গুলতেকিনের এই ছবিটা অদ্ভূত মায়াবী। হুমায়ূন সম্ভবত, এই গুলতেকিনেরই প্রেমে পড়েছিলেন। উনার নতুন কোন লেখা ঘুরছে, সাথে এই ছবি। সম্ভবত তাদের কোন ব্যক্তিগত প্রেমের অনুযোগ বা ডায়েরি। এই লেখা আমি পড়ি নাই। পড়ার সম্ভাবনা কম। কেন পড়ার সম্ভাবনা কম, তারে নিয়া দুইটা ভিন্ন সময়ে লেখা দুইটা লেখা দিলাম এখানে। পড়তে পারেন, আশা করি, ইশারা পাবেন।
........
এক. ভক্তদের হুমায়ূন অবসেশন~
[ এইটা জুলাই দুই হাজার ষোলতে লেখা। তখন গুলতেকিনের বেশ নিন্দামন্দ হচ্ছিল। সম্ভবত, গুলতেকিন তখনও কোন লেখা লিখছিলেন। তখন হুমায়ূন ভক্তদের আক্রমণের শিকার হইতেছিলেন গুলতেকিন।]
ভক্তদের হুমায়ূন অবসেশন গুলতেকিনের উপরে হামলে পড়ছে, এইটা বেদনার। হুমায়ূন লেখকমাত্র ছিলেন।
গল্প উপন্যাস বা একজন লেখকরে আইকন ও আইডিয়োলজির জায়গায় নিয়া যাওয়ার যে বিপদ, তাই এই মুহূর্তে গুলতেকিনের উপরে হামলে পড়ছে বইলা আমি মনে করি। এইটাতে হুমায়ুনের শক্তিমত্তা প্রমাণিত হয়, আর পাঠক হিশেবে আপনারে অত্যধিক দুর্বল ও ছোট মানের বইলা প্রতিভাত করে।
বাংলা ভাষায় রবীন্দ্রনাথের যে সমস্যা, হুমায়ূনেরও একই সমস্যা। তারে উতরানো, তার বিষয়ে যে কোন বাহাস ও সমালোচনারে যে কোনভাবেই কঠিন কইরা তুলতেছেন তার ভক্তরা। ফলত আমরা বাংলা সাহিত্যে আরো ডজনখানেক হুমায়ূন আহমেদ দেখছি, দেখতে থাকবো আর উনি রবীন্দ্রনাথের মতোই সাফ সুতরোর বিষয় ও পরিত্যাজ্য হয়ে উঠছেন ক্রমশই।
হুমায়ূন শান্তিতে থাকুন, এইসব দোষ গুণ নিয়াই তিনি মানুষ। তার গল্প উপন্যাসেও তিনি নিজের ও গুলতেকিনের এইসব বলা গল্পই বলেছেন।
লেখক হিশেবে গুলতেকিন হুমায়ূন থেকে ছোট মানের, কারণ তিনি নিজের গল্প এমনভাবে বলেন, হুমায়ূন ছোট হয়। আর হুমায়ূনের গল্প পাঠকদের কাছে গুলতেকিন নামের এক ইউটোপিয়া তৈরী করতে সক্ষম হইছিল। ফলত, হুমায়ূনের সাথে তার পাঠকেরাও মূলত গুলতেকিনের প্রেমে পড়ে। এখন হুমায়ূনভক্তদের প্রতিক্রিয়া হল ব্যর্থ প্রেমিকের মত।
এর দায় গুলতেকিনের নয়। পাঠকদের এইবার হুমায়ূন বিষয়ক অবসেশনগুলো ভাঙার, সাফসুতরো করবার প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।
........
দুই. গুলতেকিনের বিয়ে~
[ পরের এই লেখাটি লিখেছিলাম, দুই হাজার উনিশের নভেম্বরে, তখন হঠাৎ গুলতেকিনের বিয়ের সংবাদ চাউড় হল।]
গুলতেকিনের বিয়েটা ভাল ঘটনাই। মরে যাওয়ার পরে হুমায়ুন আশা করি ততটা আহত হবেন না, যতটা গুলতেকিনরে হতে হইছিল বেঁচে থাকাকালেই। বিয়ে বা প্রেম নিয়ে রক্ষণশীলতা যেমন নেই আমার, তেমনি একটা মেয়ে বা নারী আমাদের সমাজ পরিস্থিতিতে পুরুষহীন, বা পুরুষের অবলম্বনহীন সারভাইব করার চিন্তারে যে ঝুঁকিপূর্ণ, বা রীতিমত বৈপ্লবিক ধরা হয়, এই সংকটটা বুঝতে পারার দরকার আছে।
আরো সমস্যা আছে। অন্যখানে।
বিয়ে হইছে অক্টোবরে, কিন্তু সংবাদমাধ্যমগুলো এই বিয়েরে হুমায়ুনের জন্মদিনে সামনে আনল, এইটা ফালতু ব্যাপার হইল। এইটা কার ইচ্ছে ছিল? গুলতেকিন বা গুলতেকিনের বিয়ে এমনিতেই সুন্দর। এইটা হুমায়ুনিয়। এই সৌন্দর্যটা সংবাদমাধ্যমগুলো ধর্ষকামিতায় রূপ দিল। ভাল হল না। হুমায়ুনের পাঠক যারা, তারা গুলতেকিনকে যেমন, হুমায়ূনকেও ভালবাসেন। এলা শাওনের বিয়ে নিয়াও আপনাদের আগ্রহ থাকিত পারে।
No comments yet. Be the first!