unSocial

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উর্দু ও চাটগাঁইয়া বোল আমার বেশ পছন্দ ও মিষ্টি লাগে। তবে, উনার ডিসিপ্লিন বোধ হয় আইন, এই অধমের মত। ফলে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইন বিষয়ে কথা কওয়াটা উনার এক্সপার্টাইজের মধ্যেই পড়ে। এতে, বিরোধীদের তেমন কইরা আপত্তির কারণ দেখি না।

তবে, আইনমন্ত্রী যখন জনপরিসর ও সংসদে তার মন্ত্রণালয়ের প্রায় কোন জবাবদিহিতাতেও থাকেন না, এইটা একটা প্রশ্ন তৈরী হবার মত ঘটনাই। আইনমন্ত্রীকে কি অকার্যকর করে রাখা হইতেছে? কোথাও পড়েছিলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেব তারেক রহমানের গৃহশিক্ষক ছিলেন কখনো। যদি তাই হয়, এই ঘটনাটা, কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেবের উপরেই বড় ভরসা করছেন সবক্ষেত্রে তারেক রহমান, তার কারণ হিশেবে ভাবা যেতে পারে। এইটা, তারেক রহমানেরই অভিপ্রায় হবে। সেক্ষেত্রে, শিক্ষক হিশেবে তার প্রভাবরে, গত উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র উপদেষ্টাদের উপর তাদের শিক্ষক আসিফ নজরুলের মত হবার কথা। অবশ্যই, এইটা আপাতত অনুমানই কেবল।

তবে একটা নোক্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরে নিয়া শিলং ধরনের আপত্তিগুলো কুৎসামূলক ও অরাজনৈতিক। কোন কোন গোষ্ঠির এইসব আপত্তি, যাতে বিরোধীরা ঘুর্ণাক্ষরেও না আনেন, তাদের প্রতি অনুরোধ। এই ধরনের কুৎসাগুলো, যে কোন নায্য অবস্থানরেও অনায্য করে তুলতে পারে।

বরং, খেয়াল করলাম, তাদের আনিত প্রস্তাব অনুযায়ী জুলাই সনদ নিয়া ৩১ মার্চ আলাপের সময় দেওযার ঘোষণা দিছেন স্পিকার, দুই ঘন্টা। জুলাই সনদ ও গণভোট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এই আলাপে, তারা যাতে প্রস্তুতি নিয়া কথা বলতে যান, কেউ যাতে অনুপস্থিত না থাকেন সেদিন। খেয়াল করলাম, এই সংসদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী দলীয় নেতা, চিফ হুইপ, এমন কি ডেপুটি স্পিকারের জন্যও প্রথম সংসদীয় অভিজ্ঞতার স্কুল। শুরুতেই কেউ স্কুল ফাঁকি দিলে, এইটা খারাপ হবে।

Show more
March 29, 2026
12 readers till now, 0 new visits today.

জুলাই সনদ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি আত্মপ্রতারণা ও ছলনার রাজনীতি করছে। তবে, সন্দেহ করছি, জামাত এনসিপি জোট না হলে এইটা হত না। ধরুন, এনসিপি যদি বিএনপির সাথে জোট করত, ঠিক যেভাবে জোনায়েদ সাকির দল করল, এনসিপির একাংশ চাইল, এনসিপির পবিত্র সংস্পর্শে আইসা বিএনপি জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে ঐক্যমত কমিশনে তাদের দেওয়া কথা রাখত ও মাইনা নিত, জামাত যেভাবে মাইনা নিল।

March 15, 2026
12 readers till now, 0 new visits today.

অবৈধ হবার সিলসিলা কীভাবে কাজ করে, তার আলাপ করছিলাম। সুপারস্টার অনন্ত জলিলের ছবি দিলাম, দেখি, এই পোস্ট রিচ করল না। ফলে, হজরত প্রেসিডেন্টের এই স্কেচ খুঁজে নিলাম, গুগল থিকা। কোটটা অনন্ত জলিলের ছিল। তিনি কোথাও কইতেছিলেন, একটা মিথ্যা করলে মিথ্যা কথা বললে অনেক মিথ্যা করলে মানে অনেক একটা মিথ্যা কথা বললে ওইটা অনেকগুলা মিথ্যা আরো কথা বললে ঢাকার চেষ্টা করলে মিথ্যা মিথ্যাই থেকে যাবে।

তো, গণখভ্যুত্থান পরবর্তি শেখ হাসিনার প্রেসিডেন্ট, মানে একটা মিথ্যা সার্বভৌম থিকা একই সাথে হাসিনার বন্দুকের গুলির, তার বিচারের, ইন্টারিমের, ইন্টারিম কর্তৃক নির্বাচন ও গণভোটের, এবং সর্বশেষ, জুলাই সনদ ও নির্বাচিত সরকারের বৈধতা অর্জনের সমস্যাটা মূলত এই জাগাতেই, আপনারা খেয়াল করলে বুঝবেন। সবকিঁছুর পরে, মিথ্যা, মানে অবৈধ, মিথ্যাই, মানে অবৈধই থেকে যায়। সমস্যা হচ্ছে, এই অবৈধ হবার সিলসিলারে বহন কইরাই গর্দভরা খুশি।

Show more
March 11, 2026
35 readers till now, 0 new visits today.

ঐতিহাসিক নির্বাচনের পরে, আগামীকাল, ঐতিহাসিক দিনের বিসমিল্লাহ হবে হাসিনার ফেলে যাওয়া হযরত প্রেসিডেন্টের ভাষণ দিয়ে। অদ্ভূত ব্যাপার হল, ইনি জুলাইয়ের সময়ে হাসিনার গুলির নির্দেশের বৈধতা, ইন্টারিম কর্তৃক এর বিচার প্রক্রিয়া ও সংবিধান লংঘনের বৈধতা, এমন কি নির্বাচিত সরকারেরও শপথের একমাত্র বৈধতা হিশেবে বিরাজ করছেন। অথচ, একই সাথে হাসিনার গুলি আর আবু সাঈদের দাঁড়ানো বুকের বৈধতা যে এক হতে পারে না, তা গর্দভদের বোঝানোর চেষ্টা করে করে ক্লান্ত আমরা। তাদের কোন নীতিশাস্ত্র নেই। ধর্মও নেই। সামনের দিনগুলো কেমন যাবে, এইখান থেকে তার একটা ইশারা পাওয়া যাবে। সংসদের এই ছবিটি শেয়ার করলাম, যাতে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত তারা কীভাবে বহু শতাব্দীর পরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেন, তা যাতে তারা মনে রাখে।

যদি নাহিদরা তাদের আগের অবস্থানে অটল থাকেন, তারা প্রেসিডেন্ট এর ইমপিচমেন্ট এর প্রস্তাব করবেন, যদ্দুর ধারণা করতে পারি। জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে সারাদিন উত্তপ্ত আলাপ হবে, এইটাও তো, ধারণা করাই যায়। তবে, নিশ্চিত নই, এই আলাপগুলোতে কতটা জুড়ে থাকবে জুলাইয়ের গণহত্যার শিকার ছাত্ররা ও পঙ্গুরা, শহীদ বিশ্বজিৎ কুমার দাশ, শহীদ আবরার ফাহাদ বা শহীদ ওসমান হাদি। আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না, কোন গন্তব্যে পৌঁছাবে এই সংসদ শেষমেশ? সংবিধান সংস্কার পরিষদে যদি না পৌঁছানো যায়, কোথায় পৌঁছাবে সংসদ? বিএনপি, জোনাযেদ সাকি ও নুর কই নিয়ে যেতে চায় আমাদের?

ঠিক এই দুর্লভ মুহূর্তটিতেই, দেখবেন, টকশোগুলোতে আমাদের পুরনো বন্ধুরা, হাহা, আওয়ামীলীগের ফেরার আলাপ আনছে। এইটা ইন্টারেস্টিং। আওয়ামীলীগের ফেরা, এইটা, তাদের কারো কাছেই, গণহত্যার বিচার দূরে থাক, কোন এথিকাল ডিলেমার আলাপ হিশেবেও নেই। ছিঃ।

এইটা একটা সংকটই।

এই সময়টাতে, তরুণদের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর ভিডিও দেখলাম, রাজনীতির ক্লাস নিচ্ছেন। মানুষ অসম্ভব পছন্দ করছে হাসনাতের এই ক্লাস, কারণ এতদিন তাদেরে বঞ্চিত করা হইত। সরকার থিকা বরাদ্দ খেজুর, ভিজিএফ কার্ড ও দুম্বা ইত্যাদি কীভাবে আসে, কীভাবে আপনি পাবেন, তার হিশাব দিচ্ছেন হাসনাত। এইটারে, কেউ কেউ খেজুরমবও কইতেছেন, যা লুটেরা ও চোরদের বিরুদ্ধে একটা দঙ্গল তৈরী করতে সক্ষম। বইলা রাখি, এই দঙ্গুলে স্পিরিট, আমার পছন্দ হইছে।

হাসনাতরা আমাদের একটা স্পিরিচুয়াল গন্তব্যে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে, যে গন্তব্যে পুরনো ট্রেডিশনাল রাজনীতিগুলো নিতে সক্ষম হবে না, আমার এরকম একটা বিশ্বাস আছে। তারপরও, অধির আগ্রহে, আগামীকালকের অপেক্ষায় আছি আমি। বিএনপির এজতেমা আমাদেরে কই নিযে যাবার কথা ছিল, কই নিয়ে যাবে শেষমেষ?

