ষোলই ডিসেম্বর চাষাভুষা বাঙালি মুসলমান ও নমঃশূদ্রের সংগ্রামের বিজয় হয়েছিল, নরেন্দ্র মোদির ভারতের না। কিন্তু মোদির ভারত ও তাদের চাকর বাকর রাজনীতিবিদরা এই বিজয়কে আত্মসাৎ করেছিল এবং আমাদের গণমুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ভারতের বিজয় বইলা বয়ান দাঁড় করিয়েছিল। মজার ব্যাপার হল, এই বয়ান তৈরীতে বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলগুলো, যারা ইতিহাসহীন, এবং মুজিব ও ভারত, সবার একই ধরনের আগ্রহ ছিল। কারো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কারো আত্মপক্ষ সমর্থনের হাতিয়ার। বাস্তবতা হল, রাজনীতিকে ঘুরিয়ে দেওয়া, দখল করা রাজনীতিবিদের কাজ, কোন এপলজিই রাজনীতির বৈধতা তৈরী করে না। মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় প্রশ্নে সব সময়ই ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল স্ট্যান্ডপয়েন্ট ছিল, যুদ্ধটা হল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ ও বিজয়টা হল ভারতের, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের না। মোদির আজকের টুইট এর বেশি কিছু না। এইটা নিয়ে মেজর কামরুল ইসলাম ভুঁইয়া একবার ইন্ডিয়ার সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করছিলেন বইলা জানাইছিলেন। এই ঘটনা নিয়া জীবিতকালে কামরুল ইসলাম সাহেবের সাথে আমার আলাপও হয়েছিল একবার, মেসেঞ্জারে। উনার সাথে একবার দেখা হওয়ার প্রোগ্রাম হইছিল, সেদিন ঢাকার স্বভাবসুলভ জ্যামের কারণে উনার সাথে আর দেখা হয় নাই। পরে উনি আর বেঁচে ছিলেন না। আমার আগ্রহ ছিল, কামরুল সাহেব আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতেন, একই সাথে ভারতের এই ইতিহাস আত্মসাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এর কথা বলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিশেবে উভয়রে তিনি কীভাবে একই সাথে ধারণ করতে সক্ষম, তার কন্ট্রাডিকশনগুলোরে প্রশ্ন করা ও বুঝার চেষ্টা করা। খেয়াল করবেন, ঐতিহাসিকভাবে ইন্ডিয়া প্রশ্নে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো দ্বিধাবিভক্ত হলেও, ইন্ডিয়ার মোদি গাঁধি সবাই সব সময়ই এক ছিল ও আছে, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে। এই কারণেই ৫৪ বছরেও বাংলাদেশে ইন্ডিয়ার মিত্র পরিবর্তন হয় নাই, স্রেফ একটা দাসানুদাস দলের বাইরে। সেই দলটির চরম অপমানজনক পতন ও পলায়নের পরও। এইটা মনে রাইখেন।
No comments yet. Be the first!