রাজাকার কাজী সাহেব
তখন দুই হাজার চার সাল। সে বছর জানুয়ারির এক শুক্রবারে, তারেক মাসুদরে ডাইকা মাটির ময়না নিয়ে উনার কথা শুনতেছিলাম আমরা, আমাদের বন্ধুরা, চট্টগ্রামে। সেই আলাপের শেষের দিকে হাজির হইছিলেন প্রফেসর রেহনুমা আহমেদ এবং তারেকের সহধর্মীনী ক্যাথরিন মাসুদও। তারেক, ক্যাথরিন ও রেহনুমা, সবার সাথেই, সেবারই প্রথম দেখা। উনাদের নাম নিলাম, দোহাই হিশেবে। তো, তারেক কইতেছিলেন, এই মুভি দেখা শেষ হবার পরে, কথাসাহিত্যিক ফয়েজ আহ্মদ তারেককে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'তারেক তুমি তোমার ছবিতে ঐ রাজাকার কাজী সাহেবরে তো বাঁচাই দিলা। এইটা তুমি কেন করলা। সে তো এখান থেকে গিয়ে রাজাকারে নাম লেখাবে।' এর উত্তরে, তারেক ফয়েজ আহমেদকে ঠিক কী বলেছিলেন, ভুইলা গেছি। তো, এই মুভি ও তারেকের কাজ নিয়া তারেকের মৃত্যুর কয়েকদিন পরে, তখনকার ব্রাত্য রাইসু সম্পাদিত বিডি আর্টসের আমন্ত্রণে একটা লেখা লিখেছিলাম। মাটির ময়না ও তারেক মাসুদের লড়াই। লেখাটা পরে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতিতে ছাপা হয়। বাংলাদেশের সিনেমার হিস্ট্রির রাজনৈতিক পাঠ কইতে পারেন, এই লেখাকে, যে পাঠ এর আগে কখনোই হয় নাই। পড়তে পারেন। গুগল করলে বিডিআর্টস, রিফাতহাসান.কম সহ নানান জায়গায় পাবেন এই লেখা। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি তো আউট অব প্রিন্ট। না হলে এই বইটার কথা কইতাম। ও, এই বইয়ের রিপ্রিন্ট নিয়ে আমারে ইনবক্স না কইরেন আপাতত। আমি এই বইটা নিয়ে আবার বসছিলাম গত বছর। এখনো, রিরিড করা শেষ করতে পারি নাই, আলসেমির কারণে। প্রকাশক প্রায় কিছুদিন পরপর তাগাদা দেন। ফুটনোট।
No comments yet. Be the first!