Show more
March 11, 2026
33 readers till now, 0 new visits today.

বামপন্থিদের রাজনীতি হয় না। কিন্তু, ইসলামপন্থিদের রাজনীতি হয়? ধরুন, জামাতরে যদি ইসলামি দল বলি, বা ইসলামী ঐক্যজোটকে, তাদের রাজনীতি হল, বোকা বোকা, যে বিষয়ে রাজনীতি করাটা তাদের রাজনীতিরে হাস্যকর করে তুলবে, সেই রাজনীতিই তারা করবে, আরো গুরুতর রাজনীতিরে পাশে রেখে। উপদেষ্টা রেজওয়ানার বিষয়ে তাদের যে রাজনৈতিক প্রচারণা, এইটা যে মিসইন্টারপ্রিটেশন, রিজওয়ানা নিজে এবং আরো অনেকেই ধরিয়ে দিয়েছেন এবং তারপরও, এতদিন জামাত, এরপর, আজকে মামুনুল হক থিকাও, একই আওয়াজ শুনছি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়েও, তাদের স্ট্রং 'বিশ্বাস', একটা ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। কিন্তু, আমি দেখলাম, এইটা 'বিশ্বাস' বা গোয়েন্দা তথ্য পর্যন্ত থেকেছে। মানে, কন্সপিরেসি থিওরি। জামাত বা তাদের জোটে এই নিয়া কোন ডকুমেন্টেশন বা স্টাডি হাজির নাই। নির্বাচনে প্রতিপক্ষের জয় মেনে নেওয়ার একটা সৌন্দর্য আছে। যদি 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' নিয়ে এগার দলীয় জোটের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকে, আমি বলেছিলাম, তারা এই নিয়া রাজনীতিতে হাউকাউ তৈরী করলে তারে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পুরনো নজিরগুলোর অনুকরণ হিশেবে পড়বে সাধারণ মানুষ। মেনে নেওয়ার এই সৌন্দর্যটা হারাবে। বরং তারা তাদের বিজয়গুলোকে সেলিব্রেট করতে পারত বেটার ওয়েতে। তাদের কাছে মাঠ দখল কইরা রাখার বেটার টুল আছে, যেটি হল সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, যেইটাতে তারা নিরঙ্কুশ ভোটে জিতেছে। আর যদি, তাদের কাছে কথিত ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে, তারা এইটার একটা সাইলেন্ট অনুসন্ধানি রিপোর্ট করতে পারে দ্রুতই। যেমন, সংস্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর এজেন্টদের সাক্ষাৎকার, তাদের মতামত, কীভাবে রিপোর্ট তৈরীতে মেনিপুলেশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তারা নিজেদের গণনায় যা পেয়েছে, পরে তা পরিবর্তন হল কিনা, বা আদৌ কয়টা কেন্দ্রে তাদের লোক ছিল গণনার সময়ে, তাদের এজেন্ট ছিল কিনা সব কেন্দ্রে, এজেন্টদেরকে বের করে দেওয়া হইছে কিনা, ইত্যাদি। এইসব, নির্বাচন কমিশন রাজি না থাকলেও বোধ হয় করতে আইনি জটিলতা নেই। আমি সাধারণভাবে, রাজনীতিতে দরাজকণ্ঠদের যে কদর, তার ভক্ত না। ধিরস্থির যারা কথা কইতে পারে, তাদেরে গুরুত্বপূর্ণ ভাবি, দরাজকণ্ঠের চেয়ে। কিন্তু মামুনুল হক নির্বাচনের সময়ে তার যে দরাজকণ্ঠের হৈহুল্লোড়, তার থিকা দূরে সরে একটা বুঝদার রাজনীতি করতে পেরেছেন বইলা মনে হইছিল আমার। ফলে, নির্বাচনে মামুনুল হকের পরাজয় নিয়া তার প্রতি একটা হামদরদি ফিল করেছি। উনার কিছু স্টেইটমেন্ট দেখে আমার এও ধারণা, উনারে পরাজিত করা হইছে। কিন্তু, মামুনুল হকও, রেজওয়ানা নিয়া যখন কণ্ঠ মেলালেন, দরাজকণ্ঠদের নিয়া আমার মূল্যায়নে ফিরলাম। এখন পর্যন্ত, ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে সরব থাকলেও, রেজওয়ানারে নিয়া তাদের জোটের এনসিপির আওয়াজ নেই। এইটা ভাল। এনসিপির রাজনীতি যত দ্রুত জামাত থেকে পৃথক দেখা যাবে, তত মঙ্গল আমাদের।

Show more
March 7, 2026
14 readers till now, 0 new visits today.

পঞ্চম সংশোধনী ও জিয়াউর রহমানকে যে আদালত অবৈধ বলেছিল, সেই আদালত গণভোটকেও অবৈধ কইতেই পারে। পঞ্চম সংশোধনী ও জিয়ারে অবৈধ কওয়ায় যাদের সমস্যা নেই, গণভোট অধ্যাদেশকেও অবৈধ মানতে তাদের সমস্যা নেই। তবে, আমি মনে করি, গণভোটরে অবৈধ কওয়া জুরসিপ্রুডেন্স সাপোর্ট করে না। আর একটা সমস্যা হল, কোন আদালতই, পঞ্চম সংশোধনী না হলে যে চতুর্থ সংশোধনীর বাকশালে থাইকা যাইত দেশ, তার সুরাহা করে না, তারে নিয়া চুপ থাকারেই নিয়তি ঠিক করে দিয়েছে। ফলে, জুলাই সনদ বাদ দিন, একটা পাথরের মত রিজিড সংবিধান রাইখা হাসিনার পতন পরবর্তি যে পরিস্থিতি, তারে উৎরানোর পথ কী, তারে নিয়া সুমটো কথা কইবে না আদালত। এমন কি এই সংবিধানের এই বাইবেল ও একাট্টা মুজিবিকরণের টাইমেও, হাইকোর্টের সুমটোর নজির নেই। যেহেতু হাইকোর্ট কথা কইবে না, তারে নিয়া কথা কওয়ার দায়িত্ব জনগনের। গণভোট হল জনগনের এই কথা কওয়ার ব্যাপারটাই। ফলে, এইখানে হাইকোর্টের এখতিয়ার নেই, বরং হাইকোর্টের কর্তব্য হল, গণভোটে প্রকাশিত জনগনের কনসেন্টরে প্রটেক্ট করা।

Show more
March 3, 2026
14 readers till now, 0 new visits today.

একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় বলি। ১৯৯১ সালে তৃতীয় গণভোটের আগে বাংলাদেশে গণভোট আইন হয় নাই। জিয়া ও এরশাদ উভয়ের আস্থা যাচাই ভোট প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে হয়েছে। ঠিক যেভাবে এখনকারটা হল। তো, আমার মতে, গণভোট অর্ডিনেন্স নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন হচ্ছে, তার ভিত্তিতে হাইকোর্ট পূর্ববর্তি গণভোটগুলোরেও, যেমন, জিয়া ও এরশাদেরটারেও অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। তবে, আমার মতে, তৃতীয়টারেও করা সম্ভব। কীভাবে বলি।

এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন এরশাদ। তো, এরপরের নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ২ জুলাই সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল ১৯৯১ উত্থাপন করে। এই সংশোধনীতে গণভোট এর বিধান প্রস্তাব করা হয়, যা সংসদে সংসদে বিপুল ভোটে গৃহীত হয়। এরপরে, যেহেতু সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন, মানে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে, এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেবে কিনা, এই প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

এখানে তিনটা বিষয় খেয়াল করার মত। এক. সংসদের উপরেও সুপেরিয়র হিশেবে বিবেচিত হল গণভোট। এই সুপেরিয়রিটি কেউ চ্যালেঞ্জ করে নাই। দুই. রাষ্ট্রপতিও কনসেন্ট দেবেন কিনা, তা গণভোটের রায় দিয়ে নির্ধারিত হচ্ছে। তিন. গণভোটের আইন পাশ হবার আগেই আগের দুইটা গণভোট, এবং তৃতীয় গণভোটটিও, সংসদের আইনে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রদান, মানে পাশ হবার আগেই অনুষ্ঠিত হয়। ফলে, দ্বাদশ সংশোধনী ও গণভোটেরও আইনত ভিত্তি হল একমাত্র গণভোট। খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে যে এই গণভোটের বিধান যুক্ত হল সংবিধানে, সেই বিধান ও দ্বাদশ সংশোধনীও, কেবল গণভোটের রায়ের অনুসারেই বৈধ। নাহলে অবৈধ হতে বাধ্য।

আরো বলি, এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ‘তিন জোটের রূপরেখা’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে গৃহীত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার পর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সম্মতি দেবেন কি না, সে প্রশ্নে দেশব্যাপী গণভোট আয়োজনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন, এই এরশাদের পতনের পরের ইভেন্টরে, শেখ হাসিনার পতনের পর পড়তে পারেন। তিন জোটের রূপরেখারে, জুলাই সনদ আকারে পড়তে পারেন। হাসিনার পতনের পরে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তো, এইসব মিলায়ে পড়তে পারলে, বাংলাদেশে সংবিধান ও আইন ব্যবসায়িরা, এইখান থিকা আবার আমার এই পোস্ট পড়া শুরু করতে পারেন। বা হেফজও করতে পারেন।

Show more
March 3, 2026
14 readers till now, 0 new visits today.

