বিএনপিতে, খেয়াল করেছি, হযরত ফজলুর রহমানের চাইতে বড় মুক্তিযোদ্ধা নেই। বাকি যারা আছেন, তারা, প্রায় সবাই কিশোর মুক্তিযোদ্ধা হবেন। যেমন, আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনাযেদ সাকী, বা সংসদে এক এমপির দাবী অনুযায়ী, হযরত তারেক রহমানও।
তো, এই ফজলুর রহমান সাহেব, গুরুত্বপূর্ণ বিএনপি নেতা ও অধুনা সেলিব্রেটেড মুক্তিযোদ্ধা, বলা হচ্ছে, রণাঙ্গনে কখনোই যুদ্ধে ছিলেন না। যিনি এ দাবী করেছেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন কিশোরগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার বলা হচ্ছে যদিও, এই দাবী নিয়া আমার কম আগ্রহ। কারণ, দেখবেন, মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী ইতিহাস প্রকল্পের পুরোটাই এরকম অসংখ্য ব্লাফে ভরা, যেখানে আমাদের গণমুক্তিযুদ্ধ, চাষাভুষাদের মুক্তিযুদ্ধ গরহাজির থাকে, আর তারাই সেলিব্রেটেড থাকে।
তো, গত বছর আগস্টে, মুজিব বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধটি কেমন ছিল, তারে নিয়া আমার ভাবনা লিখেছিলাম। এখন, এই লেখাটিই আবার শেয়ার করবার লোভ হল এখানে। এই লেখায় মুজিব বাহিনীর সংগঠক আব্দুর রাজ্জাকের বরাত নিয়েছিলাম, যেখানে তিনি বলেছেন, তারা সশস্ত্র যুদ্ধে যাবার আগেই দেশ স্বাধীন হয়ে গেছিল। সম্ভবত এই ইন্টারভিউ, মোহাম্মদ রোমেল এর বানান এর নেওয়া ছিল। ফলে, ফজলু সাহেব, যেহেতু মুজিব বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন বলা হয়, উনার রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের গল্প ব্লাফ হবার সম্ভাবনাই বেশি, উনার হার্টথ্রুব সমর্থকদের মুক্তিযুদ্ধের মতই। ফজলুর মুক্তিযুদ্ধ নিয়া, দেখলাম, আজকের এই কমান্ডার সাহেবও একই কথা জানালেন, যে, ওরা ট্রেনিং শেষ করে দেশে ফেরার আগেই মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছিল।
.....
মুক্তিযুদ্ধের ইন্ডিয়ান বয়ান, ভাষা ও নির্মাণ
/ আগস্ট ২৮, ২০২৫
...
মুক্তিযুদ্ধের ইন্ডিয়ান বয়ান, ভাষা ও নির্মাণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই আমাদের গণমুক্তিযুদ্ধ ছিল। একাত্তরেও, এখনো। মুজিব বাহিনীর রাজনীতি এই জায়গায় কী ছিল, তা নিয়া ইতিহাস পরিস্কার কিছু বলে না। কিন্তু, অনেকগুলো ঘটনা দেখে মনে হয়, 'মুজিববাহিনী' একটা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ব্যাপারই ছিল, চাষাভুষা ফকিন্নির পোলাদের গেরিলা বাহিনীর গণমুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র, বৈদ্যনাথতলার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জেনারেল ওসমানির কর্তৃত্ব স্বীকার না কইরাই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার স্পেশাল ট্রেনিংয়ের অংশ ছিল মুজিববাহিনী। যদিও, অন্যান্য বাহিনীগুলোও র এর আন্ডারেই প্রশিক্ষণ নিত, কিন্তু, মুজিবনগর সরকারের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে এবং উপেক্ষা করে মুজিব বাহিনী স্রেফ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একক নিয়ন্ত্রণের একটা গুপ্ত সংগঠনই ছিল। দেখলাম, এইটা যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ঘটনাই, তারে নিয়া জাফরুল্লাহ চৌধুরী, চরমপত্রের এম আর আখতার মুকুল আর এ কে খন্দকার সাহেবও কাছাকাছি মত দিয়েছেন। এই মতের সোর্স উইকিপিডিয়াতে পাবেন। র এর জেনারেল উবানের নেতৃত্বে গুপ্ত প্রশিক্ষণ শেষে, মুজিব বাহিনী পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন অপারেশনেই যায় নাই, শহরগুলোতে প্রবেশ করে নাই, মুজিব বাহিনীর নেতা আব্দুর রাজ্জাকের এরকম একটা ইন্টারভিউ শুনেছি, বা পড়েছি৷ এমন আলাপও আছে, ওরা গ্রামগুলোতেই ঢুকে লুটপাট করত, কিছু জাগায় দেশীয় কোলাবরেটরদের কোন কোন অংশকে হত্যাও করেছে। মুক্তিবাহিনী, এবং কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে ওদের পরিকল্পিত আক্রমণ ছিল বলা হয়, অধ্যাপক আসহাব উদ্দিন বোধ হয় এরকম একদল কমিউনিস্ট হত্যার ঘটনা নিয়া বই লিখেছেন, নাম মনে নেই। মুজিব বাহিনীর সদস্যদের বড় অংশরে নিয়াই, পরে, নাৎসি বাহিনীর আদলে স্পেশাল ফোর্স রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়। আচ্ছা, মুজিব বাহিনী নিয়া ইতিহাসের ধোঁয়াশাগুলো তো কইলাম। কিন্তু, মুক্তিযুদ্ধের পরে তৈরী হওয়া এই রক্ষী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে কি ইতিহাসের তেমন কোন ধোঁয়াশা আছে? পরের প্রশ্ন, অধুনা যে মুজিব বাহিনীর কমান্ডার মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ প্রশ্নে মুজিববাদী হেজিমনি তৈরী করছেন, উনাদের রক্ষী বাহিনীতে কী ভূমিকা ছিল, বা আদৌ ছিল কিনা, এই আলাপ কেউ তুলেছেন? তোলা জরুরি। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তি বাংলাদেশ কি শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ষী বাহিনীকে ঔন করে?
No comments yet. Be the first!