unSocial

‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা', একটা সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানের পরের বাংলাদেশে, পরিবর্তনে অবদান রাখা ছোট বা বড় যে কারও উপরে, এই একা থানা পুড়িযে দেবার ভার দিয়ে সামগ্রিকভাবে তাকে পুলিশ বইলা একটা প্রতিষ্ঠান ও আরো অনেক অজানা ডেমনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে পরিচিতি নির্মাণের ঘটনাটারে প্রশ্ন করতে চাই। আপনারাও করেন। এই কাজটা আমাদের মিডিয়াগুলো, যেমন আজকের প্রথম আলো করেছে। শিরোনামের কোটটা প্রথম আলোর। একটা ছেলের অন্য অনেক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও, তাকে বারবার কেবল এই শিরোনামেই পরিচিত করতে চাওয়ার ঘটনায়, প্রতিষ্ঠান হিশেবে প্রথম আলো ও এর সাংবাদিকদের রাজনীতি কী?

Show more
June 10, 2026
35 readers till now, 0 new visits today.

ওয়েল। আরো একটা গুরু কথা মনে করিয়ে দিই। লীগ ব্যাক করবে কিনা, মাহফুজ ও আরো অনেকের এই দুশ্চিন্তা ও আলাপের ব্যাপারটা একটা প্রতিক্রিয়াশীল ঘটনা। লীগ এর ভয় দিয়া লিগরে মোকাবেলার চিন্তা। বরং, লীগ, যদিও আদর্শগতভাবে আমার আপনার শত্রুই, কিন্তু, লীগ, যদি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি নতুন রাজনীতি তৈরী করতে পারে, অবশ্যই ছোট করে হলেও ব্যাক করবে। নতুন কোন নামেও ফিরতে পারে। তবে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি তার থিসিস কী হবে, তারে নিয়া তারা ভাবতে কসুর করবে না। যারা ফিরবে, তারা হাসিনার রাজনীতিরে রিরিড করবে, তারে ও তার জুলাই ম্যাসাকাররে ডিজঔন করবে। অন্তত এটুক বুঝতে পারি। বাংলাদেশে হাসিনার রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে, মোটামুটি উনারা রিড করতে পারবেন। এই ইন্টারভিউতে তার কিছু আলাপ করেছি। কমেন্টে লিঙ্ক দিচ্ছি।

Show more
May 20, 2026
35 readers till now, 0 new visits today.

গতকাল বা পরশু থিকা, একটা ইন্টারেস্টিং গ্রাফ আসতেছে সামনে। তার ভিত্তিতে, বলা হইতেছে, বিজেপি নিজের আগ্রহেই বাংলাদেশে জামাতকে ক্ষমতায় দেখতে চাইবে। সীমান্তবর্তি অঞ্চলগুলোতে গত নির্বাচনে যেমনটি দেখা গেছে। বিজেপির এই আগ্রহ, সম্ভব। রাজনীতিতে একটা এসেনশিয়াল শত্রু দরকার হয়। বিজেপির একটা বৈরি সীমান্ত শত্রু দরকার। জামাত, যেহেতু ইসলাম নাম নিয়া রাজনীতি করে, এই শত্রু, বিজেপির রাজনীতির জন্য কিছুটা ইফেকটিভও, যেহেতু, ভারতে, বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। তবে, জামাতকে আমি সেই জায়গা থেকে সাম্প্রদায়িক দল মনে করি না। মৌলবাদী দল মনে করি। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক দল হিশেবে আমি আওয়ামীলীগকে চিহ্নিত করেছিলাম। দুইটার এসেনশিয়াল ফারাক নিয়া আমি বিস্তর আলাপ করেছি আগে।

ফলে, আমার মতে, বিজেপির এই রাজনীতির ভার ইনডিয়ার নিজের, আমাদের না। মানে, বাংলাদেশরে ইনডিয়া কেমন দেখতে চায়, তার উপরে ভর কইরা নিজেদের রাজনীতি সাজানোর কাজটা একান্তই তাদের নিজেদের। আমরা, এই ফাঁদ থেকে বেরুনো দরকার মনে করেছি বইলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান হইছে। এখন, ইনডিয়ায় কে জিতবে, কী ভাববে, তার উপরে ভর কইরা আমাদের রাজনীতি ঠিক করতে কওয়া তেমন কাজের কথা না। তবে হাঁ, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন ও মুসলমানদের দায়িত্ব বেড়ে গেল। সেটি হল, প্রতিক্রিয়ার ফান্দে পা না দেবার।

খেয়াল করবেন, ঐতিহ্যগতভাবেই, যে সময়টিতে বাংলাদেশে চরম মৌলবাদী দলের ইমাজিনারি ক্ষমতা তৈরী হইছে বইলা আপনারা মনে করেন, সেই ক্ষমতার সময়েও, স্রেফ 'মুসলমানের ভোট' আর 'হিন্দু ভোট', আর, 'হিন্দুরা বাংলাদেশি না, ভারতের', এরকম বর্বর প্রচারণা ও ধর্ম পরিচয়ে নাগরিকদের বড় অংশরে বাতিল করে দিয়ে রাজনীতি চলে নাই। আমার মতে, ভবিষ্যতেও চলার সম্ভাবনা নেই। এইটা ইনডিয়ার একার সমস্যা, যা বাংলাদেশের করুণ মাথামোটা বুদ্ধিজীবীরা নিজেরা ভাগ কইরা নিতে চায়, সহমর্মিতা সহকারে। এই সহমর্মিতার উৎসগুলোরে সন্দেহ করা দরকার। বিজেপি আসবে বলে, ইনডিয়াকে বাঁচাতে, আমাদের জামাত বিরোধিতা এখন আর খুব বেশি ইফেকটিভ আলাপ না বাংলাদেশে। এইটা, ট্রেডিশনাল বুদ্ধিজীবীরা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, তত ভাল। আমাদের নিজেদের বাঁচাতেই, দরকারে জামাত বিরোধিতা করুন, বিএনপি বিরোধিতা, আওয়ামীলীগ বিরোধিতা বা এনসিপি বিরোধিতাগুলোও করুন। কিন্তু, ইনডিয়ান ইউনিয়নের অভ্যন্তরে, ইনডিয়ান ইউনিয়নের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিশেবে ইনডিয়ার অভ্যন্তরের কোন দলের রাজনীতির অংশ হয়ে না।

Show more
May 7, 2026
12 readers till now, 0 new visits today.

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কেমন হচ্ছে? খুব যে খেয়াল করছি, এমন না। বুথফেরত জরিপ খুব ভাল খবর দিচ্ছে না, তবে, আগের বুথফেরত জরিপগুলোরে আমলে নিলে, একটা স্বস্তি পাওয়া যায়। আগে, এই জরিপ সব সময়ই ভুল প্রুভড হয়েছে।

