unSocial

সংবিধানের যে 'সংস্কার' হয় না, রহিত, সংশোধন বা বাতিল মাত্র হয়, সালাহউদ্দিন আহমদ, গ্রামার ও আইনের কড়া ছাত্র হিশেবে এইখানে তেমন ভুল কিছু বলেন নাই। আমাদের আইন ও জুরিস্প্রুডেন্সের ধারণাগুলো, সর্বোচ্চ, মুখস্তচর্চা হিশেবে সামনে আসে, এই লিমিটের জায়গা থেকে, সালাহউদ্দিন আহমদের মুখস্ত অবস্থানকে আমি পড়তে পারি। তবে, মিস্টার আহমেদ সংবিধানের আর একটা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা বলেন নাই, হয়তো ইচ্ছে করেই। সেটি হল, নয়া সংবিধান গ্রহণের মুহূর্ত। সেটি একটা রাষ্ট্রের দার্শনিক মুহূর্ত। উনি ভাবতে পারেন না হয়ত এই দুর্লভ মুহূর্তটারে। কারণ, এই দুর্লভ মুহূর্ত সব সময় আসে না। শবে কদরের মত, তারে আপনি খুঁজে নিতে পারবেন কেবল, বেজোড় রাতগুলোতে। জনকনসেন্ট ও অভ্যুত্থানের স্ফুরণের মুহূর্তগুলোতে। যে মুহূর্তে রাষ্ট্রে একসাথে থাকার বিষয়ে আমাদের সোশাল কন্ট্রাক্টগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে। মানুষেরা সব ভুলে একত্রিত হয়। এই মুহূর্ত থিকাই নয়া সংবিধান গ্রহণের মোমেন্টাম তৈরী হয়।

উনিশ শ একাত্তর সালে আমাদের গণমুক্তিযুদ্ধ ছিল সেরকম একটা মুহূর্ত। জুলাই জন-অভ্যুত্থানও, এরকম একটা দার্শনিক মুহূর্ত, ফলে রাষ্ট্রে আপনার মালিকানা রিক্লেইম করার মুহূর্ত হাজির হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পরপর, সেই সময় আমি তিনটা মূল পয়েন্ট আলোচনা করেছিলাম, একটি লেখায়। এক. জুলাই জনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উপরে জনগনের হারানো মালিকানা রিক্লেইম করার মুহূর্ত হাজির হয়েছে। এর উপায় হল, নতুন সংবিধান। দুই. বিদ্যমান সংবিধান ঐতিহাসিক স্বৈরাচারগুলো ও হাসিনার গুলির বিপরীতে জনগণের পক্ষে এথিকাল অথরিটি হয়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, এথিকাল অথরিটি হারবয়েছে। ফলে, নতুন সংবিধান লাগবে। তিন. এই সংবিধান, নিজের রিজিড চরিত্রের কারণেই আর সংশোধনযোগ্য না। সংবিধান অনুযায়ীই, আপনি সংশোধনের চিন্তা করলেও মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করবেন। ফলে, নতুন সংবিধান লাগবে। এই আলাপ নিয়ে আমি সেই সময় কিছু সেমিনার ও লেখা লিখেছিলাম, পরে, কিছু সংকলনে, এবং তারো আগে, বা পরে, মধ্যবর্তি বেঞ্চটাতে বহিতে মুদ্রিত হয়েছে।

তো, এই নতুন সংবিধান, স্বাভাবিকভাবেই, কোন নির্বাচিত সংসদের এখতিয়ার নয়। আবার, কোন নির্বাচিত সংসদ এই রিজিড সংবিধান সংশোধনেরও অধিকার রাখে না, এইটা সংবিধানই বলছে। এর এখতিয়ার, ঐতিহাসিকভাবে, একমাত্র কোন অভ্যুত্থানের সরকার, নির্বাচিত গণপরিষদ, বা গণভোট থিকা উঠে আসা পরিষদেরই থাকা সম্ভব। কিন্তু, সেই সময়, দেখা গেল, বড় দল বিএনপি নির্বাচিত সরকারের হাতে সংবিধান প্রশ্ন ছেড়ে দিতে চাইল, আর, আমার অত্যন্ত পছন্দের ব্যক্তি হাসনাত কাইয়ুমদের দল রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলন, যারা জন্মের পর থিকা নতুন সংবিধান লইয়া পাঠচক্র ও তৎপরতা ইত্যাদি করেছেন, তারাও, অভ্যুত্থানের পরপর বিএনপির জেশ্চারের সাথে মিলিয়ে কণ্ঠ ছোট করে কইতে লাগলেন, এখন নতুন সংবিধানের মোমেন্টাম নয়, উনাদের লাগবে, সংস্কার। হাহা, মানে, বিএনপির সেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ, যেইটা তাদের একত্রিশ দফার অংশ ছিল। এই হল ইতিবৃত্ত।

তো, এই ইতিবৃত্তের পরের ঘটনা কী? সংবিধান সংস্কার পরিষদ তো অপরিচিত আইডিয়া, এই অপিরিচিত আইডিয়ার বৈধতা ও বাধ্যবাধকতা কই থিকা আসে? এরকম একটি কারণ দেখিয়েই, বিএনপি, এখন, গণভোট হয়ে যাবার পরে, নিজেদের দাবীকৃত এই সংস্কার পরিষদের বিরুদ্ধে দাঁড়াল, কোন রকম একসকিউজ ছাড়াই। আমি, মনে করি, এর বৈধতা ও বাধ্যবাধকতা, কোনটাই পরিচিত অপিরিচিত আইডিয়াতে না, বিএনপির একত্রিশ দফাতে, বা হাসনাত কাইয়ুমের ইনভেনশনে না। মূলত, গণভোটের রায়ে। এই সোর্স অব ট্রুথ লঙ্ঘন করতে, সালাহ উদ্দিন আহমদের, মূলত, আর একটি গণভোট লাগবে। বা, আর একটি কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলির নির্বাচন লাগবে। এইখানে সালাহউদ্দিন আহমদের বাকপটুতায় মুগ্ধ হবার সুযোগ নেই তেমন কইরা। এর কোনটারে বাদ দিয়ে, বিএনপি যেভাবে আগাতে চায়, তা রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য খারাপ ঘটনা হবে।

Show more
April 6, 2026
14 readers till now, 0 new visits today.

