—বাবায়ে কওম—
উপমহাদেশের যে 'জাতির পিতা', বা উর্দুতে 'বাবায়ে কওম' ধারণা, তা বেশ প্রবলেমেটিক। এইটা ঠিক ফাউন্ডিং ফাদার থেকেও সুপারনেচারাল কিছু, হাসিনার পিতা শেখ মুজিব ও তার পুত্রি হাসিনাদের উদযাপন দেইখাও বুঝবেন। মজার ব্যাপার হল, সুফিয়া কামালরা কায়েদে আজম নিয়া উচ্ছ্বসিত কবিতা লিখতে সমস্যা মনে করেন নাই কখনো, তবে, বাবায়ে কওম, মানে জাতির আব্বা নিয়া লিখছেন কিনা মনে করতে পারছি না। অবশ্যই, সুফিয়া কামাল ছাড়া আরো অনেকেই লিখেছেন, এখন যেমন, মুজিব নিয়া লেখা কবিতার শেষ নেই।
তা সে যেভাবেই লিখুক না কেন, আমার কাছে, গান্ধি নেহেরু সবার থেকে বড় ঘটনা ইতিহাসের জিন্নাহ, যিনি মুসলমানের আত্মপরিচয়ের আন্দোলন তৈরী করেছিলেন সাম্প্রদায়িক ব্রাহ্মণদের বিপরীতে, ইতিহাসের করুণ মুহূর্তে। এদেশের কৃষক শ্রমিক গরিব মুসলমানের আন্দোলন ছিল এইটা, যার সবচেযে জনপ্রিয় শ্লোগান ছিল, হাত মে বিড়ি, মু মে পান / লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান। সমস্যা হ়ল, ভাষা প্রশ্ন ও অন্যান্য ইস্যুতে জিন্নাহ উদার হতে পারেন নাই।
তারপরে জিন্নাহর মৃত্যুর বহু বছর পরও, জিন্নাহর সেই পাকিস্তান একটা কার্যকর সংবিধান এডপ্ট করতে পারে নাই, একের পর এক সামরিক ও স্বৈরশাসকের অধীনে চলতে লাগল দেশ। এবং ৭০ এ এই সংবিধানসভার নির্বাচনেই মুজিবের বিজয় হল। কিন্তু তাদেরও ক্ষমতাগ্রহণ করতে দেওয়া হল না, ফলে আবার আমাদের কৃষক শ্রমিক ও গরিব মুসলমানদেরে নামতে হল হাত মে বিড়ি, মু মে পান নিয়া, নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য। মুজিব পাকিস্তানে আত্মসমর্পন করলেন এবং আওয়ামীলীগ নেতারা ভারতে। কিন্তু আমরা যুদ্ধ করেই স্বাধীন হলাম। আমার আগ্রহ হল, 'কায়েদে আজম', মানে মহান নেতা জিন্নাহ পাকিস্তানের এইসব পরের ইতিহাস কীভাবে সামাল দিতেন?
/ অক্টোবর, ২০২৪
No comments yet. Be the first!