unSocial

এই নির্বাচনে আমি কিছু মন খারাপসহই অসম্ভব খুশি। কারণ, ইতিহাসের সবচাইতে সফল ও স্মরণীয় ভোট হল। দুই. হাঁ এগিয়ে আছে। এইটা আমার 'মার্কা'। হাঁ এর জয় মানে নিরঙ্কুশভাবে এদেশের জনগনের এবং ছাত্রদের জয়। আমরা এবার সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করবো।

এই নির্বাচনে বিএনপি ভাল আসন নিয়ে জিতবে, এটাই পরশুদিন লিখেছিলাম, এইটা ইতিহাসের বহু দিনের ডিউ ছিল। তারেক রহমানের অধীনে বিএনপির প্রথম ভোট এটি। বিএনপির যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের মধ্যে আলাদা কইরা দুজনের ভয়েস আমার নজর কেড়েছে, মিডিয়াতে কম এসেছে বা আসেই নাই উনাদের নাম। এক. এহসানুল হক মিলন, আর দ্বিতীয় হল, গুমের শিকার হুম্মাম, সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র। আমি জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ভয়েস আরো বড় হোক, চাই। বিএনপি আরো উচ্ছাসভরে জিততে পারত, যা দুইটা বড় ইস্যুতে দুর্বল হয়েছে বলে আমি মনে করি। জুলাই নিয়ে ঐতিহাসিক হীনমন্যতা প্রদর্শন ও গণভোট নিয়ে লুকোচুরি। আমি মনে করি, উভয়ই বিএনপির দুর্বল রাজনীতি ছিল। এই দুর্বল রাজনীতি সত্বেও বিএনপির যে বিজয় হল, এই ঘটনারে স্বাভাবিকতা বা একটা ভেকুয়ামের স্থিতাবস্থা হিশেবে পড়তে পারেন, বিএনপির কোন পলিসির সফলতা হিশেবে পড়া যাবে না। এইটা সামনের দিনগুলোতে আরো পরিস্কার হবে।

দ্বিতীয়ত, জামাতের ঘটনা হল, দীর্ঘ আওয়ামী নির্যাতনের ভেতরেও তাদের ভোট ও আসন উভয়ই যথেষ্ট বেড়েছে, ঠিক কতটা বাড়ছে, দুপুর হতে হতে পরিস্কার হবে। আমি আশা করবো, ৭০ থেকে ৮০ পর্যন্ত হতে পারে, বা আরো অর্প কম। এই নির্বাচনে যারা জিতলেন, তাদের মধ্যে গুমের শিকাররাও আছেন, যেমন মীর কাশেমপুত্র, এইটাতে আমি খুশি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে, দ্বিতীয় বৃহত্তর দল হিশেবে আবির্ভূত হল, এটাই এই দলটির সাফল্য। জামাতের ডাক্তার শফিক তাদের এই সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে পারেন। এগার দলীয় জোট গঠনে এই ভদ্রলোকের পরিশ্রম ও জামাতের উদারিকরণে এই ভদ্রলোকের ভূমিকা আমার নজর কেড়েছে। সম্ভবত আরো অনেকের নজরে পড়ে থাকবে এই ঘটনা। তবে, সামনের দিনগুলোতে কেমন হবে বলা যায় না।

এই নির্বাচনে নাহিদের দল এনসিপি সবচেয়ে আকর্ষণীয় সফলতা দেখিযেছে। মানুষের আগ্রহ ও দরদের সবটা তারা পেয়েছে, এইটা বাংলাদেশের নতুন দিনের রাজনীতি নিয়া অনেক কিছু বলে। বহু পুরনো বিএনপি ও জামাতের তুলনায় তাদের প্রতি মানুষের রেসপন্স প্রগ্রেসিভ। এইটাতে আমি খুশি। নাহিদের দলের হয়ে আমার অত্যন্ত পছন্দের অনেকেই এইবার সংসদে যাচ্ছেন। অন্তত যে নামগুলো জানতে পারছি, নাহিদ, আখতার, হাসনাত, আব্দুল্লাহ আল আমিন, এরা সবাই নতুন সংসদের সৌন্দর্য হবে। শুধু তাই নয়, তারা এর পরে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও সবচাইতে প্রগ্রেসিভ সদস্য হবেন। আমরা তাদের সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ চাই। এই দলের নেতা ও গণঅভ্যুত্থানের নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন।

আর, আলাদা কইরা নাসির উদ্দিন পোটাোযারি।

এই নির্বাচনে সবচেয়ে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন নাসির। তিনি এনসিপির হলেও আলাদা কইরা ম্যানশন করার ব্যাপার আছে। উনারে তিন হাজার ভোটে পরাজিত ঘোষণা করার ঘটনা যদি সত্যানুগ হয়ও, ঢাকা আটে মূলত উনিই জিতেছেন, উনার প্রতিদ্বন্দ্বী না। এর কারণ, খুব গভীর। ঢাকা আটের মানুষ নাসিরের শ্রম, ডেসপারেটনেস ও সরলতাকে নিয়েছে। আর, তার চাইতে বেশি হাদির খুনকে মনে রেখেছে। এইটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও রিভেঞ্জ। আশা করি, পুরনো গডফাদাররা মনে রাখবেন। এই আসনে দীর্ঘক্ষণ ভোট আটকে রাখার, আব্বাস পত্নীর খবরদারির এবং মেনিপুলেশনের অভিযোগ এসেছে। এখানকার ভোট গণনারে চ্যালেঞ্জ করা উচিত নাসির ও এনসিপির। তবে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নাসির বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় জায়গা করে নিয়েছে। নাসিরকে অভিনন্দন।

সর্বশেষ, আমি অসম্ভব খুশি হতাম, যদি দিলশানা পারুল জিততেন। উনি সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও শ্রম দিয়ে লড়েছেন। উনি যদি বিজয়ী হতেন, উনার বিজয়রে আমি সেলিব্রেট করতাম। তবে, উনার পরাজয়রেও ঠিক পরাজয় বলা যায় না। দিলশানার চেহারারে, তার এলাকার মানুষ স্মরণে রাখবে, আমার ধারনা। অভিনন্দন, দিলশানা।

February 13, 2026
11 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!