বহুত জল ও পানি গড়াল। এলা, আসুন, ভাবি। এগার দলের সাথে এনসিপির নির্বাচনি এলায়েন্সটা 'ভুল' বা 'ইভিল' প্রমাণিত হইল কি? আমার মতে, না। গণভোটের আগে এবং পরে তাদের এগার দলীয় জোট যে অবস্থানে দাঁড়াতে পারল, আর বিএনপি যে অবস্থানে দাঁড়ানোরে ফরজ মনে করল, তার প্রেক্ষিতে, এনসিপির এগার দলীয় এলায়েন্সে যোগ দেওয়া তেমন কইরা ভুল হল না, যদি বিএনপির সাথে হত, তার তুলনায়৷ এইখানে ফুটনোট দিতে চাই, একটা নির্বাচনি এলায়েন্সের ফলাফল যদি নিজের কোন রাজনীতি না থাকা মনে করেন কেউ, বা জামাতের সাথে জোট হারাম ধরনের যে ধর্মীয় ও ধর্মহীন মৌলবাদীদের ফতওয়া ও ছুঁতমার্গ, তাদের থিকা আলাদা হইতে চাই এই তর্কে। ধরুন, গণসংহতি, একটা মন্ত্রীত্ব নিয়েই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বিএনপির সাথে সুর মেলাল, তার চাইতে, যাদের অলরেডি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রাজনৈতিক দাবী আছে, তাদের সাথে যাওয়াই তো ভাল, যদি জোট করতেই হয়। যেহেতু এনসিপি জুলাই সনদ নিযে কমিটেড। এর বাইরে, আমি এখনো আগের এই অবস্থানে আছি, যে, এনসিপি নিজের আলাদা অবস্থান তৈরী করাটাই বেটার রাজনৈতিক মুভ হইত, জোটে যাওয়ার চেয়ে। এতে তাদের ভোট সেই অর্থে কমত না। বরং, হয়তো আরো বড় ঘটনা ঘটতে পারত। কীভাবে, এইটা নিয়ে, পরে আলাদা আলাপ করবো।

Show more
February 18, 2026
11 readers till now, 0 new visits today.

নির্বাচনে প্রতিপক্ষের জয় মেনে নেওয়ার একটা সৌন্দর্য আছে। যদি 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' নিয়ে এগার দলীয় জোটের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকে, আমার মতে, তারা এই নিয়া রাজনীতিতে হাউকাউ তৈরী করলে তারে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পুরনো নজিরগুলোর অনুকরণ হিশেবে পড়বে সাধারণ মানুষ। মেনে নেওয়ার এই সৌন্দর্যটা হারাবে।

বরং তারা তাদের বিজয়গুলোকে সেলিব্রেট করতে পারে বেটার ওয়েতে।

তাদের কাছে মাঠ দখল কইরা রাখার বেটার টুল আছে, যেটি হল সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, যেইটাতে তারা নিরঙ্কুশ ভোটে জিতেছে।

আর যদি, তাদের কাছে কথিত ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে, তারা এইটার একটা সাইলেন্ট অনুসন্ধানি রিপোর্ট করতে পারে দ্রুতই। যেমন, সংস্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর এজেন্টদের সাক্ষাৎকার, তাদের মতামত, কীভাবে রিপোর্ট তৈরীতে মেনিপুলেশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তারা নিজেদের গণনায় যা পেয়েছে, পরে তা পরিবর্তন হল কিনা, বা আদৌ কয়টা কেন্দ্রে তাদের লোক ছিল গণনার সময়ে, তাদের এজেন্ট ছিল কিনা সব কেন্দ্রে, ইত্যাদি। এইসব, নির্বাচন কমিশন রাজি না থাকলেও বোধ হয় করতে আইনি জটিলতা নেই।

Show more
February 18, 2026
11 readers till now, 0 new visits today.

টু থার্ড মেজরিটি আর গণভোট আলাদা ভোট। দুইটার কারণ ও গন্তব্য আলাদা। একটা শাসনতন্ত্র ঠিক করবে, আর একটা, কারা শাসন করবে, তা ঠিক করবে, আর আইন বানাবে। মনে রাখবেন, জুলাই সনদ হল শাসনতন্ত্র, আইন না। একটারে দিয়া অন্যটারে মোডিফাই করা গেলে গণভোট লাগত না। আরো মনে রাখবেন, নীতিশাস্ত্র অনুযায়ীও এবসলিউট ম্যান্ডেটরে টু থার্ড মেজরিটি দিয়া বাতিল বা মডিফাই সম্ভব না। তার জন্য আর একটা এবসলিউট ম্যান্ডেট লাগবে। মানে, আর একটা গণভোট।

February 15, 2026
10 readers till now, 0 new visits today.

জুলাই সনদ মানেই কেবল উচ্চকক্ষ নিম্নকক্ষ না, যেইটা আপনারা সবাই ভুল করেন। উচ্চকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের প্রপোরশনেইট রিপ্রেজেন্টেশন না হলে, মানে, নোট অব ডিসেন্ট দেওযা পক্ষ যদি মানতে না চান, তাহলে উচ্চকক্ষ হওযার তো না হওযার চেযে অধিকতর কোন অর্থ নেই৷ আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষ অনর্থক, এইটা ভুয়া জিনিশ। ফলে, এরকম পরিস্থিতে উচ্চকক্ষ না হওযার দিকেই যেতে পারে বইলা আমার অনুমাণ। হুদাই কিছু অতিরিক্ত আসন ও বেতনসহ সংসদের কামলা বাড়িয়ে আমাদের কাজ কী? এইটা তো, পুরোপুরি টাকা লুটপাটের স্ক্যামই।

February 14, 2026
11 readers till now, 0 new visits today.

এই নির্বাচনে আমি কিছু মন খারাপসহই অসম্ভব খুশি। কারণ, ইতিহাসের সবচাইতে সফল ও স্মরণীয় ভোট হল। দুই. হাঁ এগিয়ে আছে। এইটা আমার 'মার্কা'। হাঁ এর জয় মানে নিরঙ্কুশভাবে এদেশের জনগনের এবং ছাত্রদের জয়। আমরা এবার সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করবো।

এই নির্বাচনে বিএনপি ভাল আসন নিয়ে জিতবে, এটাই পরশুদিন লিখেছিলাম, এইটা ইতিহাসের বহু দিনের ডিউ ছিল। তারেক রহমানের অধীনে বিএনপির প্রথম ভোট এটি। বিএনপির যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের মধ্যে আলাদা কইরা দুজনের ভয়েস আমার নজর কেড়েছে, মিডিয়াতে কম এসেছে বা আসেই নাই উনাদের নাম। এক. এহসানুল হক মিলন, আর দ্বিতীয় হল, গুমের শিকার হুম্মাম, সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র। আমি জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ভয়েস আরো বড় হোক, চাই। বিএনপি আরো উচ্ছাসভরে জিততে পারত, যা দুইটা বড় ইস্যুতে দুর্বল হয়েছে বলে আমি মনে করি। জুলাই নিয়ে ঐতিহাসিক হীনমন্যতা প্রদর্শন ও গণভোট নিয়ে লুকোচুরি। আমি মনে করি, উভয়ই বিএনপির দুর্বল রাজনীতি ছিল। এই দুর্বল রাজনীতি সত্বেও বিএনপির যে বিজয় হল, এই ঘটনারে স্বাভাবিকতা বা একটা ভেকুয়ামের স্থিতাবস্থা হিশেবে পড়তে পারেন, বিএনপির কোন পলিসির সফলতা হিশেবে পড়া যাবে না। এইটা সামনের দিনগুলোতে আরো পরিস্কার হবে।

দ্বিতীয়ত, জামাতের ঘটনা হল, দীর্ঘ আওয়ামী নির্যাতনের ভেতরেও তাদের ভোট ও আসন উভয়ই যথেষ্ট বেড়েছে, ঠিক কতটা বাড়ছে, দুপুর হতে হতে পরিস্কার হবে। আমি আশা করবো, ৭০ থেকে ৮০ পর্যন্ত হতে পারে, বা আরো অর্প কম। এই নির্বাচনে যারা জিতলেন, তাদের মধ্যে গুমের শিকাররাও আছেন, যেমন মীর কাশেমপুত্র, এইটাতে আমি খুশি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে, দ্বিতীয় বৃহত্তর দল হিশেবে আবির্ভূত হল, এটাই এই দলটির সাফল্য। জামাতের ডাক্তার শফিক তাদের এই সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে পারেন। এগার দলীয় জোট গঠনে এই ভদ্রলোকের পরিশ্রম ও জামাতের উদারিকরণে এই ভদ্রলোকের ভূমিকা আমার নজর কেড়েছে। সম্ভবত আরো অনেকের নজরে পড়ে থাকবে এই ঘটনা। তবে, সামনের দিনগুলোতে কেমন হবে বলা যায় না।

