প্রেম ও ঘৃণার ক্রিটিক
প্রেম তো সবকিছু লোপাট করে দেয়। এইটা, সম্ভবত, অরুণ মিত্রের কবিতা। আমার পছন্দের কবিদের একজন। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বামপন্থার আওয়ামী প্রেম নিয়া আমি এই লাইনটা বলতাম প্রায়ই। তখন, হাসিনার দিন ছিল। এখন তো তিনি নেই। তবে, বইলা রাখি, প্রেমের শত্রু না আমি কোনমতেই। প্রেমের পক্ষের লোক, শত্রুর সাথেও। মূলত, ঘৃণাবিরোধী আমি, সব সময়ই। আপনার হাসিনার প্রতি প্রেম থাকুক, কিন্তু ঘৃণা যাতে না হয়। গোলাম আজমের প্রতিও না। প্রেম যে সবকিছু লোপাট করে দেয়, তারে যাতে বোঝেন আপনি, এইটুক ক্রিটিক রাইখেন কেবল। আপনার প্রেম যাতে গণঘৃণা তৈরী না করে।
কেন ঘৃণা করবেন না, এই জাগায় আমি হজরত আলীর একটা গল্পের উদাহরণ দিই প্রায়ই। কোন এক যুদ্ধক্ষেত্রে হযরত আলী শত্রুপক্ষের এক সৈন্যের বুকে উঠে তরবারি চালাতে উদ্যত হলে, সৈন্যটি আলীর মুখে থুথু ছিটিয়ে দিলেন। এই থুথু ছিটানোর ঘটনা দেখে আলী সৈন্যটির বুক থেকে নেমে, তাকে হত্যা না করে চলে যেতে উদ্যত হলেন। সৈন্যটি অবাক হল, কারণ, তিনি অলরেডি পরাজিত তখন, হত্যা হওযাটাই তার একমাত্র পরিণতি ছিল। হত্যা না করে চলে যেতে উদ্যত হবার কারণ জানতে চাইলে, আলী বললেন, এতক্ষণ সৈন্যটির সাথে তার কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা বা ক্রোধ ছিল না।
জিহাদের অংশ হিশেবেই শত্রুসৈন্যকে হত্যা করতে বুকে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু যখনই সৈন্যটি থুথু ছুঁড়ে মারল, তখনই আলীর মধ্যে ব্যক্তিগত ক্রোধ তৈরী হল সৈন্যটির বিরুদ্ধে। আলীর মতে, এই ব্যক্তিগত ক্রোধ নিযে যদি তিনি সৈন্যটিকে হত্যা করতেন, তা স্রেফ খুন হইত, যা অনেক বড় গুনাহ। তিনি স্রেফ খুনী হবার মত গুনাহগার হতে যুদ্ধক্ষেত্রে আসেন নাই, তাই তাকে মুক্ত করে দিলেন। আলীর এই কৈফিয়ত শুইনা তখন সেই কাফির সৈন্য ইসলাম গ্রহণ করেন। তো, হযরত আলীর এই গল্পই হল ঘৃণা সম্পর্কিত আমার বোঝাপড়া।
No comments yet. Be the first!