শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা, এই ব্যাপারটা এখনো সংসদে আছে নাকি, আমার জানা নেই। এইটা এথিকসের গুরুতর লঙ্ঘন ও দুর্নীতির পথ উন্মুক্ত করে। যদি থাইকা থাকে, এরকম একটি লঙ্ঘন সিস্টেমে বহাল রাইখা বিরোধী দলের নেতারা নিজেরা এই সুবিধা নেবেন না, এইটা হল, সিস্টেমরে অসৎ রাখবেন, কিন্তু আপনি সৎ লোক বইলা একটা ক্যাটাগরি, মানে সৎ লোকের শাসন হবেন। দুনিয়ারে অসৎ রাইখা, নিজে বুজর্গ হবার এই আগ্রহ বকধর্ম বিশেষ। দরকার দুনিয়া বদলানো। ফলে, জামাতের এই 'সৎ লোক ব্যবসা'র সমস্যা নিয়া আমি, সব সময় ক্রিটিকাল থেকেছি।
এই কারণে, দেখবেন, বিগত সরকারের আমলে এনসিপির নেতাদের নিয়া, বা তারো আগের সরকারের আমলে, তারেক রহমানরে নিয়া যে দুর্নীতির গল্প ছিল, তারে আমি পাত্তা না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি। এমন কি, হাসিনার সময়ও, বিএনপির রুমিন ফারহানা যখন সংসদ সদস্য হিশেবে প্লট নিলেন, এইটাতে তার পক্ষে থাকতে সমস্যা পাই নাই। হাসনাত আব্দুল্লাহরাও, যেহেতু সৎ বা ইনোসেন্ট থাকিত চান, সম্ভবত, এই সৎ লোকের ব্যবসার ফান্দে পড়েছেন। সৎ থাকিত চাওয়া খারাপ কিছু না, কিন্তু, তার চেয়ে দরকারি হল, অসৎ থাকার সিস্টেমকে বদলানো। এইটা নিয়া, উনাদের সতর্ক থাকা দরকার।
কিন্তু, এইসব সতর্কতা শেষেই, যারা সংসদ সদস্যদের জন্য হাসনাতের সরকারি পরিবহন সুবিধা চাওয়ার প্রশ্নটা শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার 'সততা'র প্রশ্নের সাথে সাংঘর্ষিক হিশেবে বয়ান তৈরী করছেন, আমি তাদেরকে হয় গর্দভ, অথবা মতলবি হিশেবে পড়ছি। একটা হল, এথিকাল প্রশ্ন, যার জন্য তারা ধার্মিক হইতে চেয়েছেন। আর দ্বিতীয়টা, এই যে পরিবহন সুবিধা, এইটা মোটামুটি বেসিক নেসেসিটিই। এইটা যে নেই, তা প্রথম জানলাম, এবং অবাক হলাম।
No comments yet. Be the first!