unSocial

ডাকসু এবং সম্ভবত জাকসুতেও, শিবির সমর্থিত প্যানেলের সাফল্যরে আমি শিবিরের আদর্শিক 'রাজনীতি'র সাফল্য হিশেবে দেখি না। দেখি, অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনীতি ও আইডিয়ার ব্যর্থতা হিশেবে। বিশেষত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর সম্ভবত জাহাঙ্গীরনগরেও অন্যদের রাজনীতি ছিল, শিবিরকে ট্যাবু বানিয়ে, নিষিদ্ধ রেখে রাজনীতি করা। তো, পুরো বাংলাদেশ রাষ্ট্র থেকে আলাদা কইরা শুধু ক্যাম্পাসগুলোতে এই শিবির নিষিদ্ধ রাইখা রাজনীতির প্রতি পত্রিকা ও মিডিয়াগুলোতে অধ্যাপক ও ছাত্রদের যে বাকবাকুম কনসেন্ট দেখা যাইত তখন, তা মিডিয়ার তৈরী করে দেওয়া, ভুয়া কনসেন্ট ছিল। আর, স্বাভাবিক হল, দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি যেখানে বাধা থাকে, সেখানেই একটা স্ট্রাগল ও রেসিসটেন্স থাকে। হাসিনার দিনে শুধু ক্যাম্পাসগুলোতে না, পুরো বাংলাদেশে শিবিরের টিকে থাকার একটা লড়াই ছিল। আর, দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় জুলুমের সাইন ছিল শিবির। সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে তার এই মজলুম অবস্থার প্রতি সহমর্মিতা তৈরী হয়ে ছিল। আমি আগের কোন একটা লেখায় বলেছি, দুই হাজার তেরর শাহবাগ আন্দোলন জামাত শিবিরের একটা সোশালাইজেশন ঘটিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে দমন নিপীড়ণ গণঘৃণার প্রচার উইচ-হান্টিং, এইসবের বিপরীতে। সংগঠিত ও ক্যাডারভিত্তিক দল হওয়ায় এই অবস্থাগুলোকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে শিবির। এই সময়টাতে শিবির তার সব সময়কার রক্ষণশীল 'আদর্শিক' ও পেশির রাজনীতিকে দূরে রেখেছে, যার জন্য শিবিরের মূল পরিচিতি ছিল অতীতে। সর্বমিত্র চাকমা ও জুমাদের মত ক্যান্ডিডেট, আবার যারা হিজাবী, সব ধরনের ক্যান্ডিডেটই ডাকসুতে শিবিরের ছিল। ফলে, পত্রিকায় দেখলাম, ঢাবিতে ছাত্রীদের ভোটও সবচেয়ে বেশি পেয়েছে শিবির, যেটি আগের দিনগুলোতে কখনও সম্ভব ছিল না।

মানে, কোনভাবেই শিবিরের পুরাতন রক্ষণশীল রাজনীতির প্রতি ম্যান্ডেট না এই ফলাফল। বরং সর্বমিত্র চাকমা ও জুমার মত ছাত্রীদের রেখে বৈচিত্রপূর্ণ প্যানেল ও রিজিড মৌলবাদী অবস্থার বিপরীতে একটা উদারপন্থী চেহারার প্রতি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আকাঙ্ক্ষার ফলাফল এটি, যা ওরা আগে কখনোই ছিল না। প্রশ্ন হল, এইটা কী ইঙ্গিত বহন করে? শিবির কি তার রাজনীতির পথ পরিবর্তন করছে? নাকি কৌশলমাত্র? পথ পরিবর্তন নিয়া আমার চরম সন্দেহ আছে। তাদের রাজনীতিতে অবস্থান পরিবর্তনের থিসিস নেই, আমি সব সময়ই বলি। তো, এর মীমাংসা হবে দুইটা জাগায়। এক. ইতিহাসে। তার জন্য তো অপেক্ষা করাই যায়। দুই. নীতিশাস্ত্রের আলাপ। আমি এই পরের, নীতিশাস্ত্রের আলাপেরই মানুষ। তার জাগায় প্রশ্ন তো রাখা জরুরিই।

যেমন, শিবিরের নির্বাচিত ভিপি যে রায়ের বাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জিয়ারত করতে গেলেন, তারা নিশ্চয় শহীদদের এই আত্মদানরে ঔন করতে চাইলেন। কিন্তু, ঐতিহ্যগতভাবে শিবির যে জামাতের একাত্তরের অবস্থানরে ডিজঔন করে, তার কোন থিসিস হাজির নেই। বরং গণঅভ্যুত্থানের পরে তাদের দলীয় নিউজলেটারে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পথভ্রষ্ট ধরনের কিছু বলা হইছিল, যদিও সেই লেখা পরে তারা প্রত্যাহা্র করে। কিন্তু, এই ঘটনা যে ঘটতে পারল, এর কারণ, তাদের একাত্তর স্পষ্ট না। বা লুকাতে চায় তারা। হীনমন্য। তাদের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি ব্লারড। যদি তারা এখন একাত্তরে আমাদের জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম ও গণমুক্তিযুদ্ধরে ঔন করেন, কীভাবে ঔন করেন, তাদের রাজনীতিতে সেই অবস্থান পরিবর্তনের থিসিস প্রকাশে ডরান। দুই হাজার তেরর শাহবাগের আজান নামক লেখায় শিবিরের একাত্তর পরবর্তি প্রজন্ম, যারা বাংলাদেশকে ঔন কইরা রাজনীতি করতে চায়, তাদের এই সংকটের কথা বলেছিলাম। তখন, শিবিরের ভেতরেও একটি গ্রুপ ৭১ সালে জামায়াত এর অবস্হান এবং যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে একটা মীমাংসা চেয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেছিল, সম্ভবত তাদের মধ্যে অধুনা পরিচিত আইনজীবী শিশির মনিরও ছিলেন।

তো, সেই সময় প্রশ্ন করেছিলাম, যারা এই প্রশ্নের মীমাংসা চেয়েছে, সেই একই ছাত্র-যুবকরা কেন এই 'যুদ্ধাপরাধ বিচার'কে মেনে না নিয়ে রাস্তায় নেমেছে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। বিচারের আয়োজকরা কেন তাদের এই সমর্থন ব্যবহার করতে পারে নাই, বরং ঘৃণা ও অপরাপর নির্যাতনে তাদেরকেও যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিপক্ষ হিশেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে? এই প্রশ্ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হল, তখনও যেমন, এখনও, শিবিরের তরুণ প্রজন্ম জামাতের একাত্তরের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারে না, সেসব লুকিয়েই রাজনীতিতে হাজির থাকতে চায়। এই লুকিয়ে হাজির থাকতে চাওয়ার কারণে, শিবিরের প্রতি নতুন ছাত্রদের যে আপাত সমর্থন, তা বেশিদিন ধরে রাখতে পারবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি তো স্পষ্ট করারই ব্যাপার। না হলে পথের ধোঁয়াশা দূর হয় না। এই যে রায়েরবাজারে সাদিকদের যাওয়া, এইটা সেরকম একটা ধোঁয়াশাই।

ডাকসু এবং সম্ভবত জাকসুতেও, শিবির সমর্থিত প্যানেলের সাফল্যরে আমি শিবিরের আদর্শিক 'রাজনীতি'র সাফল্য হিশেবে দেখি না। দেখি, অন্য …
September 12, 2025
20 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!