unSocial

ইতিহাসে বাংলাদেশের অভ্যুদ্যয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান ও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সমর্থন/সহযোগিতার পরে, উনিশশ একাত্তর পরবর্তি স্বাধীন বাংলাদেশে জামাতের রাজনীতি হল, এথিকাল ডিলেমা। এই ডিলেমারে তারা নিরবতা ও সংকোচের বিহ্বলতা দিয়ে সলভ করতে চান, উৎরাতে চান না। ফলে, জামাত বিষয়েও, আমাদের ডিলেমা, কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এইটা, জামাতপন্থি মুক্তিযোদ্ধাদের বিবৃতি দিয়ে সলভ হবে না। যারা চিন্তা করতে সক্ষম, তাদের, জামাতের রাজনীতির ব্যাপারে এই নোক্তা রেখেই আগাতে হবে।

এর বাইরে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাত নিজের একটা গুরুত্ব তৈরী করেছে। জামাত যে ভেকুয়াম ফুলফিল করে, তা হল, একটা ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরী করে, ধর্মীয় চরমপন্থাগুলো ও একাট্টা সেকুলার স্পেসের মধ্যে, ধর্মীয় শক্তি হিশেবে। ধর্মীয় শক্তি হিশেবে, রাষ্ট্রে এই ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি জামাতের রাজনীতিরে মোকাবেলা করতে চান, এর জন্য যা দরকার, তা হল, এই ভারসাম্যপূর্ণ স্পেইসের ধর্মীয় ও সেকুলার উভয় শিফটের জন্য কাজ করা।

ধর্মীয় শিফট এত সহজ হবে না। কারণ, বাংলাদেশে ধর্মপন্থাগুলোর ভেতরে জামাতের চাইতে প্রগ্রেসিভ, সংগঠিত ও মেচিওরড দল, এখনতক নেই। সেকুলার শিফট এর ঘটনা, একদা খালেদা জিয়ার বিএনপির হাতে ছিল, আমি যেইটারে ধার্মিকদের সেকুলার দল হিশেবে চিহ্নিত করি। এইটা, বোধ হয়, সামনে আরো শিফট হওয়ার জন্য তৈরী, কারণ, এখনকার বিএনপির সেই দায় নেবার প্রস্তুতি বা আগ্রহ কম। ক্ষমতা তো অন্ধ করে দেয়। ফলে, দেখবেন, বিএনপি নেতা ফখরুল নির্মূল শব্দ ব্যবহার করেছেন, জামাতের ব্যাপারে। এইটা, চরম মূর্খতা ও হঠকারিতা।

মূলত, বাংলাদেশে জামাতের রাজনীতিরে ইনভেলিড করতে হলেও, আপনার এমন একটা রাজনীতি লাগবে, যা জামাতের অল্টার ইগো হিসেবে হাজির থাকবে না, আওয়ামী লীগ যেরকম অল্টার ইগো হিশেবেই জামাতকে মোকাবেলা করতে চাইছিল। দরকার এমন রাজনীতি, যা জামাতকে ডেমন বানিয়ে দমন করবে না, কিন্তু, তাদের, একই সাথে সেকুলারদেরও রাজনৈতিক স্পেস দখল করবে। ফলে, সেকুলার পরিমণ্ডলের সাথে সাথে, জামাত বা অন্যান্য ধর্মীয় পরিমন্ডলের সম্ভাবনাময় তরুণেরাও এই বিকল্প রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এই সম্ভাবনা, এই মুহূর্তের বাংলাদেশে, আমি খেয়াল করেছি, একমাত্র এনসিপি দেখাতে পারছে। আপনার মত কী?

Show more
May 2, 2026
15 readers till now, 0 new visits today.

ভারত প্রশ্নে ঐতিহাসিক বামদের একটা লিমিট আছে। এই লিমিটটাই, খেয়াল করছিলাম, জনৈক বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী নেতার অধুনা প্রচারিত হওয়া ভিডিওতে। তিনি প্রচুর ফাউ কথা বলেছেন, একই সাথে, তারেক রহমানকে লম্পটও বলেছেন। তবে, কইতে চাই, লম্পট প্রভৃতি ব্যক্তি আক্রমণের পার্ট বাদ দিলে, আমাদের এরকম প্রচুর ফাউ কথা ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা ও বিরোধিতার স্বাধীনতা দরকার। এইটারে যাতে ক্রিমিনালাইজ করা না হয়। একই দিনে, জনৈক রাশেদ প্রধানের বাসা ঘেরাও ও তার এপিএসকে গ্রেফতার এবং মারধরের ঘটনা দেখলাম, যিনি একদা খালেদা জিয়ার জোটসঙ্গী শফিউল আলম প্রধানের পুত্র বইলা জানতে পারলাম। সম্ভবত, এখানেও, তারেক রহমান বিষয়ে কোন মন্তব্যই ইস্যু। রাজনীতিতে কম পরিচিত হওয়ার বিপদের কারণেই, বা, উনি যেহেতু বাম ছাত্রনেতা না, উনার এপিএসের উপরে হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে কম আলাপ দেখলাম, বা, কোন আলাপই দেখলাম না। এইটা দুশ্চিন্তার। আমার অবস্থান হল, সমালোচনাকে ক্রিমিনালাইজ করার দায় যাতে না নেন আপনারা।

Show more
April 18, 2026
13 readers till now, 0 new visits today.

মুক্তিযোদ্ধারা যে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সাথে কোন কোন ফ্রন্টে কোলাবরেটর মুসলিম লীগ, জামাত ও নেজামে ইসলামের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেছিল, এইটারে ফ্যাক্ট হিশেবে অসত্য কওয়া যাবে না। কোন কোন ফ্রন্টে আরো অনেকের সাথেও যুদ্ধ করতে হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের। যেমন, দুই কুকুরের লড়াইপন্থি চীন ধারার বাম ও মুজিবনগর সরকারের আনুগত্য অস্বীকার করা মুজিব বাহিনী। কিন্তু মুজিব, জিয়া, এমন কি খালেদা জিয়ার ঠিক করা মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা, তাতে হানাদার বাহিনীর বাইরে এই পক্ষগুলোর নাম নেই। কারণ, এরা কোলাবরেটর মাত্র। কিন্তু, হাসিনা, জামুকা আইনে, মুক্তিযোদ্ধার এই সংজ্ঞা পরিবর্তন করে মুসলিম লীগ, জামাত ও নেজামে ইসলামের নাম ঢুকাইছিলেন, দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য।

তো, এই জামুকা (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল) আইন প্রথম প্রণয়ন হয় খালেদা জিয়ার সময়ে, ২০০২ সালে। পরে হাসিনার রাতের ভোটের সরকার, ২০২২ সালে, বিএনপির প্রণয়নকৃত মূল আইন রহিত করে, নতুন জামুকা আইন পাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাসহ। এই সংজ্ঞাটা ইন্টারেস্টিং, যেহেতু লম্বা, এখানে আলোচ্য ফ্যাক্টটি শুধু দিলাম, যেখানে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধারা দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে সাথে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আওয়ামীলীগ প্রণীত এই সংজ্ঞাই, পরে পরিবর্তন করে, ইন্টারিম, নামগুলোর আগে 'তৎকালীন' শব্দটা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মূলত আওয়ামীলীগের, বলা ভাল, হাসিনার তৈরী করা সংজ্ঞাকে আরো বিস্তৃত ও অর্থপূর্ণ করার চেষ্টা আছে ইউনুস সরকারের, যেটিরে গত বছর রুমিন ফারহানা এবং বাংলা আউটলুক নামের নিউজ পোর্টাল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ হিশেবে সামনে আনেন। এই হল সারমর্ম। এই সারমর্ম অনুযায়ী, দেখা যাচ্ছে, ইন্টারিম সেই সময়, মুজিব, জিয়া, এমন কি খালেদা প্রবর্তিত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নাকচ করে, হাসিনা প্রবর্তিত মুক্তিযোদ্ধার মতলবি সংজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিছিল, যেটি আজ সংসদে আইনে পরিণত হল।

