unSocial

ধরুন, আপনার হাতে অস্ত্র আছে। খুন করবেন, বা মারবেন। আমি খেয়াল করি যে, অস্ত্রের নিজস্ব স্বভাব আছে মারার, বা সৌর্য ও বীর্য প্রকাশের। এইটা একটা চেরাগের দৈত্যের মতো। কিছুই না থাকলেও, মারার কাউরে না পেলেও, তার হাত পাও নিশপিশ করে খুনের জন্য। ফলে, এরকম মুহূর্তে, আপনি কাকে খুন করবেন বা মারবেন? এই কথা মনে এল, গতকাল একটা মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলের উপরে যখন একের পর এক পুলিশ আইসা পেটাচ্ছে, আর ছেলেটি স্থির বরফখণ্ডের মতো দাঁড়িয়ে আছে, স্থির, প্রশান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে, এই দৃশ্য দেইখা। আমার উনারে যিশু খ্রীষ্টের মত লাগল, যিনি খুনকে মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ কেউ জিগেশ করছে, পুলিশ কেন পেটাচ্ছে। এর তেমন কইরা উত্তর নেই আসলে। যেমন, তারা ব্যক্তিগতভাবে হয়তো এই আন্দোলনকারীদের উপরে সামনে পেলেই কোন এক পুরনো স্মৃতির রিভেইঞ্জ নেওয়ার কথা ভাবেন। সেই পুরনো স্মৃতি কী? বা, ওরা হয়তো মাদ্রাসা ছাত্র দেইখাই মারা জরুরি মনে করছে। মাদ্রাসার ছেলেদেরকে মারা তো জরুরিই। অথবা, ওদেরেকে বলা হইছে, ভয় ছড়িয়ে দিতে। পুলিশ কমিশনারের ভিডিও দেখলাম, মারার নির্দেশ দিচ্ছেন নানান ভাবে। অথবা, আরও প্রচুর ভাবা যায়। এইসব তো আছেই। কিন্তু, এইসবের সাথে সাথে, আমার মনে হল, উনারা অস্ত্রের স্বভাববশত পেটাচ্ছেন। চেরাগের দৈত্যের মত, যার কোন কাজ দরকার। আমি দেখলাম, একটা বাস থামিয়ে যাত্রীদেরে নামিয়ে পেটাচ্ছে পুলিশ। লোকগুলো বলছে, ভাই আমরা তো যাত্রী, আন্দোলনকারী না, আমাদেরে পেটাচ্ছেন কেন? পুলিশগুলো আরো এগ্রেসিভ হয়ে পেটাতে থাকল। এক যাত্রী দুই হাত তুলে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে বইসা থাকল। এই যে ক্ষমা চাইল, ক্ষমা যে চাইতে হল, ক্ষমা চাইতে হবেই, এর কোন উত্তর আপনি পাবেন না কোন রাষ্ট্রীয় পুঁথিপত্রে। রাষ্ট্রের সাথে আমাদের চুক্তিটা কী ছিল? এই আলাদীনের দৈত্যের লাইসেন্স আমরা কি আমরা দিয়েছিলাম রাষ্ট্রের কাছে? এক সাংবাদিক, যাত্রীদের পক্ষ হয়ে হামলার কারণ জিগেশ করায়, তারেও পেটানো শুরু হল। দেখেন, এই পুলিশ হাসিনার না। কিন্তু, হাসিনার পুলিশ কি আসলেই না? বা, হাসিনার পুলিশ ব্যাপারটা আসলে কী ছিল?

February 7, 2026
10 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!