পঞ্চম সংশোধনী ও জিয়াউর রহমানকে যে আদালত অবৈধ বলেছিল, সেই আদালত গণভোটকেও অবৈধ কইতেই পারে। পঞ্চম সংশোধনী ও জিয়ারে অবৈধ কওয়ায় যাদের সমস্যা নেই, গণভোট অধ্যাদেশকেও অবৈধ মানতে তাদের সমস্যা নেই। তবে, আমি মনে করি, গণভোটরে অবৈধ কওয়া জুরসিপ্রুডেন্স সাপোর্ট করে না। আর একটা সমস্যা হল, কোন আদালতই, পঞ্চম সংশোধনী না হলে যে চতুর্থ সংশোধনীর বাকশালে থাইকা যাইত দেশ, তার সুরাহা করে না, তারে নিয়া চুপ থাকারেই নিয়তি ঠিক করে দিয়েছে। ফলে, জুলাই সনদ বাদ দিন, একটা পাথরের মত রিজিড সংবিধান রাইখা হাসিনার পতন পরবর্তি যে পরিস্থিতি, তারে উৎরানোর পথ কী, তারে নিয়া সুমটো কথা কইবে না আদালত। এমন কি এই সংবিধানের এই বাইবেল ও একাট্টা মুজিবিকরণের টাইমেও, হাইকোর্টের সুমটোর নজির নেই। যেহেতু হাইকোর্ট কথা কইবে না, তারে নিয়া কথা কওয়ার দায়িত্ব জনগনের। গণভোট হল জনগনের এই কথা কওয়ার ব্যাপারটাই। ফলে, এইখানে হাইকোর্টের এখতিয়ার নেই, বরং হাইকোর্টের কর্তব্য হল, গণভোটে প্রকাশিত জনগনের কনসেন্টরে প্রটেক্ট করা।

Show more
March 3, 2026
15 readers till now, 0 new visits today.

একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় বলি। ১৯৯১ সালে তৃতীয় গণভোটের আগে বাংলাদেশে গণভোট আইন হয় নাই। জিয়া ও এরশাদ উভয়ের আস্থা যাচাই ভোট প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে হয়েছে। ঠিক যেভাবে এখনকারটা হল। তো, আমার মতে, গণভোট অর্ডিনেন্স নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন হচ্ছে, তার ভিত্তিতে হাইকোর্ট পূর্ববর্তি গণভোটগুলোরেও, যেমন, জিয়া ও এরশাদেরটারেও অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। তবে, আমার মতে, তৃতীয়টারেও করা সম্ভব। কীভাবে বলি।

এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন এরশাদ। তো, এরপরের নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ২ জুলাই সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল ১৯৯১ উত্থাপন করে। এই সংশোধনীতে গণভোট এর বিধান প্রস্তাব করা হয়, যা সংসদে সংসদে বিপুল ভোটে গৃহীত হয়। এরপরে, যেহেতু সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন, মানে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে, এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেবে কিনা, এই প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

এখানে তিনটা বিষয় খেয়াল করার মত। এক. সংসদের উপরেও সুপেরিয়র হিশেবে বিবেচিত হল গণভোট। এই সুপেরিয়রিটি কেউ চ্যালেঞ্জ করে নাই। দুই. রাষ্ট্রপতিও কনসেন্ট দেবেন কিনা, তা গণভোটের রায় দিয়ে নির্ধারিত হচ্ছে। তিন. গণভোটের আইন পাশ হবার আগেই আগের দুইটা গণভোট, এবং তৃতীয় গণভোটটিও, সংসদের আইনে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রদান, মানে পাশ হবার আগেই অনুষ্ঠিত হয়। ফলে, দ্বাদশ সংশোধনী ও গণভোটেরও আইনত ভিত্তি হল একমাত্র গণভোট। খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে যে এই গণভোটের বিধান যুক্ত হল সংবিধানে, সেই বিধান ও দ্বাদশ সংশোধনীও, কেবল গণভোটের রায়ের অনুসারেই বৈধ। নাহলে অবৈধ হতে বাধ্য।

আরো বলি, এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ‘তিন জোটের রূপরেখা’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে গৃহীত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার পর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সম্মতি দেবেন কি না, সে প্রশ্নে দেশব্যাপী গণভোট আয়োজনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন, এই এরশাদের পতনের পরের ইভেন্টরে, শেখ হাসিনার পতনের পর পড়তে পারেন। তিন জোটের রূপরেখারে, জুলাই সনদ আকারে পড়তে পারেন। হাসিনার পতনের পরে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তো, এইসব মিলায়ে পড়তে পারলে, বাংলাদেশে সংবিধান ও আইন ব্যবসায়িরা, এইখান থিকা আবার আমার এই পোস্ট পড়া শুরু করতে পারেন। বা হেফজও করতে পারেন।

Show more
March 3, 2026
15 readers till now, 0 new visits today.

