ঐতিহাসিক নির্বাচনের পরে, আগামীকাল, ঐতিহাসিক দিনের বিসমিল্লাহ হবে হাসিনার ফেলে যাওয়া হযরত প্রেসিডেন্টের ভাষণ দিয়ে। অদ্ভূত ব্যাপার হল, ইনি জুলাইয়ের সময়ে হাসিনার গুলির নির্দেশের বৈধতা, ইন্টারিম কর্তৃক এর বিচার প্রক্রিয়া ও সংবিধান লংঘনের বৈধতা, এমন কি নির্বাচিত সরকারেরও শপথের একমাত্র বৈধতা হিশেবে বিরাজ করছেন। অথচ, একই সাথে হাসিনার গুলি আর আবু সাঈদের দাঁড়ানো বুকের বৈধতা যে এক হতে পারে না, তা গর্দভদের বোঝানোর চেষ্টা করে করে ক্লান্ত আমরা। তাদের কোন নীতিশাস্ত্র নেই। ধর্মও নেই। সামনের দিনগুলো কেমন যাবে, এইখান থেকে তার একটা ইশারা পাওয়া যাবে। সংসদের এই ছবিটি শেয়ার করলাম, যাতে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত তারা কীভাবে বহু শতাব্দীর পরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেন, তা যাতে তারা মনে রাখে।
যদি নাহিদরা তাদের আগের অবস্থানে অটল থাকেন, তারা প্রেসিডেন্ট এর ইমপিচমেন্ট এর প্রস্তাব করবেন, যদ্দুর ধারণা করতে পারি। জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে সারাদিন উত্তপ্ত আলাপ হবে, এইটাও তো, ধারণা করাই যায়। তবে, নিশ্চিত নই, এই আলাপগুলোতে কতটা জুড়ে থাকবে জুলাইয়ের গণহত্যার শিকার ছাত্ররা ও পঙ্গুরা, শহীদ বিশ্বজিৎ কুমার দাশ, শহীদ আবরার ফাহাদ বা শহীদ ওসমান হাদি। আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না, কোন গন্তব্যে পৌঁছাবে এই সংসদ শেষমেশ? সংবিধান সংস্কার পরিষদে যদি না পৌঁছানো যায়, কোথায় পৌঁছাবে সংসদ? বিএনপি, জোনাযেদ সাকি ও নুর কই নিয়ে যেতে চায় আমাদের?
ঠিক এই দুর্লভ মুহূর্তটিতেই, দেখবেন, টকশোগুলোতে আমাদের পুরনো বন্ধুরা, হাহা, আওয়ামীলীগের ফেরার আলাপ আনছে। এইটা ইন্টারেস্টিং। আওয়ামীলীগের ফেরা, এইটা, তাদের কারো কাছেই, গণহত্যার বিচার দূরে থাক, কোন এথিকাল ডিলেমার আলাপ হিশেবেও নেই। ছিঃ।
এইটা একটা সংকটই।
এই সময়টাতে, তরুণদের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর ভিডিও দেখলাম, রাজনীতির ক্লাস নিচ্ছেন। মানুষ অসম্ভব পছন্দ করছে হাসনাতের এই ক্লাস, কারণ এতদিন তাদেরে বঞ্চিত করা হইত। সরকার থিকা বরাদ্দ খেজুর, ভিজিএফ কার্ড ও দুম্বা ইত্যাদি কীভাবে আসে, কীভাবে আপনি পাবেন, তার হিশাব দিচ্ছেন হাসনাত। এইটারে, কেউ কেউ খেজুরমবও কইতেছেন, যা লুটেরা ও চোরদের বিরুদ্ধে একটা দঙ্গল তৈরী করতে সক্ষম। বইলা রাখি, এই দঙ্গুলে স্পিরিট, আমার পছন্দ হইছে।
হাসনাতরা আমাদের একটা স্পিরিচুয়াল গন্তব্যে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে, যে গন্তব্যে পুরনো ট্রেডিশনাল রাজনীতিগুলো নিতে সক্ষম হবে না, আমার এরকম একটা বিশ্বাস আছে। তারপরও, অধির আগ্রহে, আগামীকালকের অপেক্ষায় আছি আমি। বিএনপির এজতেমা আমাদেরে কই নিযে যাবার কথা ছিল, কই নিয়ে যাবে শেষমেষ?
No comments yet. Be the first!