unSocial

এনপিএ সুন্দর নাম। কিন্তু, এনপিএ পড়তে গিয়ে এনসিপি পড়ছি। এইখানে আমার পছন্দের এবং বেশ কাছের লোকজন আছেন দেখলাম, যেমন নাশাদ ময়ুখ, মীর মানজুরের ভাই হুযাইফা, সাদিক, তুহিন খান। সম্ভবত এমন আরো অনেকরে পাবো। অনুষ্ঠানে কারা আসল, ছবিতে দেখছিলাম। ফরহাদ মজহারের শাদা জামা চোখে পড়লো। আমার স্টিল লাইফ মনে হল এই ছবি। আমিও, ঢাকায় থাকলে হয়তো এরকম এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেই যেতাম। শুনতাম। কিন্তু, ওরা যে এনসিপির এনটা দিয়ে বিসমিল্লাহ করল, এইটা এনসিপির অলটার ইগো হয়ে উঠার ঘটনা না হলে ভাল। এই ঘটনা নিয়া শুরুর একটা পত্রিকা নিউজ করেছিল, এনসিপির থিকা বেরুনোদের সংগঠন, আর বাম ও বাংলাদেশপন্থা ইত্যাদি। সম্ভবত আজকের পত্রিকা। এই পত্রিকার ফারুকী ফ্রেন্ডলিস্টে থাকায় বেশ নজরে পড়ে এদের শেয়ারগুলো। পরে উনারা প্রতিবাদ করলেন, এইটা এনসিপির থিকা বেরুনোদের সংগঠন না। তারো আগের প্রস্তুতি ওদের। আর, দেখলাম, উদ্যোক্তাদের একজন বাংলাশেপন্থা শব্দ নিয়াও ডিসক্লেইমার জানালেন। যাই হোক, প্রাক্তন সিপিবি ছাত্রইউনিয়ন ইত্যাদি বামেদের একটা সংগঠন হল। প্রাক্তন জামাত শিবিরের একটা সংগঠন হইছিল এনসিপির থিকা বের হয়ে। তখন, এইটারে আমি এনসিপির অলটার ইগো বলেছিলাম। এর বাইরে নিজের চরিত্রের কোন রাজনীতি হাজির করতে পারে নাই ওরা। তো, এরাও যাতে প্রাক্তনের অলটার ইগো হয়ে না ওঠে। খেয়াল করলাম, নতুন দল এনপিএর আমন্ত্রণ তালিকায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান আছেন, প্রাক্তন মন্ত্রী মাহফুজ আলমরেও দেখলাম, কিন্তু নাহিদ ইসলামকে আমন্ত্রণ জানাতে গেছে, এরকম কোন ছবি দেখলাম না। আপনারা দেখলেন কি? বা, জামাত নেতা ডাক্তার শফিকের, বা ইসলামী কোন দলের নেতা, বা পীরের সাথে দেখা করতে গেছে, এরকম ছবি নেই। কেন? মানে, তারেক রহমানের সাথে দেখা হওয়ার তো একটা ব্রিটিশ রাজকীয় ব্যাপার আছে, নিশ্চয় আমিও তারেক রহমানের সাথে দেখা হলে বেশ খুশিই হবো। কিন্তু, বাকি পথগুলো ওরা পেরুবে না? সিপিবির কেউ কেউ বা সাহিত্যিক জাকির তালুকদার নাকি ওদেরে জাশির দোকান কইতেছে। হা হা। এইটা উনাদের পুরনো ব্যবসা। রাষ্ট্রসংস্কারের একজনরে দেখলাম, এনসিপিরেও জাশির দোকান কইতেছে। তো, এই দোকানদারির থেকে যে বেরুনোর ব্যাপার আছে, তা ভাবেন। ভাবতে বলছি, কারণ, রাজনীতিতে সেলফ ক্রিটিক না থাকলে আপনি কোন পথই পেরুতে পারবেন না। আমি এনপিএর ঘটনাকেও বামপন্থাগুলোর সেলফ ক্রিটিক হিশেবে পড়তে আগ্রহি। একজন দেখলাম, জানিয়েছে, ওরা ৪৭ কে এনডোর্স করছে, মতিঝিলের হত্যাকাণ্ড নিয়া কথা বলেছে। এইটা বেশ ভাল ব্যাপার। কিন্তু, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে শাহবাগের যে দায়, এইটা ওরা এনডোর্স করে? ওরা ব্রুটাল শাহবাগকে পেরুতে পারবে? ওখানে এমন অনেকে আছেন, যারা মনে করেন, শাহবাগ তাদের ভুল পথে হারানো বিপ্লব। একদা যৌবনযাত্রার বাকশাল ভাবনার মত। এইটা নোকতা দিয়ে রাখলাম। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুও এরকম মনে করেন যদিও। মজার ব্যাপার হল, এইখানে থাকা অন্তত আমার চোখে পড়া দুজন আছেন সেই সময়ে হত্যাকান্ডের শিকার ছাত্রদের প্রতিষ্ঠান কওমি মাদ্রাসা থিকা আসা। তাদের একজন শাহবাগের গণহত্যা নিয়া কবিতা লিখেছিলেন, সম্ভবত সেই সময়েই। তুহিন খানের কথা বলছি। তো, এইসব তো ওদেরে নিরেট প্রাণহীন জড় হয়ে উঠতে দেবে না৷ একটা সেলফ ক্রিটিকের প্রসেসের ভেকর দিয়ে যেতে জবে ওদের। এদের প্রায় সবাই যেহেতু এখন ভিজুয়াল মিডিয়ায় আসেন, স্ক্রল করতে করতে উনাদের ভয়েস তো আসেই মাঝে মধ্যে। এই ভয়েসগুলো এই মিসিং মুহূর্ত নিয়া কখনোই কথা বলে না তেমন কইরা। একবার বাকি বিল্লার কণ্ঠে দুই একটা ব্ক্য শুনেছিলাম। এইবার উনারা রাজনীতিতে নামলেন। নিশ্চয় আরো অনেক স্পষ্ট হবেন এবার। কারণ, রাজনীতি কোন গুপ্ত, গোপন ঘটনা না, ক্রমাগত স্পষ্ট করার ব্যাপার। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি।

January 17, 2026
11 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!