ইতিহাসে বাংলাদেশের অভ্যুদ্যয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান ও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সমর্থন/সহযোগিতার পরে, উনিশশ একাত্তর পরবর্তি স্বাধীন বাংলাদেশে জামাতের রাজনীতি হল, এথিকাল ডিলেমা। এই ডিলেমারে তারা নিরবতা ও সংকোচের বিহ্বলতা দিয়ে সলভ করতে চান, উৎরাতে চান না। ফলে, জামাত বিষয়েও, আমাদের ডিলেমা, কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এইটা, জামাতপন্থি মুক্তিযোদ্ধাদের বিবৃতি দিয়ে সলভ হবে না। যারা চিন্তা করতে সক্ষম, তাদের, জামাতের রাজনীতির ব্যাপারে এই নোক্তা রেখেই আগাতে হবে।
এর বাইরে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাত নিজের একটা গুরুত্ব তৈরী করেছে। জামাত যে ভেকুয়াম ফুলফিল করে, তা হল, একটা ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরী করে, ধর্মীয় চরমপন্থাগুলো ও একাট্টা সেকুলার স্পেসের মধ্যে, ধর্মীয় শক্তি হিশেবে। ধর্মীয় শক্তি হিশেবে, রাষ্ট্রে এই ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি জামাতের রাজনীতিরে মোকাবেলা করতে চান, এর জন্য যা দরকার, তা হল, এই ভারসাম্যপূর্ণ স্পেইসের ধর্মীয় ও সেকুলার উভয় শিফটের জন্য কাজ করা।
ধর্মীয় শিফট এত সহজ হবে না। কারণ, বাংলাদেশে ধর্মপন্থাগুলোর ভেতরে জামাতের চাইতে প্রগ্রেসিভ, সংগঠিত ও মেচিওরড দল, এখনতক নেই। সেকুলার শিফট এর ঘটনা, একদা খালেদা জিয়ার বিএনপির হাতে ছিল, আমি যেইটারে ধার্মিকদের সেকুলার দল হিশেবে চিহ্নিত করি। এইটা, বোধ হয়, সামনে আরো শিফট হওয়ার জন্য তৈরী, কারণ, এখনকার বিএনপির সেই দায় নেবার প্রস্তুতি বা আগ্রহ কম। ক্ষমতা তো অন্ধ করে দেয়। ফলে, দেখবেন, বিএনপি নেতা ফখরুল নির্মূল শব্দ ব্যবহার করেছেন, জামাতের ব্যাপারে। এইটা, চরম মূর্খতা ও হঠকারিতা।
মূলত, বাংলাদেশে জামাতের রাজনীতিরে ইনভেলিড করতে হলেও, আপনার এমন একটা রাজনীতি লাগবে, যা জামাতের অল্টার ইগো হিসেবে হাজির থাকবে না, আওয়ামী লীগ যেরকম অল্টার ইগো হিশেবেই জামাতকে মোকাবেলা করতে চাইছিল। দরকার এমন রাজনীতি, যা জামাতকে ডেমন বানিয়ে দমন করবে না, কিন্তু, তাদের, একই সাথে সেকুলারদেরও রাজনৈতিক স্পেস দখল করবে। ফলে, সেকুলার পরিমণ্ডলের সাথে সাথে, জামাত বা অন্যান্য ধর্মীয় পরিমন্ডলের সম্ভাবনাময় তরুণেরাও এই বিকল্প রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এই সম্ভাবনা, এই মুহূর্তের বাংলাদেশে, আমি খেয়াল করেছি, একমাত্র এনসিপি দেখাতে পারছে। আপনার মত কী?
No comments yet. Be the first!