আমরা কোন বিএনপিকে পড়ছি, বা পড়তে বাধ্য হচ্ছি, এইটা ভাবছিলাম। বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপগুলো ডিফাইন করে দিচ্ছে পুরনো-এসটাবলিশমেন্টের সুবিধাপ্রাপ্ত মিডিয়াগুলো, এমন কি বিএনপির নিজের ভাবার আগেই। যেমন, সালাহ উদ্দিন আহমদের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী বুঝলাম, উনি জুলাইয়ে পুলিশ হত্যাকান্ডের তদন্ত নিয়ে আগে কোন কথা বলেন নাই, কিন্তু পত্রিকাগুলোর একটা পোস্টারকার্ড প্রচারিত হল এই ধোঁয়া তুলে। গণভোট, বা আরো অনেক কিছু নিয়াই বিএনপির কিছু কনফিউজিং অবস্থাও আছে, যার কারণে মিডিয়াগুলো এই সুবিধা পাচ্ছে। যেমন, বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের একাধিক ভার্সন পাওয়া যায়। একবার আসল, পুনঃতদন্ত হবে। দ্বিতীয়বার, আগের তদন্ত বহাল থাকবে। তৃতীয়বার, পুনঃতদন্ত হবে। আমি পোস্টারকার্ডগুলোর কথা বলছি। নিউজগুলো পইড়া দেখা হয় নাই। তো, এই কনফিউজড অবস্থাগুলো যা বলছে, তা হলে, বিএনপির তেমন কইরা প্রস্তুতি নেই। বা, বিএনপিরেই কনফিউজড করে তুলতে চাচ্ছে, বা ডিফাইন করে দিচ্ছে মিডিয়াগুলো, ফলে, আমরাও বিভ্রান্ত হইতেছি। ফলে, আমার মত হল, বিএনপিরে সন্দেহ করার আগে, এই নানান রঙের ট্রুথ উৎপাদনকারী মিডিয়াগুলোরে সন্দেহ কইরেন।

Show more
March 2, 2026
15 readers till now, 0 new visits today.

গণভোটের ম্যান্ডেট যদি ইগনোর করা হয়, কনসিকুয়েন্স কী হতে পারে? এক গুরুজন জিগেশ করতেছিলেন, পরশুদিন। দেখলাম, এই একই প্রশ্ন, প্রচুর বিএনপি সমর্থক, যেহেতু এখন দুই তৃতীয়াংশ, ক্ষমতার সুরে জিগেশ করছেন বিভিন্ন জাগায়: গণভোট আমরা মানবো না, কী করবেন? তো, গুরুজনটিরে আমি কইলাম, এই না মানার কোন দৈব কনসিকুয়েন্স নেই আসলে। ধরুন, গণভোট মানলেন না, ফলে একটা বজ্রপাত হবে আর কাফেররা মারা পড়বেন। শুধু গণভোট না, জাতীয় নির্বাচনের ম্যান্ডেটরেও ইগনোর করা যেতে পারে। নিশ্চিত থাকেন, না মানলে, বজ্রপাত বা বন্যা হবে না তৎক্ষনাৎ। এর সাধারণ কোন কনসিকুয়েন্স নেই। শুধু মনে রাইখেন, এইটা হল ক্ষমতার প্রশ্ন। যদি বিএনপির হাতে পর্যাপ্ত গুলি থাকে শেখ হাসিনার মত, আর, জনম্যান্ডেটে ইগনোর করার ক্ষমতা আছে মনে করে, তাহলে ইগনোর করতেই পারে। ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের রহমানের ক্ষেত্রে এরকম মনে করেছিল, ফলে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে আমাদের গণমুক্তিযুদ্ধ দাঁড়িয়ে গেল, এবং একটা বাংলাদেশ হল। এইটা হল, নিজের হেডমরে ঠাহর করতে পারার ব্যাপার, যে, আপনি ঠিক কোন ক্ষমতা ধারণ কইরা নিজের বৈধতা নির্মাণ করবেন? ম্যান্ডেট, মানে বৈধতার একটা চেহারা তো পেশি-ক্ষমতা। আর একটা চেহারা হল, কনসেন্ট, মানে রায়। বিএনপি যে পাতের ভাত পছন্দ করবে, সেই পাতেই তার লগ্ন হবে। শুভ বিএনপি।

Show more
February 18, 2026
16 readers till now, 0 new visits today.

তারেক রহমানকে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাতে চাই। তবে, গণভোট নিয়া তারেক রহমানের দলের লুকোছাপা, গোপন ইশারা ও গুপ্ত প্রচারণার রাজনীতি এই ঐতিহাসিক দিনের সবচেয়ে বাজে ও নিকৃষ্ট ঘটনা হিশেবে আমার নজরে পড়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হবার কারণে অভ্যুত্থানের কোন অর্জনকেই তারা পুরোপুরি নিজের করে নিতে পারে নাই, স্রেফ একটা আপাত পুলসিরাত হিশেবে নিয়েছে। গণভোটের হাঁ-রেও তাদেরে বহু কষ্টে মেনে নিতে হবে এইবার, যদি হাঁ বিজয়ী হয়, কিন্তু, নিজেদের অর্জন বইলা দাবী করতে পারবে না তেমন কইরা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দ্বিধাগ্রস্ত ও মুখচোরা রাজনীতির ঘটনা দলটির রাজনীতি নিয়া আমাদের পুরনো বিবেচনা ও হোপগুলোকে বিপদে ফেলবে।

Show more
February 12, 2026
16 readers till now, 0 new visits today.

গণভোটের ফলাফল কেমন হচ্ছে? গ্রামে, আমাদের কেন্দ্রে ধানের শীষের ভোটের কাছাকাছি না ভোট। বাকি কেন্দ্র বা পুরো আসনের ফলাফল জানি না। অন্যান্য আসনগুলোর ফলাফল কেমন?

February 12, 2026
15 readers till now, 0 new visits today.

