unSocial

~হাও টু ডিজএগ্রি~

হাও টু ডিজএগ্রি, এইটা জানা, রপ্ত করাটা সভ্যতার কাজ।

শত্রুতা আর দ্বিমত যে আলাদা, এইটা বুঝতে পারাটা ন্যূনতম বোঝাপড়ার প্রথম দিককার স্তর। একই কথা, ব্যক্তি গোপনীয়তা নিয়া।

ধরেন, আপনার সাথে কারো দ্বিমত হল, তার সাথে আপনার আলাপের স্ক্রিণশট প্রকাশ করে দেওয়ার ঘটনাটি কেমন?

এমন কি শত্রুও যদি হয়, তার সাথে ব্যক্তিগত পরিসরে যে কোন আলাপ শুরুর ধরে নেওয়া অনুমান হল, এইটা নিজেদের ভেতরকার আলাপ, কোন পাবলিক ঘটনা না। এর মর্যাদা রক্ষা করবে উভয়ই, যতক্ষণ পর্যন্ত আলাপের কোন অংশ অপরের জন্য ফিজিক্যাল এসল্ট বা অন্যান্য ক্ষতির কারণ বা হুমকি, মানে আইনি অপরাধের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।

এর বাইরে, যে কোন প্রাইভেট কনটেন্ট, ছবি, স্ক্রিণশট বা ভিডিও পাবলিক স্পেইসে 'ফাঁস' ধরনের ঘটনা চরম ব্যক্তিগোপনীয়তা ও ট্রাস্টের লঙ্ঘন ও মানুষের মর্যাদারে ছোট করা, যা আপনার করার অধিকার নেই।

আমরা সরকারের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা এই ধরণের নজরদারিমূলক আইনগুলোর নানান দিক নিয়া যেসব আপত্তি তুলি, তার সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ হল এই ব্যক্তি গোপনীয়তা। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারকদের স্কাইপি স্ক্রিণশট/রেকর্ড প্রকাশ করে যে নিউজ হইছিল, তার জন্য আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ট্রায়ালের কথা আপনাদের মনে থাকিত পারে। মূল ইস্যু ছিল ব্যক্তি গোপনীয়তা।

এইখানে, 'ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স'।

এইটা নোট রাখতে বলি আপনাদেরও। এই জাগায় লেখক-শিল্পী-ইন্টালেকচুয়াল দাবীদাররা যখন অসভ্য আচরণ করে, সেটি ভাববার ব্যাপার।

[আওয়ামীলীগ নেতারা, এমন কি হাসিনাও, 'সবকিছু ফাঁস করে দেয়া'র হুমকি দিতেন প্রায়ই। একাত্তর টিভি বা আর আর টিভি চ্যানেলগুলো, হাসিনার টাইমে, মাঝে মধ্যেই নানানজনের কলরেকর্ড, মানে সংবিধান ও আইন দ্বারা প্রটেকটেড নাগরিকদের ব্যক্তিগোপনীয়তা ফাঁস করতেন। তো, সেই সময়গুলোতে এই আলাপ বিভিন্নভাবে, আলাদা আলাদা সময়ে তুলেছিলাম। এই লেখাটা, বোধ হয়, দুই হাজার একুশের জানুয়ারিতে, কোন একজন সংস্কৃতিজগতের আলেম সলিমুল্লাহ খানের ব্যক্তিগত পত্র ফাঁস করছিলেন ও এইটা নিয়া আলোচিত হইতেছিলেন বেশ, সেই ঘটনা লইয়া। বা, আরো আগেরও হতে পারে। স্রেফ পুরনোদিনেরগান হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেখা। এই লেখাটা, বিভিন্ন সময়ে, শেয়ার করা জরুরত বোধ করেছি, যেমন, মেমোরিতে এল, গত বছর, একটিভিস্ট রাতুল মোহাম্মদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের স্ক্রিণশট নিয়ে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একটিভিস্ট ও নেতা ওয়াহিদুজ্জামান এপোলোর একটা পোস্ট শেয়ার হতে দেখার পরের শেয়ার এটি। তখন কইতেছিলাম, হাসিনা পরবর্তি সময়েও এই ঘটনাগুলো ঘটতে থাকা এলার্মিং। আজ, আবার, স্রেফ মেমোরি থিকা।]

/ জানুয়ারি ২০২১

April 21, 2026
11 readers till now, 0 new visits today.

No comments yet. Be the first!