এই নির্বাচনে নাহিদের দল এনসিপি সবচেয়ে আকর্ষণীয় সফলতা দেখিযেছে। মানুষের আগ্রহ ও দরদের সবটা তারা পেয়েছে, এইটা বাংলাদেশের নতুন দিনের রাজনীতি নিয়া অনেক কিছু বলে। বহু পুরনো বিএনপি ও জামাতের তুলনায় তাদের প্রতি মানুষের রেসপন্স প্রগ্রেসিভ। এইটাতে আমি খুশি। নাহিদের দলের হয়ে আমার অত্যন্ত পছন্দের অনেকেই এইবার সংসদে যাচ্ছেন। অন্তত যে নামগুলো জানতে পারছি, নাহিদ, আখতার, হাসনাত, আব্দুল্লাহ আল আমিন, এরা সবাই নতুন সংসদের সৌন্দর্য হবে। শুধু তাই নয়, তারা এর পরে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও সবচাইতে প্রগ্রেসিভ সদস্য হবেন। আমরা তাদের সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ চাই। এই দলের নেতা ও গণঅভ্যুত্থানের নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন।

আর, আলাদা কইরা নাসির উদ্দিন পোটাোযারি।

এই নির্বাচনে সবচেয়ে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন নাসির। তিনি এনসিপির হলেও আলাদা কইরা ম্যানশন করার ব্যাপার আছে। উনারে তিন হাজার ভোটে পরাজিত ঘোষণা করার ঘটনা যদি সত্যানুগ হয়ও, ঢাকা আটে মূলত উনিই জিতেছেন, উনার প্রতিদ্বন্দ্বী না। এর কারণ, খুব গভীর। ঢাকা আটের মানুষ নাসিরের শ্রম, ডেসপারেটনেস ও সরলতাকে নিয়েছে। আর, তার চাইতে বেশি হাদির খুনকে মনে রেখেছে। এইটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও রিভেঞ্জ। আশা করি, পুরনো গডফাদাররা মনে রাখবেন। এই আসনে দীর্ঘক্ষণ ভোট আটকে রাখার, আব্বাস পত্নীর খবরদারির এবং মেনিপুলেশনের অভিযোগ এসেছে। এখানকার ভোট গণনারে চ্যালেঞ্জ করা উচিত নাসির ও এনসিপির। তবে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নাসির বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় জায়গা করে নিয়েছে। নাসিরকে অভিনন্দন।

সর্বশেষ, আমি অসম্ভব খুশি হতাম, যদি দিলশানা পারুল জিততেন। উনি সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও শ্রম দিয়ে লড়েছেন। উনি যদি বিজয়ী হতেন, উনার বিজয়রে আমি সেলিব্রেট করতাম। তবে, উনার পরাজয়রেও ঠিক পরাজয় বলা যায় না। দিলশানার চেহারারে, তার এলাকার মানুষ স্মরণে রাখবে, আমার ধারনা। অভিনন্দন, দিলশানা।

Show more
February 13, 2026
11 readers till now, 0 new visits today.

কারে ভোট দেবেন? গ্রামে ফিরতে ফিরতে, গাড়িতে বইসা এই নোট করছি। বাইরে রাত গভীর হতেছে৷ কালই তো ভোট। এইটা নিশ্চয় ঠাণ্ডা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সময় না। আপনারা তো নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন, এই লেখা আমাদের সেইসব বন্ধুদের জন্য, যারা এখনো আমার মতই এথিকাল ডিলেমাগুলোরে গুরুত্ব দেওয়া দরকার মনে করেন৷ তো, এই নোটটি হয়ত সেইসব ডিলেমারে বাড়িয়েই দিতে হেল্প করবে। দেখা যাক। প্রথম যে ঘটনাটি আমারে ভাবাচ্ছে, এই ভোট নাগরিক হিশেবে আমাদের কনফিউশনগুলোর জবাব দিতে সক্ষম কিনা, আমি নিশ্চিত না। যেমন, গণভোটের উদ্দেশ্য ও কারণরে মানুষের কাছে পরিস্কার করতে স্পষ্টভাবে ব্যর্থ হইছেন ইউনুস ও রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে, গণভোটের যে ফলাফল, তা তেমন কইরা মানুষের মতামতকে ধারণ করতে সক্ষম না, আমার পর্যবেক্ষণ বলে৷ আমার এথিকস বলে, ইউনুসের এই ব্যর্থতা বা রাজনৈতিক দলগুলোর এই ক্ষেত্রে অনিহারে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের রাতের ভোটগুলোর গন্তব্য স্পষ্ট ছিল। এখন যে ভোট হতেছে, তার গন্তব্য স্পষ্ট না।

বাংলাদেশে এখন তিনটা সেকুলার দল নির্বাচনে। এনসিপি, বিএনপি ও জামাত। অবাক হয়েন না, জামাত যে একটা মোটামুটি সেকুলার দলই, কোন ধর্মরাষ্ট্র বা শরিয়া তাদের গন্তব্য না, এরকম একটি ধারণা তারা নিজেরাই দেওয়ার চেষ্টা করেছে নানান ভাবে। জামাতের এই দাবীর অথেনসিটি নিয়া সন্দেহসহই আমি তাদেরে লক্ষ্য করতে চাই। আমি খেয়াল করেছি, বহু বছর ধইরা হাসিনার অধীনে টিকে থাকতে গিয়ে তারা মানুষের কাছে যাবার ও সেকুলার হয়ে উঠতে চাওয়ার এই মেচিওরিটি অর্জন করেছে। এইটা, আমার ধারণা, তারা খালেদা জিয়ার বিএনপি থেকে শিখেছে। ফলে, জামাতের ছাত্রসংগঠন বিষ্ময়করভাবে প্রায় সবকটি ছাত্রসংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছে, যেখানে তাদেরকে ভোট দেওয়া সবাই তাদের সমর্থক হবার সম্ভাবনা অতি কল্পনা হবে। তবে, এখন, জাতীয় নির্বাচনে জামাতের বিজয়ের যে হাইপ উঠতেছে, তারে আমার রিয়েলিটির চাইতে প্রচারণার রাজনীতিই মনে হয়। তাদের সফলতা হল, তারা এই রাজনীতিগুলো দিয়ে জনগোষ্ঠির বড় অংশকে ভালো প্রভাবিত করতে পেরেছে। আগে সাধারণ মানুষ বিএনপির কথা কইত, এখন, প্রায়ই খেয়াল করি, দাঁড়িপাল্লা পরিচিত হয়ে উঠেছে। এর দুইটা কারণ হতে পারে। তাদের জনসমর্থন বেড়েছে। অথবা, রিকসাওয়ালা বা গরিব শ্রেণীর ভেতরে তাদের কাজ বেড়েছে। তবে, জাতীয় নির্বাচনরে ছাত্র সংসদের মত ম্যাজিক হিশেবে না ভাবলে, আমার অনুমান হল, বিএনপি ভাল আসন নিয়ে জিতবে। তবে, বিএনপির এবসলিউট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়া আমার ভয় আছে। আমার বুঝমতে, জামাতের এবসলিউট সংখ্যাগরিষ্ঠতা সম্ভব না তেমন কইরা। সম্ভাবনা থাকলে, এইটাও ভয়ের ব্যাপার হইত।

ভোটার হওয়ার পর থেকে, প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়াই ধানের শীষ ছাড়া অন্য কোথাও ভোট দেই নাই আমি। যদিও কখনোই বিএনপি বা এই ধরনের কোন নির্দিষ্ট পার্টির সমর্থক থাকা সম্ভব না আমার পক্ষে। তা সত্বেও, সেই সময় আমাদের প্রতিপক্ষ ও ইভিল পরিস্কার ছিল। হাড়ে মজ্জায় সাম্প্রদাযিক বাঙালি জাতীযতাবাদ, ফলে জিয়া বাংলাদেশি পরিচয়রে সামনে নিয়ে আসল। আর, একটা দীর্ঘ সময় বিএনপি ছিল মজলুম। ফলে নির্বাচনের সময়ে তাদের সাথে আমার, বা আমাদের বন্ধুত্বগুলোও পরিস্কার ছিল। এখন এইটা অত পরিস্কার না আসলে। বিএনপি বা তারেকের ব্যর্থতা হল, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও তাদের নয়া বন্ধুত্বের চরিত্র কেমন, এইটা পরিস্কার করতে ব্যর্থ হইছেন উনারা। গণভোটের মৌলিক পরিবর্তন নিয়া স্পষ্ট কথা কইতে দ্বিধাগ্রস্ত থেকেছে দীর্ঘ দিন, আবার, তাদের ইশতেহার হাঁ এর প্রস্তাবনাগুলোর বিপক্ষে। বিপরীতে, এগার দলীয় জোট এই ক্ষেত্রে রক্ষণশীল ছিল না। সংস্কার প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিতে পেরেছে, শুরু থেকেই। শুধু এগার দলীয় জোট না, অন্য ইসলামী দলগুলোও। কিন্তু, একটি অতীতে ধর্মরাষ্ট্র চাওয়া দল নিয়া আমার অস্বস্তি আছে। তাদের ভেতরকার একটা দ্বন্দ্ব আমি খেয়াল করি, একাত্তর ইস্যুতে, যেইটা তারা সমাধান করতে ইচ্ছুক না। নারী প্রশ্নে প্রগ্রেসিভ অবস্থান নিতে না পারার ব্যাপার আছে। যদিও নাহিদ ইসলাম কোন একটা ইন্টারভিউতে পরিস্কার করেছেন, তাদের জোট ক্ষমতায় আসলে ধর্মরাষ্ট্র হবে না৷ আবার, নির্বাচনের আগে আগে বিএনপির মাসলপাওযার ও হুমকিগুলো অতীত আওয়ামীলীগকে মনে করিয়ে দেয়। তবুও, আমার ভোট এ বছর বিএনপি বা জামাত উভযেরই না পাওযার যথেষ্ট সম্ভাবনা ও কারণ হাজির আছে। আমার আসনে এনসিপি থাকলে চোখ বন্ধ কইরা এনসিপিরে ভোট দিতে পারতাম, অতীতে যেভাবে বিএনপিরে দিতাম।