একটু আগে তারেক রহমান কল দিলেন। কল পেয়ে খুশি হলাম। তখন আমি নাহিদ ইসলামের বক্তৃতা শুনতেছিলাম। নাহিদদের কথা শুনতে একটা আনন্দ টের পাই আমি, এখনো, চারপাশে সবার মধ্যে। তবে, শুনতে শুনতে নাহিদরে বিতার্কিক মনে হইতেছিল, কম রাজনীতিক। রাজপথের নাহিদ আর টিভি বক্সের নাহিদের একটা পার্থক্য মনে হল। সম্ভবত বিটিভর চরিত্রের কারণে। আর, তারেক রহমানের কল পেয়ে হাসতেছিলাম। তারেক রহমানের প্রতি আমার একটা পুরনো পছন্দের ঘটনা আছে। এইটা, যারা আমার সতের আঠার বছর আগের লেখাপত্র ফলো করতেন, তাদের খেয়াল থাকবার কথা। পাঁচ আগস্টের পরে এই পছন্দ ও পক্ষপাত অল্প কমেছে, বলাই বাহুল্য। ফোনে তারেকের ভাষা, এখনও রেকর্ডেড ভিডিও কনফারেন্সের মত। প্রথমে, বোধ হয় সালাম দিলেন। মনে পড়ছে না। তারপরে ধানের শীষে ভোট চাইলেন। পুরনো হাসিনা এরকম কল দিতেন যখন তখন। গ্রামে আমি যে এলাকার ভোটার, এই এলাকায় কেবল পপুলার দুইটা প্রতীক আছে বইলা জেনেছি। ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লা। দুর্ভাগ্যক্রমে, তরুণদের শাপলাকলি নেই। অন্য কোন প্রতীক চিনি না, আর এই প্রার্থীগুলোকেও চিনি না। ফলে, সাধারণ ভোটে আমার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। গণভোটে আমি হাঁ এর পক্ষে প্রচুর কথা বলি আত্মীয় স্বজনের মধ্যে, যারা প্রায় সবাই আওয়ামীলীগ বিএনপি এবং অল্প জামাত। বলি যে, আপনার পছন্দের যে কোন দলরেই ভোট দেবেন, কিন্তু এই পছন্দের দলগুলো যাতে ক্ষমতায় আইসা ডাকাত হয়ে উঠতে না পারে, তার জন্য হাঁ-তে ভোট দেবেন। তাদের মধ্যে যারা আওয়ামীলীগ পছন্দ, তাদেরকেও বলি যে, হাঁ ভোট সবচেয়ে বেশি জরুরি আপনাদের জন্য। কারণ, আপনারা তো বহুদিন ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনায় নেই। যাতে পরের সরকার আপনাদের উপরে হাসিনার মত স্বৈরাচারি না হয়ে ওঠে, তার নিশ্চয়তা তৈরী করবে হাঁ ভোট। তারেক রহমানের ব্যাপারে খারাপ লাগল, ফোন দিয়ে শুধু ধানের শীষে ভোট চাইলেন। হাঁ ভোট চাইলেন না। ভাল ব্যাপার হল, এখনো কেবল তারেক রহমানই ভোট চাইলেন। আর কোন কাকপক্ষি, ফোন দূরে থাক, বাস্তবেও ভোট চায় নাই। তবে, ভোট টুটের জন্য না, নাহিদ ইসলাম কিছুদিন আগে দলের ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে ইনভাইট করতে কল দিয়েছিলেন, কোন এক জনসংযোগের ভেতর থিকা। আমি খুশি হয়েছিলাম, দূরত্বের কারণে যাওয়া হয় নাই যদিও। কিন্তু ভোট টুট চাওয়ার ব্যাপারে আমি এখনো পর্যন্ত কোন ব্যক্তিগত ক্যামপেইনের মুখোমুখি হই নাই। এমন কি কোন বিএনপিরও না, জামাতেরও না, এনসিপিরও না। সম্ভবত, আমি রাস্তা ঘাঁটে কম হাঁটি বইলা। নাকি, ভোট টুট নিয়া মানুষের আগ্রহ তেমন কইরা তৈরী হল না এখনো, রাজনৈতিক দলগুলো তৈরী করতে সক্ষম হল না, এরকম?

Show more
February 8, 2026
16 readers till now, 0 new visits today.

ইন্টারেস্টিং ঘটনা খেয়াল করলাম। দ্য পোস্ট নামের পেইজ জামাত আমীর ডাক্তার শফিকের ঝিনাইদহে একটি জনসভার বক্তৃতা লাইভ শেয়ার করছে। এইটা কি কোন নিউজ পোর্টাল? এরা কারা? এর আগে, এদের দুইটা ইভেন্ট চোখে পড়েছে আমার। এক. গণভোটে হাঁ এর কনসিকুয়েন্স নিয়া একটা ভুয়া তথ্যসমৃদ্ধ ভিডিও বানিয়ে ছড়াইছে। যার জন্য পরে কোন ডিসক্লেইমার বা ক্ষমাও চাওয়ার ব্যাপার খেয়াল করি নাই। আপডেট: একজনের কমেন্ট থেকে জানলাম, ক্ষমা চেয়েছে। দুই. গণঅভ্যুত্থানের পরপর বাংলাদেশে পরিচিত বামপন্থিদের একটা দৃশ্যমান ক্ষমতা ও ইতিহাস দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে, যেমন, এক দফার ঘোষক আনু মুহাম্মদ ইত্যাদি। এই পেইজ কি এইবার জামাত অধিকার করে নিল?

Show more
January 26, 2026
15 readers till now, 0 new visits today.

গণভোটে হাঁ এর পক্ষে যাদেরে ব্রান্ড এমবেসেডর করবেন। এক. শহীদ নেসার আলী তিতুমীর ও হাজী শরিয়তুল্লাহসগ ইতিহাসে আমাদের জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের সব শহীদ ও নায়ক। দুই. আমাদের জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও এর শহীদেরা। তিন. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। চার. শহীদ নুর হোসেন ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। পাঁচ. শহীদ দর্জি বিশ্বজিত কুমার। ছয়. শহীদ আবরার ফাহাদ। সাত. জুলাই অভ্যুত্থানের সব পঙ্গু ও শহীদেরা। আট. শহীদ ওসমান হাদি, যার খুনের কখনোই বিচার হবে না।

January 24, 2026
16 readers till now, 0 new visits today.

