আমি ফর্ম হিসেবে আবৃত্তি অপছন্দ করার লোক। কবিতা এইসব ভান দিয়া পাঠের জিনিশ না। একাধিকবার আমি খেয়াল করেছি, কবিরাও কবিতা পড়েন, ভান দিয়ে, পারফর্মার হিশেবে। কবিদের কবিতাপাঠে আমার আল মাহমুদ পছন্দ। মাহমুদ জীবিতকালে শহর নামে একটা কবিতা পড়ছেন, ইউটিউবে দেখা যায়। এইটা খুঁজে নিয়ে শুনবেন। আরো কিছু কবিতা, যেমন, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা, শেষ ট্রেন ধরবো বলে এক রকম ছুটতে ছুটতে ষ্টেশনে- শুনবেন মাহমুদের কণ্ঠে। শুনলে, আপনি বুঝবেন, কবিতা ব্যাপারটা ঠিক কীভাবে পড়েন কবিরা, পারফরমেন্সরে থোড়াই পাত্তা দিয়ে। তো, গতকাল সাংবাদিক এহসান মাহমুদের শেয়ার করা একটা কবিতা পাঠ শুনলাম, আল মাহমুদের। নাম, খালেদা। শুনতে শুনতে আমার প্রথমে ভ্রম হইতেছিল, সেই একটু আগের শোনা আল মাহমুদই পড়তেছেন। দেখলাম, পড়ছেন ভদ্রলোকের নাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জুলাইয়ের আগের বছরগুলোতে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে সারা দেশে যে জনসভা হইতেছিল, এগুলোরে আমি মানুষের এজতেমা কইতাম। সেই সময় ফখরুলরে বেশ পছন্দ হইত। প্রশ্ন করেছিলাম, বিএনপির এই এজতেমা কই গিয়া শেষ হবে? এখন আমরা কিছুটা পড়তে পারছি বিএনপিরে। সেই কারণে, জুলাইয়ের পরে এই পছন্দ আমার কমেছে নানানভাবে। কিন্তু, গতকাল সেই ফখরুলের এই কবিতা পাঠ শুনে, উনারে আবার, একটু ভাল লাগল। এই ভাল লাগা, কিছুটা অরাজনৈতিক। ফখরুল কোন ভান ও আবৃত্তিপনার ধার দিয়া যান নাই। স্রেফ পইড়া গেছেন। এইটুক আমার পছন্দ হল। যদিও, এই কবিতা যারা শেয়ার দিতেছেন, তারা কইতেছেন 'আবৃত্তি'। হা হা। তো, ট্রেডিশনাল আবৃত্তি করেন এমন একজন, মানে প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টর অইখানে গিয়ে কইতেছেন, আবৃত্তির কিছুই হয় নাই ওখানে। ফখরুল প্রায় কিছুই জানেন না, ইত্যাদি। হা হা। তো, এই হল প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টর, আর কবিতার পার্থক্য। ফখরুল, একজন কবি না হয়েও, কবিতারে প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টারদের থিকা আলাদা কইরা পড়তে ডরান নাই, এইটুক ভাল লাগল। বলতে পারেন, মুগ্ধ হলাম।
No comments yet. Be the first!