যে কোন গ্রেফতার বা শাস্তিরে প্রশংসা করতে আমি কুণ্ঠা করি, কারণ, দার্শনিকভাবে, আমি প্রায় শাস্তিবিরোধীদেরও একজন। কিন্তু, জগতে শাস্তি থাকারও তো একটা নায্যতা আছে, যখন অপরাধ ঘটে, এইটা হল, আমার ডিলেমা। ফলে, আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিরোধিতা করি, বরং একটা জাস্টিসফুল মোমেন্ট তৈরীর কথা বলি।
জেনারেল মাসুদের গ্রেফতারের ঘটনাটির গুরুত্ব ও সন্তুষ্টি লিখতে গিয়ে, থেমে, এই কথা লিখতেছি এখন। এক এগারর পরে, সেই সময়ের তরুণদের নেতা তারেক রহমানের একটা টর্চার্ড ইমেজ আমাদের চোখের সামনে ঘুরত, দুই হাজার সাত আট সালের দিকে। এই পোস্টের ছবিটা, প্রফেসর রেহনুমা আহমেদের A tortured image নামক লেখা থেকে নেওয়া, প্রথমে নিউএইজ পত্রিকা ও পরে শহীদুল ব্লগে প্রকাশিত, দুই হাজার আট সাল। সেই সময়ে এই টর্চারের পক্ষে ও বিপক্ষে দুটি স্পষ্ট সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান সক্রিয় ছিল। টর্চারের পক্ষে সামাজিক সম্মতি উৎপাদন করছিল বাংলাদেশের ঐতিহামিক বাম ও সেকুলারদের মধ্যে সবচাইতে প্রভাবশালী গ্রুপগুলো।
আমি, সেই সময়, কোন ইফস এন্ড বাটস ছাড়া এই টর্চার এবং এই অরাজনৈতিক, নিপীড়ণমূলক এক এগার প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলাম, চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গা থেকে। এখনো, সচেতনভাবে করা কর্তব্য মনে করি। এরপরে, এক এগারর লিগেসি হিশেবে আসা হাসিনার সরকারকে এক এগার দ্বিতীয় পর্ব বলেছিলাম আমি, যার মাধ্যমে একটা চিরস্থায়ী জরুরি অবস্থার শুরুর কথা বলেছিলাম বাংলাদেশে। মূলত তাই হল, একটা গুম খুন ও চিরস্থায়ী জুলুমের বাংলাদেশ হল এর পর, যার শুরু ছিল এক এগার।
বহু বছর পর, এই চিরস্থায়ী জরুরি অবস্থার অবসান হল, মূলত, নাহিদদের নেতৃত্বে ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী জুলাই জনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এই ঘটনা, বোধহয়, এইভাবে অনেকেই লোকেইট করতে সক্ষম নন এখনো। তো, আমাদের এখন পর্যন্ত জানা তথ্যগুলো বলে, এই কুখ্যাত এক-এগার ও এই রেজিমের বড় বড় টর্চার সেলগুলোরও নেপথ্য ব্যক্তি ছিলেন জেনারেল মাসুদ, যার শিকার সেই সময়ে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও জিয়াউর রহমানপুত্র তারেক রহমানও ছিলেন। আরো অনেকেই ছিলেন।
তারেক রহমান ও পুরো বাংলাদেশের এই টর্চার্ড ইমেইজ নিয়া বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বাম ও আওয়ামীলীগের লোকেরা উল্লসিত ছিল আমাদের চোখের সামনে, এই টর্চারের পক্ষে সামাজিক সম্মতি উৎপাদন করছিল। আমরা তখন এই সামাজিক সম্মতির মোকাবেলা করেছিলাম। এখনো করি। এইসব সত্ত্বেও, আমি আশা করব, তারেক রহমানের সরকার তার একটা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে না, সেটি হল, স্রেফ মত প্রকাশের জন্য দেশে আর কোন গুম খুন গ্রেফতার হবে না। মত প্রকাশরে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিশেবে কখনোই বিচার করা হবে না আর বাংলাদেশে, যা, মূলত জুলুমের চিহ্ন। এবং কোন রিভেইঞ্জ ব্যবস্থার দিকে যাবে না এরপরের বাংলাদেশ। বরং তারেক, তার নিজের উপরে উপরে হওয়া এই জুলুমগুলোরে নিয়াও একটা জাস্টিসফুল মোমেন্ট তৈরীর দিকে যাবেন। যাবেন কি?
No comments yet. Be the first!