আজকে বাসায় যে ছেলেটি গ্রাম থিকা আইসা দুধ রোজ দেয়, তারে জিগেশ করলাম, ভোট দেবা? কইল, হু, এইবার ভোটার হইছি। বললাম, কারে দেবা? সে কইল, এখনো ঠিক করি নাই। জিগেশ করলাম, গণভোটে কারে ভোট দেবা বইলা ঠিক করছো? বললো, এইটা কী? আমি কইলাম, এইবার তো ভোট দুইটা দিতে হবে। একটা হাঁ, আর একটা হল ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লা বা আর কিছু। জানো না? সে হা করে তাকিয়ে থাকল। তার অবস্থা দেইখা আমার হঠাৎ মনে হল, গণভোট ব্যাপারটা নিয়া যেহেতু দলগদভাবে বা সরকারিভাবে ইফেক্টিভ প্রচারণা নেই, এইটাতে সর্বোচ্চ মেনিপুলেশন হবে। যে কেন্দ্রে যে দল প্রভাবশালী, সেই কেন্দ্রে সেই দল গণভোটের হাঁ না এর দায়িত্ব নিয়া নেবে, বিশেষত গ্রাম, মফস্বল আর বস্তিগুলোতে। এই কারণে, আমার প্রস্তাব হল, গণভোটে কীভাবে ভোট দেবেন, তার জন্য সব ধরনের ভিজুয়াল মিডিয়ায় বড় আকারে হাউটু বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে, প্রতিদিন কয়েকবার করে। আর, গ্রাম আর শহরগুলোতে ঘরে ঘরে একটা টিম যাবে, যারা গণভোটেও যে ভোট দিতে হবে, আর কীভাবে এই ভোট দেবেন, হাতে কলমে তার তরিকা শিখিয়ে দেবে, অনেকটা গ্রামগুলোতে একদা খাবার স্যালাইনের প্রচারণার মত। এইটা সম্ভব?

Show more
January 23, 2026
15 readers till now, 0 new visits today.

আবারো বলছি। গণভোটে সরকারের কর্তব্য হল, সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও প্রচার সুবিধা ব্যবহার করে সরকার হাঁ এর পক্ষে ভোট চাইবে এবং এই ভোটে অতি অবশ্যই জিয়াউর রহমানের মতই ৯৮.৯% ভোট হাঁ এর পক্ষে আনার ব্যবস্থা করবে। একই সাথে জাতীয় নির্বাচনে নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থিকে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করবে। কারণ—

গণভোট হল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এবং এর প্রধান এবং একমাত্র পক্ষ অবশ্যই সরকার। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম গণভোটের প্রশ্ন ছিল, 'রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বি, উ এবং তাঁর অনুসৃত নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি আপনার আস্থা আছে কি?'। এই ভোটে ৯৮.৯% হাঁ ভোট পড়েছিল, এবং এই রেজাল্ট তুলে আনার জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্ভব সব প্রচারণা ও উপায় অবলম্বন করেছেন, ইতিহাসে পাবেন। ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে এ বছরের যে গণভোট, এইটারও গন্তব্য হল, সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের উপরে, জুলাই সনদে, মানে গণঅভ্যুত্থানের উপরে জনগনের আস্থাকে হাজির করা। এই গণভোটেরও একমাত্র পক্ষ সরকার। কিন্তু, আমি দেখছি, জুলাই সনদ নিয়া যে গণভোট, এই গণভোটে হাঁ এর পক্ষে সরকারের তেমন প্রচারণা হাজির নেই। কেন? নিজেরে নিয়া কইতে লজ্জা লাগে? লজ্জা লাগলে, জিয়াউর রহমান থিকা শিক্ষা নেন। গণভোট কোন সাধারণ নির্বাচন নয়, এমন কি স্রেফ নির্বাচন কমিশনের ইচ্ছাধীন কোন ঘটনা নয়। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানমতে, এই নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের কোন বিধি ও নিষেধ খাটবে না। ফলে, গণভোটে হাঁ এর পক্ষে সবরকম জনসমাগম ও মিছিল করুন সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। হাঁ এর পক্ষে এগ্রেসিভ প্রচারণা করুন, জিয়াউর রহমানের মত।

Show more
January 22, 2026
31 readers till now, 0 new visits today.

বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা, মির্জা ফখরুল ও নজরুল ইসলাম যে গণভোটে হাঁ এর কথা বললেন, এইটারে তো ওয়েলকাম জানাইলাম। কিন্তু, বিএনপির ছোট ছোট একটিভিস্ট ও বুদ্ধিজীবী দাবীদারদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যে গণভোটে হ্যাঁ শুনলে, বা সরকারের হাঁ প্রচারণায় অস্থির হয়ে উঠছেন, এইটারে আমরা কীভাবে পড়বো? বিএনপির অন্য কোন সিদ্ধান্ত, এমন কি পথেঘাটের চান্দাবাজির সিন্ডিক্যাট নিয়াও তাদের এমন অসন্তুষ্টি ও অনাস্থা দেখা যায় না, বরং লড়াই করেই তার পক্ষে থাকতে চান। এই কারণে, আমি একদা কইছিলাম, বিএনপিরে কারা পরামর্শ দেয়, আল্লাহ মালুম। সবাই তো স্রেফ হাইকমান্ডের পরামর্শ নেয়, দেখি। আমার পোস্টে তাদের একটিভিস্ট দাবীদাররা কইতেছেন দেখলাম, স্বয়ং তারেক রহমান নির্দেশ দিলেও আমরা না এর পক্ষে থাকব, ভোট তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত। হা হা। তো, হঠাৎ এদের এই স্বাধীন সিদ্ধান্ত কই থিকা আসে? কোন গুপ্ত কৌশলের ব্যাপার কি? গণভোট নিয়া তো মফস্বল ও গ্রামে মানুষের সচেতনতা কম। তারা চিনবে প্রতীক, যেমন ধানের শীষ, বা দাঁড়িপাল্লা, বা অধুনা শাপলাকলি। এর বাইরে যে একটা ভোট হইতেছে, এইটারে নিয়া তারা ভাল কোন ধারণা পাইতেছেন মনে হয় না। এই অবস্থারই সুযোগ নিচ্ছে এই গুপ্ত কৌশল বা না ভোট এর প্রচারকারীগণ। যদি দলীয় সিদ্ধান্ত হাঁ এর পক্ষে হয়, এই 'না' এর প্রচারকারীদের ব্যাপারেও দলীয় সিদ্ধান্ত আসার কথা। আসবে কি?

