বিএনপি আমাদের সংস্কৃতির সংকটকে বোঝার মত মেচিওরড না। জানুয়ারি ২০২৫ এ লিখছিলাম। পড়তে পারেন। প্রায় দুই বছর তো হল। কালারফুল ফারুকির পরে এখন বিএনপির সংস্কৃতিমন্ত্রী হলেন নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির আর এক বিখ্যাত নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী হলেন উনার কন্যা। উনার কিছু মন্তব্য ভাসছে। তো, এই সময়ে আইসা আরো ভাল কইরা পড়তে পারবেন, এই লেখা।
~
বিএনপির লোকেরা আম, সাধারণ মানুষ। যেমন, গ্রামগুলোতে ক্ষেত খামারের লোকজন, আর দিনমজুরও আছেন। জামাত করে লোকেরা অল্প বুদ্ধিজীবী ও এলিট। কিছু বইপত্তর, যেমন সিলেবাস পড়েন যেহেতু। উনারা মুসলমান সংস্কারবাদী। ফলে, তেমন মূর্খ, মানে অক্ষরজ্ঞানহীন পাবেন না। কিন্তু সংস্কৃতিহীন, সংস্কারবাদী হেতু।
আর, বিএনপির সমর্থকরা মুসলমানি সংস্কৃতি লালন করেন বটে, কিন্তু সংস্কৃতির সংকটকে বোঝার মত মেচিওরড না। ফলে, তাদের তেমন কইরা কোন চেহারা পাবেন না কোথাও। ফলে, উভয়ই ব্রাত্য এইখানে।
যেমন, প্রথমে জামাত শিবির ও পরের দিকে বিএনপি জামাত উভয় রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মী ও সমর্থক গোষ্ঠি যে পরিমাণ টার্গেটেড গুম খুন ও নির্যাতনের স্বীকার হইছে হাসিনার আমলে, এইসবরে নিয়া বহু কালবেলা কালপুরুষ হইতে পারত। কিন্তু কিছুই হবে না, বরং ভুলে যাওয়া হবে। কিছু পার্টিজান কাজ হয়তো হবে, তা আবার দলগুলোর সিলেবাসে পড়ানো হবে। চব্বিশের অভ্যুত্থানও যেহেতু এই দুই দলের দলছুটেরাই বেশি, দেখবেন, তাদের জন্য কোন গান আর কবিতা নেই তেমন কইরা সংস্কৃতিমহলে। কালচারাল হেজিমনিতে তারা ব্রাত্য রহিয়া যাবেন।
আর, বিএনপি বা জামাত উভয় দলের তর্কগুলোতেও, দেখবেন, এমন কি রাষ্ট্রই নেই। আর সব আছে। রাজনীতিতে তো কমন শত্রু দরকার। তো, আওয়ামী লীগ চলিয়া যাওয়ার পরে উনাদের কমন শত্রু যেহেতু অনুপস্থিত, উনাদের রাজনীতিও স্রেফ পুরনো আওয়ামী লীগ আর আওয়ামীলীগ খেলাতেই মগ্ন রহিল। যেমন, জামাতকে মোকাবেলায় আওয়ামীলীগের রেথরিকগুলো বিএনপি ব্যবহার শুরু করেছে, দেখবেন। আর জামাত, ইসলামী দল থেকে মোর মডারেট চেহারা দেখানোর চেষ্টা করছে হঠাৎ, যা আদৌ তারা নয়। তবে, তারা হয়ে উঠতে যদি পারে, এইটা ভাল হতে পারত।
তবে তাদের আরো সমস্যা আছে, যেমন একাত্তর প্রশ্ন। একাত্তরের পরে, তাদের রাজনীতিতে অবস্থান পরিবর্তনের থিসিস নেই। এইটা তাদের ভোগাবে, যখন সময় আরো যাবে, এবং ক্ষমতার চরিত্র পরিবর্তন হবে, তখন। তবে, বিএনপি যদি আওয়ামীলীগের রেথরিকগুলোতেই থিতু হয়, এইটা অন্য ঘটনা ঘটাবে। আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতি এর সমর্থকদের মধ্যে যে ভেকুয়াম তৈরী করছে, তা পূরণ করবে কিছুটা। বিএনপি, মানে মির্জা ফখরুলের চেহারায় পুরনো আওয়ামীলীগ ফিরবে। তারা বিএনপিতেই আওয়ামীলীগরে খুঁজে পাবে।
তবে, রাজনীতিতে পুরনো বিএনপির অনুপস্থিতিটা, নয়া ভেকুয়াম তৈরী করবে। বিএনপির সেই পুরাতন ইসলামী মূল্যবোধ আর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের খালি স্পেইসটা নতুন রাজনীতি যারা চাহেন, যেমন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, তাদের জন্য সুখকর হবে। তারা উদারতার সাথে এইটারে কাছে টেনে নিতে পারবে। মানে, চব্বিশ বেশ ভাঙচুর করবে। স্রেফ আওয়ামীলীগে না। সবখানে।
No comments yet. Be the first!