স্বভাবতই, এই সংজ্ঞা নিয়ে জামাতের আপত্তি আছে, দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, আগ্রহ উদ্দীপক হল, এনসিপি এই সংজ্ঞা নিয়ে কোন আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে। গত বছর, এই সংশোধনি নিয়ে বলেছিলাম, এইসব সংশোধন ও কারেকশন প্রসেসে না গিয়ে আওয়ামী লীগের মতই হাসিনার আইন পুরোপুরি রহিত করে ২০০২ এর জোট সরকার প্রণিত আইনে ফেরত যাওয়া। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে, এই সরকার খালেদার আইনকে বাইপাস করে, হাসিনার, পরে ইন্টারিমের সংশোধিত সংজ্ঞাকে বহাল রাখল, আমি যদি ভুল না কইরা থাকি। আরো একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা বলি।, জামাতের লোকেদের মধ্যে ইদানীং একটা নতুন বয়ান খেয়াল করেছি, এই জামাত একাত্তর পূর্ববর্তি জামাত না, এইটা জিয়াউর রহমানের সময়ে রেজিস্টার্ড নতুন জামায়াতে ইসলামী, যার সাথে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী জামাতের কোন সম্পর্ক নেই, যার একাত্তরে অবস্থানের বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার দায় নেই। আমার কথা হল, যদি তাই হয়, তাহলে, তাদের এই সংশোধনী নিয়ে আপত্তিটা ঠিক কোন জাগায়?

Show more
April 9, 2026
12 readers till now, 0 new visits today.

পার্লামেন্টে চিল্লানো অত খারাপ কিছু না। বরং, বয়সে কম জ্ঞানে হেডমাস্টারি করতে আসা খারাপ কিছু। নির্বোধ হেডমাস্টরদেরকে না শোনাই ভাল। ছাত্রদের ও বিরোধী দলের হল্লারে স্বাভাবিকভাবেই নিতে না পারাটা, একটা বয়সেরও ট্যাবু, আমার পর্যবেক্ষণ বলে। জাতীয় সংসদ, রাজপথ হয়ত নয়। কিন্তু, রাজপথেরও অধিক। দুনিয়ার ইতিহাসে জাতীয় সংসদগুলো হল্লারই ইতিহাস, মাঝে মধ্যেই দেখবেন। ফরাসি বিপ্লব ও এর পরের সময়গুলোও দেখতে পারেন। খালেদা জিয়ার আমলে আমাদের পুরনো সংসদগুলোও দেখতে পারেন। হল্লারই ছিল। শুধু হল্লা নয়, আর একটা জিনিশ মনে করিযে দিই। সেই সময়ে সংসদে মরহুম সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর আলাপের ভঙ্গির ব্যাপারে মিডিয়াগুলোতে একটা ইভিল প্রচারণা ছিল। মিডিয়া এবং আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা সংসদে তার পুরো আলাপরে ইগনোর করে, স্রেফ তার কথা বলার ভঙ্গীরে 'অশ্লীল', মানে ডেমন বানিয়ে তার মোকাবেলা করত। এভাবেই তার প্রতি যে কোন অন্যায়, এমন কি ফাঁসির পর্যন্ত লেজিটিমেসি তৈরী করত। মানে, এই রুচি প্রশ্নগুলো ইনোসেন্ট কিছু না। ফলে, হেডমাস্টর বড় ভাইদের এই রুচি ও নন্দন প্রশ্নগুলোরে স্বাভাবিকভাবে না নেওযাটাই আমার প্রস্তাব।

Show more
March 31, 2026
12 readers till now, 0 new visits today.

একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় বলি। ১৯৯১ সালে তৃতীয় গণভোটের আগে বাংলাদেশে গণভোট আইন হয় নাই। জিয়া ও এরশাদ উভয়ের আস্থা যাচাই ভোট প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে হয়েছে। ঠিক যেভাবে এখনকারটা হল। তো, আমার মতে, গণভোট অর্ডিনেন্স নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন হচ্ছে, তার ভিত্তিতে হাইকোর্ট পূর্ববর্তি গণভোটগুলোরেও, যেমন, জিয়া ও এরশাদেরটারেও অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। তবে, আমার মতে, তৃতীয়টারেও করা সম্ভব। কীভাবে বলি।

এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন এরশাদ। তো, এরপরের নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ২ জুলাই সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল ১৯৯১ উত্থাপন করে। এই সংশোধনীতে গণভোট এর বিধান প্রস্তাব করা হয়, যা সংসদে সংসদে বিপুল ভোটে গৃহীত হয়। এরপরে, যেহেতু সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন, মানে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে, এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেবে কিনা, এই প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

এখানে তিনটা বিষয় খেয়াল করার মত। এক. সংসদের উপরেও সুপেরিয়র হিশেবে বিবেচিত হল গণভোট। এই সুপেরিয়রিটি কেউ চ্যালেঞ্জ করে নাই। দুই. রাষ্ট্রপতিও কনসেন্ট দেবেন কিনা, তা গণভোটের রায় দিয়ে নির্ধারিত হচ্ছে। তিন. গণভোটের আইন পাশ হবার আগেই আগের দুইটা গণভোট, এবং তৃতীয় গণভোটটিও, সংসদের আইনে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রদান, মানে পাশ হবার আগেই অনুষ্ঠিত হয়। ফলে, দ্বাদশ সংশোধনী ও গণভোটেরও আইনত ভিত্তি হল একমাত্র গণভোট। খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে যে এই গণভোটের বিধান যুক্ত হল সংবিধানে, সেই বিধান ও দ্বাদশ সংশোধনীও, কেবল গণভোটের রায়ের অনুসারেই বৈধ। নাহলে অবৈধ হতে বাধ্য।

আরো বলি, এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ‘তিন জোটের রূপরেখা’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে গৃহীত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার পর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সম্মতি দেবেন কি না, সে প্রশ্নে দেশব্যাপী গণভোট আয়োজনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন, এই এরশাদের পতনের পরের ইভেন্টরে, শেখ হাসিনার পতনের পর পড়তে পারেন। তিন জোটের রূপরেখারে, জুলাই সনদ আকারে পড়তে পারেন। হাসিনার পতনের পরে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তো, এইসব মিলায়ে পড়তে পারলে, বাংলাদেশে সংবিধান ও আইন ব্যবসায়িরা, এইখান থিকা আবার আমার এই পোস্ট পড়া শুরু করতে পারেন। বা হেফজও করতে পারেন।

Show more
March 3, 2026
15 readers till now, 0 new visits today.

বাংলাদেশ যে ন্যূনতম একটা হত্যার নিন্দা করতে পারল না, স্রেফ ইরানের প্রতিরোধ হামলার নিন্দা করল, রাষ্ট্র বাংলাদেশের নাগরিক হিশেবে এই ব্যর্থতারে কীভাবে পড়ছেন? ধরুন, ইউনুস যদি ক্ষমতায় থাকতেন, বা খালেদা জিয়া, বা হাসিনা, কার রেসপন্স কেমন হইত?