বাংলাদেশি এবং মুসলমান হিশেবে, এই নির্বাচনে, আমার সবচেয়ে বেশি যে বিষয় নজরে পড়েছে, তা হল, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র কইরা কিছু মানুষের ভোটাধিকার হরণের কথা বলা হচ্ছে, যাদের বড় অংশ মুসলমান। অভিযোগ আছে, রাজ্যের মুসলমান অধ্যুষিত দুটি জেলা – মালদা আর মুর্শিদাবাদে এই কাজে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হয়েছে। 'অ্যাডলফ হিটলারের আমলে নাৎসি জার্মানি যেভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক তৈরি করেছিল, বা যেভাবে ইসরায়েলে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক তৈরি করার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে ও হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন এই রাজ্যসহ গোটা ভারতকে বিজেপি সেই দিকে নিয়ে যেতে চাইছে' বলে মনে করছেন, ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী পারাকালা প্রভাকর। প্রভাকরের এই বক্তব্য নিলাম, প্রথম আলো পত্রিকা থেকে। তো, এই ব্যাপারটা আমার প্রথমে নজরে আনল, বিবিসি বাংলার মীর জাফরের বংশধরদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নিউজ। মীর জাফরের সর্বশেষ বংশধর, যারে ওরা ছোটে নবাব বইলা থাকে, বিবিসিকে বলতেছিলেন, 'যদি ভোট দিতে না পারি, তাহলে এখানে থাকতে পারব না, আমাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু আমি তো এই মাটিতে জন্ম নিয়েছি, এখানেই মাটি নেব। শুধু আমার সঙ্গে না, পরিবারের অনেকের সঙ্গেই হয়েছে এই অন্যায়।' পইড়া, আমি ভাবতেছিলাম, একটা দেশের নাগরিকদেরকে নিয়া সেই দেশের মৌলবাদী শাসক শ্রেণীর মনোভাব কেমন হইতে পারে। তো, আমার ফ্রেন্ডলিস্টের অত্রি ভট্টাচার্যরা নির্বাচন নিয়া কথা বলেন, প্রায়ই দেখি। অত্রি এবং তার বন্ধুদের আমার পছন্দ হয়। ওদের তর্কগুলোও। উনাদের মধ্যে 'মমতা' আছে, আরো অনেক অর্থেই। কিন্তু, এই নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি হারবেন, এরকম একটা শোর তোলা হইতেছে বিজেপির পক্ষ থেকে। ফলাফল কী হবে, আমি শিওর না।

তবে, বইলা রাখি, রাজনীতিবিদ হিশেবে মমতা ব্যনার্জিকে আমার বেশ পছন্দ হয়। মনে হয়, পাশে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ বইসা আছেন। এই রাজ্য বিজেপির হাতে গেলে, খারাপ লাগবে। রাষ্ট্র ইন্ডিয়ার সাথে আমাদের এক নায্যতার লড়াইয়ের সম্পর্ক আছে, কিন্তু, ইন্ডিয়ার মানুষের প্রতি, তাদের কলকাতা ও অন্যান্য শহরগুলোর প্রতি ঐতিহাসিক টান অনুভব করি আমি। ভারতের নবী ও কবি রবীন্দ্রনাথের সাথেও, আমার ঐতিহাসিক প্রেম ও ঝগড়ার সম্পর্ক আছে। আপনারা খেয়াল কইরা থাকবেন, আমি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটা রবীন্দ্রগ্রহণ ও তার থেকে মুক্তির কথা বলি। তো, ইন্ডিয়ার রাষ্ট্র ক্ষমতা নিয়া আমার মতামত হল, এইখানকার মোদি গাঁধি সবাই বাংলাদেশ প্রশ্নে ঐতিহাসিকভাবে একই অবস্থানে দাঁড়ান ও সীমান্তে খুন করারে তাদের কর্তব্য মনে করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের রাষ্ট্রীয় ডমিনেন্সি ও নিয়ন্ত্রণরে গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন। সীমান্ত ও ফেলানি হত্যার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান নেই।

তো, দুই হাজার চোদ্দতে এই নিয়া একটা লেখা লিখেছিলাম, ঋষি ভারত। তখন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এসেছিলেন বুকশপ বাতিঘরের আমন্ত্রণে। উনারে কেউ তখন ইন্ডিয়ার সীমান্ত হত্যা নিয়ে প্রশ্ন করলে, উনি তখন ঋষির ভাব নিয়া কইছিলেন, এইসব রাজরাজড়াদের আলাপ। আমরা কেন কথা কব? আরো পরে, টেক্সট, কন্সপিরেসি ও রূপকথা বহিতে, সম্ভবত আঠার সালের দিকে একটা আলাপ করেছিলাম, শিরোনাম ছিল, ক্যান অরুন্ধতি স্পিক? তখন অরুন্ধতি বাংলাদেশে আসছিলেন, ফটোগ্রাফার শহীদুল আলমের আমন্ত্রণে। আমি ধরিয়ে দিতেছিলাম, এই বড় বড় সাহিত্যিক ও বিপ্লবীদের কেউ ইন্ডিয়ার সীমান্ত হত্যা নিয়া কথা কন না, কারণ ওরা কথা কইতেই সক্ষম না। তবে, সব সময়ই, ব্যতিক্রম ছিলেন কলকাতার কবির সুমন, আমাদের কৈশোরের সকাল বিকেল যার গান মুগ্ধ হযে শুনতাম। সুমন সীমান্ত হত্যা নিয়ে কথা বলেছেন, গানও গেয়েছেন। এমন কি জুলাই পরবর্তি মিস-ইনফর্মেশন ছড়ানো নিয়াও তৎপর হলেন, আপনার নজরে পড়বে। এই তৎপরতার অংশ হিশেবেই, কবির সুমনদের সাথে, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি শান্তিসেতু নামক মৈত্রি উদ্যোগে অল্প অংশগ্রহণ করেছিলাম। এই নিয়া মধ্যবর্তি বেঞ্চটাতে বইয়েও ডিটেইল আলাপ করেছি, নোট দিলাম, যাতে আপনাদের আগ্রহ তৈরী হয়। মাসুম নামে সংগঠন ও কিরিটি রায়ের নাম মনে আছে, যারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারী পাচার এবং রাষ্ট্রীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার। আর, আমাদের প্রবীন বন্ধু, কবি গৌতম চৌধুরীর কথা মনে আছে। উনিও, বাংলাদেশ ও ফেলানী প্রশ্নে প্রগ্রেসিভ অবস্থান নিতে পেরেছিলেন। আর একবার, বোধ হয় রণজিত দাশের সাথেও, শীর্ষেন্দুর মত একটা আলাপ হইছিল। এই নিয়াও, কী কী যেন লিখছিলাম, রণজিত কী বলেছিলে, তাও ভুলে গেছি।

তো, ভারত আমাদের সীমান্তে কেমন, তারে বোঝার জন্য, দুইহাজার পঁচিশ সালের একটা ঘটনা নজরে পড়ল। ভারতে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ২৪ বছর বয়সী কৃষক জাহানুর হককে জামা খুলে ধর্ম নিশ্চিত হওয়ার পরে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল বিএসএফ। প্যান্ট খুলে মানুষের ধর্ম যাচাই এর মত বর্বর, অসভ্য ঘটনা একাত্তরেও ভারত করেছে, ইন্ডিয়ান জার্নালিস্ট কিশোর পারেখের তোলা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একটা বিখ্যাত ফটোগ্রাফ থেকে সেই ইতিহাস অনেকেরই জানা থাকার কথা। ২০২০ এর ফেব্রুয়ারিতেও, দেশটির হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযাযী, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভের সময়, কর্তব্যরত সাংবাদিকদের প্যান্ট খুলে, ধর্মপরিচয় জেনে, তিনি সংবাদ সংগ্রহের ‘উপযুক্ত’ কিনা, সেই পরিচয় নিশ্চিত করছিল পুলিশ। আর, গতকালকে একই দেশের সীমান্তরক্ষি বাহিনী, একই ঘটনা করে খুন করল। একটি জাতি ও রাষ্ট্রের চরম সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র বোঝার জন্য ইতিহাসের সম্পূর্ণ দুই সময়ের এই দুই ইমেজই যথেষ্ট। আর ভারতের আওয়ামী প্রপাগান্ডা মেশিন এই ধর্ম যাচাই এর ইমেজরে পাকিস্তানী সৈন্যের ইমেজ বানিয়ে চল্লিশ বছর ধইরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী প্রচারণা চালাইছিল, আপনাদের মনে থাকিত পারে।