Show more
January 13, 2026
17 readers till now, 0 new visits today.

এনসিপি জামাত জোটের যে একাট্টা জুলাই এর পক্ষের শক্তি হিশেবে দাঁড়ানোর ঘটনা, তারে ভেঙে দেওয়ার কথা কইছিলাম বিএনপিকে, গণভোটে হাঁ এর পক্ষে বড় ক্যামপেইন তৈরীর মাধ্যমে। আজকে, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান স্পষ্ট কইরা গণভোটে ‘হ্যা’ এর পক্ষে কইলেন, সাংবাদিকদের কাছে। এইটা একটা ভাল শুরুর ঘটনা। আশা করছি, বিএনপি এই নিয়া বড় ক্যামপেইন শুরু করবে দ্রুত এবং গণভোটে হাঁ এর মাঠ দখল করবে। শুরু করবে কি?

January 13, 2026
20 readers till now, 0 new visits today.

গণভোট হল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এবং এর প্রধান এবং একমাত্র পক্ষ অবশ্যই সরকার। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম গণভোটের প্রশ্ন ছিল, 'রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বি, উ এবং তাঁর অনুসৃত নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি আপনার আস্থা আছে কি?'। এই ভোটে ৯৮.৯% হাঁ ভোট পড়েছিল, এবং এই রেজাল্ট তুলে আনার জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্ভব সব প্রচারণা ও উপায় অবলম্বন করেছেন, ইতিহাসে পাবেন। ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে এ বছরের যে গণভোট, এইটারও গন্তব্য হল, সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের উপরে, জুলাই সনদে, মানে গণঅভ্যুত্থানের উপরে জনগনের আস্থাকে হাজির করা। এই গণভোটেরও একমাত্র পক্ষ সরকার। কিন্তু, আমি দেখছি, জুলাই সনদ নিয়া যে গণভোট, এই গণভোটে হাঁ এর পক্ষে সরকারের তেমন প্রচারণা হাজির নেই। কেন? নিজেরে নিয়া কইতে লজ্জা লাগে? লজ্জা লাগলে, জিয়াউর রহমান থিকা শিক্ষা নেন। গণভোট কোন সাধারণ নির্বাচন নয়, এমন কি স্রেফ নির্বাচন কমিশনের ইচ্ছাধীন কোন ঘটনা নয়। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানমতে, এই নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের কোন বিধি ও নিষেধ খাটবে না। ফলে, গণভোটে হাঁ এর পক্ষে সবরকম জনসমাগম ও মিছিল করুন সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। যদি এই সমাগমগুলোতে নির্বাচন কমিশন বাধা দেয়, তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করুন। কিন্তু হাঁ এর পক্ষে এগ্রেসিভ প্রচারণা করুন, জিয়াউর রহমানের মত।

Show more
January 12, 2026
32 readers till now, 0 new visits today.

আমি মনে করি, আলাদা কইরা স্রেফ গণভোটে হাঁ এর পক্ষে বিএনপির একটা জাতীয় মহাসমাবেশ ডাকা দরকার। এই সমাবেশ করার পরে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এনসিপি জামাত জোটের যে একাট্টা জুলাই এর পক্ষের শক্তি হিশেবে দাঁড়ানোর ঘটনা, তারে ভেঙে দেওয়া যাবে। যদি তারে ভেঙে দেওয়া না যায়, এবং বিএনপির ভেতরে না ভোটের পক্ষে যে গুপ্ত প্রচারণা চলছে, তা যদি সফল হয়, দেশ একটা গৃহযুদ্ধের দিকেই যাবে। আমি আশা করছি, তারেক রহমান আমার এই বক্তব্য পড়বেন এবং গণভোটের পক্ষে একটা মহাসমাবেশের আয়োজন করবেন। আর, সরকারের প্রতি পরামর্শ, সরকারের পক্ষ থেকে একটা সর্বদলীয় মহাসমাবেশের আয়োজনও করা যেতে পারে, যেহেতু সরকারও এই গণভোটের একটি পক্ষ।

Show more
January 11, 2026
14 readers till now, 0 new visits today.
Rifat Hasan · 10 months ago

আনসোশালে অল্প লিখেছিলাম। এখানে আবার উসকে দিই। গণভোট আর জুলাই সনদ নিয়া।

গণভোটের চার দফা, আর জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সাথে গণভোট, উভয়ই কিম্ভূত আইডিয়া বলতে হবে। এই আইডিয়ার রূপকাররা জাতীয় নির্বাচন আর গণভোটরে এক ভাইবা বসেছেন, বা আমাদেরকে এক ভাববার প্রস্তাব করছেন। আমার মতে, জাতীয় নির্বাচন এক্সক্লুসিভলি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের ব্যাপার হলেও, গণভোট সুপেরিয়র রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন। একই দিনে নির্বাচন এবং গণভোট ফলত একটা ফাঁদে রূপান্তরিত হতে পারে, যা অবশেষে এক রশিতে দুই ফাঁসির প্রতীকী ধারণারে উসকে দেবে। এইখানে একই সকথে উভয়ের মৃত্যু হতে পারে।

আমার মত হল, ইউনুস এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারলে ভাল। অলরেডি নির্বাচন কমিশন বলেছে, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট চ্যালেঞ্জিং। এই একই দিনে দুই নির্বাচনের ধারণা কোন মেধাবীর ( কোটা না মেধা? হা হা।) মাথা থেকে আসছে জানি না, কিন্তু যে মহামুনিই ভাবুন, নির্বাচন কমিশনের এই কমেন্টরেও অন্তত উনারা আমলে নিতে পারেন, আমাদের কথা না নিন।

