মানুষ আওয়ামীলীগকে ছাড়া কী চমৎকার ভোট দিতেছে, আমিও দিয়ে এলাম! এইটাতে, একটু মন খারাপ হল। মানুষের জীবন তো খুব ছোটই। তাও, ইহজীবনে এমন চমৎকার ভোটের লাইন আর ভোটকেন্দ্র আমার দেখা হয় নাই। এর আগে, ভোট মানে মানুষকে বুঝতে হত, তাড়াহুড়া আর ভয়। এখন, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মনে হল, মানুষের তেমন তাড়াহুড়া নেই। থেমে, জিরোবার অবসর আছে।
যদিও, গতকাল রাত পর্যন্ত ভয় তৈরীর চেষ্টা হয়েছে। এখনকার এই নির্ভয় সারাদিন ধইরা সারাদেশে চলবে তো?
গ্রামের এক পরিচিত চেহারা আমারে দেইখা থামলেন। জিগেশ করলেন, উনারে চিনি কিনা। আমি হাসলাম, মানে, পুরোপুরি যে চিনি না, এইটা কীভাবে বলি। জানালেন, উনার ছেলে আমার বই পড়েন। আমি অবাক হলাম। ছেলে উনার ফ্রিল্যান্সিং করেন, যদিও উনি বোঝেন না এই ব্যাপারটা কী, কিন্তু উনার পুরো ফেমিলিরে ছেলে কনভিন্স করছে, যে, ভোট যেখানেই দাও, তোমাদের ধানের শীষে দিলেও, গণভোটে যাতে হাঁ দেয়। জানালেন, উনার পুরো ফেমিলি হাঁ ভোট দিল।
পরে, নিজের ভোট দেবার গল্প করলেন ভদ্রলোক। উনার হাত দুর্বল, সম্প্রতি স্ট্রোক করেছেন, তাই হাতে জোড় কম। উনি ব্যালট পেপার নিয়া ভোটকেন্দ্রের এক এজেন্টকে ডাকলেন। ডেকে বললেন, আমি গোপন কামরায় যাব না, যেহেতু তোমার হেল্প লাগবে। এইখানেই তুমি আমারে এই দুইটা মার্কায় সিল মাইরা দাও। একটা হাঁ, আর একটা, ধানের শীষ। সেই এজেন্ট, ধানের শীষের, কোন প্রশ্ন ছাড়াই প্রকাশ্যে তার ভোটটি দিতে হেল্প করল ও বক্সে ঢুকিয়ে দিল। ভাবুন, এমন চমৎকার ভোট আগে কখনো পেয়েছেন? আপনাদের কেন্দ্রগুলোতেও কি একই পরিবেশ পাচ্ছেন?
No comments yet. Be the first!