বামপন্থিদের রাজনীতি হয় না। কিন্তু, ইসলামপন্থিদের রাজনীতি হয়? ধরুন, জামাতরে যদি ইসলামি দল বলি, বা ইসলামী ঐক্যজোটকে, তাদের রাজনীতি হল, বোকা বোকা, যে বিষয়ে রাজনীতি করাটা তাদের রাজনীতিরে হাস্যকর করে তুলবে, সেই রাজনীতিই তারা করবে, আরো গুরুতর রাজনীতিরে পাশে রেখে। উপদেষ্টা রেজওয়ানার বিষয়ে তাদের যে রাজনৈতিক প্রচারণা, এইটা যে মিসইন্টারপ্রিটেশন, রিজওয়ানা নিজে এবং আরো অনেকেই ধরিয়ে দিয়েছেন এবং তারপরও, এতদিন জামাত, এরপর, আজকে মামুনুল হক থিকাও, একই আওয়াজ শুনছি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়েও, তাদের স্ট্রং 'বিশ্বাস', একটা ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। কিন্তু, আমি দেখলাম, এইটা 'বিশ্বাস' বা গোয়েন্দা তথ্য পর্যন্ত থেকেছে। মানে, কন্সপিরেসি থিওরি। জামাত বা তাদের জোটে এই নিয়া কোন ডকুমেন্টেশন বা স্টাডি হাজির নাই। নির্বাচনে প্রতিপক্ষের জয় মেনে নেওয়ার একটা সৌন্দর্য আছে। যদি 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' নিয়ে এগার দলীয় জোটের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকে, আমি বলেছিলাম, তারা এই নিয়া রাজনীতিতে হাউকাউ তৈরী করলে তারে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পুরনো নজিরগুলোর অনুকরণ হিশেবে পড়বে সাধারণ মানুষ। মেনে নেওয়ার এই সৌন্দর্যটা হারাবে। বরং তারা তাদের বিজয়গুলোকে সেলিব্রেট করতে পারত বেটার ওয়েতে। তাদের কাছে মাঠ দখল কইরা রাখার বেটার টুল আছে, যেটি হল সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, যেইটাতে তারা নিরঙ্কুশ ভোটে জিতেছে। আর যদি, তাদের কাছে কথিত ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে, তারা এইটার একটা সাইলেন্ট অনুসন্ধানি রিপোর্ট করতে পারে দ্রুতই। যেমন, সংস্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর এজেন্টদের সাক্ষাৎকার, তাদের মতামত, কীভাবে রিপোর্ট তৈরীতে মেনিপুলেশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তারা নিজেদের গণনায় যা পেয়েছে, পরে তা পরিবর্তন হল কিনা, বা আদৌ কয়টা কেন্দ্রে তাদের লোক ছিল গণনার সময়ে, তাদের এজেন্ট ছিল কিনা সব কেন্দ্রে, এজেন্টদেরকে বের করে দেওয়া হইছে কিনা, ইত্যাদি। এইসব, নির্বাচন কমিশন রাজি না থাকলেও বোধ হয় করতে আইনি জটিলতা নেই। আমি সাধারণভাবে, রাজনীতিতে দরাজকণ্ঠদের যে কদর, তার ভক্ত না। ধিরস্থির যারা কথা কইতে পারে, তাদেরে গুরুত্বপূর্ণ ভাবি, দরাজকণ্ঠের চেয়ে। কিন্তু মামুনুল হক নির্বাচনের সময়ে তার যে দরাজকণ্ঠের হৈহুল্লোড়, তার থিকা দূরে সরে একটা বুঝদার রাজনীতি করতে পেরেছেন বইলা মনে হইছিল আমার। ফলে, নির্বাচনে মামুনুল হকের পরাজয় নিয়া তার প্রতি একটা হামদরদি ফিল করেছি। উনার কিছু স্টেইটমেন্ট দেখে আমার এও ধারণা, উনারে পরাজিত করা হইছে। কিন্তু, মামুনুল হকও, রেজওয়ানা নিয়া যখন কণ্ঠ মেলালেন, দরাজকণ্ঠদের নিয়া আমার মূল্যায়নে ফিরলাম। এখন পর্যন্ত, ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে সরব থাকলেও, রেজওয়ানারে নিয়া তাদের জোটের এনসিপির আওয়াজ নেই। এইটা ভাল। এনসিপির রাজনীতি যত দ্রুত জামাত থেকে পৃথক দেখা যাবে, তত মঙ্গল আমাদের।
Rifat Hasan
· 7 months ago
March 7, 2026
14 readers till now, 0 new visits today.
No comments yet. Be the first!