March 1, 2026
13 readers till now, 0 new visits today.

কারে ভোট দেবেন? গ্রামে ফিরতে ফিরতে, গাড়িতে বইসা এই নোট করছি। বাইরে রাত গভীর হতেছে৷ কালই তো ভোট। এইটা নিশ্চয় ঠাণ্ডা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সময় না। আপনারা তো নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন, এই লেখা আমাদের সেইসব বন্ধুদের জন্য, যারা এখনো আমার মতই এথিকাল ডিলেমাগুলোরে গুরুত্ব দেওয়া দরকার মনে করেন৷ তো, এই নোটটি হয়ত সেইসব ডিলেমারে বাড়িয়েই দিতে হেল্প করবে। দেখা যাক। প্রথম যে ঘটনাটি আমারে ভাবাচ্ছে, এই ভোট নাগরিক হিশেবে আমাদের কনফিউশনগুলোর জবাব দিতে সক্ষম কিনা, আমি নিশ্চিত না। যেমন, গণভোটের উদ্দেশ্য ও কারণরে মানুষের কাছে পরিস্কার করতে স্পষ্টভাবে ব্যর্থ হইছেন ইউনুস ও রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে, গণভোটের যে ফলাফল, তা তেমন কইরা মানুষের মতামতকে ধারণ করতে সক্ষম না, আমার পর্যবেক্ষণ বলে৷ আমার এথিকস বলে, ইউনুসের এই ব্যর্থতা বা রাজনৈতিক দলগুলোর এই ক্ষেত্রে অনিহারে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের রাতের ভোটগুলোর গন্তব্য স্পষ্ট ছিল। এখন যে ভোট হতেছে, তার গন্তব্য স্পষ্ট না।

বাংলাদেশে এখন তিনটা সেকুলার দল নির্বাচনে। এনসিপি, বিএনপি ও জামাত। অবাক হয়েন না, জামাত যে একটা মোটামুটি সেকুলার দলই, কোন ধর্মরাষ্ট্র বা শরিয়া তাদের গন্তব্য না, এরকম একটি ধারণা তারা নিজেরাই দেওয়ার চেষ্টা করেছে নানান ভাবে। জামাতের এই দাবীর অথেনসিটি নিয়া সন্দেহসহই আমি তাদেরে লক্ষ্য করতে চাই। আমি খেয়াল করেছি, বহু বছর ধইরা হাসিনার অধীনে টিকে থাকতে গিয়ে তারা মানুষের কাছে যাবার ও সেকুলার হয়ে উঠতে চাওয়ার এই মেচিওরিটি অর্জন করেছে। এইটা, আমার ধারণা, তারা খালেদা জিয়ার বিএনপি থেকে শিখেছে। ফলে, জামাতের ছাত্রসংগঠন বিষ্ময়করভাবে প্রায় সবকটি ছাত্রসংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছে, যেখানে তাদেরকে ভোট দেওয়া সবাই তাদের সমর্থক হবার সম্ভাবনা অতি কল্পনা হবে। তবে, এখন, জাতীয় নির্বাচনে জামাতের বিজয়ের যে হাইপ উঠতেছে, তারে আমার রিয়েলিটির চাইতে প্রচারণার রাজনীতিই মনে হয়। তাদের সফলতা হল, তারা এই রাজনীতিগুলো দিয়ে জনগোষ্ঠির বড় অংশকে ভালো প্রভাবিত করতে পেরেছে। আগে সাধারণ মানুষ বিএনপির কথা কইত, এখন, প্রায়ই খেয়াল করি, দাঁড়িপাল্লা পরিচিত হয়ে উঠেছে। এর দুইটা কারণ হতে পারে। তাদের জনসমর্থন বেড়েছে। অথবা, রিকসাওয়ালা বা গরিব শ্রেণীর ভেতরে তাদের কাজ বেড়েছে। তবে, জাতীয় নির্বাচনরে ছাত্র সংসদের মত ম্যাজিক হিশেবে না ভাবলে, আমার অনুমান হল, বিএনপি ভাল আসন নিয়ে জিতবে। তবে, বিএনপির এবসলিউট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়া আমার ভয় আছে। আমার বুঝমতে, জামাতের এবসলিউট সংখ্যাগরিষ্ঠতা সম্ভব না তেমন কইরা। সম্ভাবনা থাকলে, এইটাও ভয়ের ব্যাপার হইত।

ভোটার হওয়ার পর থেকে, প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়াই ধানের শীষ ছাড়া অন্য কোথাও ভোট দেই নাই আমি। যদিও কখনোই বিএনপি বা এই ধরনের কোন নির্দিষ্ট পার্টির সমর্থক থাকা সম্ভব না আমার পক্ষে। তা সত্বেও, সেই সময় আমাদের প্রতিপক্ষ ও ইভিল পরিস্কার ছিল। হাড়ে মজ্জায় সাম্প্রদাযিক বাঙালি জাতীযতাবাদ, ফলে জিয়া বাংলাদেশি পরিচয়রে সামনে নিয়ে আসল। আর, একটা দীর্ঘ সময় বিএনপি ছিল মজলুম। ফলে নির্বাচনের সময়ে তাদের সাথে আমার, বা আমাদের বন্ধুত্বগুলোও পরিস্কার ছিল। এখন এইটা অত পরিস্কার না আসলে। বিএনপি বা তারেকের ব্যর্থতা হল, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও তাদের নয়া বন্ধুত্বের চরিত্র কেমন, এইটা পরিস্কার করতে ব্যর্থ হইছেন উনারা। গণভোটের মৌলিক পরিবর্তন নিয়া স্পষ্ট কথা কইতে দ্বিধাগ্রস্ত থেকেছে দীর্ঘ দিন, আবার, তাদের ইশতেহার হাঁ এর প্রস্তাবনাগুলোর বিপক্ষে। বিপরীতে, এগার দলীয় জোট এই ক্ষেত্রে রক্ষণশীল ছিল না। সংস্কার প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিতে পেরেছে, শুরু থেকেই। শুধু এগার দলীয় জোট না, অন্য ইসলামী দলগুলোও। কিন্তু, একটি অতীতে ধর্মরাষ্ট্র চাওয়া দল নিয়া আমার অস্বস্তি আছে। তাদের ভেতরকার একটা দ্বন্দ্ব আমি খেয়াল করি, একাত্তর ইস্যুতে, যেইটা তারা সমাধান করতে ইচ্ছুক না। নারী প্রশ্নে প্রগ্রেসিভ অবস্থান নিতে না পারার ব্যাপার আছে। যদিও নাহিদ ইসলাম কোন একটা ইন্টারভিউতে পরিস্কার করেছেন, তাদের জোট ক্ষমতায় আসলে ধর্মরাষ্ট্র হবে না৷ আবার, নির্বাচনের আগে আগে বিএনপির মাসলপাওযার ও হুমকিগুলো অতীত আওয়ামীলীগকে মনে করিয়ে দেয়। তবুও, আমার ভোট এ বছর বিএনপি বা জামাত উভযেরই না পাওযার যথেষ্ট সম্ভাবনা ও কারণ হাজির আছে। আমার আসনে এনসিপি থাকলে চোখ বন্ধ কইরা এনসিপিরে ভোট দিতে পারতাম, অতীতে যেভাবে বিএনপিরে দিতাম।