দুইটা বিষয়ে স্পষ্ট থাকা দরকার।

এক. গণভোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। দেশ কারা পরিচালনা করবে, সেই শাসন ক্ষমতার ম্যান্ডেট ধরনের কোন কল্পনা নয় এইটা, সালাহউদ্দিন আহমদরা মিষ্টি মধুর স্বরে যেটি বলে থাকেন প্রায়ই। বরং গণভোটের গন্তব্য হল, যারাই দেশ চালানোর জন্য নির্বাচিত হবেন, তারা কীভাবে চালাতে বাধ্য থাকিবেন, লঙ্ঘন না করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন, তারে লইয়া ভাবা। এমন কি সংবিধান কেমন হবে, তারে লইয়াও। ফলে, নির্বাচন হল মাইনা চলার ব্যাপার, আর গণভোট ডিকটেইট করার ব্যাপার। এইটা স্বয়ং নির্বাচিতদের প্রতি যে মেন্ডেট কল্পনা করা হয়, সেই মেন্ডেটেরও লেজিটিমেসির প্রশ্ন ঠিকঠাক করবে।

এইটুক যদি বুঝেন, তাহলে এইটাও বুঝবেন, এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তরে নির্বাচন কমিশনের ফাঁদে রাইখা সামনে আগানো মানে, গণভোট, সাথে জুলাই সনদেরও একটা অনিশ্চিত গন্তব্য ঠিক কইরা দেওয়ার ফন্দি, যা, আপাত একটা বিপদই। এর আঁচ কিছুটা বুঝবেন, যখন দেখবেন, বুদ্ধিজীবীরা এবং পত্রিকাগুলো এখন প্রচুর আলাপ তৈরী করছে, না ভোট জয়ী হলে কী হবে ইত্যাদি। এই আলাপগুলোর সারাংশ হল, না ভোট হইলে বিএনপি বা অন্য কোন দল জুলাই সনদ থিকা স্বাধীন হইয়া যাবে।

হা হা। এইটা একটা মজার প্রেডিকশন বটে।

এই নিয়া প্রথম আলোর এক্সপ্লেইনার পড়লাম। ফাহাম আব্দুস সালামের লেখা পাঠালেন এক বন্ধু। জিয়া হাসানের লেখা পাঠালেন একজন। সবার এক্সপ্লেইনার এক। 'না’ ভোট জয়ী হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল জুলাই সনদ মেনে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না। পরবর্তী সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইচ্ছার ওপরই সংস্কার নির্ভর করবে। মানে, সবাই একটা কু নিয়া বইসা আছে। এই কু এর পেছনে কে থাকবে, তাও ঠিক হয়ে গেছে মোটামুটি। বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুক বিহানবেলাতেই সব ঠিকঠাক কইরা ঘোষণা দিছেন। উনি সমর্থকদের না ভোটের আহবান জানাইছেন।

আপাতত, এহ ইতিবৃত্ত।

এই ইতিবৃত্তের উপসংহার হল, নির্বাচনে জিততে চাওয়া দলগুলো ও ওদের বুদ্ধিজীবীরা এই কু-এর উপরেই সওয়ার হইতে চান। এই কু-ভাবনাটা তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন ইউনুস সাহেব, গণভোট এবং নির্বাচন একই দিনে ঘোষনা কইরা। এই সওয়ারের মতলবগুলোতে যেমন ইচ্ছা বাপের দেশের শাসনের বিরুদ্ধে যে জনকনসেনসাস এর উপরে ভিত্তি কইরা স্বৈরাচারের পতন হল, তার উপরে দাঁড়াবার কোন আগ্রহ নেই। শুধু ক্ষমতা দখলের বদ মতলব আছে। কিন্তু তাদের এই ভাবনা যে ভুল, তারে নিয়া আলাপ করবো আর একদিন, যদি সুযোগ হয়।

দ্বিতীয়ত, গণভোটের চার দফা, এইটা কেমন আইডিয়া? এইটা, আমার মতে, মূলতই গণভোটকে ব্যর্থ করার আইডিয়া। এজনগণ কর্তৃক একটা সফল গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারের পতনের পরে জনগনের হাতে বাচ্চাদের বাল্যশিক্ষা ধরিয়ে দেওয়ার মত ব্যাপার হল এইটা।

মূলত, গণভোট হতে হবে এক দফায়। আর তার নাম জুলাই সনদ। জুলাই সনদে কী আছে, তা তো ঐতিহাসিকভাবে রিজলভড হয়ে আছেই। তারে আবার গণভোটের ব্যালটে ভেঙে বুঝিয়ে দেওয়ার মানে হল, মানুষ যেটি বুঝে, গণভোট মানে যেমন ইচ্ছা বাপ বেটির শাসন আর চলবে না, এইটার যে পতন হল, তার পক্ষে ভোট, এইটারে হুদাই জটিল হিশেবে উপস্থাপন।

এর ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণকে জিগেশ করছেন, আপনারা কি গণভোট, সনদ এসব বোঝেন? হা হা। জনগণ যে এই ভাষায় এই সব বোঝেন না, তা অবশ্য সত্যিই। কিন্তু জনগন যে ভাষায় বুঝেন, কথা বলেন, মির্জা ফখরুল কি সেই ভাষা হাজির করতে চান, নাকি জনইচ্ছেরেই ব্যর্থ করতে বলেন? ফখরুল প্রমুখ রাজনৈতিক নেতারা এই সত্য এমনভাবে বলছেন, আপনার মনে হবে, এই না বুঝার ঘটনার কারণেই অন্তত গণভোট আর জুলাই সনদ বন্ধ করতে হবে।

ফখরুল তাদেরকে বুঝাচ্ছেন, 'ঘাড়ের ওপর' তাদের না বুঝা 'গণভোট ও সনদ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে'। মির্জা ফখরুল প্রবীণ ও সৌম্য বিএনপি নেতা, নিশ্চয় জ্ঞানীও, উনাদেরে এই প্রশ্ন করা দরকার যে, উনারা কি ফ্যাসিবাদের দিনগুলোতে 'গণঅভ্যুত্থান' বুঝতেন? বুঝাবুঝির প্রশ্ন তোলা তো কিছুটা অভব্যতাই। কিন্তু আমার এই প্রশ্ন ব্যক্তিগত বুঝাবুঝির ব্যাপার না, রাজনৈতিক। হাসিনার দিনগুলোতে উনারা যে গণঅভ্যুত্থান বুঝতেন, আমাদের কাছে তার কোন নজির হাজির নেই এখনো। এই জায়গা থেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সরলোক্তিটা গুরুত্বপূর্ণ। এই সরলোক্তি বলে, এই অবুঝ ও অনিচ্ছুক নেতাদের উপরে গণঅভ্যুত্থানও চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এইটা জুলুম ছিল।

উনারাও কি মনে করেন, জুলুম ছিল?