ভোটকেন্দ্রে যদি শেষমেষ সুস্থ শরীরে পৌঁছাতে পারি, বিসমিল্লাহ বইলা এইসবই মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেব, যদি আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন। আমি চাইব, উনিশ শ তিয়াত্তর সালে রাষ্ট্র বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচনে প্রফেসর আনিসুজ্জামানের যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, আমার সেই অভিজ্ঞতা না হোক। উনি নিজের ভোট দিতে পারেন নাই, উনার ভোট মুজিব দ্বায়িত্ব নিয়া দিয়ে দিছিলেন। আপাতত, আমার আকাঙ্ক্ষা থাকবে, আমার ভোটটি যাতে আমিই দিতে পারি, মুজিব আইসা না দিয়ে যান। এরপরে, শাসন ক্ষমতায় কে আসবে, তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হল, নির্বাচনে যে দলই জিতুক, বিএনপি বা জামাত, তাদের কাছে আশা থাকবে, তারা অন্তত এই দুই বছরের সমন্বিত অর্জন, জুলাই সনদ থেকে পেছাবে না। তবে, এইটারে লিমিট হিশেবে নেবে না, সামনে এগুবে। প্রত্যেক দলই একটা ভাল বিরোধী দল হিশেবে থাকার প্রস্তুতি নেবে, যদি পরাজিত হয়। বিএনপি বা জামাত, কাউরে নিয়াই আলাদা কইরা আমার কোন রক্ষণশীলতা নেই, উভয়ের ব্যাপারেই স্পষ্ট দ্বিধা আছে আছে। এই দ্বিধাগুলো তারা দূর করবে। আমাদের সামনে নানান রকম ধর্ম কইরা তোলা গৃহযুদ্ধের কুয়ারে বড় কইরা তুলবে না উভয়েই। ভবিষ্যতের পথ স্পষ্ট করবে, অতীতে ফিরে যাওয়ার গলি ঘুপচি না। শুভ ভোটিং। আর, অবশ্যই হাঁ ভোট দেবেন।

ছবি: বাড়িতে পৌঁছুলাম শেষমেষ। এইটা আমাদের ঐতিহাসিক পুকুরঘাট, হাওয়াখানা নাম।

Show more
February 11, 2026
39 readers till now, 0 new visits today.

আগামীকাল যে দলই জয়ী হবে, বলপ্রয়োগবিহীন ও অংশগ্রহণমূলক ভোটের ঘটনা যদি ঘটে, এইটারে ইন্টারিম বইলা এই কিম্ভূত সরকার আর আলাদা কইরা ইউনুসেরও বড় অর্জন কওয়া যায়। গত বহু বছর ধরে এই জিনিসটারই সবচেয়ে বড় অভাব ছিল, রীতিমত অভ্যুত্থানের মত ব্যাপার ঘটাতে হইছে এদেশের তরুণদেরকে, স্রেফ ভোটের মত প্রাথমিক গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য। অথচ নির্বাচন একটা নিরীহ, 'সুশীল' ব্যাপারই, যারে আমাদের কিছুটা ঠাট্টা করারই ব্যাপার মনে হইত, সর্বরোগের মুশকিলে আসান ধরনের কিছু না। আমাদের আরো গুরু পথ পাড়ি দেওযার ব্যাপার আছে। মতাদর্শিক ধর্মযুদ্ধগুলো টেরুনোর ব্যাপার আছে, যেইটারে আমি মুজিবের তৈরী করে দেওযা ধর্মযুদ্ধ বলি। স্রেফ নির্বাচন দিয়ে যে কিছু হয় না, এইটা আমরা প্রায়ই সাধারণ সময়ে নির্বাচনের ফলাফলগুলো দিয়েই বুঝতে পারি। এইটা পার্টিসিপেটরি গণতন্ত্রের লিমিট। ফলে, এর বাইরে এগুতে সমর্থ থাকতে হবে আমাদের, বিশেষ করে তরুণদের। আমরা যে একটা নতুন সংবিধানের কথা বলেছি, এখনো বলি, এইটা এই লিমিটরে অতিক্রম করার ব্যাপার। ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাও তাই। রাষ্ট্র গঠনে আমাদের যে সোশাল কন্ট্রাক্ট, তারে ধরতে, ছুঁতে পারার ব্যাপার আছে। আমাদের মুক্তিগুলোকে গন্তব্য দেওয়ার ব্যাপার আছে। ফলে, নির্বাচনে যে দলই জিতুক, বিএনপি বা জামাত, তাদের কাছে আশা থাকবে, তারা অন্তত এই দুই বছরের সমন্বিত অর্জন, জুলাই সনদ থেকে পেছাবে না। তবে, এইটারে লিমিট হিশেবে নেবে না, সামনে এগুবে। প্রত্যেক দলই একটা ভাল বিরোধী দল হিশেবে থাকার প্রস্তুতি নেবে, যদি পরাজিত হয়। আমাদের সামনে নানান রকম ধর্ম কইরা তোলা গৃহযুদ্ধের কুয়ারে বড় কইরা তুলবে না। ভবিষ্যতের পথ স্পষ্ট করবে, অতীতে ফিরে যাওয়ার গলি ঘুপচি না। শুভ ভোটিং। হাঁ ভোট দেবেন।

Show more
February 11, 2026
13 readers till now, 0 new visits today.

আমাদের দরকার নতুন তর্কে ঢোকা, পঁচা গলিঘুপচি থিকা বেরুনো। হাঁ জয়ী হওয়ার ব্যাপারটা হল, আপাতত একটা এইরকম ছোট সুকুনে আসতে পারা, আর কিছু না। এইটাই টানেলের শেষ প্রান্ত না। শুরু কইতে পারেন। পুরনো রক্ষণশীল ব্যবস্থাগুলো, যেমন হাড়ে মজ্জায় সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী আওয়ামী রুচি ও ভেল্যু ব্যবস্থার উপরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বাম এর রাজনৈতিক তর্কগুলোর যে ব্যাকবোন, আর, রাষ্ট্রবাদী ও মৌলবাদি ইসলাম ঘরানায় প্রচলিত গণখবরদারি ও তর্কগুলোরও যে ব্যাকবোন, উভয়ই একটু ভাঙবে, আর তার থিকা আপাতত দূরে বইসা ভাববার ফুরসত পাবে পক্ষগুলো, যদি জুলাই সনদ সবার একটা আপাত সুকুন ও জিরোনোর জায়গা হিশেবে জয়ী হয়। এই পরিবর্তন এমন হবে, স্রেফ সংখ্যাগরিষ্ঠের দোহাই দিয়ে একটা সাধারণ সংসদ থামিয়ে দেবে না। আমরা মুজিবের তৈরী করে দেওয়া ধর্মযুদ্ধ ও পুরনো রক্ষণশীল ব্যবসাগুলোর কারাগার থিকা দূরে বইসা আমাদের নতুন তর্কের ফুরসত পাব। যদিও, এইটা একটা ইমাজিনেশন হিশেবেই বিরাজ করছে এখনো, ঠিক সম্ভাবনা আকারে তেমনটা না। এখন থিকা, গণভোট নিয়া আলাপে এই শেষের লাইনটা থাকবে।

Show more
January 27, 2026
10 readers till now, 0 new visits today.