ভোটকেন্দ্রে যদি শেষমেষ সুস্থ শরীরে পৌঁছাতে পারি, বিসমিল্লাহ বইলা এইসবই মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেব, যদি আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন। আমি চাইব, উনিশ শ তিয়াত্তর সালে রাষ্ট্র বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচনে প্রফেসর আনিসুজ্জামানের যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, আমার সেই অভিজ্ঞতা না হোক। উনি নিজের ভোট দিতে পারেন নাই, উনার ভোট মুজিব দ্বায়িত্ব নিয়া দিয়ে দিছিলেন। আপাতত, আমার আকাঙ্ক্ষা থাকবে, আমার ভোটটি যাতে আমিই দিতে পারি, মুজিব আইসা না দিয়ে যান। এরপরে, শাসন ক্ষমতায় কে আসবে, তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হল, নির্বাচনে যে দলই জিতুক, বিএনপি বা জামাত, তাদের কাছে আশা থাকবে, তারা অন্তত এই দুই বছরের সমন্বিত অর্জন, জুলাই সনদ থেকে পেছাবে না। তবে, এইটারে লিমিট হিশেবে নেবে না, সামনে এগুবে। প্রত্যেক দলই একটা ভাল বিরোধী দল হিশেবে থাকার প্রস্তুতি নেবে, যদি পরাজিত হয়। বিএনপি বা জামাত, কাউরে নিয়াই আলাদা কইরা আমার কোন রক্ষণশীলতা নেই, উভয়ের ব্যাপারেই স্পষ্ট দ্বিধা আছে আছে। এই দ্বিধাগুলো তারা দূর করবে। আমাদের সামনে নানান রকম ধর্ম কইরা তোলা গৃহযুদ্ধের কুয়ারে বড় কইরা তুলবে না উভয়েই। ভবিষ্যতের পথ স্পষ্ট করবে, অতীতে ফিরে যাওয়ার গলি ঘুপচি না। শুভ ভোটিং। আর, অবশ্যই হাঁ ভোট দেবেন।

ছবি: বাড়িতে পৌঁছুলাম শেষমেষ। এইটা আমাদের ঐতিহাসিক পুকুরঘাট, হাওয়াখানা নাম।

Show more
February 11, 2026
39 readers till now, 0 new visits today.

বিএনপির পরামর্শক কারা, বহুত আগে জিগেশ করেছিলাম। গতকাল, মাঠের প্রথম বক্তৃতার পরে, তারেক রহমানের ব্রান্ড ডিজাইনার, বা পরামর্শকদের ব্যাপারে একটু হতাশ হলাম। এই বক্তৃতাটা ঐতিহাসিক হবার কথা ছিল। কিন্তু, তার পরিবর্তে, কিছুটা কৌতুককর হল। তারেক যে দলের প্রধান, তার যে ইমেজ দরকার, তা হল, তিনি একটা সম্ভাব্য চুড়ান্ত ভরসার সেতু, একটা বড় ছাতা হবেন। এই ছাতা ও ব্রিজের ইমেইজ তিনি ভাঙবেন না কখনো, চরম দুর্যোগ মুহূর্তেও। তার কর্মীরা ভাঙবেন। ছোট ছোট নেতারা ভাঙবেন। কিন্তু, অন্যদের একটা ভরসা ও যোগাযোগ সম্ভাবনা হয়ে প্রধান বিরাজ থাকবেন, সব সময়। আমরা বলব, ঐ দেখ, তারেক কিন্তু ঠিক আছেন। ব্রীজ ঠিকঠাক আছে এখনো। খালেদা জিয়া এরকম একটি ব্রীজ ও ছাতা হিশেবে ছিলেন সব সময়, যেখানে আইসা সবাই একটা সম্ভাবনা খুঁজে পেতো। গতকাল থেকে তারেকের যে ইমেইজ তার ব্রান্ড ডিজাইনাররা, পরামর্শকরা, বা তারেক নিজে তৈরী করতে নিলেন, এইটা তারেকের জাতীয় নেতা হয়ে উঠতে পারার জন্য খারাপ। মনে রাইখেন। আশা করছি, তারেক রহমান আমার এই লেখা পড়বেন এবং পরামর্শটি নেবেন। এই কারণেই নেবেন, কারণ আমি তারেকের সমর্থক না, সমালোচক হিশেবেই বিরাজ করি সমাজে।

Show more
January 23, 2026
36 readers till now, 0 new visits today.

খালেদা জিয়া আজ অনন্ত যাত্রায় যাচ্ছেন। দুই হাজার দশ সালের নভেম্বর। তখন মাত্রই গুণ্ডামির মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হল। বিডিনিউজের অনুরোধে তখন মাঝে মধ্য ওদের অপিনিয়নের জন্য লিখতাম। এই লেখাটা যখন লিখি, তখন আমাকে বহুত শব্দ নিয়া বারবার পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করা হইছিল। যেমন, আইএসপিআর। যদিও সেমি একাডেমিক টোনের লেখা, এরকম আরো বেশ শব্দ সম্পর্কে ভাবতে হইছিল তখন। এই ইস্যুতে তখন কথাবার্তা বলা প্রায় বারণ। ফলে, এই লেখাটার বাইরে এই নিয়া তেমন গুরুত্বপূর্ণ লেখা চোখে পড়ে নাই আমার কোথাও। কমেন্টে লেখাটার লিঙ্ক দিচ্ছি। লেখাটা পরে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি বহিতে মুদ্রিত হয়।

/ মিডিয়ায় বেআব্রু ‘নারী’: রাষ্ট্র ও অন্যান্য নিপীড়কবৃন্দ

'এই পর্যায়ে আমরা আমাদের এই পাঠকে ১৪ নভেম্বর পড়ন্ত বিকালে সেনানিবাসে একজন নারী খালেদা জিয়ার বাসভবনের ঘটনাপঞ্জির সামনে দাঁড় করাতে চাই। খালেদা জিয়ার বাসভবনে এই সময়ে ঘটে যাওয়া নারীর প্রতি মিডিয়া, আইএসপিআর ও সরকারের অভূতপূর্ব ভূমিকার সামনে। তাঁর বাড়ি নিয়ে আইনি, দলীয় ও পাতি-রাজনৈতিক যেসব আলোচনা সম্ভব সেইসবের বাইরে থেকেই এই পাঠের চেষ্টা। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে একজন বিরোধী দলীয় নেত্রী নন খালেদা, রাষ্ট্রের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নন, বাংলাদেশের অসম্ভব জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপার্সন নন, এমন কি মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও নন। তিনি খালেদা জিয়া, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একজন সামান্য নাগরিক, এবং নারী। যিনি সেইদিন উপরের ওইসব পরিচয়ের একটিরও কোন সুবিধা পান নাই রাষ্ট্রের কাছ থেকে, বরং স্রেফ একজন সাধারণ নাগরিক, বৃদ্ধ, অসহায়, নিঃসঙ্গ এক নারী হিসেবেই নির্যাতিত হয়েছিলেন, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের সহযোগী মিডিয়া, আইএসপিআর, পুলিশ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে।'..

Show more
December 31, 2025
37 readers till now, 0 new visits today.

