unSocial

একটা বিশ্বস্ত গুঞ্জন এরকম শুনলাম, যে, বিএনপির একটা প্রভাবশালী অংশ নির্বাচন পেছাতে চাইতেছে, এবং প্রস্তুতির জন্য আরো সময় চায়। আর একটা অংশ নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে চায় বটে, কিন্তু নির্বাচনে ওয়াকার আর তাদের দলীয় পেশির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। মানে, আর একটা হাসিনার নির্বাচন। আবার, নির্বাচন পেছাতে চাওয়া অংশ একটা জাতীয় সরকারের ধারণা প্রমোট করতে চাচ্ছে বইলাও একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যেহেতু এই সময়টা পুরোপুরি ইন্টারিমের উপরে ছেড়ে দেওয়া যায় না। উভয় সম্ভাবনারই মূল কারণ, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে পার্টির ভেতরে হঠাৎ অনিশ্চয়তা, যেইটারে বিএনপি প্রায় নির্ধারিত বইলা ধারণা করছিল। বিএনপির হঠাৎ নির্বাচন নিয়ে এই সিদ্ধান্তহীনতা আশঙ্কারই। এইসব গুঞ্জন পুরোপুরি অবিশ্বাস করার মতো না, কারণ, ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর পরে, খেয়াল করলাম, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির উচ্চবাচ্য কম এখন। এনসিপির শাপলা প্রতীক নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরী করল নির্বাচন কমিশন, এইখানে সম্ভবত নির্বাচন পেছানোর একটা উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যার দায় এনসিপির উপরে পড়তে পারে। এরকমই কি?

এরকম যদি হয়, ভবিষ্যৎ বলবে। আমি সাধারণত এই ধরনের গুঞ্জনগুলো নিয়া কোন আলাপ করি না, কিন্তু, গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ আমাকে ভাবাচ্ছে। বিএনপিকে বেশ অপ্রস্তুত মনে হচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কোলকাতার এক পত্রিকার সাক্ষাৎকার ও তা প্রকাশিত হবার পরে অস্বীকার ও এআই এর তৈরী বলে দাবী, তা এই অস্থিরতারই প্রকাশ। এখানে ফখরুল নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে চেয়েছেন এবং জামাত ও এনসিপি নিয়ে সেনসিটিভ কিছু মন্তব্য করেছেন ও পত্রিকার রিপোর্টারকে আশ্বস্ত করার মতো ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরে ফখরুল যা মিথ্যা বইলা দাবী করেছেন। ফখরুল অস্বীকার করলেও, এই অস্বীকারের অর্থ, তর্ক এড়াতে চাওয়ার ঘটনা হিশেবেই আমরা পড়ছি। একই সময়ে, জামাত নেতা তাহেরের আর কিছু কোট দেখা যাচ্ছে জনৈক ভারতীয় অধ্যাপকের বরাতে, যেখানে তিনি বলেছেন, জামাতের ক্ষমতায় আসার সাথে 'ইসলামী শরিয়া' নামের কিছুর সম্পর্ক নেই, এবং জামায়াতের নেতৃত্ব ভারতের সাথে সস্পর্কে আগ্রহী, ইত্যাদি।

ইন্টারেস্টিং হল, একই সময়ে দ্য উইক নামক মিডিয়ায় নাহিদেরও একটা ইন্টারভিউ এসেছে, যেইটারে আমার সবচেয়ে ভাল ও মেচিওরড মনে হয়েছে। এখানে নাহিদ ভারতকে বাংলাদেশ নীতি ও এক দলের সাথে সম্পর্ককেন্দ্রিক পুরনো বিচার পুনর্বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন। তো, এইসব সাক্ষাৎকার, বিশেষত ফখরুল ও নাহিদেরটা আমরা জানছি মাত্র গতকাল থেকে। কিন্তু এর মধ্যেই, নিউইয়র্কে আখতার, জারা ও মির্জা ফখরুলের উপরে হামলা হল ও ফখরুলের মত বর্ষিয়ান নেতারেও এর থেকে বাদ দেওয়া হল না। ফলে, এই হামলার পরে দল হিশেবে বিএনপির চিন্তা বদলাতে পারে বইলা আমার একটা ধারণা হইতেছিল। কিন্তু, আজকে রিজভি সাহেবের একটা ভিডিও দেখলাম, যেখানে এই ঘটনাটারেই পুরোপুরি মিথ্যা ভুয়া ও কন্সপিরেসি বলা হইতেছে। ফলে, বিএনপিরে একটা অস্থির বালকের মত মনে হইতেছে এখন, যার কিছু স্থিরতা প্রয়োজন।

September 24, 2025
11 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!