তো, যখন প্রথম এনআরসি কার্যক্রম শুরু হল, তখন, ভারতের নিজের নাগরিকদের পরিচয় হরনের ঘটনা নিয়া আমার প্রাথমিক অনুভূতি ছিল, রাষ্ট্র হিশেবে ইন্ডিয়া কেমন অবিশ্বস্ত ও অপমানকর নিজের নাগরিকদের জন্য, ভাইবা আতঙ্ক লাগছে। বহু পুরুষ ধইরা এক দেশে থাকার পরে হঠাৎ একদিন ভোরে ঘুম থেকে উইঠা নিজেদের নাগরিত্বের প্রমাণ, আর কয়েক পুরুষের 'জন্ম মুত্যু সংশাপত্র' সংগ্রহের জন্য শরনার্থীদের মত লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে ইন্ডিয়ার লোকেদের। নাগরিক প্রমাণের জন্য অপমানজনক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, আর দেশের ভেতরে তৈরী হচ্ছে বড় বড় চিড়িয়াখানার মত কারাগার, যারা কাগজপত্র ঠিকঠাক দিতে পারবেন না, তাদের জন্য। শাসকশ্রেণী ও রাজনীতিবিদগণ সারাক্ষণ হাউকাউ কইরা হুমকি দিচ্ছেন, নাগরিকদের অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে অথবা কারাগারে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। নাগরিক থাকবে না এই আশঙ্কায় প্রতিদিন আত্মহনন করতে হচ্ছে নাগরিকদের। এই ধরণের চরম নাগরিক অপমানের বিরুদ্ধে যে জনগন দাঁড়ায় না, ফুঁসে ওঠে না, তাদেরে কেমন আত্মমর্যাদাশীল কই? এই মন্তব্য করেছিলাম, দুই হাজার উনিশের সেপ্টেম্বরে।

এখনো, ভারতের রাজনীতিতে, এই বাংলাদেশ ও নাগরিকত্ব হারানোর প্রশ্নটিই প্রধান টুল হিশেবে রয়ে গেল।

কারে কারে যেন, 'বাংলাদেশি' বইলা শুভেন্দু অধিকারীর নামের রাজনীতিবিদের দৌড়াদৌড়ির ভিডিও দেখলাম, ভোটের ভেতরেই।

বাংলায় কথা বলা, আর মুসলমান সবাইরে 'বাংলাদেশি' বইলা ইন্ডিয়ার ভেতরেই আদার করতে চাওয়া, এইটা 'ইন্ডিয়া' পরিচয়ের লুপহোল। এই বর্ণবাদী ইন্ডিয়ার প্রতি নিন্দা। সাম্প্রদায়িক, হিন্দুত্ববাদি ও বর্ণবাদি শাসকগোষ্ঠির বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি জনগোষ্ঠির প্রতি সংহতি জানাতে চাই, সব সময়। ইন্ডিয়ার জনগনের সাথে আমাদের মৈত্রীমূলক সম্পর্ক ও সহযোগিতার সেতু অটুট থাকবে সব সময়, সীমান্তবর্তি প্রতিবেশিদের প্রতি ইন্ডিয়ার শাসকগোষ্ঠির আধিপত্যমূলক বিদেশনীতি, খুন ও রাজনীতিরে প্রত্যাখ্যান কইরাই। এই নির্বাচন, এই আদারনেসের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করুক।

Show more
April 30, 2026
37 readers till now, 0 new visits today.

নাহিদ ইসলাম হলেন, গণঅভ্যুত্থান থিকা উঠে আসা নতুন বাংলাদেশের মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনি, যে কল্লোলে আমাদের অনেকের স্বর, গান ও ভাঙন আছে, যারে আমরা ধরতে চাই। নাহিদ, হাসনাত, আখতার এবং তাদের বন্ধুদের রাজনীতিতে আসা ও সংসদে যাওয়া, উভয়ই আমাদের জন্য ব্লেজিংসের ঘটনা। এইটা, মাঝে মধ্যেই উনাদের বক্তব্য সামনে আসলে, মনে পড়ে। আজকেও, নাহিদের বক্তব্য সামনে আসল যখন, শুনতে শুনতে, মনে পড়ল।

April 30, 2026
14 readers till now, 0 new visits today.

গোপন, গেরিলা রাজনীতির নানা চেহারা আছে৷ হাসিনার সময়ে, বাংলাদেশে রাজনীতিই ছিল না। সেই সমযে, আমরা রাজনীতি ফিরিযে দেবার আলাপ করতাম। যারা এখন সরকারি দল, সেই বিএনপির কর্মীরাও, তখন গেরিলা রাজনীতিই করেছে। এইটা উনাদের নেতারা অস্বীকার করলেও, মিথ্যা হয় না।

এর পরে, ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান হল। তখন, অভ্যুত্থানের পরেও, গোপন থাইকা রাজনীতি করারে সমস্যাজনক হিশেবে লোকেইট করেছিলাম আমি৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন একটা ইস্যুতে। এখনও করি।

কিন্তু, আজকের এই ছবিটা দেখেন, একটু আগে, হোমফিড থেকে পেলাম। এইখানে, তারেক রহমানের গুপ্ত, মূলত, কারে উদ্দেশ্য কইরা সামনে এগুতে থাকবে শেষমেষ, তার একটা চেহারা পাবেন।

এই বিষযে তারেক রহমান এওযার তো?

এর মাধ্যমে, তারেক রহমান, মূলত, ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি যেমন, বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির গন্তব্যও ডিফাইন করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে, তারেক, ছাত্রদলরে, এমন কি নিজেরেও একটা অর্থহীন, প্রতিক্রিয়াশীল ল্যুপে ফেলে দিলেন। এইটা, প্রথম যেদিন শুরু করেছিলেন, নির্বাচনি প্রচারণার দিন, তখন বলেছিলাম।

ছাত্রদল বা তারেক রহমানের কি এর থেকে মুক্তি ঘটবে?

Show more
April 23, 2026
34 readers till now, 0 new visits today.

বিবি সওদা নামে যে হিজাব পরা নারীকে গ্রেফতার করা হল, তার মুক্তি দাবী করছি। জানা যাচ্ছে, তিনি জামাত কর্মী, ও সোশাল মিডিযায় জ্বালানি সংকট বিষয়ে কোন লেখা শেয়ার দিয়েছেন বইলা উর্ধতন নির্দেশে গ্রেফতার হইছেন। এই উর্ধতন কে, জানার আগ্রহ হচ্ছে। তার মুক্তি দাবী করছি, এজন্য নয় যে, তার একজন তিন বছর বয়সি প্রতিবন্ধি সন্তান আছে বইলা জানলাম৷ মুক্তি দাবী করছি, কারণ, তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারের এই গ্রেফতারে লজ্জিত হওয়া উচিত এবং সংস্লিষ্ট পুলিশ অফিসারে বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, ও তার কথিত উর্ধতনের নাম জনসমক্ষে আসা উচিত। যাতে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি বাংলাদেশরে আবার দোজখ বানিয়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনকারীদের চেহারা ও পরিচয় চেনা যায়। এই মুহূর্তেই বিবি সওদাকে মুক্তি দিন।

Show more
April 7, 2026
17 readers till now, 0 new visits today.