খালেদাপুত্র কোকো যখন মারা গেলেন, শেখ হাসিনা অবরুদ্ধ খালেদাকে দেখতে এলেন। খালেদা সেই মাছের মায়ের শোক নিতে রাজি হন নাই, তাই হাসিনাকে ফিরে যেতে হল। আজ, খালেদা জিয়ার মৃত্যুদিনে সেই মাছের মা ও পুত্র স্বমহিমায় ফিরে এলেন আবার, বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে। এই ঘটনারে খালেদার দলের নেতা কর্মীরাও এতিমের মত কইরা এপ্রিশিয়েট করছেন উইথ 'নো ইফস এন্ড বাটস'। এমন সময়ে, যখন খালেদা তাদের শোক প্রত্যাখ্যান করার জন্য বেঁচে নেই আর। এইটারে বাংলাদেশে মিডিয়া বলিতে যা কিছু একজিস্ট করে, তার সমস্যা কইবেন, নাকি খালেদার পরে বিএনপি বলিতে যা একজিস্ট করে, তার গুণ আকারে পড়বেন?

Show more
December 30, 2025
14 readers till now, 0 new visits today.
Rifat Hasan · 10 months ago

খালেদা জিয়ারে ইভেন্ট করে তোলা হইতেছে। যেমন, ডাক্তার জোবাইদা আসলেন। তারেক রহমান আসবেন। অবশ্যই আসবেন তারেক, এইটারে লইয়া আমার কোন দ্বিধা নেই। কিন্তু তার আসাটারে মুমূর্ষ খালেদার অসুখকে কেন্দ্র কইরা একটা দুর্বোধ্য ইভেন্ট করে তোলা হইতেছে। এই ইভেন্টরে এখন তারেকের আসার পরিবর্তে খালেদার যাওয়ার ইভেন্টে পরিণত করা হইছে। এই ইভেন্ট এর গন্তব্য কী? যদ্দুর ধারণা করতে পারছি, বিএনপির শীর্ষ নেতারাও এর গন্তব্য সম্পর্কে জানেন না। আপনারা জানেন কি?

December 5, 2025
15 readers till now, 0 new visits today.
Rifat Hasan · 10 months ago

মোসাহেবদের খালেদা আর আমাদের খালেদা তো আলাদাই। হাসিনার সময়ে মোসাহেবদের এক হাসিনা ছিল। এখন তাদের অনেকের কেবলা বদল হয়েছে। কিন্তু, এই মোসাহেব কলোনিকে উপেক্ষা কইরাই খালেদা একা দাঁড়ানোর সাহস রাখতেন, বাংলাদেশের পক্ষে। এই কারণেই, মতলবিদের বাইরে খালেদা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হতে পারছিলেন, সব প্রতিকুল মুহূর্তেই। এই যে প্রতীক হইতে পারা, এইটা, এখন যে মতলবি ও মোসাহেবরা খালেদার পক্ষে সবার দাঁড়াতে চাওয়া ও দাঁড়াতে পারারে প্রশ্ন করছেন, তাদের রক্ষণশীলতাগুলোরে ইগনোর কইরাই। তারা খালেদারে তাদের কুয়ায় ভইরা স্রেফ বিএনপির নেত্রী বানিয়ে রাখতে চান। তাদের ভিশন এত ছোট, তারা অইখানে নিজের ক্ষুতাতিক্ষুদ্র ছায়া ছাড়া আর কাউরে দেখেন না। এই কারণে, আমরা একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে জাতি গঠনমুহূর্তেও কোন জিরোনোর সুকুন খুঁজে পাই না। খালেদা জিরোনোর সুকোন হইতে পারতেন আমাদের। জীবিত বাজনীতিকদের মধ্যে একমাত্র খালেদাই আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্যরে ধারণ করতে সক্ষম ছিলেন। খালেদাপুত্র তারেক রহমানের সেই সাহস ও ইচ্ছে আছে, এখনো আমরা তার কোন নজির দেখতে পাই না। তবে, আমি তার ব্যাপারেও এই আশা রাখতে আগ্রহী। আমাদের তারেকের দিন দেখার বাকি আছে আরো অনেক দিন।


#রিফাতহাসান #ফেসবুকেও প্রকাশিত

Show more
December 2, 2025
71 readers till now, 0 new visits today.
Rifat Hasan · 10 months ago

পলিটিশিয়ানের কাজ মামলা দিয়ে সমস্যা সলভ করা না, নিজের রাজনীতিতেই যে মামলার চাইতে সাধু ও মধু আছে, তারে সামনে আইনা জনগনের আস্থা চাওয়া। মামলা হল দুর্বলের আর ক্ষমতাবানের টুল। এইটা ডাকসু ভিপি সাদিককে বলছি। ভুক্তভোগিরা কেউ কেউ আইনের কাছে যেতেই পারেন, কিন্তু ডাকসু ভিপি হিশেবে সাদিক নিজে মামলাকে প্রমোট করার ঘটনা তার অসহিষ্ণুতা প্রমাণ করে।

পলিটিশিয়ানের কেন্দ্র কোর্টরুম হয় না কখনোই, পলিটিশিয়ানের নিজেই কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারার ব্যাপার আছে। দেখবেন, পলিটিশিয়ান নিজে মামলা করেন না কখনো। মামলার মুখোমুখি হন এবং সাবজেক্ট হন।

কোর্ট কাছারির ছাপোশা কারবার রাজনীতিরে ছোট করে, খালেদা জিয়ার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় বিএনপি যখন মামলার উদ্যোগ নিল, তখন কইতেছিলাম আমরা।

সেই সময়, খালেদাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা কোন দেওয়ানি ইস্যু ছিল না, হাসিনার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। রাজনীতিরে রাজনীতি দিয়েই মোকাবেলা করতে পারার একটা ব্যাপার আছে, কিন্তু তখন বিএনপি নেতৃত্ব ও ব্যরিস্টার মওদূদ প্রমুখ আদালতের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল মঈনুল রোডের বাড়িকে। যেহেতু সেই সময় তাদের রাজনীতি ছিল না। ফলে তারা ব্যর্থ হলেন। এইখানে সাদিকও ব্যর্থ হবেন। ফলে, ডাকসু ভিপি ও অন্যান্য ডাকসু নেতাদের জন্য ভাল হবে, যদি সব মামলা তুলে নেন এখনই, ভুল স্বীকার করে। রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা শেখেন।

Show more
December 2, 2025
13 readers till now, 0 new visits today.

ফজলু সাহেবের প্রতি বিএনপির কারণ দর্শাও নোটিশরে ভাল ঘটনা বলতে চাই।

এলা‚ বিএনপিরে নিয়া আমার আগের কথাটাই আবার বলি।

বিএনপি হল গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় মন খারাপের দলগুলোর একটি। কেন এত সফট 'মন খারাপে'র কথাই বলছি, এইটা ইদানীংকার মুখস্ত বিএনপির বুদ্ধিজীবী, কম বয়সি একটিভিস্ট বা ভাড়াটে বটরা বুঝবে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়া আমাদের আলাপ দীর্ঘদিনের আর হাসিনার শাসনে মজলুম হিশেবে বিএনপির প্রতি দীর্ঘ সমর্থন ছিল আমাদের। ধর্মীয় শক্তি নয়, কিন্তু উদার ধর্মীয় টলারেন্ট সোসাইটি আর ধার্মিকদের সেকুলার প্লাটফর্ম হিশেবে হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিপরীতে বিএনপির উত্থান চেযেছি আমি সব সময়। আমাদের সেই চাওয়ার বয়স এদের অনেকের বয়সের চাইতেও বেশি।

