unSocial

আগামীকাল যে দলই জয়ী হবে, বলপ্রয়োগবিহীন ও অংশগ্রহণমূলক ভোটের ঘটনা যদি ঘটে, এইটারে ইন্টারিম বইলা এই কিম্ভূত সরকার আর আলাদা কইরা ইউনুসেরও বড় অর্জন কওয়া যায়। গত বহু বছর ধরে এই জিনিসটারই সবচেয়ে বড় অভাব ছিল, রীতিমত অভ্যুত্থানের মত ব্যাপার ঘটাতে হইছে এদেশের তরুণদেরকে, স্রেফ ভোটের মত প্রাথমিক গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য। অথচ নির্বাচন একটা নিরীহ, 'সুশীল' ব্যাপারই, যারে আমাদের কিছুটা ঠাট্টা করারই ব্যাপার মনে হইত, সর্বরোগের মুশকিলে আসান ধরনের কিছু না। আমাদের আরো গুরু পথ পাড়ি দেওযার ব্যাপার আছে। মতাদর্শিক ধর্মযুদ্ধগুলো টেরুনোর ব্যাপার আছে, যেইটারে আমি মুজিবের তৈরী করে দেওযা ধর্মযুদ্ধ বলি। স্রেফ নির্বাচন দিয়ে যে কিছু হয় না, এইটা আমরা প্রায়ই সাধারণ সময়ে নির্বাচনের ফলাফলগুলো দিয়েই বুঝতে পারি। এইটা পার্টিসিপেটরি গণতন্ত্রের লিমিট। ফলে, এর বাইরে এগুতে সমর্থ থাকতে হবে আমাদের, বিশেষ করে তরুণদের। আমরা যে একটা নতুন সংবিধানের কথা বলেছি, এখনো বলি, এইটা এই লিমিটরে অতিক্রম করার ব্যাপার। ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাও তাই। রাষ্ট্র গঠনে আমাদের যে সোশাল কন্ট্রাক্ট, তারে ধরতে, ছুঁতে পারার ব্যাপার আছে। আমাদের মুক্তিগুলোকে গন্তব্য দেওয়ার ব্যাপার আছে। ফলে, নির্বাচনে যে দলই জিতুক, বিএনপি বা জামাত, তাদের কাছে আশা থাকবে, তারা অন্তত এই দুই বছরের সমন্বিত অর্জন, জুলাই সনদ থেকে পেছাবে না। তবে, এইটারে লিমিট হিশেবে নেবে না, সামনে এগুবে। প্রত্যেক দলই একটা ভাল বিরোধী দল হিশেবে থাকার প্রস্তুতি নেবে, যদি পরাজিত হয়। আমাদের সামনে নানান রকম ধর্ম কইরা তোলা গৃহযুদ্ধের কুয়ারে বড় কইরা তুলবে না। ভবিষ্যতের পথ স্পষ্ট করবে, অতীতে ফিরে যাওয়ার গলি ঘুপচি না। শুভ ভোটিং। হাঁ ভোট দেবেন।

February 11, 2026
13 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!