একটা 'সেকুলার দল হিশেবে বিএনপিকে বাঁচাতে হবে', আমার বন্ধুদের এরকম একটা গুরু ও ম্নেহপ্রবণ দায়বোধ খেয়াল করেছি। এইটা, ধারণা করছি, জামাত বইলা একটা 'ইসলামী মৌলবাদে'র উত্থানের ভয় থিকা। কিন্তু, বিএনপি বইলা দুই তৃতীয়াংশ আসনে বসা রাজনৈতিক দলটির নিজের কোন বাঁচার দায় আছে বলে আমার চোখে পড়ে নাই, এখনতক। সেকুলার দল হিশেবে নয়, রাজনৈতিক দল হিশেবেও। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে, বিএনপির নিজের রাজনীতি স্পষ্ট নেই, এখনতক। ইতিহাস তো ভেকুয়াম পছন্দ করে না, আর প্রতারণা ও বৈপরীত্য দিয়া রাজনীতি প্রতিস্থাপিত করার পরিণতি তো ভাল না। এরকম চরিত্র নিয়ে সারভাইভ করতে চাওয়া একটি দলের রাজনীতি ও প্রভাবের মেয়াদ থাকে স্রেফ ক্ষমতাকাল। এই কারণেই, হাসিনা কখনোই ক্ষমতা ছাড়তে চান নাই।

ফলে, এই বিএনপিরে বাঁচাতে গিয়ে, আপনাদের গুরুদের মত কইরা, 'বিএনপি পরাজিত হলে বাংলাদেশকেও পরাজিত' কইরেন না, বিপদে পড়বেন। একদা, আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে গিয়ে, আমাদের ঐতিহাসিক বাম বন্ধুরা সারা জীবন আওয়ামীলীগ করেছেন, শুধু তাই না, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমাজতন্ত্র কায়েমের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তার সব অপরাধের আইডিওলজি ও বৈধতা সরবরাহ করেছেন। এই স্বপ্ন থিকা সরে আসেন, এইটা আপনাদের নিজেদেরও ঐতিহাসিক দায়। বিএনপিরে, নিজের রাজনীতি নিয়া কই যেতে চায়, তা, নিজেকেই স্পষ্ট করতে দেন৷ আপনার অযথা, অনর্থক, অযাচিত স্নেহজাতীয় পদার্থে নতুন পরাক্রম নিয়া ক্ষমতা হইতে চাওয়া এই বিএনপিকে বিব্রত কইরেন না। আপনারও, নিজের রাজনীতি বইলা কিছু যদি থাকে, তারে স্পষ্ট কইরেন, সুপ্ত ও লজ্জাবতি থাইকেন না। কোন এক মহাসময়ের জন্য অপেক্ষা, নাজুক ব্যাপার। স্রেফ জামাত বা আওয়ামীলীগ মোকাবেলায় আপনার দুনিয়া গুলিয়ে ফেইলেন না।

Show more
April 6, 2026
13 readers till now, 0 new visits today.

বাঙালি মুসলমানের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসাধনা যেমন আছে, আমাদের ভাষা ও নন্দনেরও স্বতন্ত্র লড়াই আছে একটা, আমি যেইটারে পুতুপুতু রবীন্দ্রভাষা ও নন্দন থিকা মুক্তি বলি। এইটা একাট্টা মুসলমানি চেহারার পাকিস্তান থিকা যেমন আলাদা, উপনিবেশিক ও বর্ণবাদী, কোলকাতার হিন্দু বাবুসংস্কৃতির থিকাও, ফার আলাদাই। এই নিয়া, গত বছর সেপ্টেম্বরের লেখা এইটা। পইড়েন। এই লেখায় আলাদা কইরা কারো নাম না নিলেও, এই লড়াইয়ের শেষভাগে, আমাদের অনেক বন্ধু আছেন, যেমন নাটক ও মুভিতে Mostofa Sarwar Farooki রে আমি খেয়াল করি। ফারুকীর নাম আলাদা কইরা নিলাম, কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সাপোর্ট ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে, ফারুকীরে নিয়া একটা সচেতন ডেমন তৈরী করা হইতেছে। আমাদের বন্ধুদেরকে ডেমন করার এই ঘটনাগুলোকে যে আমরা সচেতনভাবে লক্ষ্য রাখছি, তা নোট করারও ব্যাপার আছে।

~এলা পড়ুন~

পাকিস্তানের পরে, বা পাকিস্তান আন্দোলনের সময়ে ভাষার একটা নন্দন আন্দোলন হইছিল। সেই সময়ের শাহেদ আলীর ভাষা দেইখেন, উনারা এক নতুন কল্পবিশ্ব তৈরী করতেছিলেন, ভাষার। এই কল্পবিশ্বকে আমার প্রবলেমেটিক মনে হইত, অনেকটা হোসেন মিয়ার দ্বীপের মত, যেখানে কুবেরদের সংগ্রাম কম, কিন্তু কুবেররাও থাকেন। শাহেদ আলীর ভাষায়, যখন পড়েছিলাম, তখন এই সমস্যাটা ধরা পড়েছিল। যদিও বাংলা ভাষায় শাহেদ আলীর ছোটগল্পর মত শক্তিশালী কারো গল্প পড়েছি বইলা, আমার স্মৃতিতে মনে পড়ে না। এই জন্য শাহেদ আলী আমার অসম্ভব প্রিয়।

এর পরে, আমাদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ হল। এই ভাষা আন্দোলনও শাহেদ আলী আর তাদের তমদ্দুন মজলিশই করেছে, মনে রাখবেন। কিন্তু, একাত্তরে আইসা, মুক্তিযুদ্ধে উনাদের অনেকেই গরহাজির বা চুপ ছিলেন। কেন তারা চুপ, তাদের এই স্বপ্নভঙ্গ নিয়া তারেক মাসুদের মাটির ময়না নামে সিনেমা দেখবেন, আর রিফাত হাসানের লেখা, যারে ছাড়া এই ঘটনা বুঝতেই পারবেন না, তারেকের মৃত্যুর পরে বিডি আর্টসের অনুরোধে লিখছিলাম, গুগল কইরা পাবেন। 'রিফাত হাসান' লিইখা, বা 'মাটির ময়না ও তারেক মাসুদের লড়াই' লিইখা গুগল কইরেন, আর পইড়েন।

এরপরে, আমাদের গণমুক্তিযুদ্ধের পরের ভাষার চরিত্র আবার অন্যরকম। ভাষার 'প্রমিত'। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি ভাষার এই যে 'প্রমিত', তা মূলত বাংলা ভাষার কলকাতা, দি ওয়েস্টল্যান্ড। একটা পুরোপুরি মরা দ্বীপ। আগেও ছিল, কিন্তু পরে আমরা অফিসিয়ালি ঢুকে পড়লাস, একটা ধর্মযুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে। আমি যেইটারে মুজিবের তৈরী করে দেওয়া ধর্মযুদ্ধ বলি, এই ওয়েস্টল্যান্ড হল তার একটা অংশ। এইখানে শাহেদ আলীরা থাকলেন না। বাঙালি মুসলমান থাকলেন না। এমন কি ঢাকাও থাকল না। কেবল ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ, কলকাতা ও তার ধর্মভাব। এই কলকাতার মরা দ্বীপে ভাষার মুসলমান নিধন শুরু হল, যার বিরুদ্ধেই পাকিস্তান আন্দোলনের শাহেদ আলীদের নন্দন কল্পনা ছিল, যখন জিবরাঈলের ডানা লিখতেছিলেন।

তো, মুক্তিযুদ্ধের পরে আমাদেরে আবার ভাষার এই ওয়েস্টল্যান্ড থেকে মুক্তির সংগ্রাম করতে হল। নয়া নন্দনের লড়াই করতে হল নানান ভাবে। ভাঙচুর করতে হল নাটকে, সিনেমায়, সাহিত্যে। এই লড়াইয়ের মাধ্যমে, ভাষায়, বহু বছর ধইরা এই কলকাতার দশা থেকে উত্তরণের একটা ব্যাপার ঘটে গেছে ইতিহাসে, নানান ভাবে, যেমন, এখন আমরা কেউই এই ভাষায় কথা কই না, চিন্তাও করি না। এই ওয়েস্টল্যান্ড, পুরোপুরি ভেঙে গেছে জুলাইয়ের বহু আগেই। এরপরে যে জুলাই হল, দেখবেন, এই জুলাইয়ে কলকাতার নন্দন নেই। তাই জুলাই সম্ভব হল। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে, আমাদের এই যে নয়া নন্দনের লড়াই ও ভাবগুলো, তারে ধরতে পারেন?

Show more
March 27, 2026
13 readers till now, 0 new visits today.