#রিফাতহাসান

/ একই সাথে #ফেসবুকেও প্রকাশিত।

Show more
November 24, 2025
90 readers till now, 0 new visits today.
Rifat Hasan · 11 months ago

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণকে জিগেশ করছেন, আপনারা কি গণভোট, সনদ এসব বোঝেন? হা হা। জনগণ যে এইসব বোঝেন না, তা অবশ্য সত্যিই। ফলে, ফখরুল তাদেরকে বুঝাচ্ছেন, ঘাড়ের ওপর তাদের না বুঝা গণভোট ও সনদ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মির্জা ফখরুল প্রবীণ ও সৌম্য বিএনপি নেতা, নিশ্চয় জ্ঞানীও, উনাদেরে এই প্রশ্ন করা দরকার যে, উনারা কি ফ্যাসিবাদের দিনগুলোতে 'গণঅভ্যুত্থান' বুঝতেন? বুঝাবুঝির প্রশ্ন তোলা তো কিছুটা অভব্যতাই। কিন্তু আমার এই প্রশ্ন ব্যক্তিগত বুঝাবুঝির ব্যাপার না, রাজনৈতিক। ফ্যাসিবাদের দিনগুলোতে উনারা যে গণঅভ্যুত্থান বুঝতেন, আমাদের কাছে তার কোন নজির হাজির নেই এখনো। এই জায়গা থেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সরলোক্তিটা গুরুত্বপূর্ণ। এই সরলোক্তি বলে, এই অবুঝ ও অনিচ্ছুক নেতাদের উপরে গণঅভ্যুত্থানও চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এইটা জুলুম ছিল।

Show more
November 12, 2025
56 readers till now, 0 new visits today.

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ দুপুর বেলার অক্ত, বোঝাই যাচ্ছে, এ বছর আমাদের অন্য রকম হবে। কিন্তু, আমার আগ্রহ, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্ররে কীভাবে এডপ্ট করতে রাজি হন রাজনৈতিক দলগুলো। সংবিধান পরিষদের নির্বাচন বা গণভোটের কোন ইশারা নেই জুলাই ঘোষণাপত্র বা ইউনুসের জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্যে। বিজয়ী রাজনৈতিক দলের 'যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা'র উপরেই এই কনসেনসাসের নোট ছাইড়া দেওয়া হচ্ছে, যেটুকু বুঝতে পারছি। আমি মনে করি, নির্বাচনের এই অবস্থা ছাত্রদের মাইনা নেওয়া উচিত হবে না।

August 5, 2025
15 readers till now, 0 new visits today.

কঠিন কিছু কথা বলি।

ইন্টালেকচুয়াল ডিসকাশনের চাইতে গণসংলাপ দরকার। এখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইন্টালেকচুয়ালদের হলরুমগুলো হইল ছোট ছোট ব্যাঙাচির কুয়া, আর তার ভেতরের অফুরন্ত বুদবুদ। এই বুদবুদ থিকা বের হয়ে জনগনের সাথেও কথা বলুন। জুলাই জেনোসাইডের পরে আওয়ামীলীগ রাজনীতির অধিকার আছে কিনা, তার সিদ্ধান্ত প্রশ্নে কেবল বিএনপি আর জামাতের ছোট বড় কায়েমি নেতা আর ব্যবসায়ীরাই স্টেকহোল্ডার না। স্টেকহোল্ডার সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনে তার জন্য গণভোটের ডাক দিন। তারপরে দেখুন, এমন কি বিএনপির সাধারণ কর্মী সমর্থকরাও, আর আম জনতা বইলা যে ব্যাপার আছে, তারা কী রায় দেয়।

ইন্টালেকচুয়াল আলাপ আমরা গত ষোল বছর বইসা বইসা করছি। আমাদের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি এখনও যদি স্পষ্ট না হয়, এখন আর আপনাদের বুদবুদ শুনে কাজ নেই। আপনারা আবার একই সা-রে-গা-মা-পা-তে নাকানি চুবানি খাইতেছেন, এর অর্থ পুরনো ফুলের বাগানের প্রতি আপনি স্মৃতিকাতর, যা আমরা হাসিনার আমলে ফেলে আসছি। মেনে নিন, তা আর ফিরে আসবে না।

সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হল, একটা গণবিপ্লবের পর যারা ক্ষমতায় আসলেন, আর যারা ক্ষমতায় আসতে চাইতেছেন ভবিষ্যতে, তারা সবাই নিজের নিজের বহুদূরের দ্বীপে বইসা কথা কইতেছেন ও সিদ্ধান্ত নিতেছেন, যেন আশে পাশে কেউ নেই। মানুষের অভিপ্রায় জানতে কেউ একটা গণসংলাপের আয়োজন করা জরুরি মনে করে নাই। এই দ্বীপটা ভাঙুন। মানুষের অভিপ্রায় জানতে, সবার আগে গণসংলাপ ডাকুন ও জেনোসাইডের বিচার ও নতুন সংবিধান প্রশ্নে গণভোট আহবান করুন।

// এই লেখাটা #শেয়ার করুন ও #ছড়িয়ে দিন।

Show more
November 21, 2024
22 readers till now, 0 new visits today.