শাহবাগে হাদি হত্যার বিচারের দাবীতে অবস্থান চলছে। আমি এই অবস্থানের সাথে সংহতি জানাতে চাই। আমি ঐতিহাসিকভাবে, 'মঞ্চ' ধরনের ফেনোমেনা, যেমন গণজাগরণমঞ্চ, জনতার মঞ্চ, মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ, বা কথায় কথায় শাহবাগ বা বাইতুল মোকাররমে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো নিয়া ক্রিটিকাল ছিলাম সব সময়। শুধু মেঘ দেখলে ভয় লাগে, এই অর্থে না, মঞ্চের যে ঐতিহাসিক চরিত্র নির্মাণ হয়েছে, যে কেন্দ্র ও কাবা তৈরীর সাইকোলজি নির্মাণ করে মঞ্চ, তার থেকে বেরুনোর জরুরত অনুভব করার কারণে। ফলে, জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন এই মঞ্চ ধারণারে গ্রহণ না করে, শাহবাগরে ইগনোর করে পুরো দেশের অলিগলি ও মহল্লাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারল, আমি বলেছিলাম, এই আন্দোলন সফল হবে। এরপরে হাসিনার পতন হল। মঞ্চ নিয়া এই ঐতিহাসিক অনাস্থার কারণে 'ইনকিলাব মঞ্চ' নিয়া, হাদির জীবিতকালে তেমন উচ্ছাস প্রকাশ করতে দেখবেন না আমাকে।
পরে, খোদ হাদি শহীদ হলেন। হাদির খুনের বিচারের দাবীতে হাদির সংগঠনের এই অবস্থান কর্মসূচি নিয়াও, সেই একই পুরনো ভয়সহই আমি কইতে চাই, এখনতক, তাদের এই দাবী এই মুহূর্তের বাংলাদেশের সবচেয়ে নায্য ও জরুরি প্রশ্নগুলোর একটি। এর সুরাহা না হলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম থেমে যাবে। আর নতুন কেউ জন্মাবে না। হাদির খুনী কে, আর তার বিচার, উভয়ই একটা প্যারাডক্স এখনো পর্যন্ত। কোন অপরাধী এখনো গ্রেফতার হয় নাই, কোন হুকুমদাতার নাম প্রকাশ হয় নাই। আমি মনে করি, এইসবের সুরাহা ও হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে আমাদের কোন কিছুরই সুরাহা হবে না আরো বহুদিন পর্যন্ত। একটা জাতীয় অবিশ্বাস ও ভয়ের রিপাবলিক থেকে আমাদের প্রস্থান হবে না। ইউনুস সরকার এই বিচার ও ব্যর্থতারে এখনো থোড়াই তোয়াক্কা করেছে, বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো পিঠ চাপড়ে, কবর জিয়ারত করে, সহানুভূতি দেখিয়ে, কিন্তু হত্যার সুরাহা ছাড়াই এই ঘটনার সমাধান করতে চাচ্ছে। ইন্টারিমও। কিন্তু, আমি মনে করি, সুরাহা হবে না। এইটা নৈতিক সুরাহার প্রশ্ন। এই সুরাহা আগে, এখনই করার দাবী করুন, সব কিছুর আগে। হাদি বলেছিলেন, তার খুন হতে আপত্তি নেই, কিন্তু তিনি যদি খুন হন, সেই খুনের বিচার যাতে আপনারা করেন। কেননা, এই বিচার না হলে আর নতুন কেউ জন্মাবে না কখনো।
হাদির এই নসিহত মনে রাইখেন।
No comments yet. Be the first!