একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় বলি। ১৯৯১ সালে তৃতীয় গণভোটের আগে বাংলাদেশে গণভোট আইন হয় নাই। জিয়া ও এরশাদ উভয়ের আস্থা যাচাই ভোট প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে হয়েছে। ঠিক যেভাবে এখনকারটা হল। তো, আমার মতে, গণভোট অর্ডিনেন্স নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন হচ্ছে, তার ভিত্তিতে হাইকোর্ট পূর্ববর্তি গণভোটগুলোরেও, যেমন, জিয়া ও এরশাদেরটারেও অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। তবে, আমার মতে, তৃতীয়টারেও করা সম্ভব। কীভাবে বলি।
এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন এরশাদ। তো, এরপরের নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ২ জুলাই সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল ১৯৯১ উত্থাপন করে। এই সংশোধনীতে গণভোট এর বিধান প্রস্তাব করা হয়, যা সংসদে সংসদে বিপুল ভোটে গৃহীত হয়। এরপরে, যেহেতু সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন, মানে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে, এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেবে কিনা, এই প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
এখানে তিনটা বিষয় খেয়াল করার মত। এক. সংসদের উপরেও সুপেরিয়র হিশেবে বিবেচিত হল গণভোট। এই সুপেরিয়রিটি কেউ চ্যালেঞ্জ করে নাই। দুই. রাষ্ট্রপতিও কনসেন্ট দেবেন কিনা, তা গণভোটের রায় দিয়ে নির্ধারিত হচ্ছে। তিন. গণভোটের আইন পাশ হবার আগেই আগের দুইটা গণভোট, এবং তৃতীয় গণভোটটিও, সংসদের আইনে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রদান, মানে পাশ হবার আগেই অনুষ্ঠিত হয়। ফলে, দ্বাদশ সংশোধনী ও গণভোটেরও আইনত ভিত্তি হল একমাত্র গণভোট। খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে যে এই গণভোটের বিধান যুক্ত হল সংবিধানে, সেই বিধান ও দ্বাদশ সংশোধনীও, কেবল গণভোটের রায়ের অনুসারেই বৈধ। নাহলে অবৈধ হতে বাধ্য।
আরো বলি, এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ‘তিন জোটের রূপরেখা’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে গৃহীত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার পর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সম্মতি দেবেন কি না, সে প্রশ্নে দেশব্যাপী গণভোট আয়োজনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন, এই এরশাদের পতনের পরের ইভেন্টরে, শেখ হাসিনার পতনের পর পড়তে পারেন। তিন জোটের রূপরেখারে, জুলাই সনদ আকারে পড়তে পারেন। হাসিনার পতনের পরে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তো, এইসব মিলায়ে পড়তে পারলে, বাংলাদেশে সংবিধান ও আইন ব্যবসায়িরা, এইখান থিকা আবার আমার এই পোস্ট পড়া শুরু করতে পারেন। বা হেফজও করতে পারেন।
No comments yet. Be the first!