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে মনে করতাম, বিএনপি যেহেতু বড় ও ঐতিহ্যবাহী দল, ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পরে হাসিনা পরবর্তি সময়ে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর যে কনসেনসাস ও ঐক্য দরকার ছিল, বিএনপি ছাত্রদের অভ্যুত্থানকে ঔন করে তার কেন্দ্র ও অভিভাবক হওয়ার সুযোগ নেবে। এই অভিভাবক ভূমিকার মাধ্যমে বিএনপি জুলাই পরবর্তি রাজনীতিতে তরুণদের কাছে সবচেয়ে ইনফ্লুয়েনশিয়াল দল হিশেবে আবির্ভূত হবে।

কিন্তু, খালেদা জিয়ার মতো অভিভাবকতুল্য নেতার হাজির না থাকার কারণেই সম্ভবত‚ এই ঘটনা ঘটতে পারে নাই। অভ্যুত্থানকে ঔন করার পরিবর্তে বিএনপি নেতৃত্ব ফজলুর রহমান প্রমুখ হঠকারীকে সামনে আনার মাধ্যমে তরুণদের জুলাই জাগরণকে ডিজঔন ও ডেমনাইজেশনের দাযটাই নেওয়া কর্তব্য মনে করেছে। যার কারণে আমাদের দলগুলোর ভেতরে হাসিনা পরবর্তি কনসেনসাস ও ঐক্য দৃশ্যমান হতে পারে নাই, শুধু তাই নয়, বরং ফজলুর রহমান ধরনের এলিমেন্টগুলোর মাধ্যমে একই সাথে গণঅভ্যুত্থান, ছাত্র অভ্যুত্থানের নেতারা আর ইউনুস, সবকিছুর প্রতি আওয়ামী ভাষা ও ভঙ্গিতে বিদ্বেষ তৈরী করেছে বিএনপি মহলে। গতকাল সকাল পর্যন্ত এই ভাষার ব্যবহার হয়েছে ফজলুর রহমানের পক্ষ থেকে।

আজ‚ ফজলু সাহেবকে কারণদর্শাও নোটিশের মাধ্যমে বিএনপি এই পথ থিকা ফেরার ভাষা পেল?

আমার মতে‚ এই নোটিশের পরের ধাপে‚ ফজলু সাহেবরে যদি বহিস্কার করা না হয়‚ দলের চেয়ারপার্সনের এডভাইজর পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে‚ তাহলে এইটা বিএনপির রাজনীতির জন্য খারাপই হবে। প্রথম দিনের বক্তব্যের পরেই‚ তাকে কারণ দর্শাও নোটিশ এবং বহিস্কার করা দরকার ছিল‚ গত বছর। এক বছর পরে স্রেফ কারণ দর্শাও নোটিশ সম্ভব হল। এই এক বছর ধইরা বিএনপি কী ভাইবা শেষ করতে পারল?

Show more
August 24, 2025
12 readers till now, 0 new visits today.

আমি বুদ্ধিজীবী হলেও, সামাজিকতাহেতু নানান রাজনৈতিক নেতার সাথে দেখা হয়ে যায়। বিশেষত, জুলাইয়ের পরে এই ধরনের ঘটনা অল্প বেড়েছে, যেহেতু উনাদেরও কেউ কেউ আলাপে আসেন। তাদের কারো কারো সাথে বন্ধুত্বও হয়েছে। তো, সেরকম এক বন্ধু, গণসংহতির বড় এক নেতারে জিগেশ করলাম আজকে, দল হিশেবে আপনাদের আইডিওলজি কী? বাম? উত্তরে উনি মাথা নাইড়া বললেন, না, আমরা শুরুর দিন থেকেই বাম পরিচয়কে অস্বীকার করি। আমরা হইলাম মধ্যপন্থি বা বাংলাদেশপন্থি। বন্ধুর উত্তর শুইনা আমি একটু অবাক হলাম। কারণ দুইটা ঘটনা। এক. 'বাংলাদেশপন্থা' বইলা ফেনোমেননরে যদিও আমি এখনতক কল্পনা বইলাই মনে করি, যারে ডিফাইন করতে বিস্তর সময় লাগবে, কিন্তু, আমি এই যে বাম বা ডানপন্থা বইলা কিছুরে না কইতে পারারে গুরুত্বপূর্ণ ভাবি, এইটা বোধ হয় আপনারা জানেন, বিশেষত গত পনের বিশ বছর ধইরা যারা আমারে খেয়াল করেন। খালেদা জিয়ার ডানের বামে, আর বামের ডানে একটা মেরুকরণ মাত্র, আর আমার কাছে রাজনীতির মুক্ত হইতে পারা। যেমন, আমি রাজনীতিতে ধার্মিকদের সেকুলার প্লাটফর্মের কথা কই। বিএনপির ব্যাপারে আমার আলাপ ছিল, এইটা ধার্মিকদের সেকুলার প্লাটফর্ম। নিরেট সেকুলার বিএনপি বইলা কিছু হয় না। দ্বিতীয়ত, কয়েকদিন ধইরা গণসংহতির ছাত্রসংগঠেনের কেউ কেউ দেখি, রিফাত হাসানরে 'ফার রাইট' বুদ্ধিজীবী বইলা প্রচার করে আনন্দ পাইতেছেন। ফার রাইট কী বস্তু আমি তেমন বুঝি না, কয়েকদিন আগে মাসকাওয়াথ আহসানের সাথে আলাপে একটু ঠাট্টা কইরাই এই নিয়া বলেছি, আপনারা শুনতে পারেন। কিন্তু উনারা কি বোঝেন, ফার রাইট কী বস্তু? বুঝলে, রিফাত হাসান কেন ফার রাইট, বা রাইট, আর উনারা কেন বামপন্থিই না, এই আলাপটা আমি বুঝতে চাই। ডান বা বাম হওয়ার জন্য কী জরুরি বইলা মনে করেন উনারা, যা উনাদের নেই, যেহেতু বাম বইলা স্বীকার করেন না, কিন্তু রিফাত হাসানের আছে, যেহেতু রিফাত হাসানরে ডান বইলা প্রচারণায় অসম্ভব উৎসাহী উনারা? উনাদের আনন্দে ব্যাঘাত ঘটানো আমার উদ্দেশ্য না। আমার উদ্দেশ্য হল, জানা, এই আনন্দে উনাদের পলিটিকস কী?

Show more
August 19, 2025
12 readers till now, 0 new visits today.

আপনার রক্ষণশীলতা কী বস্তু?

তেল, গ্যাস ও বন্দর রক্ষা আন্দোলনের চরিত্র রক্ষণশীল। কেমনে বোঝায়ে বলি। একবার বিএনপি সংহতি জানাল, প্রফেসর আনু কইলেন, এই ঘটনা ষড়যন্ত্র, আমরা বিএনপির সংহতি চাই না। আনু মুহাম্মদের উপর ছাত্রলীগ পুলিশের হামলা হল, খালেদা জিয়া দেখতে গেলেন৷ পরে উনারা বিবৃতি দিলেন, এইটা ষড়যন্ত্র। যেন বিএনপির সমর্থনের কারণে ওরা 'আন্দোলন'ই ছাইড়া দেন। এই যে ছুঁতমার্গ, রক্ষণশীলতা ও মৌলবাদিতা, এইটা বাংলার পপুলার বামেদের টিপিক্যাল চরিত্র। সর্বসাম্প্রতিক ঘটনায় দেখবেন, রাষ্ট্রচিন্তা নামের সংগঠনের দিদার কিশোরদের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধনে ইসলাম নামঅলা সংগঠন সংহতি জানানোয় বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী নামের বাম সংগঠন নিজেদের সংহতিই প্রত্যাহার কইরা নিল। এই রক্ষণশীলতা নিয়া তাদের কোন খেদ নেই, বরং এইটারেই এরা নিজেদের পলিটিকস ভাবে আর ইসলামিস্টদেরে 'মৌলবাদী' গালি দেয়। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতায় আন্দোলন সংগ্রামে ইসলাম নামঅলা সংগঠনগুলো এদের মত রক্ষণশীল ও মৌলবাদী না। ওদের 'আইডিওলজি' রক্ষণশীল, সেটি অন্য আলাপ।

মে ২৬, ২০২১

Show more
July 27, 2025
13 readers till now, 0 new visits today.

