unSocial

আওয়ামীলীগের আমলে ইন্ডিয়ান এসটাবলিশমেন্ট এর প্রধান পাতানো তর্ক ছিল, বিএনপি জামাতের সাথে জোট করবে কিনা, এই নিয়া সুডো আদর্শিক লড়াই তৈরী করা ও তারে কেন্দ্র কইরা বিএনপিকে ডেমনাইজ করা। এই ধরনের তুমুল পাতানো তর্কের সময়েই খালেদা জিয়া প্রণব মুখার্জির সাথে বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেন। আমরা চিন্তায় প্রগতিশীলরা তখন আওয়ামী মৌলবাদীদের এই পাতানো তর্ক নিয়া সমালোচনা করতাম, এবং এইটা যে একটা ইন্ডিয়ান এসটাবলিশমেন্টের পাতানো তর্ক, তার আলাপ করতাম। গণঅভ্যুত্থানের মুখে সেই আওয়ামীলীগ চইলা গেল, কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এখনও সেই একই পাতানো তর্ক টুল হিশেবে রয়ে গেল, জামাতের সাথে অন্য দলগুলোর জোট প্রশ্ন।

প্রশ্নটা যে এখনো একই জাগায়, একই চরিত্রে রয়ে যেতে পারল, এইটা গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বের একটা ইন্টালেকচুয়াল ফেইলিওর, এবং একই সাথে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি জামাত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোরও বড় ফেইলিওর। আমাদের এই মোটা তর্ক থেকে প্রস্থানের ব্যাপার ছিল। ব্রাহ্মণের ছুঁতমার্গ ও খ্রিষ্টিয় বিশ্বাসের 'অরিজিনাল সিন' দিয়ে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি বিবেচনার যে তরিকা, তা পশ্চাদপদ ও মৌলবাদী। এই মৌলবাদরে অতিক্রম কইরাই রাজনীতি করতে হয়, নইলে স্রেফ ধর্ম হয়।

পরসমাচার, কয়েকদিন আগে যে আলাপ কইরা অনেককে ব্লক করতে হল, তা আবার করছি।

রাজনীতি হল, দখলের ব্যাপার। হয় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবেন, নয় রাজপথের ক্ষমতা। এর বাইরে গিয়ে স্রেফ একটা নির্বাচনি জোট, বা একটা শক্তিশালী বিরোধী দল হবার গন্তব্য বেশ ছোট গন্তব্যই, এই গন্তব্য নিয়া আমার আসলেই কোন আগ্রহ নেই। ছাত্রদের এই 'জোট' বিএনপির সাথে হওয়া আর জামাতের সাথে হওয়ার মধ্যে আমার কাছে কোন গুণগত তফাত নেই। এবং, এই হতে গিয়ে তাসনিম জারা ও সামান্তা শারমিনদের চলে যাওয়ার পরে যে এনসিপি হবে, সেই এনসিপি নিয়াও আমার আগ্রহ যথেষ্ট কম থাকবে। তাদেরে ধইরা রাখতে না পারাটাও, এনসিপির ইন্টালেকচুয়াল ফেইলিওর বলবো। এই ফেইলিওরের অংশ তাসনিম জারা নিজেও। মাহফুজ আর আসিফরাও। নাহিদরাও। যদিও এখনো সময় ফুরিয়ে যায় নাই। ফুরাল কি? এই ফেইলিওর নিয়া তাদের পুনপাঠ প্রয়োজন।

এনসিপির মতানৈক্য নিয়া বহুদিন ধইরাই আলাপ হইতেছিল। আমি, কয়েকদিন আগের পোস্টে, প্রয়োজনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছিলাম যদি বন্ধুদের সাথে একমত হতে না পারেন তারা। দেখা যাচ্ছে, জারা স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণাই দিয়েছেন। এই তাসনিম জারাকে পছন্দ করলাম, কারণ, উনি ধানের শীষে নির্বাচন করার জন্য গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান হইতে যান নাই। এই একমত হতে না পারা জারা ও তার বন্ধুদের ওয়েলকাম জানাতে চাই এখানে। আশা করছি, মাহফুজ ও আসিফরাও হবেন না। যেদিন হবেন, সেদিন হতে আর তাদের নিয়াও কথা বলার দরকার ফুরোবে বহুদিন। পাশাপাশি, তাদেরে প্রশ্ন কইরা রাখলাম, তাদের ইন্টালেকচুয়াল ফেইলিওররে তারা ধরতে পারেন কি?

আওয়ামীলীগের আমলে ইন্ডিয়ান এসটাবলিশমেন্ট এর প্রধান পাতানো তর্ক ছিল, বিএনপি জামাতের সাথে জোট করবে কিনা, এই নিয়া সুডো আদর্শিক…
December 27, 2025
32 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!