আবারো বলছি। গণভোটে সরকারের কর্তব্য হল, সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও প্রচার সুবিধা ব্যবহার করে সরকার হাঁ এর পক্ষে ভোট চাইবে এবং এই ভোটে অতি অবশ্যই জিয়াউর রহমানের মতই ৯৮.৯% ভোট হাঁ এর পক্ষে আনার ব্যবস্থা করবে। একই সাথে জাতীয় নির্বাচনে নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থিকে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করবে। কারণ—

গণভোট হল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এবং এর প্রধান এবং একমাত্র পক্ষ অবশ্যই সরকার। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম গণভোটের প্রশ্ন ছিল, 'রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বি, উ এবং তাঁর অনুসৃত নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি আপনার আস্থা আছে কি?'। এই ভোটে ৯৮.৯% হাঁ ভোট পড়েছিল, এবং এই রেজাল্ট তুলে আনার জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্ভব সব প্রচারণা ও উপায় অবলম্বন করেছেন, ইতিহাসে পাবেন। ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে এ বছরের যে গণভোট, এইটারও গন্তব্য হল, সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের উপরে, জুলাই সনদে, মানে গণঅভ্যুত্থানের উপরে জনগনের আস্থাকে হাজির করা। এই গণভোটেরও একমাত্র পক্ষ সরকার। কিন্তু, আমি দেখছি, জুলাই সনদ নিয়া যে গণভোট, এই গণভোটে হাঁ এর পক্ষে সরকারের তেমন প্রচারণা হাজির নেই। কেন? নিজেরে নিয়া কইতে লজ্জা লাগে? লজ্জা লাগলে, জিয়াউর রহমান থিকা শিক্ষা নেন। গণভোট কোন সাধারণ নির্বাচন নয়, এমন কি স্রেফ নির্বাচন কমিশনের ইচ্ছাধীন কোন ঘটনা নয়। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানমতে, এই নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের কোন বিধি ও নিষেধ খাটবে না। ফলে, গণভোটে হাঁ এর পক্ষে সবরকম জনসমাগম ও মিছিল করুন সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। হাঁ এর পক্ষে এগ্রেসিভ প্রচারণা করুন, জিয়াউর রহমানের মত।

Show more
January 22, 2026
31 readers till now, 0 new visits today.

গণভোট হল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এবং এর প্রধান এবং একমাত্র পক্ষ অবশ্যই সরকার। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম গণভোটের প্রশ্ন ছিল, 'রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বি, উ এবং তাঁর অনুসৃত নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি আপনার আস্থা আছে কি?'। এই ভোটে ৯৮.৯% হাঁ ভোট পড়েছিল, এবং এই রেজাল্ট তুলে আনার জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্ভব সব প্রচারণা ও উপায় অবলম্বন করেছেন, ইতিহাসে পাবেন। ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে এ বছরের যে গণভোট, এইটারও গন্তব্য হল, সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের উপরে, জুলাই সনদে, মানে গণঅভ্যুত্থানের উপরে জনগনের আস্থাকে হাজির করা। এই গণভোটেরও একমাত্র পক্ষ সরকার। কিন্তু, আমি দেখছি, জুলাই সনদ নিয়া যে গণভোট, এই গণভোটে হাঁ এর পক্ষে সরকারের তেমন প্রচারণা হাজির নেই। কেন? নিজেরে নিয়া কইতে লজ্জা লাগে? লজ্জা লাগলে, জিয়াউর রহমান থিকা শিক্ষা নেন। গণভোট কোন সাধারণ নির্বাচন নয়, এমন কি স্রেফ নির্বাচন কমিশনের ইচ্ছাধীন কোন ঘটনা নয়। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানমতে, এই নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের কোন বিধি ও নিষেধ খাটবে না। ফলে, গণভোটে হাঁ এর পক্ষে সবরকম জনসমাগম ও মিছিল করুন সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। যদি এই সমাগমগুলোতে নির্বাচন কমিশন বাধা দেয়, তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করুন। কিন্তু হাঁ এর পক্ষে এগ্রেসিভ প্রচারণা করুন, জিয়াউর রহমানের মত।

Show more
January 12, 2026
32 readers till now, 0 new visits today.
Rifat Hasan · 10 months ago

আনসোশালে অল্প লিখেছিলাম। এখানে আবার উসকে দিই। গণভোট আর জুলাই সনদ নিয়া।

গণভোটের চার দফা, আর জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সাথে গণভোট, উভয়ই কিম্ভূত আইডিয়া বলতে হবে। এই আইডিয়ার রূপকাররা জাতীয় নির্বাচন আর গণভোটরে এক ভাইবা বসেছেন, বা আমাদেরকে এক ভাববার প্রস্তাব করছেন। আমার মতে, জাতীয় নির্বাচন এক্সক্লুসিভলি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের ব্যাপার হলেও, গণভোট সুপেরিয়র রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন। একই দিনে নির্বাচন এবং গণভোট ফলত একটা ফাঁদে রূপান্তরিত হতে পারে, যা অবশেষে এক রশিতে দুই ফাঁসির প্রতীকী ধারণারে উসকে দেবে। এইখানে একই সকথে উভয়ের মৃত্যু হতে পারে।

আমার মত হল, ইউনুস এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারলে ভাল। অলরেডি নির্বাচন কমিশন বলেছে, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট চ্যালেঞ্জিং। এই একই দিনে দুই নির্বাচনের ধারণা কোন মেধাবীর ( কোটা না মেধা? হা হা।) মাথা থেকে আসছে জানি না, কিন্তু যে মহামুনিই ভাবুন, নির্বাচন কমিশনের এই কমেন্টরেও অন্তত উনারা আমলে নিতে পারেন, আমাদের কথা না নিন।

দুইটা বিষয়ে স্পষ্ট থাকা দরকার।

এক. গণভোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। দেশ কারা পরিচালনা করবে, সেই শাসন ক্ষমতার ম্যান্ডেট ধরনের কোন কল্পনা নয় এইটা, সালাহউদ্দিন আহমদরা মিষ্টি মধুর স্বরে যেটি বলে থাকেন প্রায়ই। বরং গণভোটের গন্তব্য হল, যারাই দেশ চালানোর জন্য নির্বাচিত হবেন, তারা কীভাবে চালাতে বাধ্য থাকিবেন, লঙ্ঘন না করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন, তারে লইয়া ভাবা। এমন কি সংবিধান কেমন হবে, তারে লইয়াও। ফলে, নির্বাচন হল মাইনা চলার ব্যাপার, আর গণভোট ডিকটেইট করার ব্যাপার। এইটা স্বয়ং নির্বাচিতদের প্রতি যে মেন্ডেট কল্পনা করা হয়, সেই মেন্ডেটেরও লেজিটিমেসির প্রশ্ন ঠিকঠাক করবে।

এইটুক যদি বুঝেন, তাহলে এইটাও বুঝবেন, এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তরে নির্বাচন কমিশনের ফাঁদে রাইখা সামনে আগানো মানে, গণভোট, সাথে জুলাই সনদেরও একটা অনিশ্চিত গন্তব্য ঠিক কইরা দেওয়ার ফন্দি, যা, আপাত একটা বিপদই। এর আঁচ কিছুটা বুঝবেন, যখন দেখবেন, বুদ্ধিজীবীরা এবং পত্রিকাগুলো এখন প্রচুর আলাপ তৈরী করছে, না ভোট জয়ী হলে কী হবে ইত্যাদি। এই আলাপগুলোর সারাংশ হল, না ভোট হইলে বিএনপি বা অন্য কোন দল জুলাই সনদ থিকা স্বাধীন হইয়া যাবে।

হা হা। এইটা একটা মজার প্রেডিকশন বটে।

এই নিয়া প্রথম আলোর এক্সপ্লেইনার পড়লাম। ফাহাম আব্দুস সালামের লেখা পাঠালেন এক বন্ধু। জিয়া হাসানের লেখা পাঠালেন একজন। সবার এক্সপ্লেইনার এক। 'না’ ভোট জয়ী হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল জুলাই সনদ মেনে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না। পরবর্তী সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইচ্ছার ওপরই সংস্কার নির্ভর করবে। মানে, সবাই একটা কু নিয়া বইসা আছে। এই কু এর পেছনে কে থাকবে, তাও ঠিক হয়ে গেছে মোটামুটি। বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুক বিহানবেলাতেই সব ঠিকঠাক কইরা ঘোষণা দিছেন। উনি সমর্থকদের না ভোটের আহবান জানাইছেন।

আপাতত, এহ ইতিবৃত্ত।

এই ইতিবৃত্তের উপসংহার হল, নির্বাচনে জিততে চাওয়া দলগুলো ও ওদের বুদ্ধিজীবীরা এই কু-এর উপরেই সওয়ার হইতে চান। এই কু-ভাবনাটা তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন ইউনুস সাহেব, গণভোট এবং নির্বাচন একই দিনে ঘোষনা কইরা। এই সওয়ারের মতলবগুলোতে যেমন ইচ্ছা বাপের দেশের শাসনের বিরুদ্ধে যে জনকনসেনসাস এর উপরে ভিত্তি কইরা স্বৈরাচারের পতন হল, তার উপরে দাঁড়াবার কোন আগ্রহ নেই। শুধু ক্ষমতা দখলের বদ মতলব আছে। কিন্তু তাদের এই ভাবনা যে ভুল, তারে নিয়া আলাপ করবো আর একদিন, যদি সুযোগ হয়।

দ্বিতীয়ত, গণভোটের চার দফা, এইটা কেমন আইডিয়া? এইটা, আমার মতে, মূলতই গণভোটকে ব্যর্থ করার আইডিয়া। এজনগণ কর্তৃক একটা সফল গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারের পতনের পরে জনগনের হাতে বাচ্চাদের বাল্যশিক্ষা ধরিয়ে দেওয়ার মত ব্যাপার হল এইটা।

মূলত, গণভোট হতে হবে এক দফায়। আর তার নাম জুলাই সনদ। জুলাই সনদে কী আছে, তা তো ঐতিহাসিকভাবে রিজলভড হয়ে আছেই। তারে আবার গণভোটের ব্যালটে ভেঙে বুঝিয়ে দেওয়ার মানে হল, মানুষ যেটি বুঝে, গণভোট মানে যেমন ইচ্ছা বাপ বেটির শাসন আর চলবে না, এইটার যে পতন হল, তার পক্ষে ভোট, এইটারে হুদাই জটিল হিশেবে উপস্থাপন।