~ কীভাবে ইতিহাসে আপনার হিস্যা বুঝে নেবেন? ~

[ গত বছর এই দিনে লিখেছিলাম, মাস্টারমাইন্ডকামীদের নিয়া। এর অল্প আগে, আসিফের একটা বই বের হল। বইটা অবশ্যই, এখনো পড়ার, বা দেখার সুযোগ হয় নাই। আমি, ইতিহাস বিষয়ে কল্পনা তৈরী করার সমস্যার কথা বলতেছিলাম, এখানে। পড়তে পারেন। ]

মাস্টারমাইন্ড যদিও কিম্ভূত ব্যাপার, খেয়াল করেছি, আওয়ামীলীগ ছাড়া বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় সবাই মনে করে, জুলাই অভ্যুত্থানের তারাই গোপন মাস্টারমাইন্ড। আর, তাদের কৃতিত্ব গুম করে দেওয়া হচ্ছে। এইটা রাজনৈতিক বাখোওয়াজি বা রেথরিক হলে সমস্যা নেই, কিন্তু, আমাদের গ্রামে সাম্প্রতিক এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়, এক ইফতার মাহফিলে নাম না জানা এক জামাত নেতার বক্তৃতা শুনতে শুনতে মনে হল, তারা এইটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে শুধু নয়, তারা কর্ণেল তাহেরের ফাঁসি ও জিয়া ইস্যুতে কমিউনিস্টদের একাংশের মতই প্রতারিত ফিল করে। উনি যা কইলেন, বুঝলাম, উনার কাছে গণঅভ্যুত্থান বইলা ঘটনাটা হইল 'কৃতিত্ব হরণ' এর ঘটনা, এখানে সব কিছুই কেবল শিবিরের পরিকল্পনা, জনশক্তি ও জনৈক ম্যান অব দ্য ইয়ার সাদিকের হাত দিয়ে হয়েছে, কিন্তু ইতিহাসে ওদেরকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে 'ছবি ক্রপ কইরা'।

শুনতে শুনতে মনে হল, এই প্রতারণাবোধের প্রচার, রাজনৈতিক রেথরিক হিশেবেও যদি হয়, ক্ষতিকর। এর সমাধান কী? মনে হল, উনাদের এই প্রতারণাবোধের একটা সহজ সমাধান দরকার। না। আমি ইতিহাসের এইসব কিছুই এখানে মীমাংসা করতে বসি নাই। কিন্তু, যেহেতু সত্য প্রশ্ন, এবং উনারা অসত্যের আঘাতে জর্জরিত মনে করছেন, উনাদেরে কিছু পরামর্শ দেওযা জরুরি মনে করলাম।

এই বিষয়ে তাদের একটা ঐতিহাসিক অসুখের দিকে নজর দেওযা কর্তব্য মনে করি। আমার প্রস্তাব হল, ইতিহাস বিষয়ে কল্পনা তৈরী না করে নিজের স্মৃতিকথাটি লেখা। স্মৃতিকথা, মানে ঠিক কীভাবে, কোন কোন জাগায় জুলাই বিপ্লবটা কেবল আপনারই জমিদারির ঘটনা, তার 'সত্য' সাক্ষ্য লিখুন। যদি সেরকম কিছু জমিদারি থাইকা থাকে। স্মৃতিকথা, নট ফিকশন। গোপন তথ্যের ভারযুক্ত গল্প কাহিনী না, আপনার নিজের জার্নাল ও দিনলিপি। যা জানেন, তার গল্প নয়, যা নিজে করেছেন, তার বিবরণ। কারণ, যা 'জানেন', সেই জ্ঞান তো কল্পনাই, কল্পনার বাইরে স্রেফ নিজের ঘটনাটিই সত্য। এই জ্ঞানের ভারমুক্ত হযে লিখুন। কেন স্রেফ আসিফ বা আর কারো জুলাইয়ের স্মৃতিকথার সত্য মিথ্যার উপরে আপনারে নির্ভর কইরা থাকতে হবে? আপনার স্মৃতিকথা কই?

মনে রাখতে হবে, জুলাইয়ের স্মৃতিকথাই লিখেছেন আসিফ। ইতিহাস নয়। আসিফের স্মৃতিকথা মানে একই সাথে তিনি কী দেখতে চাইলেন, কী দেখতে চাইলেন না, তারও বিবরণ। তার রাজনীতিই। সাদিক কায়েমের যদি কোন স্মৃতিকথা থাকে, সাদিক তা লিখুক। ইতিহাসের কাছে এই দায় নিয়ে যেতে হয়। ইতিহাস কেবল গুপ্ত নির্দেশনার সমীকরণ নয়। ইতিহাসের দায় নেওয়ার ব্যাপার থাকে। কিন্তু, আমরা ইতিহাসে দেখেছি, জামাত সব সময় ইতিহাস বিষয়ে কল্পনা তৈরী করেছে, রিয়েলিটি না। আওয়ামীলীগের মতই। একাত্তর নিয়াও উনাদের এরকম কিছু অভিমান ও কল্পনা আছে, যা বহু বছর ধইরা অমীমাংস রয়ে গেছে, কেবল তারা অভিমানিই থাকতে চাইল বলে। উনিশ শ একাত্তরে তাদের অবস্থান ও এক্টিভিটি নিয়ে তাদের নিজস্ব কোন বিবরণ ও ডকুমেন্টেশন নেই। তাদের কোন ব্যক্তিগত জবানবন্দী নেই, স্মৃতিকথাও নেই। আওয়ামীলীগ যে কল্পনা তৈরী করেছে, তার পাল্টা কল্পনা হাজির করে মাত্র, সাক্ষ্য না। একইভাবে, চব্বিশেও, স্রেফ কল্পনাই হাজির করা হচ্ছে। সাক্ষ্য না।

জুলাই অভ্যুত্থানে জামাতের, বা আর আর রাজনৈতিক দলগুলোর মাস্টারমাইন্ডকামীদের সাক্ষ্য কই? এই সাক্ষ্য ও স্মৃতিকথা মানেই ইতিহাস, তা যে না, ইতিহাসের ছাত্র মানেই জানেন। ইতিহাস লেখা হবে এইসব স্মৃতিকথাগুলোর বাছবিচার করতে করতে।

Show more
March 26, 2026
13 readers till now, 0 new visits today.

উপদেষ্টা মাহফুজ, অলটারনেটিভস নামে একটা প্লাটফর্ম করছেন, তার ইফতারের দাওয়াত দিলেন। যেহেতু দূরে থাকি, তৎক্ষণাৎ চইলা আসা সহজ হল না। বললাম, একটা ট্রেন পাঠাও। কিন্তু, ট্রেন, স্বাভাবিকভাবেই আসল না। ফলে, চাটগাঁতেই ইফতার করলাম। আমি জানি না, মাহফুজের এই অলটারনেটিভস চিন্তা ভাবনার, নাকি রাজনীতির প্লাটফর্ম। ধারণা করছি, চিন্তা ভাবনার হবে। ধারণাটার কারণ বলছি। মাহফুজ, রাজনীতির লোকের চাইতেও, আমার কাছে চিন্তা ভাবনা করা লোক মনে হইছে। রাজনীতিতে, মাহফুজকে কনফিউজড মনে হইছে আমার।

গণঅভ্যুত্থানের পরে, মাহফুজের একটা আলাপ শুনে মুগ্ধ হইছিলাম। মুগ্ধতা নিয়ে আমার রাজনীতি হল, এইটা আমি ঢাকতে চাই না, এবং অকৃপণ হতে চাই। দুই. গণ-অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত প্রত্যেকের ব্যাপারে আমার মুগ্ধতাগুলো, একই সাথে আমার রাজনীতিও। তাদের অসম্ভব সমালোচক হলেও, এই মুগ্ধতাসহই থাকবে।

