুর সাথে ন্যাচারালি একটা ঐতিহাসিক ভিকটিমহুড এর ব্যাপার আছে। আমার মতে, এই শরীরে অতিরিক্ত ভিকটিমহুড দর্শকরা নেবে না, এইটা তার ব্রান্ড ডিজাইনারদের মনে রাখা উচিত। এর সাথে, বরং কাদেরের ঐতিহাসিক নয় দফার ঘোষক এর পরিচয় নির্মাণ ব্রান্ড এর জন্য ভাল হত। এইটা কন্ট্রাস্ট ও বোল্ড চেহারা নির্মাণ করত তার। দেখবেন, কাদেরের চেহারার সাথে তখন আপনি আব্রাহাম লিঙ্কন বা নকশাল আন্দোলনের চারু মজুমদারের চেহারার মিল খুঁজে পাবেন। কিন্তু তার ব্রান্ড ডিজাইনাররা ভিকটিমহুডের চেহারাটাই বেছে নিল।
দ্বিতীয়ত, কাদেরের প্রচারণার গন্তব্য ভোটারদের যে অংশকে কনভিন্স করতে, তারে তো স্পষ্ট চেনা যায়। তারা ঐতিহাসিক বাম, অল্প ও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, ঐতিহ্যগতভাবে রাজনীতিতে রক্ষনশীলতারে প্রমোট করেন। বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলও যে এই ইস্যুতে কাদেরের পাশে দাঁড়াচ্ছে, এইটা তো কাদেরের সম্ভাব্য ভোটকে ডিভাইড করতে। আমার মতে, এই ভোটারদেরকে গন্তব্য হিশেবে ঠিক করার স্ট্রাটেজিটা কাদেরের ব্রান্ড ডিজাইনারদের ভুল। কাদেরের ভোটারদের এই অংশ বেশ ছোট, যারা চোখ বন্ধ কইরা কেবল একটা গ্রুপের ভোটার, কখনোই কাদেরের হবে না। বরং এই ভিকটিমহুড থেকে কাদেরের যাদের ভোট হারাবার সম্ভাবনা, তারা সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নয়, রাজনীতি ও আদর্শে বিভিন্ন ও বড়। মূলত কাদেরদের একটিভিজম শিবিরকে কেন্দ্রে রাখলেও, উদার ডানপন্থার একটা বড় পরিসর নিজেদেরকে কাদেরদের এই প্রচারণার ভিকটিম মনে করতে প্ররোচিত করবে। এমন কি শিবির বিরোধী অন্যান্য ইসলামী গোষ্ঠিও। যেহেতু এই ভিকটিমহুডে কাদেরদের এলাই হল পঁচা আওয়ামী বামদের রক্ষণশীলতা। ফলে, এইটা তার ব্রান্ড ডিজাইনারদের খারাপ ডিজাইন মনে করি আমি।
সর্বশেষ, কাদেরের হেনস্থার ব্যাপারে, (জেতা লাগবে না, কেবল বাঁচতে চাওয়া, বক্তব্য কাট করে প্রপাগাণ্ডা বা আরো আরো) একটা পর্যবেক্ষণ দিই আমি। তা হল, শিবির একদা কাদের এর শিবির নেতা পরিচয় নির্মাণ করতে চেয়েছিল, নয় দফা ঘোষণার কারিগর হিশেবে, নাহিদ মাহফুজদের ক্রেডিট থিকা দৃষ্টি সরানোর টুল, বা অভ্যুত্থানে নিজের স্টেক প্রমাণের উদ্দেশ্যে। কিন্তু, কাদের শিবিরের এই ডিজাইনকে অস্বীকার করল বা এর থিকা সরে আসল। সম্ভবত এর পরেই এই জাযগায় শিবির সাদিককেই ব্যবহার করল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক সাংবাদিকের হেল্প পেল। এই যে তাদের ডিজাইন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা, এর পরে কাদের মূলতই শিবির সমর্থক বা নেতাদের ছোটলোকিমূলক একদা নানান 'আশ্রয়' 'প্রশ্রয়' 'অনুগ্রহ' বা 'চায়ের বিল' এর ভিকটিম হল।
আমি দেখি, সেই ট্রমা থিকা কাদেরের মুক্তি হতেছে না এখনও। কিন্তু বহুত জল আর পানি গড়িয়ে গেল বুড়িগঙ্গায়৷
আমি কাদেরের ব্রান্ড ডিজাইনারদের বলব, ডাকসু নির্বাচনের আগে কাদেরের কাছে আর যে কদিন সময় আছে, এই সময়টারে এই ট্রমা থিকা মুক্ত করেই ব্যবহার করুন। নিন্দা, প্রতিক্রিয়া এইসবের বিপরীতে, ডাকসুতে কাদের কী করতে চান, তার ইশতেহারকে সামনে আনুন। নিন্দামন্দের বাইরে হাসিখুশি এবং হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নয় দফার বিপ্লবী কাদেরকে হাজির করুন। তখন এই ব্রান্ড ডিজাইন সফল হতে পারে। তারা সময় পাবেন?
No comments yet. Be the first!