গতকালকে, মাহফুজ আলমের একটা ঠাট্টা/মকারি করা পোস্ট দেখলাম। মাহফুজ এবং তার বন্ধুদের ব্যাপারে আমার একটা মুগ্ধতার রাজনীতি আছে। এই রাজনীতি বহাল রাখতে চাইলে, বলতে হবে, নিজেরে মকারি করতে পারার ব্যাপারটার একটা সৌন্দর্য আছে। তবে, এইখানে, এই সৌন্দর্যটাও খুঁজতে ব্যর্থ হলাম। তো, নিচের এই ইন্টারভিউতে, আমি একটা দার্শনিক রাজার সমস্যার কথা বলেছিলাম, মাহফুজদের ইন্টারিমকে নিয়া। আরো যা যা বলেছিলাম, আপনারা পইড়া তর্ক করতে পারেন। ইন্টারভিউটার সফট কপি অনেকেই ইনবক্সে খুঁজছিলেন। ঈদসংখ্যা হবার কারণে, সাক্ষাৎকারটা কেবল প্রিন্ট কপি পাওয়া গেছিল, অনলাইনে পাওয়া যায় না। ফলে, এইটারে প্রথম অনলাইন কপি বলতে পারেন, রিফাতহাসান.কম থেকে পড়তে পারবেন এখন।
কমেন্ট থেকে লিঙ্কটা পাবেন। আপনাদের জন্য কিছু কোট হাইলাইট করা আছে, লিঙ্কে। আপনারা আরো হাইলাইট খুঁজে নিতে পারেন।
‘দেখুন, আমরা যে সোসাইটিতে আছি, তার রুহ হলো ধর্ম। এখানকার বৃহৎ জনগোষ্ঠী মুসলমান। হিন্দু আর বৌদ্ধরাও আছে প্রচুর পরিমাণে। দেখবেন, তাদের চরিত্র হলো ধার্মিক। ধর্মীয় ভ্যালুগুলো প্রাধান্য পায় জীবনযাপন ও সব মীমাংসায়, কিন্তু, এখানকার মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ সবাই একটা টলারেন্ট সোসাইটি ও স্পিরিচুয়াল মাইন্ড বিলং করে। এখানকার মুসলমানদের যে পরিচয়, তারে আমরা বাঙালি মুসলমান বলি। এই বাঙালি মুসলমান ব্যাপারটা এমন, এখানে আরব থেকে আগতরা ব্যবসায়ি ও সুফিরা যেমন, ইতিহাসের নমঃশূদ্র, চণ্ডাল, দলিত, কৃষিজীবী, কাঠুরে, জেলে ও আর আর বর্ণহীন, অনার্য স্বাধীন নৃগোষ্ঠীও সমহিমায় বিরাজ করে, বাঙালি মুসলমানের সঙ্গে। ফলে, দেখবেন, পাশের দেশ ভারতে যে ধর্মীয় ইনটলারেন্স, উগ্রতা, গরুর গোশত খাওয়ার অপরাধে পিটিয়ে মানুষ খুন, এরকম আমাদের নেই। একটা চমৎকার স্পিরিচুয়াল মাইন্ড এবং ধর্মীয় সহাবস্থান, এখানে পাশাপাশি চলে। মানে, ধার্মিক হলেও, মুআমেলাতে সেক্যুলার থাকতে পারি আমরা।’
‘এই জায়গায়, আমি মনে রাখি, বাংলাদেশে একটা ঐতিহাসিক জামায়ত ট্যাবু আছে, যেইটা মূলত আইডিওলগ বাম সমস্যা, আওয়ামী লীগের তৈরী করে দেওয়া, আরও বিশেষভাবে কইতে গেলে, ভারতের তৈরি করে দেওয়া। এই ইস্যুতে ভারতীয় কূটনীতিকদের সরাসরি ইন্টারভেনশন থাকত বইলা অভিযোগ ছিল। এইখানে, খেয়াল করবেন, আমি তাদের জোটের বিরোধিতা করলেও, আমি মনে করি, নাহিদরা রাজনীতিতে আইডিওলগদের এই জামায়াত ট্যাবুরে কিছুটা হার্ম করতে পেরেছে। ফলে, এই জোট গঠনরে কৌশলগতভাবে ভুল বলেছি আমি, কিন্তু, এথিকাল সমস্যা না।’
Zuba Rahman এর সাথে এই ইন্টারভিউ বেশ তিরিয়ে তিরিয়ে দিচ্ছিলাম, ইনবক্সে, প্রায় সপ্তাখানেক ধরে। ইন্টারভিউ মানে তো গল্প করাই। কিন্তু, এইটা যেহেতু মুখোমুখি আলাপ না, লিখে লিখে উত্তর দিচ্ছিলাম, এইটা বোধ হয় অল্প কম গল্প হইল। আপনারা পড়ে বইলেন। মোটামুটি লম্বা ইন্টারভিউই। এই ইন্টারভিউর কিছু কিছু আলাপ বেশ বিতর্ক তৈরী করতে পারে বলে আমার ধারণা। কিছু খারাপ খারাপ কথা বলেছি। রাজনীতি, দর্শন ও নীতিশাস্ত্রের আলাপের সাথে সাথে, বিএনপি, জামাত, এনসিপি ও আওয়ামীলীগের রাজনীতি নিয়াও ডিটেইল আলাপ করেছি। আওয়ামীলীগের ফিরে আসা নিয়ে আলাপ করেছি। আমি চাই, বিতর্ক তৈরী হোক। আগ্রহীরা পড়ে কমেন্ট করতে পারেন। আমার কাছে, লেখা ঠিক প্লানড ঘটনা হয়ে ওঠে না কখনো, বরং শব্দ, ভাষা ও বোল নিজেই একটা চিন্তার ঘটনা। ফলে, আমি প্রচুর রিরিড করি নিজেরে, লিখতে লিখতেই। নিজেরে এডিটও করি প্রচুর। এইখানেও, যুবা রহমানকে দেওয়া সর্বশেষ ভার্ষনটার পরে, উত্তরগুলো আরো কিছু রিরাইট করছিলাম শেষে, যেদিন সংসদ অধিবেশন বসল, প্রথম৷ কিন্তু জানলাম, তার আগেই প্রিন্টে চলে গেছে। এইটা সর্বশেষ ভার্সনটাই। যুবা জানালেন, এই আলাপটা আরো বড় করতে চান। ফলে আরো আলাপ হতে পারলে ভাল হইত। কইলাম, আলাপ তো চলতেই পারে। তখন আপডেট করে নেবনে। মানে, এই আলাপে নজর রাখতে পারেন। যুবার সাথে এই আলাপ, আরো চলতে পারে সামনে।
No comments yet. Be the first!