ফাহাম আব্দুস সালামের শেয়ার থেকে একটা ভিডিও দেখলাম, যেখানে শহীদ জিয়াউর রহমানের ছবি পা দিয়ে মাড়ানো হচ্ছে, আর তার জুম ভিডিও করা হচ্ছে। তিনি লিখছেন, 'দিস উইল বি রিমেম্বারড'। এইটা রিমেম্বার হইতে পারার মতই 'ইমেইজ' বটে।

তবে, আমার সন্দেহ, উনি তাড়াহুড়া করেছেন।

এই ভিডিও হাসিনার আমলের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এখনকার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে, এইটা ফ্যাক্টচেক কইরা দেখার অনুরোধ করব কদরুদ্দিন শিশিরদের।

আমার এই অনুমানের কারণ, এক. জুলাই অভ্যুত্থানের পরের এই সময়ে জিয়ার ছবির উপরে পা দিয়ে লাইভ ভিডিও করার উদ্যম, সাহস বা জিয়ার প্রতি এই 'ঘৃণা' কারো থাকবে, একমাত্র আওয়ামীলীগ ছাড়া, এইটা আমার রিডিং বলে, সম্ভব না। এই অঞ্চলের মানুষ জিয়াকে ভালবাসে, কিন্তু তারে নিয়া একটা ঘৃণা উৎপাদন করা হয়েছে সব সময় আওয়ামীলীগ এবং ট্রেডিশনাল বাম মহল থেকে। এই ঘৃণার অংশিদার বাংলাদেশে এই মুহূর্তে অভ্যুত্থানের অংশীদার কেউ নয়।

দুই. যদি গতকালকের ঘটনা হয়েও থাকে, তাহলে, বুঝতে হবে, এইটা সাবোটাজ। এইটারে কেন্দ্র কইরা 'রিমেম্বার' এর হুশিয়ারি উৎপাদনের চেয়েও জরুরি কাজ হল, এই ঘটনা যে স্বাভাবিক হইতে পারে না, এইটা মনে করিয়ে দেওয়ার স্থৈর্য ও প্রজ্ঞা। মনে রাখতে হবে, গতকালকের ব্রুটালিটির পরে তারেক রহমানকে নিয়া শ্লোগান খুবই সাধারণ পলিটিকাল ইভেন্ট, তারেক রহমানের কাছ থেকে 'জবাব চাওয়া', এইটা খুবই স্বাভাবিকতা।

বরং এই ঘটনার পরে তারেক রহমানের ভিডিও বক্তৃতা শুইনা আমি খুব হতাশ, তার ভেতরে ষড়যন্ত্র ও ব্যর্থতা ছাড়া নিজের দলের লোকের সম্পৃক্ততা নিয়ে কোন অনুশোচনা নেই।

কিন্তু, মনে রাখতে হবে, এইটারে কেন্দ্র কইরা জিয়ার উপরে 'হিংসা' উৎপাদন কোন পলিটিকালি মেচিওরড পক্ষ করবে না, বরং বর্তমান বিএনপির প্রতি অসন্তুষ্ট লোকেদেরও রাজনীতি হল, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার উপরে আস্থা প্রকাশ। এইটা খেয়াল রাখতে বলব সবাইকে। এবং সাবোটাজগুলোরে নজরে রাখতে বলব।

ভাবেন, এই ধরনের প্রচুর রেডি ফুটেইজ আছে, যখন হাসিনার সময়ে পথে পথে বিএনপির অফিসে এরকম হামলা ও ভাঙচুর করা হত। এগুলো এখন, সমন্বিতভাবে, বিভক্তি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব।

Show more
July 12, 2025
14 readers till now, 0 new visits today.

নাহিদ, হাসনাত, জারারদের যে দৃশ্য দেখছেন কয়েকদিন ধরে, ঠিক একই রকম দৃশ্য নিয়ে লিখেছিলাম এক এগারর সময়ে, খালেদা জিয়াকে নিয়ে। নাম ছিল, দগ্ধ থেকে বিদগ্ধতা। তখন, খালেদা নির্বাচনি প্রচারণায় গিয়ে গ্রামের কৃষকের ক্ষেতে ধানের শীষ হাতে নিয়ে কথা বলছিলেন। অশীতিপর বৃদ্ধ আনন্দে নেচে উঠেছিল। বিপরীতে, তখন, হাসিনা বুলেটপ্রুফ ঘেরোয়ায় বসে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।

আজ, কোন এক গ্রাম বা মফস্বলের একটা দৃশ্য দেখলাম, হাসনাত, জারা, সাররজিসহ আরো অনেকেই এক টঙের দোকানে চা খেতে খেতে আশে পাশের মানুষের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। আশ পাশের মানুষও প্রাণ খুলে কথা বলছে। হাসনাত জিগেশ করছে, বিএনপি জামাত ও আরো বিশ চব্বিশটা রাজনৈতিক দল তো বাংলাদেশে রাজনীতি করেছে, এখন আমরার থেকে, আমাদের রাজনৈতিক দলটা কেমন হওয়া উচিত, আপনারা কী চান এই এনসিপি থেকে? পরামর্শ দেন। পাশ থেকে একজন বলল, গাদ্দারি করা যাবে না। পরে, আর একজন মানুষ, লম্বা সময় ধরে কথা বললেন, উনারা কী চান।

আর একটা ভিডিওতে, এইটা, সম্ভবত সাঁওতাল এলাকা, কারণ নাহিদ সাঁওতালদের নিয়া আলাপ করছে, 'পরিচয়' নিয়ে। বলছে, আমরা নতুন দল, আমরা এখন দেশব্যাপি সবার কাছে যাইতেছি, আপনাদের কাছেও আমরা দোয়া চাইতে আসছি। গত পঞ্চাশ বছর আপনারা অনেক দলের কথা শুনেছেন, আমরা এখানে এসেছি, আপনাদের সমস্যা ও চাওয়াগুলো জানতে। এগুলো জেনে, এই দাবীগুলোই আমরা সরকারের কাছে জানাবো। এগুলোই আমাদের রাজনীতি হবে।

এরপরে, নাহিদ সংবিধান নিয়া কথাও কইতে চাইলেন, যেইটা, তার মতে, 'আইনের আইন'। মুজিবের দেওয়া সংবিধানে সবাইরে বাঙালি হয়ে যেতে বলা হইছিল, অথচ আপনার পরিচয় তো আপনি সাঁওতাল। আপনি বাঙালি হবেন কেন? প্রত্যেকে তার জাতি, তার ভাষা, তার ধর্ম পরিচয় নিয়ে থাকবে, এগুলো তো আলাদা আলাদা।

এনসিপির এই পদযাত্রায় প্রচুর মানুষ হতেছে। এই মানুষের সংখ্যা ধাধা ধরিয়ে দেবার মত। কিন্তু আমার আগ্রহ এই সংখ্যায় না। চেহারাগুলোতে। আর তাদের উচ্ছাসে। বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার পরে এরকম সুন্দর দৃশ্য যে আবার, অনেককে নিয়েই তৈরী হতে পারতেছে, জুলাইয়ের এই ডাইনামিজমের কথা কইতেছিলাম কয়েকদিন আগে। দুইটা ভিডিওই আমি কমেন্টে শেয়ার করছি। আর, খালেদারে নিয়া আমার এক এগারর সময়ের লেখাটা।

Show more
July 9, 2025
14 readers till now, 0 new visits today.

