unSocial

মাহমুদ ভাইয়ের জন্য পেট পুড়ছে।

মাহমুদ হাসান, প্রচুর ব্লারড ছবি তুলতেন। এই ব্লারড, ডিফোকাসড, কিন্তু কালারফুল ছবিগুলো আমারে টানত। উনার লেখা দেখলে বুঝবেন, উনার ইমাজিনেশনের শেইপগুলোও একই রকম। হোর্হে লুই বোরহেস পছন্দ ছিল উনার। এইখান থিকাও অনুমান করতে পারবেন। উনার কল্পনা ও গদ্য অসম্ভব ভাল লাগত আমার। কিন্তু লিখতেন না প্রায় কিছুই। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্ব তৈরী হল। আমি একদিন কইলাম, আপনার গল্প লিখলে দারুন হবে। আপনি গল্প লেখা শুরু করেন। উনি হো হো কইরা হাসলেন।

বহু বছর আগে, প্রবল হাসিনার সময়। তখনো উনারে খেয়াল করা শুরু হয় নাই। একদিন হঠাৎ ইনবক্সে উনার মেসেজ পেলাম। আমি সেদিন ফ্যাসিবাদের সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলোর পালন নিয়া অনাস্থা প্রকাশ করেছিলাম কোথাও। উনি ইনবক্সে আমারে পছন্দ করেন জানালেন, আমার নিরাপত্তার জন্য দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলেন ও সতর্ক থাকতে বললেন। উনার দুশ্চিন্তাতে একটু যত্ন টের টেলাম। ফলে আমিও আগ্রহী হলাম।

তখন, প্রফাইলে গিয়ে উনারে স্ক্রল করলাম কিছুক্ষণ। এলোমেলো, সাদা বা সোনালী চুল। আধকাটা দাড়ি। বেশ ভাল গদ্য। বোধ হয় একদা ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। এই তথ্য উনি জানিয়েছিলেন, বা অনুমান করেছি, মনে পড়ছে না। পরে আস্তে আস্তে খেয়াল করলাম, উনি আমার ইন্টারপেরিয়ডের এক গুরুর বন্ধুদের বন্ধুও। তাই উনারে নজরে পড়তে লাগল প্রায়ই।

একদিন, অস্ট্রেলিয়া থিকা আমার বই সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি নেবেন, তার জন্য নানা উপায় খুঁজলেন। কিন্তু দেখা গেল, তার বদলে আমার এড্রেসে একটা এপল ব্রান্ডের হেডফোন আসল এবং উনি জানালেন কিছুদিনের মধ্য চট্টগ্রাম আইসা আমার সাথে দেখা করবেন। তখন আমার হাত থিকা নিতে চান বই। পরে, যখন এলেন, দেখা হল চেরাগি পাহাড়ে। অনেক আড্ডা হল, উনার বন্ধুরা সহ। এরপরে, উনার একটা অভ্যাস তৈরী হল, বাংলাদেশে আসার ব্যাপার থাকলেই আমারে জিগেশ করতেন, কী লাগবে? সেরকমই একদিন উনি আমার বাচ্চাদের জন্য কিছু কিনতে চান। বাংলাদেশ আসবেন। কী একটা খেলনার নাম বললেন, দামী, নাকি সিনেমাভর্তি হার্ডডিস্ক। আমি কইলাম, সিনেমা, সফট কপিই দিলে হয়। উনি হার্ড ডিস্কই পাঠালেন। গত পরশুদিনও সেই সিনেমাভর্তি হার্ড ডিস্ক থেকে সিনেমা দেখল নিভৃত ও মেধারা। এরকমই আরও একদিন, উনি বাংলাদেশ আসবেন। জিগেশ করলেন কোন বই লাগবে নাকি। তখন উনি একটা বই পড়ছিলেন। আফটার দ্য প্রফেট, লেসলি হাজেলটনের। আমি বললাম, এইটাই দেন। এই বইটা অনেকদিন ধরে পড়ব ভাবছিলাম। দেখি, বইটা কিছুদিনের মধ্যেই ডাকযোগে পেলাম। উনি এলেন না। শুধু বললেন, আমার কখনো কোন বই লাগলে উনারে যাতে বলি। উনি খুশি হয়ে পাঠাবেন।

সর্বশেষ, আমার সাথে যখন দেখা, চট্টগ্রামের সিনিয়র্স ক্লাবে উঠেছেন। এই নিয়া উনি লিখেছিলেন। আমার টেক্সট, কন্সপিরেসি ও রূপকথা বহিটি নিয়া আগ্রহী। কইলাম, এইটা পড়ার অনুভূতি লিইখেন। উনি অস্ট্রেলিয়া ফিরে লিখলেন, রিফাত হাসান: যে রূপকথাতেও কন্সপিরেসি খোঁজে। যে ছবি দিলেন, এই পোস্টে এড করলাম। আরনেস্ট হেমিংওয়ের মত লাগল তখন। উনারে কইছিলাম তখন। উনি হাসতেছিলেন তখন।

বোরহেস পছন্দ ছিল উনার। উনি বোরহেসের গল্পে মেরাজের বর্ণনা নিয়া উচ্ছসিত হতেন খুব। তার থিকা শুনে শুনে একদিন বোরহেস নিয়া বসব বলে ভাবতাম। এইবার উনি নিজেই মেরাজ গেলেন, বোরহেসের লগে।

আসেন, মাহমুদ হাসান থেকেই পড়ি:

'রিফাত হাসানরে বেশ পছন্দ করি, বুদ্ধিজীবী শুনলাম, কিন্তু ওঁর সাথে দুইবার দেখা হইলো, ঐরকম তো কিছু মনে হইলো না। শুধু দেখলাম অনেক প্রশ্ন তোলে, প্রচুর প্রশ্ন তোলে, মাতাল ছিলাম তখন, কী বলছি, হে খোদা, আল্লা মাবুদ জানে। রিফাত হাসান যে অনেক ভালো ছেলে সেই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই, এবং সুদর্শন ও বটে! ও ভালো ছেলে কিন্তু আমাদের মতো খারাপ ছেলেদের সাথে মিশতে রিফাত মোটেও বিরক্তি দেখায় না। আমরা এক সাথে বসে মুড়ি, চানাচুর, সিঙ্গারা, সমুচা খাই, আর রিফাত চা। আর আমরা তখন মদ খাই, আমাদের মাতলামি দেইখা ওঁর শিশুসুলভ প্রশ্রয়ের হাসি দেখি।'..

মাহমুদ হাসানের পুরো লেখাটা কমেন্টে দিচ্ছি।

মাহমুদ ভাইয়ের জন্য পেট পুড়ছে।

মাহমুদ হাসান, প্রচুর ব্লারড ছবি তুলতেন। এই ব্লারড, ডিফোকাসড, কিন্তু কালারফুল ছবিগুলো আমারে টান…
January 7, 2026
36 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!