উপদেষ্টা মাহফুজ, অলটারনেটিভস নামে একটা প্লাটফর্ম করছেন, তার ইফতারের দাওয়াত দিলেন। যেহেতু দূরে থাকি, তৎক্ষণাৎ চইলা আসা সহজ হল না। বললাম, একটা ট্রেন পাঠাও। কিন্তু, ট্রেন, স্বাভাবিকভাবেই আসল না। ফলে, চাটগাঁতেই ইফতার করলাম। আমি জানি না, মাহফুজের এই অলটারনেটিভস চিন্তা ভাবনার, নাকি রাজনীতির প্লাটফর্ম। ধারণা করছি, চিন্তা ভাবনার হবে। ধারণাটার কারণ বলছি। মাহফুজ, রাজনীতির লোকের চাইতেও, আমার কাছে চিন্তা ভাবনা করা লোক মনে হইছে। রাজনীতিতে, মাহফুজকে কনফিউজড মনে হইছে আমার।
গণঅভ্যুত্থানের পরে, মাহফুজের একটা আলাপ শুনে মুগ্ধ হইছিলাম। মুগ্ধতা নিয়ে আমার রাজনীতি হল, এইটা আমি ঢাকতে চাই না, এবং অকৃপণ হতে চাই। দুই. গণ-অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত প্রত্যেকের ব্যাপারে আমার মুগ্ধতাগুলো, একই সাথে আমার রাজনীতিও। তাদের অসম্ভব সমালোচক হলেও, এই মুগ্ধতাসহই থাকবে।
তো, বিভিন্ন সময়ই, মাহফুজের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশের পাশাপাশি, দরকারি ক্রিটিকও করেছি। মাহফুজ এইসব কখনো পড়েছে কিনা, আমার জানা নেই। আমি খেয়াল করেছি, আমি যে মুজিবের তৈরী করে দেওয়া একটা অনন্ত ধর্মযুদ্ধের থেকে প্রস্থানের জরুরতের কথা কই, মাহফুজ আলাপে সেই প্রস্থানের একটা আগ্রহ আছে। এই কারণেই, নিচের আলাপটা গত বছর এইদিনে করেছিলাম, মাহফুজরে নিয়া। সেই সাথে বইলা রাখি, আওয়ামী লীগ না থাকলে, বাংলাদেশে আরও বহু দল হবার দরকার আছে। মাহফুজের এই প্লাটফর্ম যদি রাজনৈতিক দল হয়, তারে খুব আগ্রহ নিযে ওয়েলকাম জানাতে চাই। এনসিপি, এনপিএ এবং অলটারনেটিভস, এর পরে আরো প্রচুর নাম আসতে পারে, একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে এরকম নানান ফুল ফুটবে, এটাই স্বাভাবিক। স্রেফ আমার আগ্রহ হল, কুয়া না হয়ে ওঠেন।
~মাহফুজের রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা~
মাহফুজ আলম 'বুদ্ধিজীবী' থেকে রাজনীতিবিদে উপনীত হইছেন, তার সর্বশেষ অবস্থানে। এইটা বেশ ভাল। কীভাবে শাহবাগের গ্রে এরিয়া বইলা একটা কল্পনারেও একোমোডেইট করা যায়, এই উপায় খোঁজারে কর্তব্য করেছেন। একই সাথে শাহবাগ ও শাহবাগের মূল প্রতিপক্ষ, উভয়ের একটা কাফফারার কথা বললেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, এইটা একটা জাতির রাজনৈতিক গন্তব্য হিশেবে বেশ স্বস্তিকর, যা মুজিব কইরা যেতে পারেন নাই একাত্তরের যুদ্ধের পরে। আমি মাহফুজের এই রাজনীতির ওয়েল উইশার। কিন্তু, খেয়াল রাখবেন, এইটা করতে গিয়ে মাহফুজ শাহবাগ নিয়া আমাদের ঐতিহাসিক পাঠ ও অভিজ্ঞানগুলোকে এড়িয়ে গিয়েছেন, অথবা নাকচ করেছেন। মানে, তার সাথে তুমুল তর্ক রয়ে যাবেই আমাদের। যেমন, এই গ্রে এরিয়ারে আমি কল্পনা বলি। শাপলাও শাহবাগ প্রতিপক্ষ ধারণা ও তার বাইনারি ট্রিনিটিরে আমি নাকচ করি। আমি মনে করি, দিয়ার ওয়াজ নো ‘শাহবাগস’। শাহবাগ ছিল ফাঁসি ও খুনের কনসেনসাস।‘হাইজ্যাক হয়ে যাওয়া শাহবাগ’, আমি এইটারে ফিকশনাল অবস্থান বলি, যার মধ্যে কোন ক্রিটিকাল অবস্থান নেই। না শাহবাগ নিয়ে, না বিচার নিয়ে। স্রেফ কন্সপিরেসি আছে। আমার মতে, শাহবাগ/গণজাগরণমঞ্চের এই যে ‘গ্রে এরিয়া’, এইটা আরবান শিক্ষিত মধ্যবিত্তের কনফিউজড অংশের নিজেদের ড্রয়িংরুম, মানে শাহবাগে না থাকারে সংজ্ঞায়নের চেষ্টা। না থাকা, অথচ শাহবাগ পেরুনোর প্রস্তুতিহীনতা, ফলে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে শাহবাগের বাইরে ভাবতে অক্ষম, ফলে ঔন করতে চাওয়া। এই দ্বৈরথ, দ্বিধা, হীনমন্যতারে শাহবাগের ফাঁসি আন্দোলন থিকা আলাদা কইরাই, সহমর্মিতার সাথেই বুঝতে পারা দরকার। এইটাই আমি বহু বছর থেকে বলে আসছি। দুই হাজার তের সালে তাদের এই দ্বিধা ও সন্ত্রাসের মোকাবেলা করেছি। শাহবাগ না, এইটা শিক্ষিত মধ্যবিত্তের নিজেদের গ্রে এরিয়া। এই ঘটনারে উদ্দেশ্য কইরাই আমি শাহবাগের সময়ে ‘শাহবাগের আজান’ লিখছিলাম: ‘শাহবাগ যাবো, যেতে চাই, কিন্তু আমি যেখানে থাকি, তার থেকে শাহবাগের দূরত্ব অনেক।..’
No comments yet. Be the first!