দেশে কিছু একটা হচ্ছে বোধ হয়। অন্তত লোকজনের কমেন্ট পড়ে মনে হয়। সম্ভবত, হাসিনার প্রেসিডেন্ট চুপ্পু পদত্যাগ বা অপসারণ হবেন। এর ভেতরে, সবচেয়ে অদ্ভূত হল, খালেদা জিয়ার প্রেসিডেন্ট হবার গুজব। পিনাকী ভট্টাচার্যের মত খোঁজ-খবর রাখা হেভিওয়েট এক্টিভিস্টও এর ইশারা দিযেছেন। কিন্তু, আমার মনে হল, জুলাই জাগরণের পরে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে কালারফুল প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। প্রেসিডেন্ট কেন?

June 30, 2025
15 readers till now, 0 new visits today.

'প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে' রোজার আগেও নির্বাচন সম্ভব, এইটা ইউনুসের প্রথম দিনের যে প্রস্তাবনা, ডিসেম্বর টু জুন, তার ভেতরেও ছিলই। কিন্তু এই প্রস্তাবনায় তারেকের একমত হতে পারার জন্য ইউনুসকে লন্ডন গিয়ে বৈঠক করতে হলো, এর আগে সবে মিলে 'অভৈব্যতা' বইলা থামানো, এইটাতে মতলবিদের ঘোঁট পাকানি ছিল ও খারাপ ঘটনা ছিল। এই একমত হতে পারাকে ডিলে করতে চেয়েছে, বা অসম্ভব করতে চেয়েছে পুরনো এসটাবলিশমেন্ট ও ইন্ডিয়ান ইন্টারেস্ট, সব সময়। তারেক, সম্ভবত, অজান্তেই এর ফাঁদে পড়েছিলেন, তাই তাদের ভাষায় কথা বলেছেন শেষদিকে। খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপ না হলে, হয়তো এখনও সম্ভব হত না।

এখন, কী 'প্রস্তুতি' সম্পন্ন হওয়া দরকার, নির্বাচনের আগেই, অন্তত যে প্রস্তুতি ছাড়া ইউনুসের নির্বাচনের দিকে যাওয়াই গুনাহ ও গর্হিত কাজ হবে, আসুন, তা ভাবি।

এক. কোন 'ইফস' এন্ড 'বাটস' ছাড়াই জুলাই ঘোষণাপত্র ও চার্টার এডপ্ট করতে হবে এবং কেবল তারে ফলো কইরাই নির্বাচন হতে হবে। এইটা, জুলাই পরবর্তি বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিশ্রুত দলিল ছিল,এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পলিটিক্যাল ডকুমেন্ট হতে দেওযা হয় নাই অসহযোগিতার মাধ্যমে, যাতে পুরনো এসটাবলিশমেন্ট টিকে থাকে। এই ডকুমেন্ট তৈরী হবার পরে, অভ্যুত্থানে সমর্থন করা ফ্যাসিস্ট বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্য ও প্রধানদের সাক্ষর, একই সাথে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষরের মাধ্যমে তা এডপ্ট করা হবে, যাকে প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে নতুন সংবিধান এডপ্ট না হওয়া পর্যন্ত, বা আইনে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত আইনের মর্যাদা দেওয়া হবে।

দুই. জুলাই ঘোষণাপত্র ও চার্টারে যা থাকতে হবে, তা হল, প্রথমত, জুলাই অভ্যুত্থান ও এর শহীদদের স্বীকৃতি। দ্বিতীয়ত, গণহত্যার বিচার ও ফ্যাসিস্টের রাজনীতির অধিকার প্রশ্নে স্পষ্ট পলিটিকাল সিদ্ধান্ত ও ফ্যাসিস্ট বিরোধী আইন প্রণয়নের ঘোষণা। তৃতীয়ত, ঐক্যমত কমিশনে একমত হতে পারা সংস্কারগুলোর বাস্তবাযনের জন্য আইন প্রণযন বা সংশোধনের ঘোষণা। চতুর্থত, উভয় ডকুমেন্ট এর সাংবিধানিক স্বীকৃতির গন্তব্য। পঞ্চমত, এবং সর্বশেষ, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে একই সাথে সংবিধান সভার নির্বাচন হিশেবে ঘোষণা দেওয়া, যেখানে নির্বাচিত সংসদকে এক বা দুই বছরের জন্য কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলি হিশেবে ঘোষণা করে জুলাই চার্টারে একমত হওয়া সংবিধানের সংস্কার প্রস্তাবগুলোর অনুসারে এসেম্বলির অধিবেশনে নতুন সংবিধান এডপ্ট করা হবে।

তিন. নির্বাচনের যে কোন রকম কার্যক্রম ঘোষণার আগেই জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমানভাবে স্পষ্ট হতে হবে। এই বিচার ছাড়া, কোন নির্বাচন বা পরিবর্তনই অর্থ তৈরী করে না। বরং বিচার না হবার, এবং নতুন গুম খুনের ক্ষমতা ও রাজনীতি তৈরী হবার সম্ভাবনাই কেবল জারি রাখে।

তো, এইসব কিছুই এত সহজে হবে না। যারা এই প্রস্তুতিরে জরুরি মনে করেন, যেমন এনসিপিসহ জুলাইয়ের নতুন দলগুলো এবং সংস্কারের পক্ষের দলগুলোকে মাঠে থাকতে হবে। এই ব্যাপারে, আমার মত হল, ছাত্রদেরকে ইউনুসকেও পাত্তা না দিয়ে, বা বিশ্বাস না কইরাই এগোতে হবে। কারণ, ইউনুস এখন সমঝোতার অবতার, এবং একটা দলের প্রধান এর সাথে একক গোপন বৈঠক থেকে ফিরেছেন।

এই ফিরে আসা ইউনুস আমাদেরকে কোনদিকে নিযে যেতে চান, তারে সন্দেহ করতে হবে। কারণ, জুলাই মানে একা তারেকের সাথে সমঝোতা মাত্র নয়, ছাত্রদের আত্মদান আর বিপ্লবও। যে বিপ্লবে স্বৈরশাসক হাসিনাকে পালাতে হয়েছে এবং কযেক হাজার ছাত্রকে হাসিনার সশস্ত্র বাহিনীর হাতে ব্রুটালি জীবন দিতে হয়েছে। ফলে, শুধু তারেকের সাথে নয়, এই বিপ্লবের সাথে সমঝোতা করতে হবে ইউনুসকে। এই সমঝোতা সম্পন্ন করেই, বা এনশিওর করেই কেবল নির্বাচনের দিকে যাওয়ার ঘোষণা আসতে পারে, তার আগে নয়।

Show more
June 13, 2025
15 readers till now, 0 new visits today.