ওয়েটিং ফর গডো
আগামীকালকে একজন গডো আসছেন যদিও, কিন্তু আমাদের মি. গডোর জন্য অপেক্ষা শেষ হতেছে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কথা ভাবলেই আমার শ্যামুয়েল ব্যাকেটের এই নাটকটির দৃশ্যই সব সময় মনে পড়ে। এই মুহূর্তে ওসমান হাদির খুনী, হা হা, শুটারও, মি. গডোর মতই অদৃশ্য। যে গডো নামবেন আগামীকাল, সেই তারেক রহমানও, আগামীকাল হাদিরে জিয়ারত কইরা শুরু করবেন বলে শুনতে পাচ্ছি।
হাদির খুনীর গ্রেফতারের চেয়ে মধুর ঘটনা, মিস্টার গডোর এই আগমন ও জেয়ারত আমাদেরকে সব কিছু ভুলিয়ে দেবে আগামীকাল থেকে। হাদির আস্তে আস্তে আরো মৃত্যু হবে, তারেকের এই প্রবেশ ও হাদির জেয়ারত ও সেলিব্রেশনের মাধ্যমে। চট্টগ্রামের মেয়র হাদিরে জাতীয় বীর ঘোষণার দাবী জানাইছেন, এরকম একটা ফটোকার্ড দেখছিলাম সেদিন। এইসবের অর্থ হল, হাদি স্রেফ ব্যবহারের সামগ্রি হয়ে উঠবেন আরো। বিএনপির যে নেত্রী হাদিরে গিনিপিগ কইয়া সরি কইলেন গতকাল, তিনি, সম্ভবত, নিজেদের এই গন্তব্য চিনতে পেরেছিলেন দ্রুত।
ফলে, হাদির খুনরে রাষ্ট্র সেলিব্রেট কইরা যে জাগায় নিল, এখান থিকা ফেরা আর সহজ না। আমার ধারণা, সাগর রুনির ঘটনার মতই হাদির হত্যার কখনোই ফয়সালা হবে না আর, কারণ খুনীদের রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের এজেন্সিগুলো চেনে ও সম্ভবত কোন না কোনভাবে আপনজন। কিন্তু তারে অনন্তভাবে ব্যবহার করা হবে, যেহেতু আরো সাবোটাজ লাগবে, এই খুনরে ঢাকতে।
আমরা স্রেফ নতুন নতুন গালগপ্পো পাবো, কিন্তু গল্পের সব কিছুই, যেমন খুনীর ব্যাংক একাউন্ট, স্ত্রী পিতা মাতা, প্রায় সবকিছুই থাকবে অধরা। যেমন, তার ব্যাংক একাউন্ট ব্যাপারটা কেমন, কই থাকে, আপনি জানেন না। তার খুনী কই আপনি জানেন না। খুনের পরিকল্পনাকারী কে, আপনি জানেন না। এমন কি কোন গোয়েন্দা কাহিনী আকারেও হাজির নেই, ডেইলিস্টার প্রথম আলো একদা যেসব গোয়েন্দা কাহিনী ছাপাত, সেইসবও নেই।
এই অবস্থায়, আমি হাদির কল্পিত খুনীর পিতা মাতা বউ এরও মুক্তির দাবী করতে চাই, যদি তারা নিরাপরাধ হন। যেহেতু তার খুনীরে ধরা হবে না বইলা বুঝতে পারছি। আমরা আগামী শতাব্দীতে আরো একজন গডোর জন্য অপেক্ষা করবো হাদির খুনীর গ্রেফতারের জন্য।
No comments yet. Be the first!