এই আলাপটা একটু রিস্কি, তবুও আমি অভ্যুত্থানের পরপর করেছিলাম। নতুন কয়েকটা ঘটনা দেখে, এই আলাপটা আবার করছি। যদিও, অভ্যুত্থান পরবর্তি এই সময়টারে আমি যুদ্ধের সময় বলেছিলাম, ফলে, যুদ্ধের এথিকসরেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি, তাও, আমাদের গন্তব্যের ক্ষেত্রে একটা বিষয় পরিস্কার থাকা জরুরি।
তা হল, এই গণ-অভ্যুত্থানের যারা পক্ষে ছিল, দেশটা শুধু তাদের না, যাদের বিরুদ্ধে করেছেন তাদেরও। এই বাক্যটা পুরোপুরি আমার না, মুক্তিযুদ্ধের পরের পরিস্থিতি নিযে কথা বলতে গিয়ে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের নিয়ে এরকম কথা বলেছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে যে গণতন্ত্র ও মুক্তির আলো বাতাস আসবে, তার ফল যাতে তারাও ভোগ করতে পারেন, তার জন্য কোন রকম ইফস এন্ড বাটস ছাড়া দাঁড়াতে হবে।
আমরা তাদের দ্বারা শাসিত হতে চাই না, তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার বিনাশ চাই, এইটা যেমন সত্য, একই সাথে, তাদের নাগরিক অধিকারের পক্ষে থাকব সব সময়, এইটাও সত্য। যারা কোন জুলুম ও অপরাধের সাথে জড়িত ছিল না, বা, এখনও জড়িত না, কোন নিষিদ্ধ একটিভিজমে নেই, তাদের কোন গ্রেফতার নয়। নিষিদ্ধ এক্টিভিজমের অর্থ, এই সময়ে, যেহেতু আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, যে কোন রকম দলীয় একটিভিজম আর প্রচারও এই মুহূর্তে 'অপরাধ'।
ফলে, এইসব অপরাধ ও জুলুমের সাথে যারা কোনভাবেই জড়িত নন, কিন্তু, নিষিদ্ধ হবার আগে আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগ করতেন, তাদেরকে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে থাকা উচিত আমাদের। যেভাবে, আওয়ামী জমানায় 'যুদ্ধাপরাধী' ও তাদের সন্তানসন্ততিদেরও নাগরিক অধিকারের পক্ষে ছিলাম আমরা, আওয়ামীলীগের ঘোষিত ধর্মযুদ্ধের বিপরীতে। আমাদেরকে উনিশ শ একাত্তরের মুজিবের তৈরী করে দেওয়া ধর্মযুদ্ধ যেমন শেষ করতে হবে, নতুন কোন ধর্মযুদ্ধ, মানে অনন্ত ন্যায়যুদ্ধ যাতে তৈরী হতে না পারে, তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।
No comments yet. Be the first!