মহামারীর সময়ে লিখছিলাম। পড়তে পারেন। এখন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর, তাদের ক্ষমতাহীন অবস্থার মৃত্যুগুলোরে নিয়াও ভাবতে পারেন।—
ক্ষমতাসীনদের মৃত্যু
আওয়ামীলীগ নেতারাও, আর দশটি সাধারণ মানুষের মতই, মহামারীতে মরছেন, এইটা ভয়ঙ্কর। এই ঘটনায় মানুষের কিছু প্রতিক্রিয়া হতেছে, এইটারে সমাজ ও রাজনীতিবিজ্ঞানের জায়গা থেকে পড়া ভাল। আমার ধারণা, পনের বছর ধরে রাষ্ট্রের উপরে চেপে বসে থাকা দল আওয়ামীলীগের সবচেয়ে ‘ভাল মানুষ’ নেতাটির মৃত্যুতেও মাসের একটা সূক্ষ্ণ, গুপ্ত অবহেলা বা উল্লাস থাকা সম্ভব। কারণ, মানুষ প্রধানত অকৃতজ্ঞ স্বভাবের হয়। ‘খারাপ নাসিম’ আর ‘ভাল ধর্মমন্ত্রী’ বা ভাইসভার্সা, এরকম কোন ব্যাপার না।
সুতরাং মৃত্যুগুলোকে বরং গোপন করা ভাল।
দেখাতে হবে, আওয়ামী লীগ নেতারা অজেয়, ‘করোনার চেয়ে শক্তিশালী’। লাশগুলো হিমাগারে রাইখা দিয়ে করোনার দিনগুলো শেষের অপেক্ষা করতে হবে। সেটি কয়েক বছর থেকে কয়েক যুগ হতে পারে।
এর ভেতরে কেয়ামত আসলে তো ভাল, যদি না আসে, ইনফরমেশন ও সোশাল মিডিয়া কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে মৃত্যুর খবর কেউ জানলেও বলার সাহস না করে।
বেঁচে থাকা অবস্থায়ই কিছু স্টুডিও ভিডিও রেকর্ড কইরা রাখতে হবে, ওসামা বিন লাদেনের মত। কখনো পেছনে স্মৃতিসৌধের ভিডিও, কখনো বঙ্গবন্ধুর মাজার। যা কিছুদিন পরপর ছাড়া হবে, বিভিন্ন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে।
সবশেষে, করোনার দিনগুলো শেষ হবার পরে, শেখ হাসিনা প্রয়োজনে নতুন মন্ত্রীসভা ঘোষণা কইরা তাদের নেতৃত্বেই মরা মন্ত্রীদের কফিনগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করবেন।
যদি প্রধানমন্ত্রী বাঁইচা থাকেন ততদিন। মানুষের ভয়রে ধইরা রাখতে হবে। তবেই তো শাসন টিকবে। মরনশীল, ভঙ্গুর শাসকরে কে ভয় পায়?
জুন ১৪, ২০২০
No comments yet. Be the first!