তথ্য এজ আইডিওলজি।
তথ্য মোটামুটি একটা আইডিওলজিই। সাংবাদিক সায়ের যখন যুদ্ধাপরাধ বিচারে রায় হওয়া চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে 'The alleged war criminal' উল্লেখ করে তেরর আল জাজিরার রিপোর্ট/ সাক্ষাৎকার শেয়ার করলেন, তখন থেকে তার তথ্যের ট্রুথ কারেন্সি জামাত শিবিরের লোকেদের কাছে কমা শুরু হল। আমি টের পাচ্ছিলাম। এর আগে, তিনি যখন যখন জুলাই জাগরণের 'হিরো' রিভিল করছিলেন, তখন সায়ের ছিলেন তাদের কাছে ওহির মত। তো, গতকালকেই, একই সময়ে, 'কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ছবি' শিরোনামেও পোস্টার করলেন সায়ের, কিছু ডিটেইল না লিখে, শুধু গোপন ট্রুথ রিভিলের ভঙ্গিতেই। এইখানেও কিছু জনপ্রিয় চেহারার নাম আসল যখন, সেই গ্রুপের কাছে তার ট্রুথ কারেন্সি আরো কমতে থাকল।
ট্রুথ ব্যাপারটা এরকমই। এতদিন পর্যন্ত বিএনপি জামাত নির্বিশেষে ক্ষমতায় সায়েরের রিভিল করা (এবং সম্ভবত তাসনীম খলিলেরও) একটা গ্রুপের নাম নিয়ে ডেমনাইজ করত ও তাদেরকে প্রতিরোধের কথা বলত। এইবার, যখন নিজ নিজ পছন্দ ও আইডিওলজির লোকেরা আসল, অন্তত দুজনের ব্যাপারে দেখলাম অনেকের বেশ আপত্তি, একজন উপদেষ্টা ফাউজুল কবির, আর একজন নজরুল ইন্সটিটিউটের লতিফুল ইসলাম শিবলী। এমন কি কিছু পোস্ট এরকমও দেখলাম, তার প্রচারিত লিস্টের সবাই ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী, ফলে এই প্রচারণারে তারা সন্দেহ করতে চায়। ফলে, তথ্য ব্যাপারটা এরকমই। আপনার পছন্দের 'সত্যে'র কাছে দায়বদ্ধ।
সায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক নিঃসন্দেহে, কিন্তু তার ব্যাপারে এই অভিযোগ তো আছেই, যে, তিনি একটা নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থার পছন্দের তথ্য রিভিলের দায় নেন। ফলে, সায়ের যখন জুলাই জাগরণের 'হিরো' রিভিল করছিলেন, তাও আপনার পছন্দের 'সত্য' ছিল বইলাই ওহির মর্যাদা পাইছিল। সেই সমযেই এই ওহির শানে নুজুল ও পলিটিকস সম্পর্কে সতর্ক থাকার কথা কইছিলাম। ফলে, সেই তথ্যও ট্রুথের চাইতে, গুরুত্বপূর্ণ হল, কোন কনসেন্ট মেনুফেকচার করতে চায়, তা। এর বাইরে নিউজ বা ট্রুথ বলতে কিছু নেই আসলে। সাযের, এমন কি কোন মিডিয়াও কখনও 'সত্য' বলে না। 'সত্য' মেনুফেকচার করে। কোন 'সত্য'টি ন্যায়ানুগ, কেবল তা আপনারে খুঁজে নিতে হয়।
/ গত বছর এই দিনে লেখা।
No comments yet. Be the first!