মুক্তিযোদ্ধারা যে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সাথে কোন কোন ফ্রন্টে কোলাবরেটর মুসলিম লীগ, জামাত ও নেজামে ইসলামের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেছিল, এইটারে ফ্যাক্ট হিশেবে অসত্য কওয়া যাবে না। কোন কোন ফ্রন্টে আরো অনেকের সাথেও যুদ্ধ করতে হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের। যেমন, দুই কুকুরের লড়াইপন্থি চীন ধারার বাম ও মুজিবনগর সরকারের আনুগত্য অস্বীকার করা মুজিব বাহিনী। কিন্তু মুজিব, জিয়া, এমন কি খালেদা জিয়ার ঠিক করা মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা, তাতে হানাদার বাহিনীর বাইরে এই পক্ষগুলোর নাম নেই। কারণ, এরা কোলাবরেটর মাত্র। কিন্তু, হাসিনা, জামুকা আইনে, মুক্তিযোদ্ধার এই সংজ্ঞা পরিবর্তন করে মুসলিম লীগ, জামাত ও নেজামে ইসলামের নাম ঢুকাইছিলেন, দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য।
তো, এই জামুকা (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল) আইন প্রথম প্রণয়ন হয় খালেদা জিয়ার সময়ে, ২০০২ সালে। পরে হাসিনার রাতের ভোটের সরকার, ২০২২ সালে, বিএনপির প্রণয়নকৃত মূল আইন রহিত করে, নতুন জামুকা আইন পাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাসহ। এই সংজ্ঞাটা ইন্টারেস্টিং, যেহেতু লম্বা, এখানে আলোচ্য ফ্যাক্টটি শুধু দিলাম, যেখানে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধারা দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে সাথে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আওয়ামীলীগ প্রণীত এই সংজ্ঞাই, পরে পরিবর্তন করে, ইন্টারিম, নামগুলোর আগে 'তৎকালীন' শব্দটা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মূলত আওয়ামীলীগের, বলা ভাল, হাসিনার তৈরী করা সংজ্ঞাকে আরো বিস্তৃত ও অর্থপূর্ণ করার চেষ্টা আছে ইউনুস সরকারের, যেটিরে গত বছর রুমিন ফারহানা এবং বাংলা আউটলুক নামের নিউজ পোর্টাল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ হিশেবে সামনে আনেন। এই হল সারমর্ম। এই সারমর্ম অনুযায়ী, দেখা যাচ্ছে, ইন্টারিম সেই সময়, মুজিব, জিয়া, এমন কি খালেদা প্রবর্তিত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নাকচ করে, হাসিনা প্রবর্তিত মুক্তিযোদ্ধার মতলবি সংজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিছিল, যেটি আজ সংসদে আইনে পরিণত হল।
স্বভাবতই, এই সংজ্ঞা নিয়ে জামাতের আপত্তি আছে, দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, আগ্রহ উদ্দীপক হল, এনসিপি এই সংজ্ঞা নিয়ে কোন আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে। গত বছর, এই সংশোধনি নিয়ে বলেছিলাম, এইসব সংশোধন ও কারেকশন প্রসেসে না গিয়ে আওয়ামী লীগের মতই হাসিনার আইন পুরোপুরি রহিত করে ২০০২ এর জোট সরকার প্রণিত আইনে ফেরত যাওয়া। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে, এই সরকার খালেদার আইনকে বাইপাস করে, হাসিনার, পরে ইন্টারিমের সংশোধিত সংজ্ঞাকে বহাল রাখল, আমি যদি ভুল না কইরা থাকি। আরো একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা বলি।, জামাতের লোকেদের মধ্যে ইদানীং একটা নতুন বয়ান খেয়াল করেছি, এই জামাত একাত্তর পূর্ববর্তি জামাত না, এইটা জিয়াউর রহমানের সময়ে রেজিস্টার্ড নতুন জামায়াতে ইসলামী, যার সাথে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী জামাতের কোন সম্পর্ক নেই, যার একাত্তরে অবস্থানের বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার দায় নেই। আমার কথা হল, যদি তাই হয়, তাহলে, তাদের এই সংশোধনী নিয়ে আপত্তিটা ঠিক কোন জাগায়?
No comments yet. Be the first!