তো, বিভিন্ন সময়ই, মাহফুজের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশের পাশাপাশি, দরকারি ক্রিটিকও করেছি। মাহফুজ এইসব কখনো পড়েছে কিনা, আমার জানা নেই। আমি খেয়াল করেছি, আমি যে মুজিবের তৈরী করে দেওয়া একটা অনন্ত ধর্মযুদ্ধের থেকে প্রস্থানের জরুরতের কথা কই, মাহফুজ আলাপে সেই প্রস্থানের একটা আগ্রহ আছে। এই কারণেই, নিচের আলাপটা গত বছর এইদিনে করেছিলাম, মাহফুজরে নিয়া। সেই সাথে বইলা রাখি, আওয়ামী লীগ না থাকলে, বাংলাদেশে আরও বহু দল হবার দরকার আছে। মাহফুজের এই প্লাটফর্ম যদি রাজনৈতিক দল হয়, তারে খুব আগ্রহ নিযে ওয়েলকাম জানাতে চাই। এনসিপি, এনপিএ এবং অলটারনেটিভস, এর পরে আরো প্রচুর নাম আসতে পারে, একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে এরকম নানান ফুল ফুটবে, এটাই স্বাভাবিক। স্রেফ আমার আগ্রহ হল, কুয়া না হয়ে ওঠেন।

~মাহফুজের রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা~

মাহফুজ আলম 'বুদ্ধিজীবী' থেকে রাজনীতিবিদে উপনীত হইছেন, তার সর্বশেষ অবস্থানে। এইটা বেশ ভাল। কীভাবে শাহবাগের গ্রে এরিয়া বইলা একটা কল্পনারেও একোমোডেইট করা যায়, এই উপায় খোঁজারে কর্তব্য করেছেন। একই সাথে শাহবাগ ও শাহবাগের মূল প্রতিপক্ষ, উভয়ের একটা কাফফারার কথা বললেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, এইটা একটা জাতির রাজনৈতিক গন্তব্য হিশেবে বেশ স্বস্তিকর, যা মুজিব কইরা যেতে পারেন নাই একাত্তরের যুদ্ধের পরে। আমি মাহফুজের এই রাজনীতির ওয়েল উইশার। কিন্তু, খেয়াল রাখবেন, এইটা করতে গিয়ে মাহফুজ শাহবাগ নিয়া আমাদের ঐতিহাসিক পাঠ ও অভিজ্ঞানগুলোকে এড়িয়ে গিয়েছেন, অথবা নাকচ করেছেন। মানে, তার সাথে তুমুল তর্ক রয়ে যাবেই আমাদের। যেমন, এই গ্রে এরিয়ারে আমি কল্পনা বলি। শাপলাও শাহবাগ প্রতিপক্ষ ধারণা ও তার বাইনারি ট্রিনিটিরে আমি নাকচ করি। আমি মনে করি, দিয়ার ওয়াজ নো ‘শাহবাগস’। শাহবাগ ছিল ফাঁসি ও খুনের কনসেনসাস।‘হাইজ্যাক হয়ে যাওয়া শাহবাগ’, আমি এইটারে ফিকশনাল অবস্থান বলি, যার মধ্যে কোন ক্রিটিকাল অবস্থান নেই। না শাহবাগ নিয়ে, না বিচার নিয়ে। স্রেফ কন্সপিরেসি আছে। আমার মতে, শাহবাগ/গণজাগরণমঞ্চের এই যে ‘গ্রে এরিয়া’, এইটা আরবান শিক্ষিত মধ্যবিত্তের কনফিউজড অংশের নিজেদের ড্রয়িংরুম, মানে শাহবাগে না থাকারে সংজ্ঞায়নের চেষ্টা। না থাকা, অথচ শাহবাগ পেরুনোর প্রস্তুতিহীনতা, ফলে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে শাহবাগের বাইরে ভাবতে অক্ষম, ফলে ঔন করতে চাওয়া। এই দ্বৈরথ, দ্বিধা, হীনমন্যতারে শাহবাগের ফাঁসি আন্দোলন থিকা আলাদা কইরাই, সহমর্মিতার সাথেই বুঝতে পারা দরকার। এইটাই আমি বহু বছর থেকে বলে আসছি। দুই হাজার তের সালে তাদের এই দ্বিধা ও সন্ত্রাসের মোকাবেলা করেছি। শাহবাগ না, এইটা শিক্ষিত মধ্যবিত্তের নিজেদের গ্রে এরিয়া। এই ঘটনারে উদ্দেশ্য কইরাই আমি শাহবাগের সময়ে ‘শাহবাগের আজান’ লিখছিলাম: ‘শাহবাগ যাবো, যেতে চাই, কিন্তু আমি যেখানে থাকি, তার থেকে শাহবাগের দূরত্ব অনেক।..’

Show more
March 13, 2026
37 readers till now, 0 new visits today.

একটা সর্বাত্মক গণ-অভ্যুত্থান হল, ছাত্ররা জীবন দিল, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি রাজনীতির হাব যে এই গণঅভ্যুত্থানই হয়ে উঠবে, এর ভেতর থেকে নানান তওবা, সেলফ ক্রিটিক, নতুন ধরনের রাজনীতি, রাজনৈতিক দল ও মত উঠে আসবে, এটাই তো স্বাভাবিক। ট্রেডিশনাল রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের মোর ট্রেডিশনাল ও মৌলবাদী বুদ্ধিজীবীরা এই ব্যাপারটা ধরতে পারে নাই, ধরতে প্রস্তুতও না, ফলে, অভ্যুত্থানের পরও, তারা না নিজেদের বদলাতে পেরেছে, না, অন্য পরিবর্তনগুলোরে বুঝতে ও গ্রহণ করতে পেরেছে। ফলে, এরা আগের মত একটা দাস অবস্থা কল্পনা করে রেখেছে, যা লঙ্ঘন করলেই প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টর হয়ে ওঠেন।

Show more
March 10, 2026
14 readers till now, 0 new visits today.

এই আলাপটা একটু রিস্কি, তবুও আমি অভ্যুত্থানের পরপর করেছিলাম। নতুন কয়েকটা ঘটনা দেখে, এই আলাপটা আবার করছি। যদিও, অভ্যুত্থান পরবর্তি এই সময়টারে আমি যুদ্ধের সময় বলেছিলাম, ফলে, যুদ্ধের এথিকসরেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি, তাও, আমাদের গন্তব্যের ক্ষেত্রে একটা বিষয় পরিস্কার থাকা জরুরি।

তা হল, এই গণ-অভ্যুত্থানের যারা পক্ষে ছিল, দেশটা শুধু তাদের না, যাদের বিরুদ্ধে করেছেন তাদেরও। এই বাক্যটা পুরোপুরি আমার না, মুক্তিযুদ্ধের পরের পরিস্থিতি নিযে কথা বলতে গিয়ে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের নিয়ে এরকম কথা বলেছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে যে গণতন্ত্র ও মুক্তির আলো বাতাস আসবে, তার ফল যাতে তারাও ভোগ করতে পারেন, তার জন্য কোন রকম ইফস এন্ড বাটস ছাড়া দাঁড়াতে হবে।

আমরা তাদের দ্বারা শাসিত হতে চাই না, তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার বিনাশ চাই, এইটা যেমন সত্য, একই সাথে, তাদের নাগরিক অধিকারের পক্ষে থাকব সব সময়, এইটাও সত্য। যারা কোন জুলুম ও অপরাধের সাথে জড়িত ছিল না, বা, এখনও জড়িত না, কোন নিষিদ্ধ একটিভিজমে নেই, তাদের কোন গ্রেফতার নয়। নিষিদ্ধ এক্টিভিজমের অর্থ, এই সময়ে, যেহেতু আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, যে কোন রকম দলীয় একটিভিজম আর প্রচারও এই মুহূর্তে 'অপরাধ'।

ফলে, এইসব অপরাধ ও জুলুমের সাথে যারা কোনভাবেই জড়িত নন, কিন্তু, নিষিদ্ধ হবার আগে আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগ করতেন, তাদেরকে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে থাকা উচিত আমাদের। যেভাবে, আওয়ামী জমানায় 'যুদ্ধাপরাধী' ও তাদের সন্তানসন্ততিদেরও নাগরিক অধিকারের পক্ষে ছিলাম আমরা, আওয়ামীলীগের ঘোষিত ধর্মযুদ্ধের বিপরীতে। আমাদেরকে উনিশ শ একাত্তরের মুজিবের তৈরী করে দেওয়া ধর্মযুদ্ধ যেমন শেষ করতে হবে, নতুন কোন ধর্মযুদ্ধ, মানে অনন্ত ন্যায়যুদ্ধ যাতে তৈরী হতে না পারে, তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

Show more
March 9, 2026
12 readers till now, 0 new visits today.

একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় বলি। ১৯৯১ সালে তৃতীয় গণভোটের আগে বাংলাদেশে গণভোট আইন হয় নাই। জিয়া ও এরশাদ উভয়ের আস্থা যাচাই ভোট প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে হয়েছে। ঠিক যেভাবে এখনকারটা হল। তো, আমার মতে, গণভোট অর্ডিনেন্স নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন হচ্ছে, তার ভিত্তিতে হাইকোর্ট পূর্ববর্তি গণভোটগুলোরেও, যেমন, জিয়া ও এরশাদেরটারেও অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। তবে, আমার মতে, তৃতীয়টারেও করা সম্ভব। কীভাবে বলি।

এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন এরশাদ। তো, এরপরের নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ২ জুলাই সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল ১৯৯১ উত্থাপন করে। এই সংশোধনীতে গণভোট এর বিধান প্রস্তাব করা হয়, যা সংসদে সংসদে বিপুল ভোটে গৃহীত হয়। এরপরে, যেহেতু সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন, মানে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে, এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেবে কিনা, এই প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

এখানে তিনটা বিষয় খেয়াল করার মত। এক. সংসদের উপরেও সুপেরিয়র হিশেবে বিবেচিত হল গণভোট। এই সুপেরিয়রিটি কেউ চ্যালেঞ্জ করে নাই। দুই. রাষ্ট্রপতিও কনসেন্ট দেবেন কিনা, তা গণভোটের রায় দিয়ে নির্ধারিত হচ্ছে। তিন. গণভোটের আইন পাশ হবার আগেই আগের দুইটা গণভোট, এবং তৃতীয় গণভোটটিও, সংসদের আইনে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রদান, মানে পাশ হবার আগেই অনুষ্ঠিত হয়। ফলে, দ্বাদশ সংশোধনী ও গণভোটেরও আইনত ভিত্তি হল একমাত্র গণভোট। খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে যে এই গণভোটের বিধান যুক্ত হল সংবিধানে, সেই বিধান ও দ্বাদশ সংশোধনীও, কেবল গণভোটের রায়ের অনুসারেই বৈধ। নাহলে অবৈধ হতে বাধ্য।

আরো বলি, এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ‘তিন জোটের রূপরেখা’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে গৃহীত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার পর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সম্মতি দেবেন কি না, সে প্রশ্নে দেশব্যাপী গণভোট আয়োজনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন, এই এরশাদের পতনের পরের ইভেন্টরে, শেখ হাসিনার পতনের পর পড়তে পারেন। তিন জোটের রূপরেখারে, জুলাই সনদ আকারে পড়তে পারেন। হাসিনার পতনের পরে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তো, এইসব মিলায়ে পড়তে পারলে, বাংলাদেশে সংবিধান ও আইন ব্যবসায়িরা, এইখান থিকা আবার আমার এই পোস্ট পড়া শুরু করতে পারেন। বা হেফজও করতে পারেন।

Show more
March 3, 2026
15 readers till now, 0 new visits today.

কয়েকটা পত্রিকায় মহাত্মা ইউনুস কর্তৃক এক প্রাসাদবন্দি রাজকুমারী শাহাবুদ্দিনকে আড়াল কইরা রাখার রোমহর্ষক গল্প পড়লাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে হার মানাল।

February 23, 2026
11 readers till now, 0 new visits today.

'ইনকিলাব চলবে না', দিল্লীর এই ভাষা মাস্তানকে রুখতে হবে। বাংলাদেশে একটা ভাষাবিপ্লব হয়ে গেছে ঢের আগে, এইটা উনারা টের পেতে দেরি হতেছে।

যখন পুরনো ভাষা ব্যর্থ ও অর্থহীন হইতে থাকে, তখনই নতুন ভাষার জন্ম হয়।

ইনকিলাব বা ইনসাফ যে ইকবাল হাসান টুকুদের ছেলেদের ভাষা হয়ে গেছে, উনাদের ঘুম ও দিল্লি থিকা ঢাকা দৌড়-ঝাঁপের মধ্যেই, এইটা অবশ্যই উনাদের, মানে বুড়োদের বড় ব্যর্থতাই। ফলে উনাদেরে রাইখাই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেল, যা উনারা ঔন করতে পারলেন না।

এই ব্যর্থতারে, হীনমন্যতার কারণে উনারা পড়তে পারবেন না কখনোই। ফলে, আমি মনে করি, এই আফসোস নিয়া উনাদের সরে দাঁড়ানোটাই নিয়তি।

Show more
February 21, 2026
11 readers till now, 0 new visits today.

একটা গণঅভ্যুত্থান হল, তারপরও নির্বাচনের আগে বিএনপি এমন দুর্বল ও অবলা রইল, যে, তারে প্রলুব্ধ কইরা হাঁ বলানো গেল। আর, এখন, নির্বাচনের পরে তার এত অস্বাভাবিক ক্ষমতা তৈরী হল যে, ওরা এখন গণভোটের রায়কেই অস্বীকার করতে চাইতেছেন প্রায়। পরের এই ক্ষমতা, আর, আগে তাদের এই অক্ষমতারে কীভাবে পড়েন? আমার মনে হয়, বিএনপির এই নয়া ক্ষমতা, মানে অক্ষমতারে সতর্কভাবে পড়া দরকার। তারেক রহমান চাইলেই দেশে আসতে পারতেন না, হাত পা বাঁধা ছিল, এরকম একটা গল্প বিএনপির ভেতর থেকে, গভীরভাবে করা হয়। আমার মনে হয়, এই বন্দী অবস্থার গল্পগুলো খোলাসা হওয়া দরকার। নির্বাচনের আগে ও পরে তাদের কী নতুন ক্ষমতা ও অক্ষমতা তৈরী হল?

Show more
February 20, 2026
12 readers till now, 0 new visits today.

বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় দল হলেও এর আগে বিএনপি দুইটা ঐতিহাসিক মুহূর্তরে ঔন করতে ব্যর্থ হইছে, আমার এরকম একটা রিডিং বলেছিলাম। এক. গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থতা। দুই. হাঁ ভোটের পক্ষে দ্বিধাহীন অবস্থান নিতে ব্যর্থতা, যা্ কারণে বিএনপি প্রকাশ্যে হাঁ ভোটের পক্ষে কথা কইলেও, গোপনে না এর প্রচারে ব্যস্ত ছিল, যেইটাতে তারা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হইছে। হাঁ বিপুল ভোটে জিতেছে। এখন, আজ সকালে তৃতীয় আর একটা মোমেন্টামরে ধরতে পারার ও ঔন করার ব্যর্থতা যোগ হল বিএনপির ঘরে। প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে রাজি হতে ব্যর্থতা। এই রাজনৈতিক দ্বিধা ও রক্ষণশীলতাগুলোকে ইতিহাস মনে রাখে। আমরা ইতিহাসে দেখি, জামাত ঐতিহাসিক ডিলেমা ও ধর্মীয় মৌলবাদ দিয়ে মোকাবেলা করেছে এই অঞ্চলের মানুষের আন্দোলন সংগ্রাম ও অর্জনগুলোকে। সাতচল্লিশে পাকিস্তান আন্দোলন ও একাত্তরে বাংলাদেশের অভ্যুদ্যয় প্রশ্নে। এই দ্বিধা ও ডিলেমাগুলো জামাতকে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা দিয়েছে, আপনারা জানেন। এখন, এই একই ডিলেমার এজেন্সি নিল বিএনপি, ইতিহাসের পরপর তিনটা ভুল সাইডে দাঁড়িয়ে। এই মুহূর্তের জামাতরে যদি দেখেন, জামাত ও তাদের এগার দলীয় জোট ইতিহাসের ভুল পক্ষে নেই। নিজেদেরকে শুধরে নিয়েছে জামাত। বিএনপির এই ইতিহাসের ভুল সাইডে দাঁড়ানোর পয়গম্বর কারা?