এর ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণকে জিগেশ করছেন, আপনারা কি গণভোট, সনদ এসব বোঝেন? হা হা। জনগণ যে এই ভাষায় এই সব বোঝেন না, তা অবশ্য সত্যিই। কিন্তু জনগন যে ভাষায় বুঝেন, কথা বলেন, মির্জা ফখরুল কি সেই ভাষা হাজির করতে চান, নাকি জনইচ্ছেরেই ব্যর্থ করতে বলেন? ফখরুল প্রমুখ রাজনৈতিক নেতারা এই সত্য এমনভাবে বলছেন, আপনার মনে হবে, এই না বুঝার ঘটনার কারণেই অন্তত গণভোট আর জুলাই সনদ বন্ধ করতে হবে।

ফখরুল তাদেরকে বুঝাচ্ছেন, 'ঘাড়ের ওপর' তাদের না বুঝা 'গণভোট ও সনদ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে'। মির্জা ফখরুল প্রবীণ ও সৌম্য বিএনপি নেতা, নিশ্চয় জ্ঞানীও, উনাদেরে এই প্রশ্ন করা দরকার যে, উনারা কি ফ্যাসিবাদের দিনগুলোতে 'গণঅভ্যুত্থান' বুঝতেন? বুঝাবুঝির প্রশ্ন তোলা তো কিছুটা অভব্যতাই। কিন্তু আমার এই প্রশ্ন ব্যক্তিগত বুঝাবুঝির ব্যাপার না, রাজনৈতিক। হাসিনার দিনগুলোতে উনারা যে গণঅভ্যুত্থান বুঝতেন, আমাদের কাছে তার কোন নজির হাজির নেই এখনো। এই জায়গা থেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সরলোক্তিটা গুরুত্বপূর্ণ। এই সরলোক্তি বলে, এই অবুঝ ও অনিচ্ছুক নেতাদের উপরে গণঅভ্যুত্থানও চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এইটা জুলুম ছিল।

উনারাও কি মনে করেন, জুলুম ছিল?

#রিফাতহাসান

/ একই সাথে #ফেসবুকেও প্রকাশিত।

Show more
November 24, 2025
89 readers till now, 0 new visits today.
Rifat Hasan · 10 months ago

আনসোশালে অল্প লিখেছিলাম। এখানে আবার উসকে দিই। গণভোট আর জুলাই সনদ নিয়া।

গণভোটের চার দফা, আর জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সাথে গণভোট, উভয়ই কিম্ভূত আইডিয়া বলতে হবে। এই আইডিয়ার রূপকাররা জাতীয় নির্বাচন আর গণভোটরে এক ভাইবা বসেছেন, বা আমাদেরকে এক ভাববার প্রস্তাব করছেন। আমার মতে, জাতীয় নির্বাচন এক্সক্লুসিভলি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের ব্যাপার হলেও, গণভোট সুপেরিয়র রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন। একই দিনে নির্বাচন এবং গণভোট ফলত একটা ফাঁদে রূপান্তরিত হতে পারে, যা অবশেষে এক রশিতে দুই ফাঁসির প্রতীকী ধারণারে উসকে দেবে। এইখানে একই সকথে উভয়ের মৃত্যু হতে পারে।

আমার মত হল, ইউনুস এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারলে ভাল। অলরেডি নির্বাচন কমিশন বলেছে, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট চ্যালেঞ্জিং। এই একই দিনে দুই নির্বাচনের ধারণা কোন মেধাবীর ( কোটা না মেধা? হা হা।) মাথা থেকে আসছে জানি না, কিন্তু যে মহামুনিই ভাবুন, নির্বাচন কমিশনের এই কমেন্টরেও অন্তত উনারা আমলে নিতে পারেন, আমাদের কথা না নিন।

দুইটা বিষয়ে স্পষ্ট থাকা দরকার।

এক. গণভোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। দেশ কারা পরিচালনা করবে, সেই শাসন ক্ষমতার ম্যান্ডেট ধরনের কোন কল্পনা নয় এইটা, সালাহউদ্দিন আহমদরা মিষ্টি মধুর স্বরে যেটি বলে থাকেন প্রায়ই। বরং গণভোটের গন্তব্য হল, যারাই দেশ চালানোর জন্য নির্বাচিত হবেন, তারা কীভাবে চালাতে বাধ্য থাকিবেন, লঙ্ঘন না করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন, তারে লইয়া ভাবা। এমন কি সংবিধান কেমন হবে, তারে লইয়াও। ফলে, নির্বাচন হল মাইনা চলার ব্যাপার, আর গণভোট ডিকটেইট করার ব্যাপার। এইটা স্বয়ং নির্বাচিতদের প্রতি যে মেন্ডেট কল্পনা করা হয়, সেই মেন্ডেটেরও লেজিটিমেসির প্রশ্ন ঠিকঠাক করবে।

এইটুক যদি বুঝেন, তাহলে এইটাও বুঝবেন, এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তরে নির্বাচন কমিশনের ফাঁদে রাইখা সামনে আগানো মানে, গণভোট, সাথে জুলাই সনদেরও একটা অনিশ্চিত গন্তব্য ঠিক কইরা দেওয়ার ফন্দি, যা, আপাত একটা বিপদই। এর আঁচ কিছুটা বুঝবেন, যখন দেখবেন, বুদ্ধিজীবীরা এবং পত্রিকাগুলো এখন প্রচুর আলাপ তৈরী করছে, না ভোট জয়ী হলে কী হবে ইত্যাদি। এই আলাপগুলোর সারাংশ হল, না ভোট হইলে বিএনপি বা অন্য কোন দল জুলাই সনদ থিকা স্বাধীন হইয়া যাবে।

হা হা। এইটা একটা মজার প্রেডিকশন বটে।

এই নিয়া প্রথম আলোর এক্সপ্লেইনার পড়লাম। ফাহাম আব্দুস সালামের লেখা পাঠালেন এক বন্ধু। জিয়া হাসানের লেখা পাঠালেন একজন। সবার এক্সপ্লেইনার এক। 'না’ ভোট জয়ী হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল জুলাই সনদ মেনে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না। পরবর্তী সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইচ্ছার ওপরই সংস্কার নির্ভর করবে। মানে, সবাই একটা কু নিয়া বইসা আছে। এই কু এর পেছনে কে থাকবে, তাও ঠিক হয়ে গেছে মোটামুটি। বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুক বিহানবেলাতেই সব ঠিকঠাক কইরা ঘোষণা দিছেন। উনি সমর্থকদের না ভোটের আহবান জানাইছেন।

আপাতত, এহ ইতিবৃত্ত।

এই ইতিবৃত্তের উপসংহার হল, নির্বাচনে জিততে চাওয়া দলগুলো ও ওদের বুদ্ধিজীবীরা এই কু-এর উপরেই সওয়ার হইতে চান। এই কু-ভাবনাটা তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন ইউনুস সাহেব, গণভোট এবং নির্বাচন একই দিনে ঘোষনা কইরা। এই সওয়ারের মতলবগুলোতে যেমন ইচ্ছা বাপের দেশের শাসনের বিরুদ্ধে যে জনকনসেনসাস এর উপরে ভিত্তি কইরা স্বৈরাচারের পতন হল, তার উপরে দাঁড়াবার কোন আগ্রহ নেই। শুধু ক্ষমতা দখলের বদ মতলব আছে। কিন্তু তাদের এই ভাবনা যে ভুল, তারে নিয়া আলাপ করবো আর একদিন, যদি সুযোগ হয়।

দ্বিতীয়ত, গণভোটের চার দফা, এইটা কেমন আইডিয়া? এইটা, আমার মতে, মূলতই গণভোটকে ব্যর্থ করার আইডিয়া। এজনগণ কর্তৃক একটা সফল গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারের পতনের পরে জনগনের হাতে বাচ্চাদের বাল্যশিক্ষা ধরিয়ে দেওয়ার মত ব্যাপার হল এইটা।

মূলত, গণভোট হতে হবে এক দফায়। আর তার নাম জুলাই সনদ। জুলাই সনদে কী আছে, তা তো ঐতিহাসিকভাবে রিজলভড হয়ে আছেই। তারে আবার গণভোটের ব্যালটে ভেঙে বুঝিয়ে দেওয়ার মানে হল, মানুষ যেটি বুঝে, গণভোট মানে যেমন ইচ্ছা বাপ বেটির শাসন আর চলবে না, এইটার যে পতন হল, তার পক্ষে ভোট, এইটারে হুদাই জটিল হিশেবে উপস্থাপন।

এর ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণকে জিগেশ করছেন, আপনারা কি গণভোট, সনদ এসব বোঝেন? হা হা। জনগণ যে এই ভাষায় এই সব বোঝেন না, তা অবশ্য সত্যিই। কিন্তু জনগন যে ভাষায় বুঝেন, কথা বলেন, মির্জা ফখরুল কি সেই ভাষা হাজির করতে চান, নাকি জনইচ্ছেরেই ব্যর্থ করতে বলেন? ফখরুল প্রমুখ রাজনৈতিক নেতারা এই সত্য এমনভাবে বলছেন, আপনার মনে হবে, এই না বুঝার ঘটনার কারণেই অন্তত গণভোট আর জুলাই সনদ বন্ধ করতে হবে।

