কাউরে পুলিশে দেওয়াটাও, আমার মতে অত ভাল ঘটনা না। তবে, এইটা, কাউরে পেটানোর চাইতে, বোধ হয় বেটার ঘটনা। বিশেষত, যখন আপনারা মনে করেন, আপনাদের পছন্দের ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আছে। আমরা তো, ছোটবেলা থেকেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেবার নীতিকথা শুইনা বড় হইছি ও অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওযার মাধ্যমেই আমাদের বাংলা সিনেমা শেষ হতো।
বেশ কিছুদিন আগে, ইমি নামের এতজনকে মুজিবের ভাষণ প্রচারের একটিভিজমের জন্য গ্রেফতার করেছিল তারেক রহমানের পুলিশ, আমি খেয়াল করেছি, ইউনুসের পুলিশ নয়। কয়েকজন ডাকসু নেতাকে তখন একটিভ দেখা গেছিল, ইমিকে পুলিশের কাছে সোপর্দের ঘটনায়। কিন্তু, এরপরে যারা ইমির মুক্তি চান, তাদের কথা বার্তা শুনলে মনে হয়, উনারা ডাকসু নেতাদের কাছেই ইমির মুক্তি চান, তারেক রহমানের সরকারের কাছে না। উনাদের ভাষা পইড়া মনে হয়, প্রবল সদিচ্ছা থাকা সত্বেও, তারেক রহমানের সরকার ইমিকে মুক্তি দেবার ক্ষমতা অর্জন করতে পারল না। এইটা, মহাকৌতুককর। বরং, মুজিবের ভাষণ প্রচারের একটিভিজমরে তারেক রহমানের সরকার যে 'নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগে'র কার্যক্রম, ফলে ক্রিমিনাল অফেন্স হিশেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই ট্রুথটা স্বীকার করতে শেখেন। সম্ভবত, ইমি মুক্তও হবেন, তবে, এই ট্রুথের একটা সুরাহা না কইরা এখনই মুক্তির সম্ভাবনা কম।
আজকে খেয়াল করলাম, ইউনুসের নয়, তারেক রহমানের থানা ও পুলিশের উপরে ছাত্রদল কর্মী ও তাদের কেন্দ্রীয় নেতারা বিন্দুমাত্র ভরসা রাখতে চাইলেন না। এইটা, বেশ বড় বিপদই, তারেক রহমানের জন্য। উনি, হয়ত এখন বুঝছেন না, তবে, আরো পরে বুঝবেন অবশ্যই। ততোদিনে, হয়ত অনেক জল ও পানি হয়তো হবে। জনৈক বিচার প্রার্থি, ফেইক ফটোকার্ড ইস্যুতে জিডি করতে থানায় আসলে, তার উপরে প্রথমে ওরা সবাই মিলে সদলবলে হামলা করে ও পেটায়, পত্রিকা বরছে, থানার ভেতরেই। পরে, সংবাদ পেয়ে ডাকসু নেতাদের কেউ তাকে বাঁচাতে এলে তাদেরকেও পেটাতে থাকে এই সমবেত কর্মীরা, থানার ভেতরেই।
খেয়াল করবেন, ঘটনাটা শাহবাগ থানায় হলেও, এই ঘটনাগুলোর ভেতরে কোন পুলিশকে দেখা যায় না তেমন কইরা। পরে, এইখানে ত্রাতা হিশেবে হাজির হন বড় ছাত্রদল নেতারা, যারা 'মব' পছন্দ করেন না৷ ফলে, উনারা সবাইরে বাঁচাতে আসেন, সমবেত 'মব', হাহা, থেকে। মানে, উনারা ত্রাতা হলেন, নিজেদের 'মব' কর্মীদের থিকা। তারেক রহমানের আইন বা থানারে ত্রাতা হইতে দিলেন না। জিডিকারীর পরিণতি কী হইছে, আর দেখা যায় না৷ কিন্তু, ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ডাকসু নেতাদের বাঁচানোর স্লো মোশন আবেগি ভিডিও আর ফটোকার্ড, হোমফিড জুড়ে। দেখছি, আর হাসছি।
সম্ভবত, তারেক রহমানও হাসছেন। হাসছেন কি?
No comments yet. Be the first!