Show more
February 17, 2026
13 readers till now, 0 new visits today.

এই নির্বাচনে আমি কিছু মন খারাপসহই অসম্ভব খুশি। কারণ, ইতিহাসের সবচাইতে সফল ও স্মরণীয় ভোট হল। দুই. হাঁ এগিয়ে আছে। এইটা আমার 'মার্কা'। হাঁ এর জয় মানে নিরঙ্কুশভাবে এদেশের জনগনের এবং ছাত্রদের জয়। আমরা এবার সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করবো।

এই নির্বাচনে বিএনপি ভাল আসন নিয়ে জিতবে, এটাই পরশুদিন লিখেছিলাম, এইটা ইতিহাসের বহু দিনের ডিউ ছিল। তারেক রহমানের অধীনে বিএনপির প্রথম ভোট এটি। বিএনপির যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের মধ্যে আলাদা কইরা দুজনের ভয়েস আমার নজর কেড়েছে, মিডিয়াতে কম এসেছে বা আসেই নাই উনাদের নাম। এক. এহসানুল হক মিলন, আর দ্বিতীয় হল, গুমের শিকার হুম্মাম, সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র। আমি জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ভয়েস আরো বড় হোক, চাই। বিএনপি আরো উচ্ছাসভরে জিততে পারত, যা দুইটা বড় ইস্যুতে দুর্বল হয়েছে বলে আমি মনে করি। জুলাই নিয়ে ঐতিহাসিক হীনমন্যতা প্রদর্শন ও গণভোট নিয়ে লুকোচুরি। আমি মনে করি, উভয়ই বিএনপির দুর্বল রাজনীতি ছিল। এই দুর্বল রাজনীতি সত্বেও বিএনপির যে বিজয় হল, এই ঘটনারে স্বাভাবিকতা বা একটা ভেকুয়ামের স্থিতাবস্থা হিশেবে পড়তে পারেন, বিএনপির কোন পলিসির সফলতা হিশেবে পড়া যাবে না। এইটা সামনের দিনগুলোতে আরো পরিস্কার হবে।

দ্বিতীয়ত, জামাতের ঘটনা হল, দীর্ঘ আওয়ামী নির্যাতনের ভেতরেও তাদের ভোট ও আসন উভয়ই যথেষ্ট বেড়েছে, ঠিক কতটা বাড়ছে, দুপুর হতে হতে পরিস্কার হবে। আমি আশা করবো, ৭০ থেকে ৮০ পর্যন্ত হতে পারে, বা আরো অর্প কম। এই নির্বাচনে যারা জিতলেন, তাদের মধ্যে গুমের শিকাররাও আছেন, যেমন মীর কাশেমপুত্র, এইটাতে আমি খুশি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে, দ্বিতীয় বৃহত্তর দল হিশেবে আবির্ভূত হল, এটাই এই দলটির সাফল্য। জামাতের ডাক্তার শফিক তাদের এই সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে পারেন। এগার দলীয় জোট গঠনে এই ভদ্রলোকের পরিশ্রম ও জামাতের উদারিকরণে এই ভদ্রলোকের ভূমিকা আমার নজর কেড়েছে। সম্ভবত আরো অনেকের নজরে পড়ে থাকবে এই ঘটনা। তবে, সামনের দিনগুলোতে কেমন হবে বলা যায় না।

এই নির্বাচনে নাহিদের দল এনসিপি সবচেয়ে আকর্ষণীয় সফলতা দেখিযেছে। মানুষের আগ্রহ ও দরদের সবটা তারা পেয়েছে, এইটা বাংলাদেশের নতুন দিনের রাজনীতি নিয়া অনেক কিছু বলে। বহু পুরনো বিএনপি ও জামাতের তুলনায় তাদের প্রতি মানুষের রেসপন্স প্রগ্রেসিভ। এইটাতে আমি খুশি। নাহিদের দলের হয়ে আমার অত্যন্ত পছন্দের অনেকেই এইবার সংসদে যাচ্ছেন। অন্তত যে নামগুলো জানতে পারছি, নাহিদ, আখতার, হাসনাত, আব্দুল্লাহ আল আমিন, এরা সবাই নতুন সংসদের সৌন্দর্য হবে। শুধু তাই নয়, তারা এর পরে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও সবচাইতে প্রগ্রেসিভ সদস্য হবেন। আমরা তাদের সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ চাই। এই দলের নেতা ও গণঅভ্যুত্থানের নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন।

আর, আলাদা কইরা নাসির উদ্দিন পোটাোযারি।

এই নির্বাচনে সবচেয়ে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন নাসির। তিনি এনসিপির হলেও আলাদা কইরা ম্যানশন করার ব্যাপার আছে। উনারে তিন হাজার ভোটে পরাজিত ঘোষণা করার ঘটনা যদি সত্যানুগ হয়ও, ঢাকা আটে মূলত উনিই জিতেছেন, উনার প্রতিদ্বন্দ্বী না। এর কারণ, খুব গভীর। ঢাকা আটের মানুষ নাসিরের শ্রম, ডেসপারেটনেস ও সরলতাকে নিয়েছে। আর, তার চাইতে বেশি হাদির খুনকে মনে রেখেছে। এইটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও রিভেঞ্জ। আশা করি, পুরনো গডফাদাররা মনে রাখবেন। এই আসনে দীর্ঘক্ষণ ভোট আটকে রাখার, আব্বাস পত্নীর খবরদারির এবং মেনিপুলেশনের অভিযোগ এসেছে। এখানকার ভোট গণনারে চ্যালেঞ্জ করা উচিত নাসির ও এনসিপির। তবে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নাসির বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় জায়গা করে নিয়েছে। নাসিরকে অভিনন্দন।

সর্বশেষ, আমি অসম্ভব খুশি হতাম, যদি দিলশানা পারুল জিততেন। উনি সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও শ্রম দিয়ে লড়েছেন। উনি যদি বিজয়ী হতেন, উনার বিজয়রে আমি সেলিব্রেট করতাম। তবে, উনার পরাজয়রেও ঠিক পরাজয় বলা যায় না। দিলশানার চেহারারে, তার এলাকার মানুষ স্মরণে রাখবে, আমার ধারনা। অভিনন্দন, দিলশানা।

Show more
February 13, 2026
12 readers till now, 0 new visits today.

তারেক রহমানকে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাতে চাই। তবে, গণভোট নিয়া তারেক রহমানের দলের লুকোছাপা, গোপন ইশারা ও গুপ্ত প্রচারণার রাজনীতি এই ঐতিহাসিক দিনের সবচেয়ে বাজে ও নিকৃষ্ট ঘটনা হিশেবে আমার নজরে পড়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হবার কারণে অভ্যুত্থানের কোন অর্জনকেই তারা পুরোপুরি নিজের করে নিতে পারে নাই, স্রেফ একটা আপাত পুলসিরাত হিশেবে নিয়েছে। গণভোটের হাঁ-রেও তাদেরে বহু কষ্টে মেনে নিতে হবে এইবার, যদি হাঁ বিজয়ী হয়, কিন্তু, নিজেদের অর্জন বইলা দাবী করতে পারবে না তেমন কইরা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দ্বিধাগ্রস্ত ও মুখচোরা রাজনীতির ঘটনা দলটির রাজনীতি নিয়া আমাদের পুরনো বিবেচনা ও হোপগুলোকে বিপদে ফেলবে।

Show more
February 12, 2026
16 readers till now, 0 new visits today.