ফখরুল তাদেরকে বুঝাচ্ছেন, 'ঘাড়ের ওপর' তাদের না বুঝা 'গণভোট ও সনদ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে'। মির্জা ফখরুল প্রবীণ ও সৌম্য বিএনপি নেতা, নিশ্চয় জ্ঞানীও, উনাদেরে এই প্রশ্ন করা দরকার যে, উনারা কি ফ্যাসিবাদের দিনগুলোতে 'গণঅভ্যুত্থান' বুঝতেন? বুঝাবুঝির প্রশ্ন তোলা তো কিছুটা অভব্যতাই। কিন্তু আমার এই প্রশ্ন ব্যক্তিগত বুঝাবুঝির ব্যাপার না, রাজনৈতিক। হাসিনার দিনগুলোতে উনারা যে গণঅভ্যুত্থান বুঝতেন, আমাদের কাছে তার কোন নজির হাজির নেই এখনো। এই জায়গা থেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সরলোক্তিটা গুরুত্বপূর্ণ। এই সরলোক্তি বলে, এই অবুঝ ও অনিচ্ছুক নেতাদের উপরে গণঅভ্যুত্থানও চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এইটা জুলুম ছিল।

উনারাও কি মনে করেন, জুলুম ছিল?

/ একই সাথে প্রকাশিত।

Show more
November 24, 2025
12 readers till now, 0 new visits today.
Rifat Hasan · 10 months ago

ফেসবুক ফিরে পেলাম। আমার তো অত তাড়াতাড়ি কোথাও যাবার নেই, থেমে জিরোবার অবসর আছে। এরকম কিছু জরুরি অবসর পেলাম, গত দেড় মাসেরও অধিক সময়। এজন্য যারা আমার ফেসবুক বন্ধে অবদান রেখেছেন, তাদেরে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। এখন থেকে, আমি কিছুটা 'আনসোশাল' থাকব।

শেখ হাসিনার আমলে, এক কবি বন্ধু, ধর্মে হিন্দু, জানাইছিলেন, তাদের বন্ধুদের একটা বড় গ্রুপ আমার সোশাল হ্যান্ডেল বন্ধে তার এবং তার অন্যান্য বন্ধুদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি রাজি হন নাই, কারণ তিনি আমার লেখালেখিরে জরুরি ভাবেন ও ভালবাসেন। তিনি উনাদেরে হেল্প না করলেও, তখন ফেসবুক আমার একাউন্ট সাসপেন্ড করেছিল। একটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য সেই সময় তার ব্যক্তিগত কোন একজন কনটাক্টের মাধ্যমে আমার ফেসবুক একসেস ফিরে পেতে হেল্প করেন।

সব সত্ত্বেও, আমি মনে করতাম, আমার লেখালেখির প্রতি কারো বৈরী হওয়া অসম্ভব। কারণ আমি বেশ নিরীহ নীতিশাস্ত্র ও দর্শনের আলাপ করি মাত্র, যেটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কম লোকেই বুঝতে আগ্রহী, বা প্রস্তুত না। এইখানে কেউ শত্রু হন না, মাঝে মধ্যে আমার সাবজেক্ট হয়ে বিভ্রান্ত হন মাত্র। সাবজেক্ট হিশেবে, অনেকেই মাঝে মধ্যে বিমূঢ় হতে পারেন সত্য, কিন্তু উনারা আমারে বন্ধ কইরা দিতে চাইবেন, এইটা মনে হয় নাই কখনো। ফলে, মাস দেড়েক আগে একজন যখন হোয়াটসঅ্যাপে জানালেন, আমার ফেসবুক বন্ধে অবদান রাখতে একটা সংঘবদ্ধ প্রচারণা হয়েছে, এবং এ কারণেই আমার ফেসবুক বন্ধ হল, এর স্বপক্ষে কিছু পপুলার গ্রুপের স্ক্রিণশট পাঠালেন, তখন অবাক হলাম।

তখন আনসোশাল নামে একটা পারসোনাল প্লাটফর্ম এর আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করলাম। এই কাজটা আগাচ্ছে ধীরে ধীরে, অন টেস্ট। ওখানে আমাকে নিয়মিত পাবেন। কিন্তু অইখানে ফেসবুকের মত কইরাই কয়েকটা বাক্য লিখতে গিয়ে হোঁচট খেলাম। দেখলাম, রোবটের মত আলাপ হচ্ছে। জমছে না। কারণ, আমি একা একা কথা কচ্ছি।

সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের একটা কোলাহলের সাইকোলজি তৈরী করে দিয়েছে। কোলাহলের ভেতরে, আমরা কিছু মানুষ নিজের একটা নিরবতা নির্মাণ করেছি মাত্র, যাতে মুখোমুখি বইসা কথা বলতে পারি। তবে ভেবে দেখলাম, আমাদের এই অভ্যস্ততা ও অনভ্যস্ততা কাটিয়ে ওঠা একটু কঠিন হলেও, সম্ভব।

যেমন, খেয়াল করলাম, গত এক মাস সোশাল মিডিয়ায় হাজিরা না থাকায়, আমি প্রায় তেমন কিছু নিয়াই ভাবিত না। শুনলাম, জুলাই সনদ হচ্ছে। শেখ হাসিনার রায় হচ্ছে। গণভোট পণ্ড হচ্ছে। কিন্তু তার প্রায় সব কিছুই আমারে কম স্পর্শ করল। যেহেতু পত্রিকা ও টিভি দেখি না, সোশাল মিডিয়ায়ও নেই, আমি প্রায় খবরহীন একজন মানুষ হয়ে থাকতে পারাটারে এনজয় করলাম।

আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ফিলসফি ফেস্টে গেলাম। এইটা কাকতালীয় ছিল। ফিলসফি দেইখা আমি নিজেই আগ্রহী হইছিলাম, পরে মোজাম্মেল ভাই ও উনার ছাত্ররা অসম্ভব আগ্রহ দেখালেন। ওইখান থেকে বের হয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ মিরাজ, পরে মুকিম আর সৌরভদের সাথে দেখা, বহুদিন পর। উপরের ছবিতে ওরা তিনজনের সাথেই হাঁটছি। 'আমরা তিনজন' নামে ওদের একটা প্লাটফর্ম আছে, সম্ভবত চব্বিশের ফেব্রুয়ারিতে আমারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিল ওরা। নাকি তেইশ? তো, ওরাই জানাল, আমার ফেসবুক নাকি গতকালকে থেকে পাওয়া যাচ্ছে। আমি একটু অবাক হলাম। এবং আমার অবসর থেকে যে জিরোনোর সময় হল আবার, কিছুটা বুঝলাম। যদিও, আমি সম্ববত আনসোশালই থাকারে পছন্দ করব আরো বহুদিন। এইসব ভাবতে ভাবতেই, একটু আগে ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে কোন একটা নিউজ খেয়াল করলাম, কারে যেন কোন বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তুলে নিয়ে গেছে। এইসব নিউজ হাসিনার সময়ে প্রচুর পেতাম।

ফিলসফি ফেস্টের স্টেইজে কথা বলতে আমন্ত্রণ জানালে আমি উঠে কিছুটা ঠাট্টা করে বলতেছিলাম, বহু বছর ধইরা আমরা লঘু ছিলাম, কারণ আমরা অস্তিত্বের রিয়েলিটিরে নিয়া প্রশ্ন উত্থাপন করি নাই। অস্তিত্বের রিয়েলিটিরে নিয়া প্রশ্ন করা তো ফিলসফির জরুরি কাজ। কিন্তু এই জরুরি কাজটা আমরা বহু বছর ধইরা থামিয়ে রেখেছিলাম, রাষ্ট্রে। তো, এখন, এই খবরগুলো পড়তে পড়তে আবার ভাবছিলাম, এখনো কি প্রশ্ন করতে সক্ষম আমরা? কেন জুলাই জাগরণের পরেও বাংলাদেশ রাষ্ট্রে শাদা পোশাকের বাঘ ভাল্লুক নাগরিকদেরকে তুলে নিয়ে যাবে?

সর্বশেষ, কৃতজ্ঞতা স্বীকার। আমি সামান্য মানুষ৷ তাও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-এর দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা বন্ধু ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই সামান্যের ফেসবুক প্রফাইল উদ্ধারে আশ্চর্যজনক দ্রুততার সাথে হেল্প করলেন। আমি মুগ্ধ। এই যজ্ঞের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আরো যাদের রেসপন্স ও আন্তরিকতা পেয়েছি, তারা হলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়িম, পলিটিশিয়ান মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ, আর সাংবাদিক কদরুদ্দিন শিশির, সাইবার এক্সপার্ট মঞ্জুর শরিফ। উনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ইনবক্সে যে মেসেজগুলো জমছে, সবগুলোর উত্তর হিশেবে এই পোস্ট। অন্য কোথাও আলাপ হবে আবার।

#রিফাতহাসান
/ একই সাথে #ফেসবুকেও প্রকাশিত।

Show more
November 21, 2025
87 readers till now, 0 new visits today.